১২:৪২ এম
লক্ষ্মীপুরের মেঘনায় ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা উঠে যাচ্ছে ২৯ অক্টোবর মধ্য রাত থেকে, যা জাটকা সংরক্ষণ, মা ইলিশ রক্ষা ও মাছের উৎপাদন বাড়ানোর উদ্দেশ্যে ছিল।
এখন জেলার ৫৪ হাজার জেলে মাছ শিকারের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন। মাছঘাটগুলোতে জাল ও নৌকাসহ অন্যান্য কাজ সেরে নিতে তারা ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. জসিম উদ্দিন দাবি করেছেন, "গত বছরের চেয়ে এবার মাছের উৎপাদন বাড়বে।"
মৎস্য বিভাগ ও জেলেরা জানাচ্ছেন, লক্ষ্মীপুরে ৫৪ হাজার নিবন্ধিত জেলে রয়েছেন, যারা মেঘনা নদীতে মাছ শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করেন। ৮ অক্টোবর মধ্য রাত থেকে ২৯ অক্টোবর মধ্য রাত পর্যন্ত নদীতে সকল ধরনের জাল ফেলা ও মাছ ধরা নিষিদ্ধ ছিল।
আরও পড়ুন: ‘যুবদলকে ঐক্যবদ্ধ রেখে দেশের কল্যাণে কাজ করতে হবে’- আনোয়ার
এই নিষেধাজ্ঞার ২০ দিনে ২শ’ ২৯টি অভিযান পরিচালনা করা হয় এবং মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ১৫০ জেলেকে আটক করা হয়। এর মধ্যে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ৭৩ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে। ৭৭ জেলেকে ১ লাখ ৯৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
নিয়মিত ১শ’টি মামলা করা হয়েছে এবং এ সময় সাড়ে ৪ টন ইলিশ ও ২০টি নৌকা জব্দ করা হয়। জব্দকৃত ইলিশগুলো বিভিন্ন এতিমখানায় বিতরণ করা হয়। এছাড়া ৩৭ লাখ মিটার কারেন্ট জালও জব্দ করা হয়েছে।
৮ অক্টোবর থেকে ২৭ অক্টোবর রামগতির আলেকজান্ডার থেকে রায়পুরের হাজীমারা পর্যন্ত মেঘনা নদীতে অভিযান পরিচালনা করেছে মৎস্য বিভাগের নেতৃত্বে টাস্কফোর্স কমিটি।
২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষ হচ্ছে ২৯ অক্টোবর মধ্য রাতে। এরপর থেকে মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা উঠে যাবে। তাই মাছ শিকারের জন্য জেলেরা প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তারা মাছঘাটগুলোতে জাল ও নৌকাসহ সব ধরনের কাজ সেরে নিচ্ছেন।
আরও পড়ুন: কিশোরগঞ্জে বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস উদ্যাপন, শিশুদের স্বাস্থ্য সচেতনতায় গুরুত্ব
এবার লক্ষ্মীপুরের রামগতির আলেকজান্ডার থেকে চাঁদপুরের ষাটনল এলাকার ১শ’ কিলোমিটার পর্যন্ত মেঘনা নদীতে সব ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ ছিল। এই সময় সব রকমের ইলিশ সংরক্ষণ, আহরণ, পরিবহন, বাজারজাতকরণ ও মজুদকরণ নিষিদ্ধ ছিল।
নিষেধাজ্ঞাকালীন সময়ে প্রত্যেক জেলেকে ২৫ কেজি করে ১ হাজার ১শ’ ৫৩ মে.টন ভিজিএফের চাল বরাদ্ধ দেওয়া হয়। তবে অনেক জেলে বরাদ্ধকৃত চাল না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন।
মতিরহাট হাট ঘাটের জেলে সফিক উল্যা ও মানা মাঝি জানিয়েছেন, "সরকারের ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা মেনে নদীতে মাছ শিকারে যাইনি। তবে গত বারের চেয়ে এবার অভিযান খুবই কড়াকড়ি ছিল।" প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের কারণে নদীতে নামতে সাহস করেনি জেলেরা। যারা আইন না মেনে নদীতে মাছ শিকারে গেছেন, তাদের প্রশাসনের হাতে আটক হতে হয়েছে।
এবার ভিজিএফের চালও পেয়েছি ঠিকমত। মজুচৌধুরীরহাট ঘাটের আবুল কালাম ও তোফায়েল আহমদ জানিয়েছেন, "প্রতিবছর নদীতে অভিযান চলে।"
আরও পড়ুন: কোটালীপাড়ায় বিশ্ব হাতধোয়া দিবস উদযাপন, এমপি জিলানীর উপস্থিতিতে সাবান বিতরণ
জাটকা সংরক্ষণ ও ইলিশের উৎপাদনের লক্ষ্য এবারের অভিযান সফল হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা উঠে যাবে ২৯ অক্টোবর মধ্য রাতে। এরপর থেকে আবারও পুরোদমে নদীতে মাছ ধরা শুরু হবে। তারা মাছ শিকার করে পরিবার পরিজন নিয়ে সুখে থাকবেন।
মজুচৌধুরীরহাট ঘাটের আড়ৎদার মিন্টু জানিয়েছেন, "২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা উঠে যাচ্ছে। তাই ঘাটে আড়তের সব ঠিকটাক করে নিচ্ছি।" তিনি আশা করছেন, বন্ধের পর ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ ধরা পড়বে।
মজুচৌধুরীরহাট নৌ-পুলিশের উপ-পরিদর্শক মো. আবদুর রহমান জানিয়েছেন, "দিনরাত নদীতে অভিযান চালিয়েছি। অনেক সময় বিভিন্ন বাধা সম্মুখীন হলেও অভিযান থেকে সরে যায়নি।"
এবারের অভিযান সফল দাবি করে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. জসিম উদ্দিন বলেছেন, "গত দুই বছর মাছের উৎপাদন কম ছিল। তবে এবার মাছের উৎপাদন আগের তুলনায় বৃদ্ধি পাবে।"
আরও পড়ুন: নবাবগঞ্জে সড়কের পাশে লাল শাপলার সৌন্দর্য, মুগ্ধ পথচারীরা
২২ দিনের অভিযানে দেড়শ জেলেকে জেল জরিমানা ও মামলা করা হয়েছে। ভবিষৎতেও তা অব্যাহত থাকবে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ২৫ হাজার মে.টন, যা গত বছরের চেয়ে ২ হাজার মে.টন বেশি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন