ঢাকা রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৯ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৪ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৯ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

‘বেহেশতের গ্যারান্টি দিতে পারব না, তবে উন্নয়নের গ্যারান্টি দিতে চাই’


‘বেহেশতের গ্যারান্টি দিতে পারব না, তবে উন্নয়নের গ্যারান্টি দিতে চাই’

জামায়াতে ইসলামীর সমালোচনা করে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেছেন, "আমরা বেহেশতের গ্যারান্টি দিতে পারব না, তবে উন্নয়নের গ্যারান্টি দিতে চাই। মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চাই। প্রতিটি পরিবারের হাতে ফ্যামিলি কার্ড এবং কৃষকের হাতে কৃষক কার্ড পৌঁছে দিতে চাই। মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য।"

শনিবার (২৪ অক্টোবর ২০২৬) দুপুর ১টায় বগুড়ার মোকামতলা উপজেলার সৈয়দপুর ইউনিয়নের রাধাকান্তপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মীর শাহে আলম আরও জানান, জামায়াতে ইসলাম বড় বড় কথা বললেও ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমদের আর্থিক নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়ে কার্যকর উদ্যোগ নেয়নি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাদের মাসিক সম্মানীর ব্যবস্থা করেছেন। সরকারের জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমে অনুপ্রাণিত হয়ে যারা আগে জামায়াতকে ভোট দিয়েছেন, তাদের বিএনপির পতাকাতলে আসার আহ্বান জানান তিনি।

আরও পড়ুন: কসবায় ৯ রাউন্ড চাইনিজ গুলিসহ যুবক মো. শামিম আটক

ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ্য করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, "মাঝেমধ্যেই হুমকি দেওয়া হয়, দেশে ফিরে আসবেন। আমরাও চাই, তিনি দেশে ফিরে আসুক। কারণ, দেশের মানুষ তার বিচার দেখতে অপেক্ষা করছে। কিন্তু তার আর দেশে ফেরা হয় না।"

তিনি বলেন, "তারেক রহমান দেশে ফেরার দিন কোটি কোটি মানুষ ঢাকায় সমবেত হয়েছিলেন। আর শেখ হাসিনাকে দেশ ছেড়ে পালাতে হয়েছে। এটাই জনগণের ভালোবাসা আর জনসমর্থনের পার্থক্য।"

মীর শাহে আলম মন্তব্য করেন, "ইতিহাস কখনো মুছে ফেলা যায় না, সত্যকে আড়াল করেও রাখা যায় না। আওয়ামী লীগ (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) যতই চেষ্টা করুক, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক, সেই ইতিহাস পাল্টানো যাবে না। মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া আমৃত্যু আপসহীন ছিলেন, তার সেই রাজনৈতিক অবস্থানও কেউ বদলে দিতে পারবে না।"

তিনি আরও বলেন, "শহীদ জিয়ার প্রতিষ্ঠিত বিএনপি যুগে যুগে জনপ্রিয়তা ধরে রেখেছে। বিএনপির নেতাকর্মীরা গর্ব করে বলতে পারেন, তারা শহীদ জিয়ার আদর্শের রাজনৈতিক দলের কর্মী। জনগণের ভালোবাসা ও আস্থাই বিএনপির সবচেয়ে বড় শক্তি।"

আরও পড়ুন: সৌদি রুটে ১৪৪ ফ্লাইট স্থগিত, ২২ হাজার যাত্রী ভোগান্তিতে

মোকামতলাকে নতুন উপজেলা হিসেবে প্রতিষ্ঠার প্রসঙ্গ তুলে মীর শাহে আলম বলেন, "এটি বিএনপি ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অঙ্গীকার বাস্তবায়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। মোকামতলার মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নতুন উপজেলার অবকাঠামো উন্নয়নসহ বাকি কাজগুলোও পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন তিনি।"

বক্তব্যের শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান ও কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমানের সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু ও কল্যাণ কামনায় উপস্থিত সবার কাছে দোয়া চান প্রতিমন্ত্রী।

মোকামতলা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মাহমুদ হাসান তৌফিকের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন, শিবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি এসএম তাজুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল ওহাব, মোকামতলা উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব রোকন-উদ-দৌলা রুবেল, শিবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক মীর শাকরুল আলম সীমান্ত, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল করিম ও শিবগঞ্জ উপজেলা যুবদলের সভাপতি খালিদ হাসান আরমানসহ বিএনপিসহ অঙ্গসংগঠনের নেতারা।

আরও পড়ুন: ঢাকা-কুমিল্লা ৯০ কিমি. রেলপথ নির্মাণে ৬০ হাজার কোটি টাকা ব্যয়

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

এনসিপির নতুন কমিটিতে ৩ নেতার পদাবনতি, কারণ অজানা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৬:২৫ পি.এম


এনসিপির নতুন কমিটিতে ৩ নেতার পদাবনতি, কারণ অজানা

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক কমিটিতে রদবদল ঘটানো হয়েছে। ২১৭ সদস্যের কমিটি ছোট করে ১৯৬ সদস্যে নামিয়ে আনা হয়েছে। আহ্বায়ক পদে নাহিদ ইসলাম এবং সদস্য সচিব পদে আখতার হোসেন বহাল থাকলেও মুখ্য সংগঠক, মুখ্য সমন্বয়ক ও মুখপাত্রের মতো পদগুলো বিলুপ্ত করা হয়েছে। এর পরিবর্তে সাংগঠনিক সম্পাদকসহ বিভিন্ন সম্পাদকীয় পদ সৃষ্টি করা হয়েছে।

পুনর্গঠিত কমিটিতে কিছু নেতার পদোন্নতি ঘটেছে, আবার কিছু নেতার পদাবনতি হয়েছে। আগের কমিটির কয়েকজন নেতা বাদ পড়েছেন।

জুলাই অভ্যুত্থানে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা সামান্তা শারমিন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপির) প্রথম সারির নেতা হিসেবে পরিচিত। তিনি এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। তবে এনসিপি ঘোষিত নতুন কমিটিতে তাকে শুধু যুগ্ম আহ্বায়ক পদে রাখা হয়েছে। ফলে এনসিপির এই নেত্রীর পদাবনতি ঘটেছে। তাকে দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম রাজনৈতিক পরিষদ থেকেও বাদ দেওয়া হয়েছে।

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নতুন কমিটিতে আরিফুল ইসলাম আদীবেরও পদাবনতি ঘটেছে। আগের কমিটিতে সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্বে থাকলেও পুনর্গঠিত কমিটিতে তাকে যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয়েছে। তবে দলের রাজনৈতিক পরিষদে তার অবস্থান আগের মতোই বহাল রয়েছে।

এছাড়া, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আগের কমিটিতে জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্য সচিব পদে ছিলেন নাহিদা সারোয়ার নিভা। নতুন কমিটিতে তাকে যুগ্ম সদস্য সচিব পদে রাখা হয়েছে।

এসব পদাবনতির সুনির্দিষ্ট কারণ জানায়নি এনসিপি। তবে একটি সূত্র বলছে—নেতাদের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পারফরমেন্স এবং কিছু পদ বিলুপ্ত হওয়ায় প্রভাবশালীদের শীর্ষস্থানে রাখতে এসব সমন্বয় আনা হয়েছে। বিশেষ করে মুখ্য সংগঠক, মুখ্য সমন্বয়ক ও মুখপাত্রের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে আগে কয়েকজন প্রভাবশালী নেতা ছিলেন। কিন্তু এই পদ বিলুপ্ত করায় তাদের একোমোডেশনের স্বার্থে অন্যদের পদাবনতি দেওয়া হয়েছে।

সামান্তা শারমিন রাজনীতি থেকে কিছুটা দূরে রয়েছেন। তিনি পরিবারকে বেশি সময় দিচ্ছেন। কিছুদিন আগে তিনি গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, তার স্বামী অসুস্থ এবং তার চিকিৎসা নিয়ে ব্যস্ত সময় কাটাতে হচ্ছে। এ কারণে সংগঠনকে কম সময় দিতে পারছেন।

গত ২০ সেপ্টেম্বর নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে সামান্তা শারমিন লেখেন, ‘আগে একদিন বলেছিলাম আমার পরিবারের একজন ভীষণ অসুস্থ। তিনি আমার প্রিয়তম স্বামী। আমি আমার পারিবারিক জীবন সম্পূর্ণ আলোচ্যসূচির বাইরে রাখার পক্ষে, সেজন্যই আগের পোস্টে বলিনি। ওনার চিকিৎসা চলমান আছে।’

স্বামীর অসুস্থতার কারণে মানসিক কষ্টের কথাও তুলে ধরেন সামান্তা। তিনি বলেন, একজন উদ্যমী, কর্মঠ ও তরুণ মানুষকে গত তিন মাস ধরে এভাবে নিস্প্রভ হয়ে যেতে দেখা অনেক যন্ত্রণার।

সামান্তা শারমিন আরও লেখেন, সর্বজ্ঞানী ও মহাপরাক্রমশালী আল্লাহ বিভিন্নভাবে বান্দাকে পাপমুক্ত করেন অথবা পরীক্ষা করেন। এ নিয়ে তার কোনো আফসোস নেই বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

পোস্টের শেষে আল্লাহর কাছে ক্ষমা ও হেদায়েত প্রার্থনা করে সামান্তা শারমিন লেখেন, ‘আল্লাহ আমাদের মাফ করেন, হেদায়েত দান করেন। আল্লাহ আপনি ছাড়া আমরা শূন্য।’

এদিকে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, আরিফুল ইসলাম আদীব এনসিপির রাজনীতিতে এখন কিছুটা ব্যাকফুটে রয়েছেন। তিনি গত নির্বাচনে ঢাকা-১৮ আসন থেকে ভোট দিয়ে পরাজিত হন। এরপর তিনি ঢাকা উত্তরে এনসিপির মেয়র পদে প্রার্থী হন। সম্প্রতি দলের পক্ষ থেকে প্রার্থী পরিবর্তনের কথা জানানো হয়েছে। উত্তরে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন আসিফ মাহমুদ।

এ বিষয়ে আরিফুল ইসলাম আদিবের বক্তব্য জানতে ফোন করা হলে তিনি জানান, এক সহকর্মীর বাবাকে দেখতে হাসপাতালে আছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সবজি কিনতে গেলে মনে হয় মাংস কিনছি, গরু-ইলিশের কথা মানুষ ভুলে যাবে: আসিফ মাহমুদ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৬:২৬ পি.এম


সবজি কিনতে গেলে মনে হয় মাংস কিনছি, গরু-ইলিশের কথা মানুষ ভুলে যাবে: আসিফ মাহমুদ

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব মো. আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া মন্তব্য করেছেন যে, বাজারে সবজি কিনতে গেলে মনে হয় মাংস কিনতে এসেছি। মুরগি ক্রয়ের সময় মনে হয়, গরুর দামে কিনতে হচ্ছে। যদি এভাবে চলতে থাকে, তাহলে বাংলাদেশের মানুষ ধীরে ধীরে গরুর মাংস ও ইলিশ মাছের কথা ভুলে যাবে।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাজধানীর কারওয়ান বাজারে লিফলেট বিতরণ ও এক পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন।

আসিফ মাহমুদ আরও বলেন, নির্বাচনের পর আমরা আশা করেছিলাম এবং বারবার শুনেছিলাম, সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে। গণতান্ত্রিক সরকার ক্ষমতায় এলে আর কোনো সমস্যা থাকবে না। কিন্তু গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় আসার পর পরিস্থিতি আগের চেয়ে আরও সংকটজনক হয়ে উঠছে।

তিনি উল্লেখ করেন, সরকার ক্ষমতায় আসার পর সাত থেকে আট মাসের মধ্যে নিত্যপণ্যের দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গেছে। এলপিজি গ্যাসের দামও দ্বিগুণ হয়েছে, বিদ্যুতের দামও প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। সবচেয়ে কম সময়ে জ্বালানির দাম বৃদ্ধির ক্ষেত্রে তারা একটি রেকর্ড গড়েছে।

এনসিপির এই নেতা বলেন, মানুষের দুর্ভোগ দ্রুত সমাধান করতে হবে। এসব সমস্যার সমাধানে সরকারের পর্যাপ্ত উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। দায়িত্ব পালনে অবহেলা রয়েছে। সরকার ও তাদের সন্তানরা বিভিন্ন ব্যবসা ও অন্যান্য কর্মকাণ্ডে ব্যস্ত থাকলেও মানুষের দুর্ভোগের প্রতি তাদের কোন ভ্রূক্ষেপ নেই।

তিনি জানান, বাংলাদেশের বর্তমান সংকট, মানুষের দুর্ভোগ, নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির প্রতিবাদে আগামী ৩০ অক্টোবর গণবিক্ষোভ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে। এনসিপির ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ শাখা এ কর্মসূচির আয়োজন করবে।

আসিফ মাহমুদ জানান, কর্মসূচির আগে সারা দেশে গণসংযোগ শুরু করা হয়েছে। ঢাকা শহরসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় মানুষের কাছে গিয়ে তাদের দুর্ভোগের কথা শোনা হবে এবং সচেতনতা তৈরিতে কাজ করা হবে। সপ্তাহব্যাপী গণসংযোগ কর্মসূচি শেষে আগামী শুক্রবার গণবিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হবে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী, সদস্যসচিব আখতার হোসেনসহ অন্যান্যরা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

৮৪ শতাংশ জমি দান করেও প্রতিষ্ঠাতার স্বীকৃতি মেলেনি, নওয়াপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে তদন্তের দাবি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

কবির হোসেন, আলফাডাঙ্গা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি

শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৬:৩৭ পি.এম


৮৪ শতাংশ জমি দান করেও প্রতিষ্ঠাতার স্বীকৃতি মেলেনি, নওয়াপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে তদন্তের দাবি

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার নওয়াপাড়া উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় ৮৪ শতাংশ জমি দান করেও প্রতিষ্ঠাতা ও দাতা হিসেবে যথাযথ স্বীকৃতি পাননি বলে অভিযোগ করেছেন মরহুম মকবুল হোসেন খানের পরিবারের সদস্যরা। বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক আব্দুর রউফ তালুকদার ও বর্তমান ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দবিরউদ্দীনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, আর্থিক অনিয়ম, জমি বিক্রি, চাকরি না দেওয়া ও হয়রানির অভিযোগ তুলে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন পরিবারের সদস্যরা। লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মরহুম মকবুল হোসেন খানের মেয়ে মনিরা খানম।

লিখিত বক্তব্যে মনিরা খানম বলেন, তাঁর বাবা নওয়াপাড়া উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য ৮৪ শতাংশ জমি দান করেছিলেন। কিন্তু পরবর্তী সময়ে তাঁকে বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা ও দাতা হিসেবে যথাযথ স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি।

জমি দানের সময় রেজুলেশনে পরিবারের যোগ্য সদস্যদের চাকরি দেওয়ার বিষয়টি উল্লেখ থাকলেও তাঁদের যোগ্য সদস্যদের চাকরি দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
মনিরা খানম আরও বলেন, চাকরির জন্য আবেদন করায় তাঁদের পরিবারের একজন সদস্যকে বিনা অভিযোগে ধরে নিয়ে আটকে রাখা হয়েছিল।

তাঁর ভাই মো. হারুন খান বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী হিসেবে কর্মরত থাকলেও গত দুই বছর ধরে তাঁর বেতন আটকে রাখা হয়েছে। এ বিষয়ে প্রতিবাদ করায় তাঁদের পরিবারের একজন সদস্যকে খণ্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার পর মাত্র এক মাস দায়িত্ব পালন শেষে বাদ দেওয়া হয়। অথচ একই সময়ে নিয়োগ পাওয়া অন্য একজন এখনো কর্মরত রয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।
এ ছাড়া তাঁদের দান করা জমিতে ঘর নির্মাণে বাধা দেওয়া এবং ঘর নির্মাণকে কেন্দ্র করে তাঁর ভাইকে থানায় আটকে রাখার অভিযোগও করেন মনিরা খানম।

সংবাদ সম্মেলনে সাবেক প্রধান শিক্ষক আব্দুর রউফ তালুকদারের বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও আর্থিক খাতে অনিয়মের অভিযোগ তোলা হয়। পাশাপাশি বিদ্যালয়ের নামে বরাদ্দ করা দাতা মো. মাহাবুবুর রহমান বুদ্দু মিয়া ও মোমেনার দুটি জমি অসাধু উপায়ে বিক্রি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন পরিবারের সদস্যরা।
অন্যদিকে, বর্তমান ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দবিরউদ্দীনের বিরুদ্ধে প্রায় ১০ থেকে ১২ বছর ধরে দুর্নীতি, আর্থিক অনিয়ম ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ তোলেন তাঁরা। তাঁর দায়িত্ব পালন ও পুনরায় বিদ্যালয়ে যোগদানের বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন অভিযোগকারীরা।

এ বিষয়ে সাবেক প্রধান শিক্ষক আব্দুর রউফ তালুকদার বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।

বর্তমান ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দবিরউদ্দীনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাঁর ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোজাম্মেল হক বলেন, হারুনের বেতন ইএফটির (ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার) মাধ্যমে পরিশোধের জন্য প্রয়োজনীয় যেসব কাগজপত্র দরকার, সেগুলো তিনি ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দবির সাহেবের কাছে জমা দেননি। এ কারণে এখনো পর্যন্ত হারুনের নাম ইএফটিতে অন্তর্ভুক্ত হয়নি। তাই তাঁর বেতন হচ্ছে না। ইএফটিতে নাম অন্তর্ভুক্ত হলে তিনি বেতন পাবেন।


সংবাদ সম্মেলনে পরিবারের সদস্য মো. হারুন খান, মো. দেলোয়ার হোসেন খান, মা মোছা. হাজেরা বেগমসহ নওয়াপাড়া এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নিউটাউনে জমি নিয়ে বিভ্রান্তিকর সংবাদের তীব্র প্রতিবাদ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

​কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি

শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৬:৫৩ পি.এম


নিউটাউনে জমি নিয়ে বিভ্রান্তিকর সংবাদের তীব্র প্রতিবাদ
কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার নিউটাউনে জমি সংক্রান্ত বিরোধে আদালতে মিথ্যা তথ্য দিয়ে এবং পুলিশকে বিভ্রান্ত করে প্রকাশিত সংবাদের তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়েছেন জমিটির বৈধ মালিক ফরিদুর রহমান সাজন।
সম্প্রতি হাফিজ উদ্দিন নামের এক ব্যক্তির অভিযোগে বিরোধপূর্ণ জমিতে আদালতের ১৪৪ ধারা জারি ও পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রকাশিত খবরের জবাবে এক বিবৃতিতে ফরিদুর রহমান সাজন জানান, আসল ঘটনা আড়াল করতেই এই অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। মূলত আদালত, পুলিশ ও গণমাধ্যমকে ভুল তথ্য দিয়ে তাঁদের সম্মানহানি এবং নিষ্কণ্টক জমি দখলের চক্রান্ত করছে একটি স্বার্থান্বেষী মহল।
জমির সঠিক আইনি ভিত্তি তুলে ধরে তিনি জানান, সিএস খতিয়ান ১৩০৪, এসএ খতিয়ান ৪০২ ও ৪৭০, আরএস খতিয়ান ১১৩২১ ও ৮৪৩াস, খারিজ খতিয়ান ২৮২৩১ এবং হিসাব নং ২৭৩ ৪৮ ভুক্ত জমিটি অতীতে মোঃ হাফিজ উদ্দিন (আঙ্গুর) গং কিশোরগঞ্জে রেজিস্ট্রিকৃত ‘আমমোক্তারনামা দলিল’ মূলে তাঁর চাচা মোঃ মজিবুর রহমান বাবুকে প্রদান করেন। পরবর্তীতে মজিবুর রহমান বাবুর কাছ থেকে বৈধ ‘সাফ কাওলা দলিল’ মূলে জমিটি ক্রয় করেন তাঁর বাবা মরহুম মাহবুবুর রহমান (খোকন)। পিতার ইন্তেকালের পর ওয়ারিশ সূত্রে ফরিদুর রহমান সাজন, তাঁর মা ও বোন জমিটির নামজারি, খাজনা পরিশোধ ও আইনি ‘বণ্টননামা দলিল’ সম্পন্ন করে নিষ্কণ্টকভাবে ভোগদখল করে আসছেন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জের বাসিন্দা সজীব ও রাজীব দুজনে আপন দুই ভাই এবং সম্পর্কে তাঁর ফুপাতো ভাই। আত্মীয়তার সূত্রে তাঁর বাবা জীবদ্দশায় তাদের নানার বাড়িতে (সাজনের বাবার বাড়ি) ভাড়া থাকার সুযোগ দিয়েছিলেন। কিন্তু বাবার মৃত্যুর পর তারা ঘর না ছেড়ে অন্যায্যভাবে দখল করে রাখে। তারা কিশোরগঞ্জ শহরের হারুয়ার আব্দুল মুমেনকে (বাবুল) সাথে নিয়ে চক্র গড়ে তোলে এবং মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করে। চাঁদা না পেয়ে এবং নিজেরা সুবিধা করতে না পেরে তারা জমিটির সাবেক মালিক হাফিজ উদ্দিনকে (আঙ্গুর) ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে মিথ্যা মামলা ও অপপ্রচার চালাচ্ছে।
বিবৃতিতে ফরিদুর রহমান সাজন স্পষ্ট করেন, তাঁরা আইনের প্রতি সর্বদাই শ্রদ্ধাশীল এবং রেজিস্ট্রিকৃত বৈধ দলিলের তথ্য লুকিয়ে এই ভূঁইফোড় অভিযোগ ও অপপ্রচারের বিরুদ্ধে অনতিবিলম্বে আদালতে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৪ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৪
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৪৮
মাগরিব ০৫:২৪
ইশা ০৬:৩৬
সূর্যোদয় : ০৬:০০ সূর্যাস্ত : ০৫:২৪
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%