কবির হোসেন, আলফাডাঙ্গা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি
০৮:৫৩ পি.এম
ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উপজেলা শাখার যুগ্ম সদস্যসচিব পদ থেকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেছেন মোহাম্মাদ মিলন মোল্লা। ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও পেশাগত ব্যস্ততার কারণে সাংগঠনিক দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে না পারার কথা উল্লেখ করে তিনি পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) সন্ধ্যায় আলফাডাঙ্গায় এনসিপির উপজেলা কার্যালয়ে শাখার আহ্বায়ক আব্দুল জলিল মোল্লার কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন মিলন মোল্লা।
পদত্যাগপত্রে মিলন মোল্লা উল্লেখ করেন, তিনি নিষ্ঠা, সততা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে দলের সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। কিন্তু ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও পেশাগত ব্যস্ততার কারণে বর্তমানে দলের সাংগঠনিক কার্যক্রমে প্রয়োজনীয় সময় দেওয়া এবং অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করা তাঁর পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, একটি সাংগঠনিক পদে দায়িত্ব পালনের জন্য পর্যাপ্ত সময়, আন্তরিকতা ও কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা জরুরি। এ বিবেচনায় সংগঠনের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তিনি স্বেচ্ছায় যুগ্ম সদস্যসচিব পদ থেকে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। একই সঙ্গে তাঁর পদত্যাগপত্র গ্রহণ করে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে এনসিপি আলফাডাঙ্গা উপজেলা শাখার আহ্বায়ক আব্দুল জলিল মোল্লা বলেন, মিলন মোল্লার পদত্যাগপত্র পেয়েছি। এটি এনসিপির জেলা কার্যালয়ে পাঠানো হবে। সেখান থেকে যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, সেটিই চূড়ান্ত।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মাদারীপুরের ডাসারে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তির মৃত্যুতে দিশেহারা হয়ে পড়েছে একটি পরিবার। স্বামীকে হারিয়ে স্ত্রী, দুই সন্তান ও বৃদ্ধ বাবাকে নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটছে পরিবারের সদস্যদের। বিশেষ করে সপ্তম ও তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ুয়া দুই মেধাবী সন্তানের পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন স্বজন ও এলাকাবাসী। এমন পরিস্থিতিতে পরিবারটির পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন মাদারীপুর-৩ (কালকিনি-ডাসার) আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-গণশিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক আনিসুর রহমান তালুকদার খোকন।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) ভোরে ঢাকার মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান শিবংকর শিকারী সঞ্জয় (৩৫)। তিনি ডাসার উপজেলার ডাসার ইউনিয়নের আড়ুয়াকান্দি গ্রামের শীতল শিকারীর ছেলে।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, স্ত্রী, এক ছেলে, এক মেয়ে ও বৃদ্ধ বাবাকে নিয়ে ছিল সঞ্জয়ের পাঁচ সদস্যের সংসার। তাঁর উপার্জনেই চলত পরিবারের ভরণপোষণ ও সন্তানদের পড়াশোনার খরচ। কিন্তু তাঁর আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবারটি এখন চরম আর্থিক সংকটে পড়েছে।
নিহতের মেয়ে স্থানীয় বিদ্যালয়ে সপ্তম শ্রেণিতে এবং ছেলে তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ে। পরিবারের সদস্য ও এলাকাবাসীর ভাষ্য, দুই সন্তানই পড়াশোনায় মেধাবী। তবে সংসারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে তাদের লেখাপড়া চালিয়ে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়তে পারে। সরকারি বা অন্য কোনো সহায়তা পেলে সন্তান দুটির পড়াশোনা অব্যাহত রাখা সম্ভব হবে বলে আশা করছেন তাঁরা।
সঞ্জয়ের ভাই বিনয় শিকারী জানান, প্রায় এক সপ্তাহ আগে তাঁর ভাই জ্বরে আক্রান্ত হন। প্রথমে সাধারণ জ্বর মনে করে বাড়িতে ওষুধ দিয়ে চিকিৎসা করানো হয়। তিন দিন পর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে গত বৃহস্পতিবার তাঁকে কালকিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখানে পরীক্ষায় ডেঙ্গু শনাক্ত হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার ভোরে তাঁর মৃত্যু হয়।
ডাসার ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য দীপংকর জানান, সঞ্জয় তাঁর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ছিলেন। তাঁর উপার্জনেই পরিবারটি চলত। ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে তাঁর এমন মৃত্যু অত্যন্ত দুঃখজনক। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে স্ত্রী, সন্তান ও বৃদ্ধ বাবাকে নিয়ে পরিবারটি বড় ধরনের সংকটে পড়েছে।
এদিকে পরিবারটির অসহায়ত্বের খবর শুনে তাদের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন সংসদ সদস্য আনিসুর রহমান তালুকদার খোকন। তাঁর এই আশ্বাসে সংকটের মধ্যে থাকা পরিবারটি কিছুটা আশার আলো দেখছে। তবে সন্তান দুটির পড়াশোনা নির্বিঘ্নে চালিয়ে নিতে সরকারি সহায়তার দাবি জানিয়েছেন স্বজন ও এলাকাবাসী।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সিলেটের হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের তিনটি ডেকচি ও পাঁচটি দানবাক্স খুলে ৮৮ লাখ ৬৫ হাজার ৮০৪ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। পাশাপাশি, মাজারের দানবাক্স থেকে ১ ভরি সাড়ে ৮ আনা সোনা, ৩ ভরি ১৩ আনা রূপা এবং ১৮টি দেশের বিভিন্ন বৈদেশিক মুদ্রা পাওয়া গেছে।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) দিনভর গণনা শেষে সন্ধ্যা সোয়া ৬টার দিকে সিলেটের জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুন এ হিসাব ঘোষণা করেন। এর আগে সকাল সাড়ে ৯টায় জেলা প্রশাসক, জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাগণ এবং মাজার ব্যবস্থাপনায় গঠিত কমিটির প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে মাজারের দানবাক্স ও ডেগের টাকা পঞ্চমবারের মতো গণনা শুরু হয়।
গণনায় পাওয়া বৈদেশিক মুদ্রার মধ্যে রয়েছে— ১৪ ব্রিটিশ পাউন্ড, ৭ হাজার ৬৪৭ ভারতীয় রুপি, ২০ থাই বাথ, ৯৩ সৌদি রিয়াল, ১১ মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত, ২৯ মার্কিন ডলার, ১ হাজার ৩৫০ দশমিক ৫০ ওমানি বাইসা, ৬৫ সংযুক্ত আরব আমিরাতের দিরহাম, ১৫ মালদ্বীপের রুপি, ১৭ কাতারি রিয়াল, ৭ ইউরো ৩৩ সেন্ট, ১০০ বাহরাইনি ফিলস, ১০ হংকং ডলার, ১ ব্রুনাই ডলার, ৫৫ নেপালি রুপি, ১০০ পাকিস্তানি রুপি, ৫০ রুশ রুবল এবং ৫০০ শ্রীলঙ্কান রুপি।
এছাড়াও, গত ৩৫ দিনের মানত করা গরু ও ছাগলের হিসাব উপস্থাপন করা হয়েছে। হিসাব অনুযায়ী, ৭টি গরুর মধ্যে ৪টি লঙ্গরখানায় শিরনি হিসেবে রান্না করা হয়েছে এবং ৩টি গরু খাদিমরা পেয়েছেন। এ ছাড়া ৩১০টি ছাগলের মধ্যে ২৫টি জবাই করে বিতরণ করা হয়েছে, ২১০টি লঙ্গরখানায় শিরনি হিসেবে রান্না করা হয়েছে, ২৭টি ব্যক্তিগত উদ্যোগে শিরনি করা হয়েছে এবং ৪৮টি ছাগল খাদিমরা পেয়েছেন।
এর আগে গত ১৯ সেপ্টেম্বর চতুর্থ দফায় মাজারের তিনটি ডেকচি ও পাঁচটি দানবাক্স খুলে ৮৮ লাখ ৯২ হাজার ৯৬৬ টাকা পাওয়া গিয়েছিল। সে সময় ১ ভরি ৯ আনা ২ রতি স্বর্ণ এবং ১৫টি দেশের বৈদেশিক মুদ্রাও উদ্ধার করা হয়েছিল।
উল্লেখ্য, গত ২৩ সেপ্টেম্বর বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদিরের নেতৃত্বে গঠিত কমিটির সভায় দানের টাকা প্রতিদিন গণনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। সে অনুযায়ী, টাকা গণনা, হিসাব সংরক্ষণ ও ব্যয়ের জন্য একজন ব্যবস্থাপক, একজন হিসাবরক্ষক এবং একজন অফিস সহকারী নিয়োগ দেওয়ার কথা ছিল। তবে নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ না হওয়ায় প্রতিদিন গণনার ব্যবস্থা এখনো কার্যকর করা সম্ভব হয়নি।
ওই সভায় আরও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল যে, দানের টাকার ৩৫ শতাংশ মাজারের উন্নয়নকাজে ব্যয় করা হবে এবং এ অর্থ সোনালী ব্যাংকের একটি হিসাবে জমা রাখা হবে। বাকি ৬৫ শতাংশ দিয়ে মাজারের দৈনন্দিন খরচ ও কর্মচারীদের বেতন-ভাতা পরিশোধ করা হবে। তবে কর্মচারী নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়ায় আগের নিয়মে ১ মাস ৮ দিন পর পঞ্চমবারের মতো প্রকাশ্যে দানের টাকা গণনা করা হলো।
সিলেটের জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, অর্থ ব্যবহারের নতুন সিদ্ধান্ত এখনই কার্যকর হচ্ছে না। আপাতত আগের নিয়মে সব টাকা ব্যাংক হিসাবে জমা রাখা হবে। সেখান থেকে বিদ্যুৎ বিলসহ বিভিন্ন ইউটিলিটি বিল পরিশোধ এবং আনসার সদস্যদের বেতন দেওয়া হবে।
তিনি আরও জানান, নিয়োগ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং ইতোমধ্যে সিভিও জমা পড়েছে। আগামী সপ্তাহে তা যাচাই-বাছাই করা হবে। আশা করা হচ্ছে আগামী মাসের মধ্যেই নিয়োগ সম্পন্ন হবে। তখন থেকে প্রতিদিন দানের টাকা গণনা করা সম্ভব হবে।
এর আগে গত ১৮ জুন তৎকালীন জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে মাজারের দানবাক্স সিলগালা করে নতুন দানবাক্স স্থাপন করা হয়েছিল। একই সঙ্গে ঐতিহাসিক তিনটি ডেকচিও সিলগালা করা হয়েছিল।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভারতের আসাম রাজ্যে বিপুলসংখ্যক মুসলিম পরিবারের বসতবাড়ি ও ঐতিহাসিক মসজিদ গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় তীব্র উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান, এমপি।
একটি বিবৃতিতে তিনি ভারত সরকারের প্রতি সংখ্যালঘু মুসলিমদের মৌলিক অধিকার রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান। তিনি বাংলাদেশের জনগণের প্রতি আহ্বান জানান যে, যেকোনো উসকানিতে দেশের অভ্যন্তরীণ ধর্মীয় সম্প্রীতি বিনষ্ট না করতে হবে।
বিবৃতিতে ডা. শফিকুর রহমান উল্লেখ করেন যে, গত রোববার (১৮ অক্টোবর) আসামের নগাঁও জেলার লুতুমারি-লংজাপ সংরক্ষিত বনাঞ্চলে ৬০০টিরও বেশি মুসলিম পরিবারের ঘরবাড়ি রাজ্য সরকার গুঁড়িয়ে দিয়েছে। এর আগের দিন শনিবার রাজ্যের তিনটি জেলায় আরও ৫৪৭টি পরিবারকে উচ্ছেদ করা হয়। ফলে, মাত্র দুই দিনের মধ্যে ১,১০০টিরও বেশি পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের বরাতে বিরোধীদলীয় নেতা আরও জানান যে, এই অভিযানে অন্তত ১০টিরও বেশি মসজিদ ভেঙে ফেলা হয়েছে, যার মধ্যে কয়েকটির বয়স ৫০ বছরেরও বেশি। তিনি গুজরাটের আহমেদাবাদে ৪০০ বছরের পুরনো মাঞ্চা মসজিদ এবং গির সোমনাথ জেলায় প্রাচীন মসজিদ ও কবরস্থান ভেঙে ফেলার সাম্প্রতিক ঘটনাবলির প্রসঙ্গও বিবৃতিতে তুলে ধরেন।
জামায়াতের আমীর বলেন, ‘এসব ঘটনায় আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। ভারত সরকার সংখ্যালঘু মুসলমানদের অধিকার রক্ষায় শুধু ব্যর্থই হচ্ছে না, বরং বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাদের অধিকার ক্ষুণ্ন করছে। এ ধরনের ঘটনা মানবতা, আইনের শাসন ও সভ্য সমাজের মূল্যবোধের পরিপন্থী। যে দেশেই, যে পক্ষের দ্বারাই এ ধরনের কর্মকাণ্ড সংঘটিত হোক না কেন, তা অবশ্যই নিন্দনীয়।’
বাংলাদেশের সার্বিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে দেশবাসীকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশের আপামর জনগণের প্রতি আমাদের আহ্বান—কোনো উসকানিতে দেশের অভ্যন্তরে ধর্মীয় বিভাজন ও সামাজিক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির সুযোগ দেওয়া যাবে না। কারও পাতা ফাঁদে পা দেওয়া যাবে না।’
তিনি আরো যোগ করেন, ‘আমাদের প্রিয় বাংলাদেশে বিদ্যমান সামাজিক সম্প্রীতি যেকোনো মূল্যে অক্ষুণ্ন রাখতে হবে। মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে সেই তাওফিক দান করুন।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ