০১:৫৪ পি.এম
বাংলাদেশের স্মার্ট মিটার ও স্মার্ট এনার্জি খাতে ২৫ কোটি মার্কিন ডলার পর্যন্ত বিনিয়োগের প্রাথমিক আগ্রহ প্রকাশ করেছে চীনের প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠান শেনজেন কাইফা টেকনোলজি (চেংদু) কোম্পানি লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটি দেশের স্মার্ট মিটার উৎপাদন, গবেষণা ও উন্নয়ন, প্রযুক্তি স্থানান্তর, দক্ষ জনবল তৈরি এবং আঞ্চলিক বাজারে রপ্তানির পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) স্বাক্ষরিত বিনিয়োগের আগ্রহপত্রে (লেটার অব ইনটেন্ট) প্রতিষ্ঠানটি এ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে। ইনভেস্ট বাংলাদেশ-এর নির্বাহী চেয়ারম্যানের কাছে পাঠানো চিঠির অনুলিপি বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়কে দেওয়া হয়েছে।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, বাংলাদেশে স্মার্ট মিটারিং ও স্মার্ট এনার্জি খাতে স্থানীয় উৎপাদন সক্ষমতা গড়ে তোলার লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠানটি সর্বোচ্চ ২৫ কোটি ডলার বিনিয়োগের কর্মসূচি বিবেচনা করছে। তবে এটি একটি প্রাথমিক আগ্রহপত্র; চূড়ান্ত বিনিয়োগের পরিমাণ, প্রকল্পের পরিধি ও বাস্তবায়ন পরিকল্পনা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। বাজার পরিস্থিতি, নীতিগত পরিবর্তন, স্থানীয় সরবরাহব্যবস্থার সক্ষমতা, যথাযথ যাচাই-বাছাই এবং বাংলাদেশ ও চীনের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের ওপর বিনিয়োগটি নির্ভর করবে।
আরও পড়ুন: বাংলাদেশ ব্যাংক কর্মকর্তার ব্যাংক হিসাব তলব করেছে বিএফআইইউ
উৎপাদন থেকে গবেষণা-বহুমুখী পরিকল্পনা
প্রতিষ্ঠানটির প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রাথমিকভাবে সেমি-নকড ডাউন (এসকেডি) পদ্ধতিতে স্মার্ট মিটার সংযোজনের মাধ্যমে কার্যক্রম শুরু করে পর্যায়ক্রমে কমপ্লিটলি নকড ডাউন (সিকেডি) পদ্ধতিতে পূর্ণাঙ্গ উৎপাদনে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এতে সারফেস মাউন্ট টেকনোলজি (এসএমটি), প্রিন্টেড সার্কিট বোর্ড (পিসিবি) এবং যোগাযোগ মডিউল নিয়ে গবেষণা ও উন্নয়ন সক্ষমতা গড়ে তোলার বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
এ ছাড়া বাংলাদেশের জাতীয় অ্যাডভান্সড মিটারিং ইনফ্রাস্ট্রাকচার (এএমআই) প্ল্যাটফর্মের জন্য একটি কেন্দ্রীয় পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা করেছে প্রতিষ্ঠানটি। বিদ্যুৎ খাতের পাশাপাশি পানি ও গ্যাসের স্মার্ট মিটার উৎপাদন এবং স্থানীয় বিদ্যুৎ বিতরণকারী সংস্থাগুলোর জন্য একটি স্বীকৃত আঞ্চলিক মিটার পরীক্ষাকেন্দ্র গড়ে তোলার কথাও প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরবর্তী পর্যায়ে দক্ষিণ এশিয়া, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকার বাজারে পণ্য রপ্তানির জন্য উৎপাদন কার্যক্রম সম্প্রসারণের লক্ষ্য রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির।
আরও পড়ুন: রেমিট্যান্স ও ডিজিটাল সেবা বৃদ্ধিতে ওয়ান ব্যাংক ও নগদের চুক্তি
চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, স্মার্ট মিটারিংয়ের বাইরেও বিদ্যুৎ গ্রিড ব্যবস্থাপনা, ব্যাটারি এনার্জি স্টোরেজ সিস্টেম (বিইএসএস) এবং এনার্জি ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (ইএমএস) নিয়ে স্থানীয় গবেষণা ও উৎপাদন সক্ষমতা গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি স্মার্ট এনার্জি ও উৎপাদন খাতের বিশেষজ্ঞ তৈরিতে একটি কারিগরি একাডেমি প্রতিষ্ঠার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।
বিদ্যুৎ খাতে কী সুফল মিলতে পারে
প্রস্তাবিত বিনিয়োগ বাস্তবায়িত হলে বিদ্যুৎ বিতরণব্যবস্থার তথ্য সংগ্রহ ও ব্যবস্থাপনা উন্নত করা, সিস্টেমের ক্ষতি কমানো এবং বিতরণকারী সংস্থাগুলোর রাজস্ব আদায়ের দক্ষতা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে স্থানীয় কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দেশীয় শিল্পের সহায়ক সরবরাহব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং বিদ্যুৎ খাতে প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধির সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির দাবি, তারা ৩০ বছরের বেশি গবেষণা ও উন্নয়ন অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে বিদ্যুৎ, পানি ও গ্যাসের জন্য ইন্টারনেট অব থিংস (আইওটি) প্রযুক্তিনির্ভর মিটারিং সমাধান তৈরি করে। তাদের চিঠি অনুযায়ী, বিশ্বের ৪০টির বেশি দেশে ১০৭ মিলিয়নের বেশি স্মার্ট মিটার ও সংশ্লিষ্ট অ্যাডভান্সড মিটারিং ইনফ্রাস্ট্রাকচার (এএমআই) সমাধান সরবরাহ করেছে প্রতিষ্ঠানটি এবং ৮০টির বেশি ইউটিলিটি সংস্থাকে সেবা দিচ্ছে।
আরও পড়ুন: রেমিট্যান্স প্রবাহ বছরে ১৩.৩% বেড়ে ২৫৪ কোটি ৩০ লাখ ডলারে পৌঁছেছে
প্রতিষ্ঠানটি আরও জানিয়েছে, ২০২৬ সালের জুনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরের সময় স্মার্ট এনার্জি শিল্পে সহযোগিতা নিয়ে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা এবং বাংলাদেশ-চীন যৌথ ইশতেহারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তারা এ বিনিয়োগ পরিকল্পনা বিবেচনা করছে।
অনুমোদন ও বাস্তবায়নই বড় বিষয়
বিনিয়োগের আগ্রহপত্রে প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশের প্রযোজ্য আইন, বিনিয়োগনীতি ও বৈদেশিক মুদ্রা-সংক্রান্ত বিধিবিধান মেনে চলার অঙ্গীকার করেছে। একই সঙ্গে প্রকল্পটির বিনিয়োগ-যোগ্যতা, অর্থনৈতিক অঞ্চলে জমি বরাদ্দ, প্রণোদনা এবং অনুমোদনপ্রক্রিয়া সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা চেয়েছে।
তবে আগ্রহপত্রে বিনিয়োগের নির্দিষ্ট সময়সীমা, সম্ভাব্য কর্মসংস্থানের সংখ্যা, উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা কিংবা প্রকল্পের বিস্তারিত অর্থায়ন কাঠামো উল্লেখ করা হয়নি। ফলে প্রস্তাবটি বাস্তবায়িত হলে দেশের বিদ্যুৎ খাতে কতটা অর্থনৈতিক সুফল তৈরি হবে, তা নির্ভর করবে চূড়ান্ত চুক্তি, বিনিয়োগের প্রকৃত পরিমাণ এবং প্রকল্প বাস্তবায়নের অগ্রগতির ওপর।
আরও পড়ুন: পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকে পাঁচ দিন বন্ধ থাকবে ব্যাংকিং সেবা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন