০১:৫৪ পি.এম
টাইগার শ্রফ, যিনি অভিনেতা জ্যাকি শ্রফের পুত্র, নামের কারণে পরিচিত হলেও তার আচরণে লাজুকতা এবং কম কথা বলা লক্ষণীয়। অনেকেই তাকে ‘টাইগার’ বলে সম্বোধন করেন। ২০২২ সালে একটি সিনেমার প্রচারণামূলক অনুষ্ঠানে টাইগার শ্রফ উল্লেখ করেন, বলিউডে সালমান খানই একমাত্র ‘টাইগার’। এরপর থেকেই টাইগার শ্রফের নাম লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়।
লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাং এর আগে সালমান খান এবং তার ঘনিষ্ঠদের হুমকি ও হামলা চালিয়েছে। সর্বশেষ ঘটনা ঘটে গত রবিবার, যখন টাইগার শ্রফের ওপর হামলা চালানো হয়। মুম্বাইয়ের জুহুর একটি খেলার মাঠে ফুটবল খেলা শেষে বের হওয়ার সময় দুই শুটার টাইগারের বিএমডব্লিউ গাড়িতে সাত রাউন্ড গুলি ছোড়ে এবং পরে বাইকে করে পালিয়ে যায়।
এই হামলায় টাইগারের গাড়িচালক এবং একজন পথচারী আহত হন। হামলার দায় স্বীকার করে লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের এক সদস্য। ঘটনার পরদিন কোটা রেলওয়ে স্টেশনে পুনে-জয়পুর সুপারফাস্ট এক্সপ্রেস ট্রেন থেকে তিন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ টাইগারকে নিশানা করার কারণ জানতে পারে।
আরও পড়ুন: সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে সবার সক্রিয় অংশগ্রহণ অপরিহার্য: সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী
সালমান খানের সঙ্গে বিষ্ণোইদের বিরোধের শুরু ১৯৯৯ সালে, যখন ‘হাম সাথ-সাথ হ্যায়’ সিনেমার শুটিং চলাকালীন সালমান খানকে কৃষ্ণসার হরিণ হত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়। বিষ্ণোই সম্প্রদায়ের কাছে এই প্রাণীটি পবিত্র এবং এরপর থেকে লরেন্স বিষ্ণোই সালমান খানকে ক্ষমা চাইতে অথবা পরিণতি ভোগ করতে বলছেন।
হামলাকারীরা পরিকল্পনা করে টাইগারের গাড়িতে গুলি করে নিরাপদে পালিয়ে যায়। তবে একটি ফোনকলের সূত্রে পুলিশ তাদের ট্রেন থেকে গ্রেপ্তার করে। প্রাথমিক তদন্তে দেখা যায়, অভিযুক্তরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পুলিশি তদন্তের আপডেট দেখছিল। পুলিশ সন্দেহ করছে যে তারা তদন্তের অগ্রগতির তথ্য পাচ্ছিল এবং সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায় যে রেহান নামের এক অভিযুক্ত ফোনে ব্যস্ত ছিল।
পুলিশের ধারণা, ইন্টারনেট কলের মাধ্যমে তদন্ত সংক্রান্ত তথ্য অভিযুক্তদের কাছে পৌঁছানো হচ্ছিল। শুটারদের মেসেজের মাধ্যমে জানানো হয়েছিল যে তাদের পালিয়ে যাওয়ার ব্যবহৃত বাইকটি আন্ধেরিতে পাওয়া গেছে এবং তারা ট্রেনে ভ্রমণ করছে। পুলিশ এড়াতে অভিযুক্তরা বাইক, ট্রেন এবং ক্যাব ব্যবহার করেছিল। তবুও, মুম্বাই পুলিশের তথ্যের ভিত্তিতে কোটা পুলিশ সুরাট থেকে জয়পুরগামী একটি ট্রেন থেকে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে।
ইন্টারনেট কলের কারণে পুলিশ অভিযুক্তদের ট্র্যাক করতে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছিল। বর্তমানে মুম্বাই পুলিশ তদন্তের তথ্য কারা অভিযুক্তদের কাছে সরবরাহ করছিল, তা খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে।
আরও পড়ুন: নিউইয়র্কে বিনামূল্যে ইএমটি প্রশিক্ষণের জন্য আবেদন করতে পারবেন ১৭ বছরের ঊর্ধ্বে
সূত্র অনুযায়ী, টাইগার শ্রফের ওপর গুলি চালানোর পর অভিযুক্তরা তাদের মোবাইল ফোন এবং ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ করে দেয়। পুরো ষড়যন্ত্রের সময় শুটার এবং তাদের হ্যান্ডলাররা যোগাযোগের জন্য ইন্টারনেট-ভিত্তিক ভিওআইপি কল ব্যবহার করেছিল।
অভিযুক্ত শুটাররা কেবল একটি সাধারণ ফোন কল করেছিল, যা পুলিশের জন্য একটি বড় সূত্র হয়ে দাঁড়ায়। তদন্তে জানা যায় যে অভিযুক্তরা মুম্বাইয়ের বোরিভালি থেকে সুরাটে যাওয়ার জন্য একটি বেসরকারি ক্যাব বুক করেছিল।
গুলি চালানোর পরপরই তারা আন্ধেরি থেকে লোকাল ট্রেনে করে বোরিভালি যায় এবং সেখান থেকে ক্যাবে করে সুরাটে পৌঁছায়। ক্যাব চালককে করা একটি ফোন কল পুলিশের নজরে আসে, যা তদন্তকারীদের তাদের যাতায়াতের পথ ট্র্যাক করতে সাহায্য করে।
এই কলের ওপর ভিত্তি করে মুম্বাই পুলিশের অ্যান্টি-এক্সটর্শন সেলের একটি দল বোরিভালি থেকে সুরাটে যায়। জিজ্ঞাসাবাদের সময় ক্যাব চালক পুলিশকে জানায় যে সে অভিযুক্তদের সুরাট রেলওয়ে স্টেশনে নামিয়ে দিয়েছিল।
আরও পড়ুন: ক্যানসারের কাছে হার মানলেন মডেল-অভিনেত্রী তুলনা, শুক্রবার রাতে মৃত্যু
রেলওয়ে স্টেশনের সিসিটিভি ফুটেজ এবং রিজার্ভেশন চার্ট পরীক্ষার পর তদন্তকারীরা জানতে পারেন যে অভিযুক্তরা জয়পুরের উদ্দেশে রওনা হওয়া একটি ট্রেনে উঠেছিল। পুলিশের দলটি কোটা-জয়পুর রুটটি ট্র্যাক করে এবং শেষ পর্যন্ত রাজস্থানের কোটা থেকে তিন প্রধান শুটারকে আটক করে।
পুলিশের ধারণা, অভিযুক্তরা যদি সেই একটি সাধারণ ফোন কল না করত, তবে সুরাট পর্যন্ত তাদের যাতায়াতের পথ ট্র্যাক করা আরো অনেক বেশি কঠিন হতো।
এই হামলায় ব্যবহৃত অস্ত্র সরবরাহের অভিযোগে দুই নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মুম্বাই ক্রাইম ব্রাঞ্চ সফলভাবে এই মামলার সঙ্গে সম্পর্কিত দুটি আগ্নেয়াস্ত্র এবং দশটি তাজা কার্তুজ গুজরাটের সুরাট থেকে উদ্ধার করেছে।
এদিকে, টাইগার শ্রফ মানসিকভাবে গভীরভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন বলে জানা গেছে। মুম্বাই পুলিশ সূত্রের খবর অনুযায়ী, শ্রফ পুলিশকে জানিয়েছেন যে তিনি এই ঘটনায় স্তম্ভিত এবং কারো সঙ্গে তার কোনো শত্রুতা নেই। অভিনেতা আরো জানিয়েছেন—হামলাকারীরা কারা ছিল, কেন তারা গুলি চালিয়েছিল বা কারা এই হামলার পরিকল্পনা করেছিল, সে সম্পর্কে তিনি কিছুই জানেন না। ক্রাইম ব্রাঞ্চের একজন কর্মকর্তা জানান, ঘটনার কারণে শ্রফ মানসিকভাবে বিপর্যস্ত থাকায় এখনো তার আনুষ্ঠানিক জবানবন্দি রেকর্ড করা সম্ভব হয়নি।
আরও পড়ুন: মায়ামিতে মেসিকে দেখে উচ্ছ্বসিত সামিরা খান মাহি
সূত্র : এনডিটিভি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন