প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার নওয়াপাড়া উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় ৮৪ শতাংশ জমি দান করেও প্রতিষ্ঠাতা ও দাতা হিসেবে যথাযথ স্বীকৃতি পাননি বলে অভিযোগ করেছেন মরহুম মকবুল হোসেন খানের পরিবারের সদস্যরা। বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক আব্দুর রউফ তালুকদার ও বর্তমান ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দবিরউদ্দীনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, আর্থিক অনিয়ম, জমি বিক্রি, চাকরি না দেওয়া ও হয়রানির অভিযোগ তুলে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন পরিবারের সদস্যরা। লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মরহুম মকবুল হোসেন খানের মেয়ে মনিরা খানম।
লিখিত বক্তব্যে মনিরা খানম বলেন, তাঁর বাবা নওয়াপাড়া উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য ৮৪ শতাংশ জমি দান করেছিলেন। কিন্তু পরবর্তী সময়ে তাঁকে বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা ও দাতা হিসেবে যথাযথ স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি।
জমি দানের সময় রেজুলেশনে পরিবারের যোগ্য সদস্যদের চাকরি দেওয়ার বিষয়টি উল্লেখ থাকলেও তাঁদের যোগ্য সদস্যদের চাকরি দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
মনিরা খানম আরও বলেন, চাকরির জন্য আবেদন করায় তাঁদের পরিবারের একজন সদস্যকে বিনা অভিযোগে ধরে নিয়ে আটকে রাখা হয়েছিল।
তাঁর ভাই মো. হারুন খান বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী হিসেবে কর্মরত থাকলেও গত দুই বছর ধরে তাঁর বেতন আটকে রাখা হয়েছে। এ বিষয়ে প্রতিবাদ করায় তাঁদের পরিবারের একজন সদস্যকে খণ্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার পর মাত্র এক মাস দায়িত্ব পালন শেষে বাদ দেওয়া হয়। অথচ একই সময়ে নিয়োগ পাওয়া অন্য একজন এখনো কর্মরত রয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।
এ ছাড়া তাঁদের দান করা জমিতে ঘর নির্মাণে বাধা দেওয়া এবং ঘর নির্মাণকে কেন্দ্র করে তাঁর ভাইকে থানায় আটকে রাখার অভিযোগও করেন মনিরা খানম।
সংবাদ সম্মেলনে সাবেক প্রধান শিক্ষক আব্দুর রউফ তালুকদারের বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও আর্থিক খাতে অনিয়মের অভিযোগ তোলা হয়। পাশাপাশি বিদ্যালয়ের নামে বরাদ্দ করা দাতা মো. মাহাবুবুর রহমান বুদ্দু মিয়া ও মোমেনার দুটি জমি অসাধু উপায়ে বিক্রি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন পরিবারের সদস্যরা।
অন্যদিকে, বর্তমান ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দবিরউদ্দীনের বিরুদ্ধে প্রায় ১০ থেকে ১২ বছর ধরে দুর্নীতি, আর্থিক অনিয়ম ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ তোলেন তাঁরা। তাঁর দায়িত্ব পালন ও পুনরায় বিদ্যালয়ে যোগদানের বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন অভিযোগকারীরা।
এ বিষয়ে সাবেক প্রধান শিক্ষক আব্দুর রউফ তালুকদার বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।
বর্তমান ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দবিরউদ্দীনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাঁর ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোজাম্মেল হক বলেন, হারুনের বেতন ইএফটির (ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার) মাধ্যমে পরিশোধের জন্য প্রয়োজনীয় যেসব কাগজপত্র দরকার, সেগুলো তিনি ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দবির সাহেবের কাছে জমা দেননি। এ কারণে এখনো পর্যন্ত হারুনের নাম ইএফটিতে অন্তর্ভুক্ত হয়নি। তাই তাঁর বেতন হচ্ছে না। ইএফটিতে নাম অন্তর্ভুক্ত হলে তিনি বেতন পাবেন।
সংবাদ সম্মেলনে পরিবারের সদস্য মো. হারুন খান, মো. দেলোয়ার হোসেন খান, মা মোছা. হাজেরা বেগমসহ নওয়াপাড়া এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন