সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৩:০৬ এম
জামালগঞ্জ উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আরিফুর রহমান শান্তকে সিলেট বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে সংযুক্তি করা হয়েছে। তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) বিরুদ্ধে ফেসবুকে পোস্ট দেওয়ার কারণে আলোচনায় আসেন।
রোববার (২৫ অক্টোবর) বিকেলে, ওই কার্যালয়ের জ্যেষ্ঠ সহকারী কমিশনার মো. মুজিবুল ইসলাম স্বাক্ষরিত একটি প্রজ্ঞাপনে এই আদেশ জারি করা হয়। সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) তাপস শীল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে এসিল্যান্ড আরিফুর রহমান রাজধানীর পান্থপথের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। শনিবার (২৪ অক্টোবর) বিকেলে সিলেট থেকে তার স্ত্রী ও উপজেলা প্রশাসনের এক কর্মী তাকে চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নিয়ে যান। এর আগে, শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাত সোয়া ১০টার দিকে, তিনি নিজের দাফতরিক ফেসবুক পেজে পরপর দুটি পোস্ট দেন।
একটি পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, ‘আমার মৃত্যুর জন্য শিল্পী রানী মোদক (ইউএনও) দায়ী থাকবে’ এবং অপরটিতে লেখেন, ‘আই রিজাইন ফ্রম অ্যাডমিন ক্যাডার’। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্টগুলো দেখে পুলিশসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা দ্রুত তার বাসায় ছুটে যান। গভীর রাতে তাকে জামালগঞ্জ থেকে সিলেটের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং পরে চিকিৎসকদের পরামর্শে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেয়া হয়।
সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. মতিউর রহমান খান জানান, জেলা প্রশাসন নিয়মিত তার খোঁজখবর রাখছে। তিনি আরও জানান, এসিল্যান্ড আরিফুর রহমানের আগে থেকেই মানসিক সমস্যা ছিল বলে তারা জানতে পেরেছেন। চিকিৎসকের ভাষ্য অনুযায়ী, এই মানসিক রোগটিকে ‘সিজোফ্রেনিয়া’ বলা হয়। আরিফুর রহমান প্রায় দুই মাস ধরে জামালগঞ্জে এসিল্যান্ড হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন এবং স্ত্রীকে নিয়ে উপজেলা সদরেই বসবাস করতেন।
ঘটনার বর্ণনা দিয়ে জামালগঞ্জের ইউএনও শিল্পী রানী মোদক জানান, শুক্রবার রাতে তার তিন বছর বয়সী মেয়ের জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এসিল্যান্ড সস্ত্রীক তার বাসায় আসেন। সেখান থেকে বের হয়ে রাত সোয়া ১০টার দিকে ফেসবুকে ওই পোস্টগুলো দেন। বিষয়টি জানার পর অনেকেই তার বাসায় গিয়ে দেখেন, তিনি অস্বাভাবিক আচরণ করছেন এবং পরিচিত ব্যক্তিদেরও চিনতে পারছেন না। এর আগে তিনি বাসার এক আনসার সদস্যকে মারধর করেন এবং ঘরের টেবিলের গ্লাস ভাঙচুর করেন।
ইউএনও আরও জানান, খবর পেয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক গিয়ে তাকে ঘুমের ইনজেকশন দেন, তবুও তার অস্বাভাবিক আচরণ কমেনি। পরে তার স্ত্রীর সিদ্ধান্তে তাকে সিলেটে নেয়া হয়। এসিল্যান্ডের স্ত্রীর বরাতে ইউএনও জানান, আরিফুর রহমানের মানসিক সমস্যা আগে থেকেই ছিল। এছাড়া ঘটনার তিন দিন আগে জামালগঞ্জে পানিতে ডুবে এক শিশুর মৃত্যুর পর মরদেহ দেখে তিনি মানসিকভাবে ট্রমাগ্রস্ত হয়ে পড়েন।
এদিকে ফেসবুকে পোস্টের বিষয়ে শুরুতে এসিল্যান্ডের মোবাইল ফোন হ্যাক হওয়ার কথা শোনা গেলেও পরে তার স্ত্রী জানান, পোস্টগুলো এসিল্যান্ড নিজেই করেছিলেন এবং তিনিই পরে সেগুলো মুছে দেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ