০৫:৪৭ এম
বিএনপি সরকার রেলপথের আধুনিকীকরণ এবং যাত্রী ও পণ্য পরিবহনে ব্যাপক পরিবর্তন আনার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। ঢাকা-কুমিল্লা ৯০ কিমি. নতুন রেলপথ (কর্ড লাইন) অবশেষে বাস্তবায়নের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। নতুন রেলপথ (কর্ড লাইন) কুমিল্লা-দাউদকান্দি-শ্যামপুর-ফতুল্লা নারায়ণগঞ্জের মাধ্যমে ঢাকার সঙ্গে সংযুক্ত হবে। প্রকল্পটির নামকরণ করা হয়েছে কুমিল্লা-ঢাকা নতুন রেলপথ। প্রকল্পের জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৬০ হাজার কোটি টাকা।
রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, এশীয় ব্যাংক (এডিবি) এবং ইউরোপীয় ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকসহ (ইআইবি) বিভিন্ন দেশি-বিদেশি সংস্থা প্রকল্পটিতে বিনিয়োগে আগ্রহী। নতুন রেলপথ নির্মাণের পাশাপাশি রেলের বহরে নতুন কোচ ও ইঞ্জিন যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নতুন এ রেলপথে ২৬০টি ব্রডগেজ ক্যারেজ, ৩০টি লেকোমোটিভ, ২০০টি মিটার গেজ ক্যারেজ, চারটি হুইল লেদ এবং চারটি রিলিফ ট্রেন থাকবে বলে জানা গেছে এবং সমীক্ষা শেষ পর্যায়ে রয়েছে। বর্তমানে বিদ্যমান রেলপথটি আখাউড়া, ভৈরব বাজার, টঙ্গী হয়ে ঢাকা যাওয়ায় রেলপথের দূরত্ব ৩২০ কিলোমিটার দাঁড়িয়েছে। নতুন রেলপথ (কর্ড লাইন) কুমিল্লা-ঢাকা নির্মাণ হলে দূরত্ব কমবে এবং ট্রেনের গতি বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।
রেলওয়ে সূত্রে আরও জানা যায়, নতুন রেলপথ (কর্ড লাইন) কুমিল্লা-ঢাকা ৯০ কিমি. দীর্ঘাংশের বড় অংশ উড়ালপথে নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে বিএনপি সরকার। নতুন কর্ড লাইনটি কুমিল্লা-দাউদকান্দি-শ্যামপুর-ফতুল্লা-নারায়ণগঞ্জ হয়ে শীতলক্ষ্যা নদী অতিক্রম করে সরাসরি ঢাকার সঙ্গে যুক্ত হবে। কর্ড লাইনটি উড়ালপথ ঢাকা থেকে শুরু হয়ে কুমিল্লার গোমতী-দাউদকান্দি নদী পার হয়ে বিস্তৃত হবে। তবে পুরো নতুন রেলপথে কোনো লেভেল ক্রসিং রাখা হবে না।
আরও পড়ুন: চকরিয়ায় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা আকিত হোসেন সজিব গ্রেফতার
নতুন এ রেলপথ বাস্তবায়িত হলে বিদ্যমান রেলপথের দূরত্ব ৮০ কিলোমিটার কমে যাবে। নতুন কর্ড লাইন চালু হলে যাত্রী পরিবহনের পাশাপাশি চট্টগ্রাম বন্দরের সঙ্গে ঢাকার পণ্য পরিবহনে বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে। ইতোমধ্যে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে এবং বর্তমানে নকশা প্রণয়নের কাজ চলছে। প্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে ঢাকা-লাকসাম-চট্টগ্রাম ট্রেনে পৌঁছাতে সময় লাগবে তিন থেকে সাড়ে তিন ঘণ্টা। নতুন কর্ড লাইন চালু হলে পণ্য পরিবহনের মাত্রা ২০ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত উন্নত করা সম্ভব হবে।
বিগত সরকার ঢাকা-লাকসাম-চট্টগ্রাম রেলপথ উন্নয়নে দুটি প্রকল্পে প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করলেও ট্রেনের গতি বাড়েনি, বরং কমেছে। লেভেল ক্রসিং না থাকায় কর্ড লাইনে ট্রেনগুলো বাধা ছাড়াই চলাচল করতে পারবে, যা উচ্চ গতির ট্রেন পরিচালনার সুযোগ সৃষ্টি করবে। কুমিল্লা-ঢাকা রেল কর্ড লাইন সব জল্পনা-কল্পনার অবশেষে বাস্তবায়নের পথে যাওয়ায় কুমিল্লা তথা বৃহত্তর লাকসামবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ হচ্ছে।
কুমিল্লা সদর আসনের মনিরুল হক চৌধুরী এমপি মন্তব্য করেছেন, "আমার দীর্ঘদিনের আন্দোলনে কুমিল্লা-ঢাকা সরাসরি নতুন রেললাইন স্থাপন হচ্ছে। বাজেটে নতুন রেললাইন (কর্ড লাইন) সরাসরি নির্মাণের অনুমোদন হয়েছে। কুমিল্লা-ঢাকা কর্ড লাইন চালু হলে রাজধানীটাই কুমিল্লায় চলে আসবে। কুমিল্লার লোকজন ঢাকায় গিয়ে অফিস করতে পারবে।"
লাকসাম-মনোহরগঞ্জ আসন ও শিল্প মন্ত্রণালয় বিষয়ক সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মো. আবুল কালাম এমপি বলেছেন, "কুমিল্লা-ঢাকা নতুন রেলপথ কর্ড লাইন স্থাপন কুমিল্লাবাসী তথা বৃহত্তর লাকসামবাসীর প্রাণের দাবি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নতুন রেলপথ নির্মাণ গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন।" লাকসাম উপজেলা বিএনপি সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান বাদল মন্তব্য করেছেন, "কুমিল্লা-ঢাকা নতুন রেলপথ নির্মাণে বৃহত্তর লাকসামবাসী তথা লাকসাম-নোয়াখালী, লাকসাম-চাঁদপুর জেলাবাসী উপকৃত হবে।
আরও পড়ুন: মালয়েশিয়ার সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে বৈঠক মঙ্গলবার
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন