০২:১৫ পি.এম
দেশের গুরুত্বপূর্ণ দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে ফেরি চলাচল নাব্যতা সংকটের কারণে ব্যাহত হচ্ছে। নদীতে পলি জমে যাওয়ার ফলে দৌলতদিয়া প্রান্তের ৬ ও ৭ নম্বর ফেরিঘাট এক মাসেরও বেশি সময় ধরে বন্ধ রয়েছে। বর্তমানে যানবাহন পারাপার হচ্ছে ৩, ৪ ও ৫ নম্বর ঘাট দিয়ে। তবে ৫ নম্বর ঘাটে রোরো (বড়) ফেরি ভেড়ানো সম্ভব হচ্ছে না। এর ফলে এ নৌরুটে চলাচলকারী যাত্রী ও যানবাহনের চালকদের জন্য দুর্ভোগ সৃষ্টি হচ্ছে।
সরেজমিনে পরিদর্শন করে জানা গেছে, দৌলতদিয়া প্রান্তে নৌরুট সচল রাখতে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) ড্রেজিং কার্যক্রম পরিচালনা করছে। বর্তমানে দুটি ড্রেজার দিয়ে নদী খননের কাজ চলছে। তবে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তীব্র স্রোত ও নিয়মিত পলি জমার কারণে খনন কাজের লক্ষ্যমাত্রা বৃদ্ধি পেতে পারে।
বিআইডব্লিউটিএর ড্রেজার বিভাগের সূত্রে জানা যায়, ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত হাইড্রোগ্রাফিক চার্ট অনুযায়ী, দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এলাকায় ড্রেজিংয়ের প্রাথমিক লক্ষ্যমাত্রা ৫ লাখ ১১ হাজার ঘনমিটার নির্ধারণ করা হয়েছে। পরবর্তীতে দৌলতদিয়ার ৪, ৫ ও ৬ নম্বর ঘাট এলাকায় পলি জমার কারণে এ লক্ষ্যমাত্রা বেড়ে ৮ লাখ ঘনমিটার বা তারও বেশি হতে পারে। এখন পর্যন্ত প্রায় ৭৬ হাজার ঘনমিটার পলি অপসারণ করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: সোনারগাঁয়ে যুবদল নেতা হত্যায় ৩ দিন পর মামলা, প্রধান আসামী ছাত্রদল নেতা রিজভী
বিআইডব্লিউটিএর আরিচা অঞ্চলের ড্রেজিং বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী হাছান আহমেদ বলেন, দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে নাব্যতা সংকট দেখা দিয়েছে। এ সংকট নিরসনে ৭ নম্বর ফেরিঘাট এলাকায় ড্রেজিং কার্যক্রম চলছে। তিনি জানান, প্রাথমিকভাবে ২৮ অক্টোবরের মধ্যে ৭ নম্বর ফেরিঘাট চালুর লক্ষ্য নিয়ে কাজ করা হচ্ছিল। কিন্তু তীব্র স্রোত এবং প্রতিদিন নতুন করে পলি জমার কারণে পরিস্থিতি পরিবর্তিত হচ্ছে। নতুন করে হাইড্রোগ্রাফিক সার্ভে করে পরবর্তী পরিকল্পনা নির্ধারণ করা সম্ভব হবে।
বিআইডব্লিউটিসির দৌলতদিয়া ঘাট শাখার ব্যবস্থাপক মো. সালাউদ্দিন জানান, দৌলতদিয়া প্রান্তে ৩, ৪ ও ৫ নম্বর ফেরিঘাট সচল রয়েছে। তবে নাব্যতা সংকটের কারণে গুরুত্বপূর্ণ ৭ নম্বর ঘাট বন্ধ রয়েছে। ৭ নম্বর ঘাটটি সচল করতে বিআইডব্লিউটিএ গত ৬ অক্টোবর থেকে ড্রেজিং শুরু করেছে। দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নাব্যতা সংকটের কারণে ফেরিঘাটের সংখ্যা কমে যাওয়ায় এ নৌরুটে ফেরি চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। দ্রুত ড্রেজিং সম্পন্ন হলে বন্ধ ঘাটগুলো চালু করা সম্ভব হবে, যা যানবাহন পারাপারের চাপ কমানোর পাশাপাশি যাত্রী ও চালকদের দুর্ভোগও কমাবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন