০৯:৫৪ এম
বরিশাল নগরীর ফলপট্টিতে অবস্থিত হাজী বিরিয়ানির প্রধান শাখায় খাবারের পরিমাণ, মূল্য, মাংসের মান এবং গ্রাহকদের সঙ্গে কর্মচারীদের আচরণ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন কয়েকজন ক্রেতা। তাঁদের অভিযোগ, নির্ধারিত মূল্য পরিশোধের পরও কোনো কোনো ক্ষেত্রে খাবারের পরিমাণ তাঁদের প্রত্যাশার তুলনায় কম মনে হয়েছে। বিশেষ করে ১৫০ টাকার হাফ তেহারি এবং ১৮০ টাকার চিকেন বিরিয়ানির প্যাকেট নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কয়েকজন গ্রাহক।
অভিযোগকারী ক্রেতাদের ভাষ্য, প্যাকেটে ভাতের তুলনায় মাংসের পরিমাণ কম বলে তাঁদের মনে হয়েছে। পাশাপাশি খাবারের পরিমাণ নিয়ে কর্মচারীদের কাছে জানতে চাইলে প্রত্যাশিত ব্যাখ্যা বা সমাধান পাননি বলেও অভিযোগ করেছেন কেউ কেউ। তাঁদের মধ্যে কয়েকজন কর্মচারীদের আচরণ নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
আরও পড়ুন: দাবি-দাওয়ার টানাপোড়েনে সাজেক, ভুগছে সাধারণ মানুষ
এ ছাড়া তেহারিতে ব্যবহৃত মাংসের উৎস ও মান নিয়ে একটি সূত্রের বক্তব্য এবং কয়েকজন ক্রেতার অভিজ্ঞতার কথা সামনে এসেছে। তবে এসব বিষয়ে প্রতিষ্ঠানের মালিক বা ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বরিশাল নগরীর ফলপট্টিতে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান শাখা রয়েছে এবং পটুয়াখালীতেও তাদের আরেকটি শাখা রয়েছে বলে জানা গেছে। গ্রাহকদের উত্থাপিত অভিযোগ এবং প্রতিষ্ঠানটির বক্তব্য—দুই দিক সামনে এলেই বিষয়টি সম্পর্কে আরও পূর্ণাঙ্গ ধারণা পাওয়া সম্ভব।
ঢাকার ঐতিহ্যবাহী হাজী বিরিয়ানির সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে বিভ্রান্তি
নামের মিলের কারণে অনেক ক্রেতা বরিশালের ফলপট্টিতে অবস্থিত হাজী বিরিয়ানিকে ঢাকার ঐতিহ্যবাহী হাজী বিরিয়ানির শাখা বলে মনে করতে পারেন। তবে বরিশালের এই প্রতিষ্ঠানটি ঢাকার ঐতিহ্যবাহী হাজী বিরিয়ানির শাখা নয় বলে জানানো হয়েছে। ফলে একই নামের কারণে দুটি প্রতিষ্ঠানকে এক করে দেখার ক্ষেত্রে ক্রেতাদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে।
আরও পড়ুন: কাউখালীতে ‘হাত ধোয়ার নায়ক হোন’ প্রতিপাদ্যে বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস পালিত: ইউএনও’র হাত ধোয়ার প্র্যাকটিক্যাল শিক্ষা
বরিশালের ফলপট্টিতে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান শাখা রয়েছে এবং পটুয়াখালীতেও আরেকটি শাখা রয়েছে বলে জানা গেছে। প্রতিষ্ঠানের পরিচয় সম্পর্কে ক্রেতাদের মধ্যে স্বচ্ছ ধারণা থাকা গুরুত্বপূর্ণ, যাতে নামের মিলের কারণে কোনো বিভ্রান্তি তৈরি না হয়।
১৫০ টাকার হাফ তেহারির পরিমাণ নিয়ে অসন্তোষ
হাফ তেহারির মূল্য ও পরিবেশিত খাবারের পরিমাণ নিয়ে কয়েকজন ক্রেতা অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের দাবি, এক প্যাকেট হাফ তেহারির জন্য ১৫০ টাকা দেওয়ার পর প্যাকেটে তুলনামূলকভাবে কম ভাত ও অল্প কয়েক টুকরা মাংস পেয়েছেন বলে তাঁদের মনে হয়েছে।
অভিযোগকারী ক্রেতাদের প্রশ্ন, নির্ধারিত মূল্য পরিশোধের পর প্যাকেটে কী পরিমাণ খাবার দেওয়া হচ্ছে, সে বিষয়ে আরও স্পষ্টতা থাকা উচিত। তাঁদের মতে, খাবারের মূল্য ও পরিবেশিত পরিমাণের মধ্যে সামঞ্জস্য থাকা ভোক্তাদের প্রত্যাশার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
আরও পড়ুন: কবি রাধারমণ দত্তের গ্রামে গানবাজনা বন্ধের আবেদন জমা
তবে প্রতিটি প্যাকেটের প্রকৃত ওজন, ভাত ও মাংসের অনুপাত এবং প্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত পরিবেশনপদ্ধতি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। এ কারণে এ বিষয়ে ক্রেতাদের অভিজ্ঞতা ও প্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত পরিবেশনমানের মধ্যে কোনো পার্থক্য রয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।
১৮০ টাকার চিকেন বিরিয়ানির প্যাকেট নিয়েও অভিযোগ
চিকেন বিরিয়ানির প্যাকেট নিয়েও কয়েকজন ক্রেতা অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের বক্তব্য অনুযায়ী, প্রতিটি প্যাকেটের মূল্য ১৮০ টাকা হলেও খাবারের পরিমাণ তাঁদের প্রত্যাশা পূরণ করেনি।
কয়েকজন ক্রেতার অভিযোগ, প্যাকেটের নিচের অংশে প্রথমে অল্প পরিমাণ পোলাও বা বিরিয়ানির চাল দেওয়া হয়, এরপর মুরগির রোস্ট রেখে তার ওপর আরও ভাত দিয়ে প্যাকেট পূর্ণ করা হয়। তাঁদের মতে, প্যাকেটের সামগ্রিক পরিমাণের তুলনায় মুরগি ও ভাতের বণ্টন আরও সন্তোষজনক হওয়া উচিত।
আরও পড়ুন: মেহেরপুরে নিরাপদ সড়ক দিবস উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র্যালি
তবে প্যাকেটের প্রকৃত ওজন, চাল ও মুরগির পরিমাণ এবং প্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত পরিবেশনমান সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে ক্রেতাদের অভিযোগের পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির পরিবেশনপদ্ধতি সম্পর্কে বক্তব্যও গুরুত্বপূর্ণ।
তেহারিতে ব্যবহৃত মাংসের উৎস নিয়ে সূত্রের দাবি
প্রতিষ্ঠানটির তেহারিতে ব্যবহৃত মাংসের উৎস নিয়েও একটি সূত্রের বক্তব্য সামনে এসেছে। সূত্রটির দাবি, অতীতে ভারত থেকে আমদানি করা প্যাকেটজাত হিমায়িত গরুর মাংস তেহারি তৈরিতে ব্যবহার করা হতো। বর্তমানে ভারত থেকে এ ধরনের মাংস আমদানি বন্ধ রয়েছে বলেও সূত্রটি দাবি করেছে।
সূত্রটির আরও বক্তব্য, বর্তমানে তেহারি তৈরির জন্য বরিশালের বিভিন্ন বাজার থেকে গরুর মাথার মাংস সংগ্রহ করা হয়ে থাকতে পারে। এ ধরনের মাংস তেহারিতে ব্যবহারের অভিযোগও সূত্রটি তুলেছে।
আরও পড়ুন: কুমিল্লায় হাসপাতাল পরিদর্শনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী, ৫ চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ
এদিকে কয়েকজন ক্রেতা তেহারির মাংসের গঠন ও চিবানোর ধরন নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের কারও কারও ভাষ্য, মাংস চিবানোর সময় রাবারের মতো অনুভূত হয়। তবে শুধু স্বাদ বা গঠনগত অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে মাংসের উৎস কিংবা মান সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না।
ভারত থেকে অতীতে হিমায়িত মাংস আমদানি করা হতো কি না, বর্তমানে মাংসের সরবরাহব্যবস্থা কী এবং তেহারি তৈরিতে কোন ধরনের মাংস ব্যবহৃত হচ্ছে—এসব বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে মাংসের উৎস সম্পর্কে সূত্রের বক্তব্য এবং ক্রেতাদের অভিজ্ঞতা আলাদাভাবে বিবেচনা করা জরুরি।
গ্রাহকদের সঙ্গে কর্মচারীদের আচরণ নিয়ে অসন্তোষ
খাবারের পরিমাণ ও মূল্য নিয়ে প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীদের আচরণ নিয়েও কয়েকজন ক্রেতা অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের অভিযোগ, খাবারের পরিমাণ নিয়ে আপত্তি জানালে কোনো কোনো কর্মচারীর কাছ থেকে তাঁরা প্রত্যাশিত সহযোগিতা পাননি। কেউ কেউ আচরণকে রূঢ় বলেও বর্ণনা করেছেন।
আরও পড়ুন: গাজীপুরে বাসায় ফেরার সময় ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে পোশাক শ্রমিক নিহত
অভিযোগকারীদের মতে, খাবার কেনার পর সেটির পরিমাণ, মান কিংবা মূল্য সম্পর্কে প্রশ্ন তোলা একজন ক্রেতার স্বাভাবিক অধিকার। কোনো অভিযোগের সঙ্গে প্রতিষ্ঠান একমত না হলেও তা ব্যাখ্যা করে শান্তিপূর্ণভাবে সমাধানের চেষ্টা করা উচিত।
এ ছাড়া সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানটির কর্মচারীদের সঙ্গে একজন গায়কের তর্ক-বিতর্কের ঘটনা ঘটেছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। বর্ণনা অনুযায়ী, খাবারের পরিমাণ নিয়ে অসন্তোষ থেকেই ওই বিরোধের সূত্রপাত হয়েছিল।
এ বিষয় বরিশাল জেলাপ্রশাসকে, মোঃ মামুনুল খন্দকারে মুঠোফোনে অবগত করা হলে তিনি জানান গ্রাহকদের সাথে কোন প্রতারণা করা যাবে না এ বিষয়ে আমরা ভগত আছি যে কোন মুহূর্তে অভিযান পরিচালনা করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন