১০:২৮ এম
ঢাকা-সিলেট ও ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যানজট সমস্যা সমাধানের উদ্দেশ্যে রূপগঞ্জে ২৩ বছরেও বালু নদের সেতু কার্যকর হয়নি। এলাকাবাসী সেতুর নির্মাণকাজ দ্রুত সম্পন্ন করার দাবিতে আন্দোলন করলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। ২০০৩ সালে ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জ জেলার সীমান্তবর্তী রূপগঞ্জ উপজেলার কায়েতপাড়া-নগরপাড়া এলাকায় বহু প্রতীক্ষিত বালু সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হয়। সেতুর জন্য ৭৫ দশমিক ৩০ মিটার দৈর্ঘ্যের সড়ক ও জনপথ (সওজ) এর নির্মাণ ব্যয় নির্ধারণ করা হয় ৫ কোটি ৮০ লাখ টাকা। এলাকাবাসী বিভিন্ন সময় সভা, সমাবেশ, বিক্ষোভ, মানববন্ধন, সড়ক অবরোধসহ নানা ধরনের কর্মসূচি পালন করেছে সেতুর নির্মাণকাজ সম্পন্ন করার দাবিতে। কিন্তু তাদের কোনো উদ্যোগই ফলপ্রসূ হয়নি।
চলতি বছরের ২৭ মার্চ সড়ক পরিবহন ও সেতু প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ বালু নদের সেতুর নির্মাণকাজের সর্বশেষ পরিস্থিতি পরিদর্শন করেন। ১৬ এপ্রিল জাতীয় সংসদে নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মুস্তাফিজুর রহমান ভুঁইয়া দিপু বলেন, ২০০১ সালে বেগম খালেদা জিয়ার প্রতিশ্রুতিতে দরপত্রের মাধ্যমে ২০০৩ সালে বালু নদের সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হয়। এক পর্যায়ে বিভিন্ন মহলের মাধ্যমে সেতু নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়। তিনি জাতীয় সংসদে দাবি জানান, বন্ধ করে দেওয়া সেতু নির্মাণকাজ দ্রুত শেষ করতে হবে। সেতুটি নির্মাণ হলে ঢাকা-সিলেট ও ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের যানজট কমবে এবং রূপগঞ্জবাসীও উপকৃত হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
নারায়ণগঞ্জ সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ২০০১ সালে নারায়ণগঞ্জ সড়ক বিভাগের অধীনে মাঝিনা-কায়েতপাড়া-ত্রিমোহনী সড়কের বালু নদের ওপর সেতু নির্মাণের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়। মেসার্স ইস্টার্ন ট্রেডার্স লিমিটেড কোম্পানি সেতু নির্মাণের দায়িত্ব পায়। সড়ক ও জনপথ বিভাগের তত্ত্বাবধানে পরবর্তী এক বছরের মধ্যে সেতুটির নির্মাণকাজ শেষ করার কথা ছিল।
আরও পড়ুন: সাদিক কায়েম: ফ্যাসিবাদ ও বিএনপি একাকার হয়ে গেছে
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালিক জাহিদ হোসেন জানান, সেতু নির্মাণে ২০০৪-২০০৫ অর্থবছরে মাত্র ৫০ লাখ টাকা উত্তোলন করা হয়। এরপর আর কোনো বরাদ্দ প্রদান করা হয়নি। বরাদ্দ না পাওয়ার কারণে টাকাও উত্তোলন করা যায়নি। সিডিউল অনুযায়ী সিমেন্ট, রড, বালু, পাথরসহ নির্মাণসামগ্রীর দাম বেড়ে যাওয়ার ফলে নির্মাণকাজে স্থবিরতা দেখা দেয়। এভাবে নানা প্রতিকূলতার কারণে বালু সেতুর নির্মাণকাজ ২৩ বছরেও শেষ হয়নি। ২০২১ সালে অসমাপ্ত বালু সেতু নির্মাণের জন্য দ্বিতীয় দফায় দরপত্র আহ্বান করা হয়। এ সময় নতুন করে বরাদ্দ দেওয়া হয় প্রায় ১৩ কোটি টাকা। তখন মেসার্স ইউনুস অ্যান্ড বাদ্রার্স এবং মেসার্স সরদার এন্টারপ্রাইজ (জেভি) সেতু নির্মাণের কাজ পায়। সে অনুযায়ী ২০২১ সালের মে মাসে কাজ শুরু করার কথা ছিল। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে দ্বিতীয় দফায় সেতুর নির্মাণকাজ আবারও বন্ধ হয়ে যায়। সরেজমিনে সেতুর নির্মাণ সাইটে গিয়ে দেখা যায়, সেতুর দুটি পিয়ার, দুটি পিয়ারের কলাম, ক্যাপ, এক পাশে উইংওয়াল ও এবাটমেন্ট দেয়াল দাঁড়িয়ে আছে। সেতুর সংযোগ সড়ক বেহাল অবস্থায় রয়েছে। সড়কের সলিং করা ইট উঠে গেছে। ব্যবহৃত রডে মরিচা ধরে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে যাচ্ছে। নারায়ণগঞ্জ জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী (সওজ) আবদুর রহিম বলেন, কায়েতপাড়া-নগরপাড়া এলাকার বালু নদের সেতু নির্মাণ খুবই জরুরি। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সব আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে শিগগিরই সেতু নির্মাণকাজ শুরু হবে।
নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মুস্তাফিজুর রহমান ভুঁইয়া দিপু বলেন, জনগুরুত্বপূর্ণ বালু নদের এই সেতু নির্মাণে নতুন উদ্যমে পরিকল্পনা হচ্ছে। বালু সেতু নির্মাণ হলে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে ঢাকার সেতুবন্ধন তৈরি হবে। রাজধানী ঢাকার যানজট ও দূরত্ব কমে যাবে। একটি মাত্র সেতুর জন্য রূপগঞ্জসহ আশপাশের লাখো মানুষকে ১২-১৩ কিলোমিটার পথ ঘুরে রাজধানী ঢাকায় যেতে হয়। সেতুটি নিয়ে দুই দফায় টেন্ডারও হয়েছে। সেতুটিকে ঘিরে লাখো মানুষ বুকভরা আশা আর স্বপ্ন নিয়ে আছেন। কিন্তু সেই স্বপ্ন বারবার ভেঙে যাচ্ছে। সড়ক পরিবহন ও সেতু প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ বলেন, ঢাকার পূর্ব মাদারটেক, সবুজবাগ হয়ে বালু নদের সেতু পার হয়ে সিলেট ও চট্টগ্রামসহ ঢাকার পূর্বাঞ্চলীয় এলাকায় সহজেই আসা-যাওয়া করা যাবে। এই দিক থেকে বালু নদের সেতুটি অত্যন্ত জনগুরুত্বপূর্ণ। বালু নদের সেতুর নির্মাণকাজ দ্রুত সমাপ্ত করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন