০২:২৮ পি.এম
ক্যানসার, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়া এবং সড়ক দুর্ঘটনার কারণে চার মাসের মধ্যে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (মাভাবিপ্রবি) চার সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থী মারা গেছেন।
এই মৃত্যুর মধ্যে দুজন ক্যানসারের কারণে এবং অন্য দুজন দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন। এছাড়া, কক্সবাজারের ইনানীতে রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক সাবেক শিক্ষার্থী স্ত্রী ও দুই কন্যাসন্তানসহ নিখোঁজ রয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের মধ্যে পাঁচ সাবেক-বর্তমান শিক্ষার্থীর মৃত্যু ও নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় শোক ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
ক্যানসারে মারা যান দুই শিক্ষার্থী
আরও পড়ুন: জাবিতে মুক্তিযোদ্ধা মানিকের স্মরণে শিক্ষার্থীদের মোমবাতি প্রজ্বালন
দীর্ঘদিন ক্যানসারের সঙ্গে যুদ্ধ করে গত ২৯ আগস্ট মারা যান অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন সোহান। তিনি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের এই শিক্ষার্থী ক্যানসারের কারণে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে একটি পা হারান। পরবর্তীকালে তার ফুসফুসেও ক্যানসার ধরা পড়ে। তিনি নিজের ২২তম জন্মদিনে মারা যান এবং মাভাবিপ্রবি সাংবাদিক সমিতির সদস্য ছিলেন।
অন্যদিকে, দীর্ঘ দুই বছর ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করে গত ৩ অক্টোবর জার্মানিতে মারা যান গণিত বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী নাহিদ ফারাবি। তিনি ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষের চতুর্থ ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন। মৃত্যুর সময় তিনি জার্মানিতে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করছিলেন বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানা গেছে।
বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে প্রাণ যায় মনিরের
গত ২৩ জুলাই রাতে বিশ্ববিদ্যালয়-সংলগ্ন আরিফনগর এলাকার খাজা ছাত্রাবাসের তৃতীয় তলার বারান্দায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে গুরুতর আহত হন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী মো. মনিরুজ্জামান মনির। তাকে টাঙ্গাইলের হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তিনি ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।
আরও পড়ুন: চুয়েটে ৩৬ দিন পর বুধবার থেকে ক্লাস শুরু, বিভাগের প্রধানরা নিশ্চিত নন
সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত সাবেক শিক্ষার্থী এসআই মিজানুর
গত ২৩ অক্টোবর গাজীপুরের কালীগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মিজানুর রহমান। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োকেমিস্ট্রি অ্যান্ড মলিকুলার বায়োলজি (বিএমবি) বিভাগের ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের সাবেক শিক্ষার্থী ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কালীগঞ্জের তুমুলিয়া এলাকায় সরকারি শ্রমিক কলেজের সামনে পুলিশের একটি গাড়িকে অজ্ঞাত একটি যানবাহন ধাক্কা দিলে মিজানুর গুরুতর আহত হন। পরে ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু ঘটে।
অগ্নিকাণ্ডের পর পরিবারসহ নিখোঁজ নাহিদুর
আরও পড়ুন: ঢাবির ৫৪তম সমাবর্তনে গলাকাটা ফি নির্ধারণের বিরুদ্ধে মুসাদ্দিকের প্রতিবাদ
গত ১৭ অক্টোবর কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীর পাটুয়ারটেক এলাকায় টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডের পর থেকে নিখোঁজ রয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিমিনোলজি অ্যান্ড পুলিশ সায়েন্স (সিপিএস) বিভাগের দ্বিতীয় ব্যাচের সাবেক শিক্ষার্থী নাহিদুর রহমান তুহিন। তার সঙ্গে নিখোঁজ রয়েছেন স্ত্রী আফসানা মতিন তানজি এবং তাদের দুই কন্যাসন্তান রুজাইনা ইনায়া ও সুনাইনা ইহানা।
ওই অগ্নিকাণ্ডে ১০ জনের মৃত্যুর খবর প্রকাশিত হয়েছে। তবে নাহিদুর ও তার পরিবারের সদস্যদের পরিণতি সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি। উদ্ধার হওয়া কয়েকটি মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করতে ডিএনএ পরীক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
নাহিদুর ও তার পরিবারের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় স্বজনদের মধ্যে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। তাদের সন্ধান এবং মরদেহের পরিচয় শনাক্তের অপেক্ষায় রয়েছেন স্বজনেরা।
চার সাবেক-বর্তমান শিক্ষার্থীর মৃত্যু এবং আরেক সাবেক শিক্ষার্থীর পরিবারসহ নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও সাবেক শিক্ষার্থীদের মধ্যে শোকের আবহ তৈরি হয়েছে। এই ঘটনার ফলে বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা, সুস্থতা ও পারস্পরিক সংযোগের গুরুত্ব আবারও সামনে এসেছে।
আরও পড়ুন: ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন