১২:৪৩ এম
বাংলাদেশের সাম্প্রতিক সময়ে টেস্টে সাফল্য বেশ ভালো। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের নতুন চক্রে দারুণ সূচনা করা নাজমুল হোসেন শান্তর দলকে নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে হারের পর। এরপর বাংলাদেশ অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে সিরিজ ড্র করে ফেরার পর আফগানিস্তানের বিপক্ষে জেতা ম্যাচও ড্র করেছে। ফলে ঘরের মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজটি নিজেদের পরীক্ষার মঞ্চ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ পরীক্ষার প্রথম ধাপে আগামীকাল সকাল সাড়ে ৯টায় মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে দুদল। এই ম্যাচটি একদিকে সিরিজে এগিয়ে যাওয়ার লড়াই, অন্যদিকে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে খেলার স্বপ্নকে আরো জোরালো করার হাতছানি। সাম্প্রতিক ব্যর্থতাকে পেছনে ফেলে লাল বলের ক্রিকেটে নিজেদের অবস্থান জানান দেওয়াই এখন নাজমুল হোসেন শান্তর দলের মূল লক্ষ্য।
বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট তালিকায় ৫৫.৫৬ শতাংশ পয়েন্ট নিয়ে বাংলাদেশ চতুর্থ স্থানে রয়েছে। অন্যদিকে ২০.৮৩ শতাংশ পয়েন্ট নিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ রয়েছে অষ্টম স্থানে। বাংলাদেশের হাতে এই চক্রে আরো ছয়টি টেস্ট রয়েছে। তাই ঘরের মাঠে ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে দুই ম্যাচের সিরিজটি ফাইনালের দৌড়ে টিকে থাকার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে তার আগে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের প্রয়োজন, বিশেষ করে ব্যাটিংয়ে দায়িত্বশীলতা এবং গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে ভুল কমানো।
অধিনায়ক শান্তর ভাবনায় আপাতত দূরের হিসাব নয়, বরং একটি ম্যাচই গুরুত্বপূর্ণ। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেছেন, ‘সত্যি বলতে আমি শুধু এ টেস্ট নিয়েই ভাবছি, এমনকি দুই ম্যাচের সিরিজ নিয়েও নয়।’ তিনি আরও বলেন, নিজেদের পরিকল্পনা সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করতে পারলে বড় লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব। প্রধান কোচ ফিল সিমন্সের জন্যও বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে ওঠার সম্ভাবনা একটি বড় প্রেরণা। ‘ফাইনালে খেলার লক্ষ্য ও আকাঙ্ক্ষা আমাদের অবশ্যই রয়েছে’—এ কথা তিনি উল্লেখ করেন। তবে প্রস্তুতির সময় কম পাওয়ার বিষয়টিও একটি বাস্তবতা। ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজে ব্যস্ত থাকার কারণে দলের সব ক্রিকেটারকে একসঙ্গে নিয়ে কাজ করার সুযোগ সীমিত ছিল।
আরও পড়ুন: স্টার্কের ছয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা চাপে, দিনের শেষে অলআউট
অন্যদিকে ওয়েস্ট ইন্ডিজও সিরিজটিকে হালকাভাবে নিচ্ছে না। প্রধান কোচ ড্যারেন স্যামির ভাষায়, ‘বাংলাদেশের নিজেদের মাঠে তাদের বিপক্ষে খেলা চ্যালেঞ্জিং হবে, আর আমরা সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তুত।’ অধিনায়ক রস্টন চেজের নেতৃত্বে ক্যারিবীয়দের লক্ষ্যও বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে নিজেদের অবস্থান উন্নত করা, ‘এ সিরিজে আমরা দুটি ম্যাচই জিততে চাই। এর ফলে পয়েন্ট তালিকায় পঞ্চম স্থানে থেকে বছর শেষ করতে পারব।’
বাংলাদেশ দলে ফিরেছেন লিটন দাস ও তাসকিন আহমেদ। লিটনের প্রত্যাবর্তন ব্যাটিংয়ে অভিজ্ঞতা জোগাবে, আর পেস আক্রমণে তাসকিনের গতি ও দক্ষতা হতে পারে গুরুত্বপূর্ণ। তবে গতকাল অনুশীলনে হাতে আঘাত পেয়েছেন মুশফিকুর রহিম; তার চোটের অবস্থা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। স্পিনে তাইজুল ইসলাম, মেহেদী হাসান মিরাজ ও নাঈম হাসানের ওপরও থাকবে বড় দায়িত্ব।
বাংলাদেশের সামনে সুযোগ রয়েছে। এখন প্রয়োজন পাঁচ দিন ধরে পরিকল্পনা অনুযায়ী খেলা। ঢাকা টেস্টে সে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারলেই সিরিজে ভালো শুরুর পাশাপাশি ফাইনালের স্বপ্নও নতুন গতি পাবে।
আরও পড়ুন: মাদক ও সামাজিক অপরাধ থেকে যুবসমাজকে দূরে রাখতে খেলাধুলার ভূমিকা: মিলন এমপি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন