১০:৫৯ পি.এম
তুরস্কের ‘শস্যভাণ্ডার’ হিসেবে পরিচিত কোনিয়া অঞ্চলে একের পর এক রহস্যময় গভীর গর্তের (সিঙ্কহোল) দেখা মিলছে। যদি বিস্তীর্ণ কৃষিজমিতে এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকে, তাহলে দেশটির খাদ্য নিরাপত্তা মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে, এমন সতর্কবার্তা দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার তথ্যানুযায়ী, কোনিয়া অববাহিকায় এ পর্যন্ত ৬৮৪টি সিঙ্কহোল সৃষ্টি হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড়টির ব্যাস ২২৮ মিটার এবং গভীরতা ১৭১ মিটার।
স্থানীয় কৃষক মেহমেত আকিফ ইশিকলি জানান, প্রায় ২০ বছর আগে তার জমির মাঝখানে প্রথম বড় একটি গর্ত তৈরি হয় এবং পরে পাশের জমিতে একই ধরনের সিঙ্কহোল দেখা দেয়। তিনি আরো বলেন, যখন জমি ধসে পড়ছিল, তখন ভেতর থেকে পানি বুদবুদের মতো অ্যাসেন্ড করছিল।
আরও পড়ুন: ফুলপুর হাসপাতালে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ঝটিকা পরিদর্শন, অব্যবস্থাপনা নিয়ে অসন্তোষ
বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনিয়া একটি বন্ধ অববাহিকা হওয়ায় এখানকার নদী ও ভূগর্ভস্থ পানি সমুদ্রে পৌঁছায় না। এই পানি অঞ্চলের হ্রদ, জলাভূমি এবং কৃষি ব্যবস্থার প্রধান ভরসা। তবে, অতিরিক্ত পানি উত্তোলনের কারণে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর দ্রুত নিচে নেমে যাচ্ছে। ফলে, মাটির নিচের চুনাপাথরের স্তর দুর্বল হয়ে ধসে পড়ছে।
জাতিসংঘের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে ২০৩০ সালের মধ্যে তুরস্ক পানি-সংকটাপন্ন দেশে পরিণত হতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে দীর্ঘমেয়াদি খরা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে।
বিশ্ব বন্যপ্রাণী তহবিলের তুরস্ক শাখার তথ্য অনুযায়ী, কোনিয়া অঞ্চলে প্রায় এক লাখ নলকূপ রয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ৬৬ হাজারই অবৈধ। ২০১৪ সালে এই অঞ্চলে পানির ব্যবহার প্রাপ্যতার তুলনায় প্রায় ৫০ শতাংশ বেশি ছিল।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কৃষকরা বর্তমানে ফসল বাঁচাতে ভূগর্ভস্থ পানি ব্যবহৃত করছেন, কিন্তু পর্যাপ্ত পুনঃপূরণ না হওয়ায় ভবিষ্যতে পানির মজুদ দ্রুত ফুরিয়ে যাচ্ছে। এর ফলে সিঙ্কহোলের সংখ্যা বাড়ছে।
আরও পড়ুন: গাজীপুরে ফের আগুন, সময়ের সঙ্গে বাড়ছে ভয়াবহতা
কোনিয়া টেকনিক্যাল ইউনিভার্সিটির ভূতত্ত্ব বিভাগের প্রধান ফেতুল্লাহ আরিক বলেন, এই গর্তগুলো খুবই বিপজ্জনক। এখন পর্যন্ত এতে প্রাণহানি ঘটেনি, তবে ভবিষ্যতে বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। তিনি আরো বলেন, অনেক কৃষক আতঙ্কে গর্তগুলো মাটি দিয়ে ভরাট করার চেষ্টা করেন, যা আরও বড় ধসের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সংকটময় পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য বর্তমান কৃষিনীতিতে পরিবর্তন আনা অপরিহার্য। সরকার এখনো এমন সব ফসলের চাষে ভর্তুকি দিচ্ছে, যেগুলোতে প্রচুর পানি প্রয়োজন, যেমন ভুট্টা ও সুগার বিট। এর পরিবর্তে কম পানি প্রয়োজন এমন স্থানীয় গম বা আঙুরের মতো ফসল চাষে উৎসাহ দিলে পানির ওপর চাপ কমবে।
এদিকে, কোনিয়া টেকনিক্যাল ইউনিভার্সিটির গবেষকেরা সিঙ্কহোলের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করতে বিশেষ মানচিত্র প্রস্তুত করছেন। তবে বিশেষজ্ঞদের ধারণা, যদি ভূগর্ভস্থ পানির ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ এবং কৃষি নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন না আনা হয়, তাহলে আগামী বছরের মধ্যে কোনিয়া অঞ্চলের কৃষি ও জনজীবন আরও বড় সংকটে পড়তে পারে।
আরও পড়ুন: যুক্তরাজ্যে তিন দিনের জরুরি রসদ রাখার পরামর্শ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন