০৫:৪৮ এম
সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে পরিচালনার কার্যক্রম সীমিত থাকার কারণে বাংলাদেশের সঙ্গে দেশটির আকাশপথে যোগাযোগে অস্থিরতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। একের পর এক ফ্লাইট স্থগিত হওয়ায় বিপাকে পড়েছেন প্রবাসী কর্মী, ব্যবসায়ী, ওমরাহযাত্রীসহ বিভিন্ন শ্রেণির যাত্রী।
এখন পর্যন্ত ১৪৪টি ফ্লাইট স্থগিত হয়েছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন ২২ হাজার ২১ জন যাত্রী। পরিস্থিতি যদি দীর্ঘায়িত হয়, তবে যাত্রীদের দুর্ভোগ আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, স্থগিত ফ্লাইটের মধ্যে ৬৭টি সরাসরি এবং ৭৭টি ট্রানজিট ফ্লাইট রয়েছে। সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনাকারী চারটি এয়ারলাইন্সের মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ২৮টি, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ১০টি, সৌদিয়ার ১৯টি এবং রিয়াদ এয়ারের ১০টি ফ্লাইট স্থগিত হয়েছে।
আরও পড়ুন: বগুড়ায় যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র্যালিতে নেতাকর্মীদের ঢল
অন্যদিকে, ট্রানজিট ফ্লাইটের মধ্যে ইন্ডিগোর ৩০টি, সালাম এয়ারের সাতটি, ইজিপ্টএয়ারের একটি, এমিরেটসের ১৪টি, কাতার এয়ারওয়েজের নয়টি, ফ্লাইদুবাইয়ের আটটি এবং এয়ার ইন্ডিয়ার আটটি ফ্লাইট স্থগিত হয়েছে।
ট্রানজিট যাত্রীরাও অনিশ্চয়তায়
সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে পরিচালনার সীমাবদ্ধতার প্রভাব সরাসরি ফ্লাইটের পাশাপাশি ট্রানজিট রুটেও পড়েছে। অন্য দেশের বিমানবন্দর হয়ে সৌদি আরবে যাওয়ার পরিকল্পনা করা যাত্রীদের নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ফলে অনেককে ভ্রমণসূচি পরিবর্তন, টিকিট পুনর্নির্ধারণ কিংবা বিকল্প ফ্লাইট খুঁজতে হতে পারে।
তবে ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রীদের মধ্যে কতজন বিকল্প ফ্লাইট পেয়েছেন, কতজন টিকিটের তারিখ পরিবর্তন করেছেন কিংবা কতজন অর্থ ফেরত পেয়েছেন, সে সম্পর্কে বিস্তারিত পরিসংখ্যান পাওয়া যায়নি।
আরও পড়ুন: রাজউকের প্লট দেওয়ার নামে ৬ কোটি টাকা আত্মসাৎ, আসামি মঞ্জুর কারাগারে
বিকল্প ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন
ফ্লাইট স্থগিতের কারণে সবচেয়ে বেশি অনিশ্চয়তায় রয়েছেন কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে সৌদি আরবগামী যাত্রীরা। নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে না পারলে তাদের আর্থিক ও পেশাগত ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে ওমরাহযাত্রী ও ব্যবসায়ীদেরও ভ্রমণ পরিকল্পনায় পরিবর্তন আনতে হতে পারে।
এ পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রীদের সহায়তায় এয়ারলাইন্সগুলোর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। স্থগিত ফ্লাইটের যাত্রীদের মধ্যে কতজনকে বিকল্প ফ্লাইটে নেওয়া হয়েছে, কতজনের টিকিটের তারিখ পরিবর্তন করা হয়েছে এবং অর্থ ফেরতের আবেদন কতটি নিষ্পত্তি হয়েছে, তা জানা প্রয়োজন। পাশাপাশি যাত্রীদের নিয়মিত হালনাগাদ তথ্য দেওয়ার ব্যবস্থা কার্যকর রাখা জরুরি।
ফ্লাইট স্থগিতের সর্বশেষ তথ্য যাত্রীদের কাছে পৌঁছানো এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত দুর্ভোগ কমাতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়ও গুরুত্বপূর্ণ। তবে এ বিষয়ে এয়ারলাইন্স ও বেবিচকের পক্ষ থেকে কী কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তার বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
আরও পড়ুন: সৌদি আরবে হামলার কারণে বাংলাদেশ থেকে ২২ হাজার ২৪১ যাত্রীর ফ্লাইট বাতিল
সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোর পরিচালনার পরিস্থিতির ওপর ফ্লাইট চলাচল স্বাভাবিক হওয়ার বিষয়টি নির্ভর করছে। এ অবস্থায় যাত্রীদের ভ্রমণের আগে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্সের সঙ্গে যোগাযোগ করে ফ্লাইটের সর্বশেষ অবস্থা নিশ্চিত করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
তবে শুধু যাত্রীদের সতর্ক থাকার পরামর্শই যথেষ্ট নয়। সংকটের সময়ে দ্রুত তথ্য সরবরাহ, বিকল্প ভ্রমণব্যবস্থা, টিকিট পরিবর্তন ও অর্থ ফেরত প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি। ১৪৪টি ফ্লাইট স্থগিত এবং ২২ হাজার ২১ জন যাত্রীর ভোগান্তি কমাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও এয়ারলাইন্সগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন