০২:১৫ পি.এম
ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন হঠাৎ পরিদর্শন করেছেন।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকালে পৌনে ৯ টার দিকে তিনি আকস্মিকভাবে হাসপাতালে উপস্থিত হন। হাসপাতালের সার্বিক চিকিৎসাসেবা, জনবল, যন্ত্রপাতি, অবকাঠামো ও পরিচ্ছন্নতার পরিস্থিতি সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন। এ সময় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের চরম অব্যবস্থাপনা দেখে তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি হাসপাতালের কোথায় কী সমস্যা রয়েছে এবং কোন কোন ক্ষেত্রে উন্নয়ন প্রয়োজন, তা সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন। এসব সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন হাসপাতালটিতে প্রবেশ করে প্রায় ২ ঘন্টার মতো সময় কাটান। তিনি হাসপাতালের জরুরি বিভাগ, ইনডোর, আউটডোর, নার্সিং কক্ষ, স্টোররুম, ড্রেনেজ ব্যবস্থা, টয়লেটসহ বিভিন্ন বিভাগ ও স্থাপনা ঘুরে দেখেন। হাসপাতালের সার্বিক পরিস্থিতি সরেজমিনে যাচাই করতে গিয়ে চিকিৎসাসেবার বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখেন।
আরও পড়ুন: কপ৩১ সম্মেলনে বাংলাদেশের শক্তিশালী অবস্থানের আহ্বান জানালেন শামা
পরিদর্শনকালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের সঙ্গে কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি জানতে চান, রোগীরা যথাযথ চিকিৎসাসেবা পাচ্ছেন কি না, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা হাসপাতালের ভেতরে করা সম্ভব হচ্ছে কি না এবং চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী ওষুধ সরবরাহ করা হচ্ছে কি না। তিনি জানতে চান, কোনো রোগীকে বাইরে থেকে পরীক্ষা করাতে হয়েছে কি না, হাসপাতালের বাইরে থেকে ওষুধ কিনতে হয়েছে কি না এবং কিনতে হলে তার কারণ কী—এসব বিষয়েও বিস্তারিত জানতে চান। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ওষুধ হাসপাতালের স্টোরে মজুত রয়েছে কি না, তা যাচাই করেন।
পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে হাসপাতালের বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার কথা তুলে ধরেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার চিকিৎসা খাতসহ বিভিন্ন খাতকে ধ্বংস করে গেছে। ফুলপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পরিদর্শনকালে জনবলসংকট, প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির অভাব এবং রোগীদের থাকার জন্য ভবনসংক্রান্ত সমস্যাসহ নানা ধরনের সীমাবদ্ধতা পাওয়া গেছে। এসব সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করেছে মাত্র সাত মাস হয়েছে। স্বাস্থ্য খাতের বিদ্যমান সমস্যাগুলো সমাধানে কিছুটা সময় দিতে হবে।
এ সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর পিএস খন্দকার ইফতেখার, ফুলপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাধনা ত্রিপুরা এবং ফুলপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. সাদ মাহমুদ জয় উপস্থিত ছিলেন।
আরও পড়ুন: আ.লীগ সন্ত্রাসী সংগঠন, পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় দাবি আবু হানিফের
তবে পরিদর্শনের সময় উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রাহাত চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন না। স্বাস্থ্যমন্ত্রীর আগমনের কিছুক্ষণ আগে তিনি ছুটি নিয়ে চলে গেছেন বলে জানা গেছে।
ফুলপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জনবলসংকট, চিকিৎসা সরঞ্জামের ঘাটতি ও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা নিরসনে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হলে স্থানীয় জনগণের স্বাস্থ্যসেবা আরও উন্নত হবে বলে প্রত্যাশা এলাকাবাসীর।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন