০৯:৩৬ পি.এম
সিলেটের হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের তিনটি ডেকচি ও পাঁচটি দানবাক্স খুলে ৮৮ লাখ ৬৫ হাজার ৮০৪ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। পাশাপাশি, মাজারের দানবাক্স থেকে ১ ভরি সাড়ে ৮ আনা সোনা, ৩ ভরি ১৩ আনা রূপা এবং ১৮টি দেশের বিভিন্ন বৈদেশিক মুদ্রা পাওয়া গেছে।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) দিনভর গণনা শেষে সন্ধ্যা সোয়া ৬টার দিকে সিলেটের জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুন এ হিসাব ঘোষণা করেন। এর আগে সকাল সাড়ে ৯টায় জেলা প্রশাসক, জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাগণ এবং মাজার ব্যবস্থাপনায় গঠিত কমিটির প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে মাজারের দানবাক্স ও ডেগের টাকা পঞ্চমবারের মতো গণনা শুরু হয়।
গণনায় পাওয়া বৈদেশিক মুদ্রার মধ্যে রয়েছে— ১৪ ব্রিটিশ পাউন্ড, ৭ হাজার ৬৪৭ ভারতীয় রুপি, ২০ থাই বাথ, ৯৩ সৌদি রিয়াল, ১১ মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত, ২৯ মার্কিন ডলার, ১ হাজার ৩৫০ দশমিক ৫০ ওমানি বাইসা, ৬৫ সংযুক্ত আরব আমিরাতের দিরহাম, ১৫ মালদ্বীপের রুপি, ১৭ কাতারি রিয়াল, ৭ ইউরো ৩৩ সেন্ট, ১০০ বাহরাইনি ফিলস, ১০ হংকং ডলার, ১ ব্রুনাই ডলার, ৫৫ নেপালি রুপি, ১০০ পাকিস্তানি রুপি, ৫০ রুশ রুবল এবং ৫০০ শ্রীলঙ্কান রুপি।
আরও পড়ুন: কক্সবাজারে নকল ব্যান্ডরোলযুক্ত সিগারেট জব্দ, মূল্য ২৭ লাখ টাকা
এছাড়াও, গত ৩৫ দিনের মানত করা গরু ও ছাগলের হিসাব উপস্থাপন করা হয়েছে। হিসাব অনুযায়ী, ৭টি গরুর মধ্যে ৪টি লঙ্গরখানায় শিরনি হিসেবে রান্না করা হয়েছে এবং ৩টি গরু খাদিমরা পেয়েছেন। এ ছাড়া ৩১০টি ছাগলের মধ্যে ২৫টি জবাই করে বিতরণ করা হয়েছে, ২১০টি লঙ্গরখানায় শিরনি হিসেবে রান্না করা হয়েছে, ২৭টি ব্যক্তিগত উদ্যোগে শিরনি করা হয়েছে এবং ৪৮টি ছাগল খাদিমরা পেয়েছেন।
এর আগে গত ১৯ সেপ্টেম্বর চতুর্থ দফায় মাজারের তিনটি ডেকচি ও পাঁচটি দানবাক্স খুলে ৮৮ লাখ ৯২ হাজার ৯৬৬ টাকা পাওয়া গিয়েছিল। সে সময় ১ ভরি ৯ আনা ২ রতি স্বর্ণ এবং ১৫টি দেশের বৈদেশিক মুদ্রাও উদ্ধার করা হয়েছিল।
উল্লেখ্য, গত ২৩ সেপ্টেম্বর বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদিরের নেতৃত্বে গঠিত কমিটির সভায় দানের টাকা প্রতিদিন গণনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। সে অনুযায়ী, টাকা গণনা, হিসাব সংরক্ষণ ও ব্যয়ের জন্য একজন ব্যবস্থাপক, একজন হিসাবরক্ষক এবং একজন অফিস সহকারী নিয়োগ দেওয়ার কথা ছিল। তবে নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ না হওয়ায় প্রতিদিন গণনার ব্যবস্থা এখনো কার্যকর করা সম্ভব হয়নি।
ওই সভায় আরও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল যে, দানের টাকার ৩৫ শতাংশ মাজারের উন্নয়নকাজে ব্যয় করা হবে এবং এ অর্থ সোনালী ব্যাংকের একটি হিসাবে জমা রাখা হবে। বাকি ৬৫ শতাংশ দিয়ে মাজারের দৈনন্দিন খরচ ও কর্মচারীদের বেতন-ভাতা পরিশোধ করা হবে। তবে কর্মচারী নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়ায় আগের নিয়মে ১ মাস ৮ দিন পর পঞ্চমবারের মতো প্রকাশ্যে দানের টাকা গণনা করা হলো।
আরও পড়ুন: ময়মনসিংহে সেলুনে ঢুকে নরসুন্দরকে ছুরিকাঘাতে হত্যা, স্ত্রী অভিযুক্ত
সিলেটের জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, অর্থ ব্যবহারের নতুন সিদ্ধান্ত এখনই কার্যকর হচ্ছে না। আপাতত আগের নিয়মে সব টাকা ব্যাংক হিসাবে জমা রাখা হবে। সেখান থেকে বিদ্যুৎ বিলসহ বিভিন্ন ইউটিলিটি বিল পরিশোধ এবং আনসার সদস্যদের বেতন দেওয়া হবে।
তিনি আরও জানান, নিয়োগ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং ইতোমধ্যে সিভিও জমা পড়েছে। আগামী সপ্তাহে তা যাচাই-বাছাই করা হবে। আশা করা হচ্ছে আগামী মাসের মধ্যেই নিয়োগ সম্পন্ন হবে। তখন থেকে প্রতিদিন দানের টাকা গণনা করা সম্ভব হবে।
এর আগে গত ১৮ জুন তৎকালীন জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে মাজারের দানবাক্স সিলগালা করে নতুন দানবাক্স স্থাপন করা হয়েছিল। একই সঙ্গে ঐতিহাসিক তিনটি ডেকচিও সিলগালা করা হয়েছিল।
আরও পড়ুন: বাংলা একাডেমিতে বৌদ্ধ ঐতিহ্য বিষয়ক সেমিনার অনুষ্ঠিত
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন