সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৫:৩৮ এম
বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুটেক্স) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. জুলহাস উদ্দিনের নেতৃত্বে সাত সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছে। এই সাক্ষাৎ রোববার (২৫ অক্টোবর) বঙ্গভবনে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতি টেক্সটাইল শিক্ষার মানোন্নয়ন, গবেষণা সম্প্রসারণ এবং দেশের টেক্সটাইল খাতের চাহিদা পূরণে আন্তর্জাতিক মানের দক্ষ ও বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলী তৈরির ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি বিদেশি বিশেষজ্ঞদের ওপর নির্ভরতা কমানোর আহ্বান জানান।
রাষ্ট্রপতি বলেন, "দেশের টেক্সটাইল শিল্পের চাহিদা পূরণে শিক্ষার্থীদের দক্ষ জনশক্তি হিসেবে গড়ে তোলার পাশাপাশি দেশে ও বিদেশে তাদের উপযুক্ত কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতে গুরুত্ব দিতে হবে।" এতে দেশের দক্ষ জনশক্তির যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সুযোগ বাড়বে।
রাষ্ট্রপতি দেশের টেক্সটাইল শিল্পের কাঁচামালের চাহিদা পূরণে তুলার দেশীয় উৎপাদন বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেন। তিনি কৃষকদের উৎসাহিত করা, উৎপাদন ব্যয় কমানো এবং কৃষি ও টেক্সটাইল খাতের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর আহ্বান জানান। পাশাপাশি পাট, আনারসের পাতা ও কলাগাছসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক উৎস থেকে তন্তু সংগ্রহ এবং সিনথেটিক সুতা তৈরির সম্ভাবনা নিয়ে গবেষণা জোরদার করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।
সাক্ষাৎকালে প্রতিনিধিদল বাংলাদেশের টেক্সটাইল ও তৈরি পোশাকশিল্পের বিকাশে বুটেক্সের ভূমিকা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রম সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করে। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, আধুনিক গবেষণাগার স্থাপন, প্রয়োজনীয় জনবল বৃদ্ধি, ‘বিসিএস (টেক্সটাইল)’ নামে পৃথক ক্যাডার সৃষ্টি, বাজেট সম্প্রসারণ এবং ঢাকার পূর্বাচলে দ্বিতীয় ক্যাম্পাস প্রতিষ্ঠার জন্য জমি বরাদ্দসহ বিভিন্ন বিষয়ে রাষ্ট্রপতির দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়।
রাষ্ট্রপতি প্রতিনিধিদলের বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শোনেন। তিনি উত্থাপিত বিষয়গুলো সমাধানের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেন এবং সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
এ সময় উপাচার্য আগামী বছরের মার্চ মাসে বুটেক্সের দ্বিতীয় সমাবর্তন অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলরকে সভাপতিত্ব করার আমন্ত্রণ জানান। রাষ্ট্রপতি আমন্ত্রণ গ্রহণ করেন এবং অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার আশ্বাস দেন।
প্রতিনিধিদলে আরও উপস্থিত ছিলেন বুটেক্সের ফ্যাকাল্টি অব টেক্সটাইল ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড বিজনেস স্টাডিজের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আহসান হাবীব, ফ্যাকাল্টি অব টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ডিন অধ্যাপক শিল্পী আক্তার, ফ্যাকাল্টি অব সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ডিন অধ্যাপক ড. হাসিনা আখতার, ফ্যাকাল্টি অব টেক্সটাইল কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ডিন অধ্যাপক ড. রাশেদা বেগম দিনা এবং ফ্যাকাল্টি অব ফ্যাশন ডিজাইন অ্যান্ড অ্যাপারেল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের অধ্যাপক ড. লামইয়া জাহির। এ ছাড়া সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ও বুটেক্সের প্রাক্তন শিক্ষার্থী ইঞ্জিনিয়ার সানজিদা ইসলাম তুলি উপস্থিত ছিলেন।
সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব, সচিব ও প্রেস সচিবও উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ মোহাম্মদপুর থানার ৩৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মাসুম খান রাজেশকে গ্রেফতার করেছে।
গ্রেফতারটি ঘটেছে রোববার (২৫ অক্টোবর) রাতে, মোহাম্মদপুরের রায়েরবাজার এলাকা থেকে।
ডিএমপির গোয়েন্দা তেজগাঁও বিভাগের উপ-কমিশনার জিয়াউদ্দিন আহম্মেদ গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, রাজেশের বিরুদ্ধে একাধিক চাঁদাবাজির অভিযোগ রয়েছে, যার জন্য তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
এছাড়া, সম্প্রতি ডিএমপির প্রকাশিত চাঁদাবাজের তালিকায় রাজেশের নামও অন্তর্ভুক্ত হয়েছে বলে জানা গেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুগের আধুনিকতার কারণে হাওরাঞ্চলের শত বছরের ঐতিহ্যবাহী পেশা কয়াল ও কয়ালি যন্ত্রের যাঁতাকলে হারিয়ে গেছে। সুনামগঞ্জের মধ্যনগর, ধর্মপাশা, দিরাই, শাল্লাসহ পার্শ্ববর্তী নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ, কলমাকান্দা ও ঠাকুরকোনা উপজেলার কয়েকশ কয়াল বর্তমানে দিনমজুরের কাজ করে সংসার চালাচ্ছেন। তাদের দিন কাটছে অত্যন্ত মানবেতর ও দুঃখ-কষ্টে পরিবার-পরিজন নিয়ে।
এক হাতে ডান্ডি এবং অন্য হাতে দাঁড়িপাল্লা নিয়ে নিজস্ব ঢং ও সুর-ছন্দে কয়ালদের মুখে মুখে রচিত ধারাপাতের বুলি আওড়ানোর দৃশ্য এখন আর দেখা যায় না। ‘এগারে-এগ, দুয়ারে-দুই, তিনারে-তিন, চৌনারে-চার, পোঁণারে-পাঁচ, ছয়ারে-ছয়, সাঁতারে-সাত, আটারে-আট’ বুলিতে ১০০ মণ (আটশ পাল্লা) ধান মেপে পারিশ্রমিক বা কয়ালি হিসেবে কয়ালরা পেতেন এক মণ ধান।
ধান পরিমাপে কয়ালকে আরও দুজন সহযোগী সাহায্য করতেন। একজন পাল্লায় ধান তুলে দিতেন এবং কয়াল মাপার পর অন্যজন পাল্লা থেকে চটের বস্তায় ধান ভরে দেয়ার কাজ করতেন। প্রতি চার পাল্লা মাপার পর পাল্লা ও পাথর অদলবদল করা হতো। অর্থাৎ এক পাল্লায় পাথর আর অন্য পাল্লায় ধান তুলে ক্রেতা-বিক্রেতা উভয় পক্ষের আস্থা, বিশ্বাস ও স্বার্থ রক্ষা করতেন কয়াল। বছরের বারো মাসই ধান মাপা নিয়ে ব্যস্ত থাকা সেই কয়ালরা আজ কর্মহীন ও বেকার। গৃহস্থের গোলাঘর, মাড়াখলা, মোকাম কিংবা আড়ত- সর্বত্র দাঁড়িপাল্লা দিয়ে ধান মেপেই একসময় জীবিকা নির্বাহ করতেন তারা।
কয়ালি পেশার শুরুতে তারা সনাতন পদ্ধতিতে সের হিসেবে ধান পরিমাপ করতেন। গজারি কাঠের তৈরি সোজা সমান্তরাল ডান্ডিতে পাটের মুষ্টি, লোহার হাতলযুক্ত পাঁচসেরি পাথর আর পোক্ত বেতের শক্ত বুননের পাল্লা অনেক আগেই কালের গর্ভে হারিয়ে গেছে। বেতের পাল্লার বদলে একসময় প্লাস্টিকের পাল্লা এলেও শেষ পর্যন্ত কেজির মাপও হার মেনেছে আধুনিক মিটারের কাছে। সের ও কেজির বাটখারা এবং দাঁড়িপাল্লাকে চিরবিদায় জানিয়েছে ওয়েইং স্কেল। মুদি দোকান, আড়ত, মোকাম থেকে শুরু করে কৃষকের ধানের গোলাঘরও এখন ডিজিটাল ওজন মাপার যন্ত্রের দখলে।
বিলুপ্তপ্রায় এ ঐতিহ্যবাহী পেশা নিয়ে কথা হয় মধ্যনগর উপজেলার রংচি গ্রামের কয়াল আব্দুর নূরের সাথে। অতীতের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, ‘মধ্যনগর, দিরাই, শাল্লাসহ বেশ কয়েকটি উপজেলার ধানের আড়তে বার্ষিক চুক্তিতে কাজ করতেন শত শত কয়াল। এখন কয়ালও নেই, কয়ালিও নেই। কৃষকের গোলাঘর থেকে শুরু করে মোকাম ও আড়ত- সবখানেই ওয়েইং স্কেলে ধান মাপা হয়। কৃষক, আড়তদার ও ফড়িয়াদের সবার ঘরেই এখন মিটার। ফলে আড়তদারের তালিকা থেকেও হারিয়ে গেছে কয়াল ও কয়ালি পেশা।’ আব্দুর নূরের মতো কয়েকশ কয়াল এখন বাধ্য হয়ে পেশা বদলে দিনমজুরির কাজ করছেন।
স্থানীয়রা জানান, অতীতে গ্রামের ক্ষুদ্র, মাঝারি, বড় ও প্রান্তিক চাষিদের ধান বিক্রির জন্য নিজস্ব কয়াল থাকতেন। গোলাঘর থেকে চার-পাঁচ মণ থেকে শুরু করে শত মণ ধান বিক্রির সময় কয়ালদের ডাক পড়ত। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত ধানের মোকাম ও আড়তে শত শত মণ ধান মাপতেন তারা। কিন্তু ডিজিটাল যুগে ওয়েইং স্কেলের দাপটে শত বছরের সেই ঐতিহ্য আজ পুরোপুরি বিলুপ্তির মুখে।
কয়ালদের কোনো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ছিল না; কখনো শেখা হয়নি বইয়ের গণিতের ধারাপাত। স্বশিক্ষায় শিক্ষিত এই কয়ালরা পূর্বপুরুষদের গণনার বুলি মুখস্থ করেই বংশপরম্পরায় ধান মেপে সংসার চালাতেন। ভাটির জনপদ সুনামগঞ্জের গ্রামীণ হাটবাজারে কৃষিনির্ভর বাজারব্যবস্থায় ধানের ক্রেতা ও বিক্রেতার মাঝে গভীর আস্থার সেতুবন্ধন তৈরি করেছিলেন তারা।
লোকবিশ্বাস অনুযায়ী মাপের শুরুতে ‘এক’ ও ‘শূন্য’কে তারা অকল্যাণকর মনে করতেন। তাই একের পরিবর্তে ‘এগারে-এগ’ এবং শূন্যের পরিবর্তে ‘আটারে-আট’ বলতেন। পাঁচসেরি পাথরে আট পাল্লা ধান মাপলে এক মণ হতো। তবে আধুনিক যুগে ডিজিটাল ওজন মাপার যন্ত্রের বহুল ব্যবহারের কারণে গ্রামীণ বাংলার ঐতিহ্যবাহী এই কয়াল শ্রেণি এবং তাদের মুখনিঃসৃত মিষ্টি সুরের বুলি আজ বিলুপ্তির পথে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে মদিনা গ্রুপ। আগ্রহ ও যোগ্যতা থাকলে আবেদন করতে পারেন।
পদের নাম ও সংখ্যা: হেড অব ইনফরমেশন টেকনোলজি, সংখ্যা নির্ধারিত নয়।
আবেদনের যোগ্যতা: প্রার্থীদের বিএসসি (সিএসই/আইটি/সিএস) ডিগ্রি থাকতে হবে। এছাড়া, ১০ থেকে ১২ বছরের অভিজ্ঞতা আবশ্যক। শুধুমাত্র পুরুষ প্রার্থীরা আবেদন করতে পারবেন। বয়সের ক্ষেত্রে কোনো নির্ধারণ নেই। কর্মস্থল হবে ঢাকায়।
বেতন: মাসিক বেতন ৭০,০০০-৮০,০০০ টাকা করে দেয়া হবে।
আবেদনের নিয়ম: আগ্রহী প্রার্থীদের আবেদন করার জন্য এবং বিস্তারিত বিজ্ঞপ্তিটি দেখতে ক্লিক করুন এখানে ।
আবেদনের শেষ সময়: আগামী ২৪ নভেম্বর পর্যন্ত আবেদন করা যাবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মোংলা কাস্টম হাউসের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা মো. আব্দুল্লাহ আল মামুনের বিরুদ্ধে ঘুস বাণিজ্য, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং সীমাহীন দুর্নীতির অভিযোগে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও স্টেকহোল্ডাররা বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন। তারা মোংলা কাস্টমস হাউসের মূল ফটকের সামনে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করেন, যেখানে দ্রুত অপসারণ, বিভাগীয় তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়।
রোববার (২৫ অক্টোবর) মোংলা বন্দর কাস্টমস ভেন্ডার অ্যাসোসিয়েশন, শিপ চ্যান্ডলার অ্যাসোসিয়েশন এবং ভুক্তভোগী সাধারণ ব্যবসায়ীদের যৌথ উদ্যোগে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
বিক্ষোভের পর ব্যবসায়ীরা কাস্টমস কমিশনারের কাছে একটি অভিযোগ সংবলিত স্মারকলিপি পেশ করেন।
বিক্ষোভ সমাবেশে ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন যে, মোংলা বন্দরে কাস্টমস হাউজের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন বিদেশি বাণিজ্যিক জাহাজের ক্যাপ্টেন ও নাবিকদের জিম্মি করে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট পরিচালনা করছেন। তারা জানান, পণ্যবাহী দেশি-বিদেশি জাহাজগুলো বন্দরে ভিড়লেই কাস্টমস ক্লিয়ারেন্সের ভয় দেখিয়ে তাদের কাছ থেকে জোর করে মার্কিন ডলার, দামি হুইস্কি এবং বিদেশি সিগারেট আদায় করা হয়। পরবর্তীকালে এসব অবৈধ মাদক ও পণ্য চোরাকারবারিদের মাধ্যমে গোপন আস্তানায় ও খুলনার বিভিন্ন বাজারে বিক্রি করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন তিনি।
ব্যবসায়ীরা আরও জানান, কাস্টমসের আইজিএম শাখায় দায়িত্ব পালনকালে মামুন ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছেন। আমদানি-রফতানি সংক্রান্ত বৈধ ক্লিয়ারেন্সের জন্য আসা ফাইল আটকে রেখে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে প্রতিনিয়ত চরম অসদাচরণ ও হয়রানি করা হয়।
এছাড়া নতুন ভেন্ডার লাইসেন্স পাইয়ে দেয়ার লোভ দেখিয়ে বন্দরের বিভিন্ন ব্যবসায়ী ও বেকার যুবকদের কাছ থেকে মোটা অংকের অর্থ হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। লাইসেন্স না পাওয়ার পর টাকা ফেরত চাইতে গেলে উল্টো সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট এবং শিপ হ্যান্ডলারদের নানা ধরনের মিথ্যা মামলা ও হয়রানির হুমকি দেয়া হয় বলে অভিযোগ করেন ব্যবসায়ীরা।
অভিযোগ রয়েছে যে, অভিযুক্ত সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা মো. আল মামুন সব সময় ঊর্ধ্বতন এক শীর্ষ কর্মকর্তার (এডিশনাল কমিশনার) নাম ভাঙিয়ে নিজের প্রভাব বিস্তার করেন।
ব্যবসায়িক নেতৃবৃন্দ ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান যে, এই কর্মকর্তা দীর্ঘদিন মোংলা বন্দরের কাস্টমসে রয়েছেন। আল মামুনের দুর্নীতিগ্রস্ত আচরণের কারণে দেশের দ্বিতীয় সমুদ্রবন্দর মোংলা বন্দরের সুনাম আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হচ্ছে। অনেক নতুন ও পুরোনো ব্যবসায়ী নানাভাবে হয়রানির শিকার হয়ে এ বন্দর ব্যবহারে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন। ফলে সরকার প্রতিবছর মোংলা বন্দর থেকে কাঙ্ক্ষিত রাজস্ব আহরণ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এবং সামগ্রিক আমদানি-রফতানি কার্যক্রমে স্থবিরতা নেমে এসেছে।
বন্দর ব্যবসায়ীরাও মোংলা বন্দরে ব্যবসা করতে আগ্রহ হারাচ্ছেন।
বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে ব্যবসায়ীরা কাস্টমস প্রশাসনের প্রতি আল্টিমেটাম দিয়ে বলেন, অনতিবিলম্বে এই দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাকে মোংলা কাস্টম হাউস থেকে প্রত্যাহার করে বিভাগীয় তদন্তপূর্বক কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। অন্যথায় ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে আরও কঠোর ও বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। সমাবেশ শেষে কাস্টমস কমিশনার বরাবর একটি স্বারকলিপি দেয়া হয়।
অভিযুক্ত সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা মো. আব্দুল্লাহ আল মামুনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে কর্মস্থলে পাওয়া যায়নি এবং তার মুঠোফোনটিও বন্ধ পাওয়া যায়।
তবে এ প্রসঙ্গে মোংলা কাস্টমস হাউসের কমিশনার মো. গিয়াস কামালের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি গণমাধ্যমকে জানান, ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে একটি লিখিত অভিযোগ ও স্মারকলিপি পাওয়া গেছে। অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত প্রয়োজনীয় ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ