০৮:৪০ পি.এম
আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে, ইসরায়েলি রাজনীতিতে দীর্ঘ সময় ধরে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন দেশের ইতিহাসের দীর্ঘমেয়াদী প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। আগামী ২৭ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া নির্বাচনের প্রেক্ষিতে, তার দীর্ঘ শাসনকাল এবং ইসরায়েলের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর তার সুদূরপ্রসারী প্রভাব নিয়ে নতুন করে বিশ্লেষণ শুরু হয়েছে। সমর্থকরা তাকে ভালোবেসে ‘কিং বিবি’ বললেও, বিরোধীদের কাছে তিনি দুর্নীতি ও নিরাপত্তার ব্যর্থতার প্রতীক হিসেবে পরিচিত।
বিশ্লেষকদের মতে, নেতানিয়াহুর দীর্ঘ ১৯ বছরের ক্ষমতার পালাবদলে ইসরায়েলের রাজনীতি, বিচার বিভাগ, নিরাপত্তা কাঠামো এবং সামাজিক মতাদর্শে যে পরিবর্তন এসেছে, তা দেশটিকে স্থায়ীভাবে ডানপন্থি ও উগ্র জাতীয়তাবাদী ধারার দিকে ঠেলে দিয়েছে। ১৯৯০-এর দশকের শুরুতে ফিলিস্তিন ও সিরিয়ার সাথে শান্তি প্রক্রিয়ার বিরোধিতা করে ইসরায়েলের মূলধারার রাজনীতিতে তার উত্থান ঘটে। পরবর্তীতে, ১৯৯৫ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী আইজ্যাক রবিন হত্যাকাণ্ডের পেছনে নেতানিয়াহুর উসকানিমূলক রাজনৈতিক প্রচারণার ভূমিকা ছিল বলে অভিযোগ করেন তার বিরোধীরা।
ক্ষমতায় আসার পর থেকে, নেতানিয়াহু উগ্র ডানপন্থি এবং ধর্মীয় দলগুলোকে সাথে নিয়ে সরকার গঠন করেন। তার নেতৃত্বাধীন সরকারের আমলে, দেশটিতে ধর্মীয় আদালতগুলোর ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায় এবং রাষ্ট্রীয় তহবিল থেকে অতি-রক্ষণশীল স্কুল ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে বড় অংকের বরাদ্দ দেওয়া হয়।
আরও পড়ুন: ৬০ হাজার কোটি টাকায় কুমিল্লা–ঢাকা নতুন রেলপথ নির্মাণের পরিকল্পনা
বিশেষ করে, ২০১৮ সালে নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক আদর্শ ও কট্টর জাতীয়তাবাদী এজেন্ডার ভিত্তিতে পাস হওয়া বহুল আলোচিত ‘নেশন-স্টেট বেসিক ল’ (Nation-State Basic Law) ইসরায়েলি রাজনীতিতে একটি বড় মোড় পরিবর্তন করে। এই আইনে ইসরায়েলকে কেবল ইহুদি জনগণের এক্সক্লুসিভ রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষণা করা হয় এবং অবৈধ বসতি স্থাপনকে জাতীয় অগ্রাধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো এই আইনকে ফিলিস্তিনিদের প্রতি বর্ণবাদী ও বৈষম্যমূলক আচরণের অন্যতম প্রধান প্রমাণ হিসেবে গণ্য করে।
রাষ্ট্রের ক্ষমতার ভারসাম্য নষ্ট করতে, বিচারব্যবস্থায়ও বড় ধরনের রদবদল এনেছেন নেতানিয়াহু। নিজ দেশের দুর্নীতির তিনটি আলাদা মামলায় কারাদণ্ড এড়াতে তিনি বিচার বিভাগের ক্ষমতা খর্ব করার উদ্যোগ নেন। তার এই তথাকথিত ‘জুডিশিয়াল রিফর্ম’ বা বিচার বিভাগীয় সংস্কারের মূল উদ্দেশ্য ছিল সুপ্রিম কোর্টের স্বাধীনতা কমিয়ে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার করা, যার বিরুদ্ধে ইসরায়েলজুড়ে তীব্র আন্দোলন গড়ে ওঠে। পাশাপাশি, নিরাপত্তা কাঠামোতেও নিজের অনুগত ও রাজনৈতিক মিত্রদের শীর্ষ পদে বসিয়েছেন তিনি। গাজায় ফিলিস্তিনিদের ওপর যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (ICC) গ্রেপ্তারি পরোয়ানার মুখে থাকা সত্ত্বেও, নেতানিয়াহু দাবি করে চলেছেন যে, তার কাজের এখনো সমাপ্তি ঘটেনি।
আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে, ইসরায়েলি সমাজে গভীর বিভাজন তৈরি হয়েছে। একদল মানুষ তাকে ইসরায়েলের স্বার্থরক্ষাকারী অবিসংবাদিত নেতা মনে করেন, অপর পক্ষ মনে করে তার দীর্ঘ শাসন ইসরায়েলকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরও বেশি একঘরে এবং অভ্যন্তরীণভাবে অস্থিতিশীল করে তুলেছে। সূত্র: আল জাজিরা।
আরও পড়ুন: দীর্ঘদিনের ক্ষমতার অবসান, সার্বিয়ার নির্বাচনে শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে জয়
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন