ঢাকা শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৮ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৩ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৮ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

জার্মানির নতুন কোচ হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে ইয়ুর্গেন ক্লপ


জার্মানির নতুন কোচ হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে ইয়ুর্গেন ক্লপ

বিশ্বকাপের রাউন্ড অব ৩২-এ প্যারাগুয়ের কাছে পেনাল্টি শুটআউটে হেরে নাটকীয়ভাবে বিদায় নিয়েছে জার্মানি। জার্মানির বিশ্বকাপ দলের ভরাডুবির জন্য দায় নিয়ে পদত্যাগ করেছেন ইউলিয়ান নাগেলসমান।

তিনি জার্মান ফুটবল ফেডারেশনের (ডিএফবি) সাথে আলোচনা করে পদ ছাড়ার ঘোষণা দেন। এদিকে, জার্মানি জাতীয় ফুটবল দলের প্রধান কোচের দায়িত্ব নেওয়ার জন্য যারা আলোচনা চালাচ্ছেন, তাদের একজন হচ্ছেন লিভারপুলের সাবেক ম্যানেজার ইয়ুর্গেন ক্লপ।

নিউইয়র্কে ‘ম্যাজেন্টা টিভি’-তে বিশ্বকাপ বিশ্লেষক হিসেবে কথা বলার সময় ৫৯ বছর বয়সী এই কোচ জানান, দুই বছর আগে লিভারপুল ছাড়ার সময় যে শক্তির অভাব তিনি অনুভব করছিলেন। দীর্ঘ বিরতির পর তিনি এখন পুরোপুরি রিচার্জড এবং যেকোনো চ্যালেঞ্জের জন্য প্রস্তুত।

আরও পড়ুন: সবজি কিনতে গেলে মনে হয় মাংস কিনছি, গরু-ইলিশের কথা মানুষ ভুলে যাবে: আসিফ মাহমুদ

ডিএফবির পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলে জানা গেছে, ক্লপ জাতীয় দলের দায়িত্ব নেওয়ার ব্যাপারে প্রাথমিক সম্মতি প্রকাশ করেছেন। ক্লপ বলেছেন, জার্মানির ফুটবলের বর্তমান সংকট কাটাতে দ্বিতীয়বারের মতো ফেডারেশনের সাথে আরো নিবিড় আলোচনার প্রয়োজন। সঠিক ট্র্যাকে ফেরানোর জন্য কিছু মৌলিক এবং কাঠামোগত পরিবর্তন আনা জরুরি।

জার্মান ফুটবল ফেডারেশন তাদের বিবৃতিতে জানিয়েছে, পরবর্তী প্রধান কোচ হিসেবে ইয়ুর্গেন ক্লপই প্রধান পছন্দ। আলোচনার ফলাফল ইতিবাচক হলে খুব শীঘ্রই জার্মানির ডাগআউটে দেখা যেতে পারে লিভারপুলের সাবেক এই ম্যানেজারকে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ছাত্র-জনতার আন্দোলনে দেশে গণতন্ত্র ফিরে এসেছে : গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ৪ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১১:১২ পি.এম


ছাত্র-জনতার আন্দোলনে দেশে গণতন্ত্র ফিরে এসেছে : গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী

গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের বলেছেন, ‘চব্বিশের জুলাইয়ে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মধ্য দিয়ে দেশে গণতন্ত্র ফিরে এসেছে। দীর্ঘ সময় পর আজ আমরা মুক্ত পরিবেশে নাগরিক সমাবেশ করতে পারছি।

অনেক লড়াই-সংগ্রামের পর ছাত্র-জনতার অভূতপূর্ব আন্দোলনে স্বৈরাচার সরকারের বিদায় হয়েছে।’

শনিবার (৪ জুলাই) বিকেলে কুমিল্লা টাউন হল মাঠে আয়োজিত এক নাগরিক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, ‘বিগত নির্বাচনে কুমিল্লার ১১টি আসনের মধ্যে ৯টি আসন বিএনপিকে উপহার দিয়েছেন ভোটাররা। সে জন্য আপনাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই।

আপনারা জানেন, এদেশে যতবার বিএনপি সরকার ক্ষমতায় এসেছে এদেশে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন হয়েছে। একই সঙ্গে কুমিল্লার উন্নয়ন হয়েছে। ইনশাআল্লাহ এবারও এর ব্যতিক্রম হবে না।’

তিনি আরো বলেন, সরকার গঠনের পর প্রথম অধিবেশনেই কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বিল পাস হয়েছে, যা কুমিল্লাবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা ছিল।

বিশেষ করে কুমিল্লা-৬ (সদর) আসনে যিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন তিনি একজন স্বপ্নবাজ মানুষ। রাজনীতিতে আমি তাঁর কাছ থেকে অনেক কিছু শিখেছি। কিভাবে এলাকার উন্নয়নে কাজ আদায় করতে হয় তা আমি উনার কাছ থেকেই শিখেছি।

কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি আমিরুজ্জামান ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে উন্নয়ন প্রস্তাবনা উপস্থাপন করেন কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী।

তিনি বলেন, ‘কুমিল্লায় দীর্ঘদিন ধরে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি।

বিগত সরকারের সময় কুমিল্লা ছিল উন্নয়ন বঞ্চিত। এখন জনাব তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকার এসেছে। এবার কুমিল্লা উন্নয়নের রোল মডেল হবে। কারণ বিএনপি সরকার দেশের উন্নয়নের সরকার।’

মনিরুল হক চৌধুরী আরো বলেন, ‘বর্তমান সরকারের তিন মাসেই কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, ওয়াসা গঠন হয়ে গেছে। সিটি করপোরেশনের সীমানা বৃদ্ধির কাজ চলমান। আপনারা বর্তমান সরকারের প্রতি আস্থা রাখেন, কথা দিচ্ছি জনাব তারেক রহমানের হাতে এদেশ পথ হারাবে না।’

কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম ভূঁইয়া স্বপন ও সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মোজাহিদ চৌধুরীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে আরো বক্তব্য দেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এম শরীফুল করীম, কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান উদবাতুল বারী আবু, কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতির পিপি অ্যাডভোকেট কাইমুল হক রিংকু, জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. মোস্তাক মিয়া, কেন্দ্রীয় বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম ও সাবেরা আলাউদ্দিন হেনা প্রমুখ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কেপ ভার্দে ফুটবলারদের আবদার মেটালেন মেসি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

শনিবার, ৪ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১১:১৫ পি.এম


কেপ ভার্দে ফুটবলারদের আবদার মেটালেন মেসি

বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে কেপ ভার্দের বিপক্ষে ১২০ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস লড়াই শেষ করে ৩-২ গোলের কষ্টার্জিত জয় তুলে নিয়েছে আর্জেন্টিনা। কিন্তু ম্যাচের উত্তেজনা শেষ হওয়ার পর মাঠে দেখা যায় ভিন্ন একটি দৃশ্য। অধিনায়ক লিওনেল মেসি প্রতিপক্ষ কেপ ভার্ডের ফুটবলারদের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ মুহূর্ত ভাগ করে নেন।

মিয়ামিতে অনুষ্ঠিত ম্যাচ শেষে মিক্সড জোনে কেপ ভার্দের একাধিক ফুটবলার স্মারক ছবি ও জার্সির আবদার নিয়ে মেসির কাছে যান। বিশ্বকাপজয়ী এই তারকা হাসিমুখে সকলের অনুরোধ পূরণ করেন। লকার রুমে ফেরার পথেও রসিকতার ছলে মেসি বলেন, 'ওরা আমার কাছে জার্সি থেকে শুরু করে সবকিছুই চাচ্ছিল... অথচ মাঠের ভেতরে আমাকে লাথি মেরে উড়িয়ে দেয়, হা হা।'

কাগজে-কলমে দুই দলের শক্তির পার্থক্য ছিল অনেক। আর্জেন্টিনার বিপক্ষে কেপ ভার্দের বেশিরভাগ ফুটবলার খেলেন ইউরোপের তুলনামূলক নিচের সারির লিগে। তবুও মাঠের লড়াইয়ে এর কোনো ছাপ পড়েনি। শেষ পর্যন্ত অতিরিক্ত সময়ে গড়ানো ম্যাচে বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়ে।

ম্যাচে আর্জেন্টিনার হয়ে প্রথম গোল করে বিশ্বকাপে নিজের ২০তম গোলের মাইলফলক স্পর্শ করেন মেসি। এছাড়া লিসান্দ্রো মার্তিনেসের গোল এবং প্রতিপক্ষের আত্মঘাতী গোলের পেছনেও ছিল তাঁর গুরুত্বপূর্ণ অবদান। শেষ পর্যন্ত ৩-২ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে আলবিসেলেস্তেরা।

ম্যাচ শেষে দলের পারফরম্যান্স নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করলেও আত্মসমালোচনাও করেন মেসি। তিনি বলেন, 'এই দলটা অনেক দিন ধরেই দেখিয়ে আসছে যে তারা শেষ পর্যন্ত লড়াই করতে জানে। আজ সেট-পিস আমাদের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল। আমরা আক্রমণ ও রক্ষণ দুই ক্ষেত্রেই এ নিয়ে অনেক দিন ধরে কাজ করছি এবং তার সুফল পেয়েছি।'

তবে কেপ ভার্ডের কঠিন প্রতিরোধের প্রশংসাও করেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। তিনি বলেন, 'আমরা প্রথম গোল পাওয়ার পর ভেবেছিলাম ম্যাচটা নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারব। কিন্তু উল্টো বলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলি, পেছনে গুটিয়ে যাই এবং ঠিকমতো চাপ সৃষ্টি করতে পারিনি। আমরা জানতাম কেপ ভার্ডে কঠিন প্রতিপক্ষ হবে।'

কঠিন এই জয়ের মাধ্যমে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে আর্জেন্টিনা। পরবর্তী ম্যাচে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে তাদের প্রতিপক্ষ হবে মিশর।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

৫২ হাজার কোটি রুপির অত্যাধুনিক অস্ত্র কিনছে ভারত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ৪ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১১:১৮ পি.এম


৫২ হাজার কোটি রুপির অত্যাধুনিক অস্ত্র কিনছে ভারত

সশস্ত্র বাহিনীর জন্য আধুনিক প্রযুক্তিতে তৈরি এবং অত্যাধুনিক প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম কিনতে ভারত ৫২ হাজার কোটি টাকা সমমূল্যের বেশ কয়েকটি সামরিক সরঞ্জাম ক্রয়ের জন্য সম্মতি দিয়েছে ভারতের প্রতিরক্ষা অধিগ্রহণ পরিষদ (ডিএসি)।

মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুসারে, স্থলবাহিনীর জন্য অনুমোদিত সরঞ্জামের মধ্যে রয়েছে ‘আকাশ তরঙ্গ’ অ্যান্টি-ড্রোন ইলেকট্রনিক যুদ্ধব্যবস্থা, ম্যান-পোর্টেবল অ্যান্টি-ট্যাংক গাইডেড মিসাইল (এমপিএটিজিএম), মিডিয়াম রেঞ্জ সারফেস-টু-এয়ার মিসাইল (এমআরএসএএম), ভেরি শর্ট রেঞ্জ এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম (ভি-শোরাডস), ট্যাংকের অ্যাকটিভ প্রোটেকশন সিস্টেম এবং জেটচালিত কামিকাজে ড্রোন।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ‘আকাশ তরঙ্গ’ শত্রুপক্ষের ড্রোন হামলা প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। এমপিএটিজিএম পদাতিক বাহিনীর ট্যাংকবিধ্বংসী সক্ষমতাকে বৃদ্ধি করবে। এমআরএসএএম মাঝারি পাল্লার আকাশ প্রতিরক্ষা আরও শক্তিশালী করবে। বহুমাত্রিক সেন্সরসমৃদ্ধ ভি-শোরাডস শত্রুর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার মধ্যে কার্যকরভাবে লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত ও ধ্বংস করতে সক্ষম হবে। পাশাপাশি ট্যাংকের অ্যাকটিভ প্রোটেকশন সিস্টেম যুদ্ধক্ষেত্রে সুরক্ষা বৃদ্ধি করবে এবং কামিকাজে ড্রোন কম খরচে অধিক কার্যকর আঘাত হানার সক্ষমতা যোগাবে।

নৌবাহিনীর জন্য মাল্টি ইনফ্লুয়েন্স গ্রাউন্ড মাইন (এমআইজিএম), নৌযানভিত্তিক মানববিহীন আকাশযান ব্যবস্থা (এনএসইউএএস) এবং ইলেকট্রিক প্রপালশন সিস্টেমের জন্য একটি স্থলভিত্তিক পরীক্ষাকেন্দ্র স্থাপনেরও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, এমআইজিএম শত্রুপক্ষের নৌযান চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে সমুদ্রে প্রতিরোধ সক্ষমতা জোরদার করবে। এনএসইউএএস উন্নত সেন্সরের মাধ্যমে সামুদ্রিক নজরদারি ও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে অগ্রণী ভূমিকা রাখবে। আর নতুন পরীক্ষাকেন্দ্র ভবিষ্যৎ যুদ্ধজাহাজের জন্য ইলেকট্রিক প্রপালশন প্রযুক্তির উন্নয়ন ও পরীক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করবে।

এ ছাড়া বিমানবাহিনীর জন্য ফিক্সড-উইং হাই অলটিটিউড সিউডো স্যাটেলাইট (এফডব্লিউ-হ্যাপস) প্ল্যাটফর্মসহ আরও কিছু প্রস্তাব অনুমোদিত হয়েছে। দীর্ঘ সময় আকাশে অবস্থান করতে সক্ষম এই প্ল্যাটফর্ম গোয়েন্দা নজরদারি, তথ্য সংগ্রহ, টেলিযোগাযোগ এবং দূর অনুধাবন কার্যক্রমে ব্যবহার করা হবে। এতে বিমানবাহিনীর দীর্ঘস্থায়ী অভিযানের সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে।

ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অভিপ্রায়, সর্বশেষ এই অনুমোদন দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকায়নে নতুন গতি এনে দেবে। দেশীয় প্রযুক্তিনির্ভর এবং অত্যাধুনিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা যুক্ত হওয়ার ফলে স্থল, সমুদ্র ও আকাশ- তিন ক্ষেত্রেই ভারতের সামরিক প্রস্তুতি আরও শক্তিশালী করবে। সূত্র: দ্য হিন্দু

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শত্রুতা ভুলে কেন তুরস্কের দিকে ঝুঁকছে ফ্রান্স

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ৪ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১১:২৩ পি.এম


শত্রুতা ভুলে কেন তুরস্কের দিকে ঝুঁকছে ফ্রান্স

দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক টানাপোড়েন পেছনে ফেলে ফ্রান্স এখন তুরস্কের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠনের পথে এগোচ্ছে। ইউরোপের পরিবর্তিত নিরাপত্তা পরিস্থিতি, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা এবং মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক বাস্তবতা সব মিলিয়ে প্যারিস এখন আঙ্কারাকে ভবিষ্যৎ ইউরোপীয় নিরাপত্তা কাঠামোর গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করছে।

পশ্চিমা একাধিক কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে জানা গেছে, সিরিয়া, আর্মেনিয়া ও পূর্ব ভূমধ্যসাগর ইস্যুতে দীর্ঘদিনের মতপার্থক্যের পর দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার বিষয়ে ইতিবাচক অগ্রগতি হচ্ছে। এক পশ্চিমা সূত্রের ভাষ্য, ইউরোপের নিরাপত্তা ব্যবস্থার অন্যতম ভিত্তি হিসেবে তুরস্ককে বিবেচনা করছে ফ্রান্স।

সম্প্রতি কায়রোতে গাজা শান্তি চুক্তি নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পেছনে দাঁড়ানোর পরিবর্তে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর প্রস্তাবে দর্শক সারিতে পক্ষান্তরে বসেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান। পর্যবেক্ষকদের মতে, দীর্ঘদিনের বৈরিতার পর দুই নেতার এই উপস্থিতি সম্পর্কের পরিবর্তিত দৃষ্টিভঙ্গির প্রতীক।

মসজিদের ইমাম থেকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বদলে দিয়েছে হিসাব। ফরাসি নীতিনির্ধারকদের মতে, রাশিয়ার সঙ্গে তুরস্কের সম্পর্কের শীতলতা প্যারিসের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা। ২০২৩ সালের পর থেকে এরদোয়ান ও রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠক হয়নি। পাশাপাশি মস্কোর ওপর পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে আঙ্কারার সহযোগিতা এবং রাশিয়ার সঙ্গে বড় গ্যাস ক্রয়চুক্তি নবায়ন না করাও ফ্রান্স ইতিবাচকভাবে দেখছে।

ফ্রান্সের সাবেক রাষ্ট্রদূত জেরার আরোর মতে, ইউক্রেন যুদ্ধের শুরু থেকেই তুরস্ক এমন কৌশল অনুসরণ করেছে, যাতে প্রায় কারও সঙ্গে সরাসরি বিরোধে না জড়িয়ে কার্যত কিয়েভের পক্ষেই অবস্থান নিয়েছে। তার ভাষায়, যুক্তরাষ্ট্রের ওপর ইউরোপের নির্ভরতা কমে আসছে এবং রাশিয়ার চাপ মোকাবিলায় তুরস্ক গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হয়ে উঠতে পারে।

মধ্যপ্রাচ্যে বাড়ছে অভিন্ন স্বার্থ। সিরিয়ায় প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারাকে সমর্থন, লেবাননে শক্তিশালী কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রের পক্ষে অবস্থান এবং ইরান ইস্যুতে শান্তিপূর্ণ সমাধানের আহ্বান এসব ক্ষেত্রে ফ্রান্স ও তুরস্কের অবস্থানের মধ্যে উল্লেখযোগ্য মিল দেখা যাচ্ছে।

কূটনৈতিক সূত্রগুলোর দাবি, ইসরাইলের সঙ্গে তুরস্কের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা এবং লেবানন ইস্যুতে ফ্রান্স-ইসরাইল মতবিরোধও প্যারিস ও আঙ্কারার কৌশলগত সমন্বয়ের সুযোগ তৈরি করেছে।

শহীদ আবু সাঈদের স্মৃতি ভোলেননি তার বন্ধু ও সহযোদ্ধারা। প্রতিরক্ষা সহযোগিতায় নতুন সম্ভাবনা উন্মোচন হচ্ছে। দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হয়ে উঠছে প্রতিরক্ষা শিল্প। তুরস্ক ফ্রান্স-ইতালির যৌথ উদ্যোগে তৈরি এসএএমপি/টি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনার ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। রাজনৈতিক টানাপোড়েন ও যৌথ উৎপাদন নিয়ে মতবিরোধের কারণে এতদিন এই চুক্তি আটকে থাকলেও এখন তা পুনর্বিবেচনা করছে প্যারিস।

ফরাসি প্রতিরক্ষা খাতের প্রতিষ্ঠান সাফরান এবং তুরস্কের শীর্ষ ড্রোন নির্মাতা বাইরাক্তার সম্প্রতি কৌশলগত অংশীদারত্বে পৌঁছেছে। এই চুক্তির আওতায় ড্রোন প্রযুক্তি, অপট্রনিক সেন্সর, নেভিগেশন ব্যবস্থা এবং গাইডেড অস্ত্র প্রযুক্তি যৌথভাবে উন্নয়নের পরিকল্পনা রয়েছে। এর ফলে বাইরাক্তার টিবি-২ ড্রোনে সাফরানের ইউরোফ্লির ইলেকট্রো-অপটিক্যাল সিস্টেম সংযুক্ত হবে।

এছাড়া ড্রোন ও হেলিকপ্টার প্রযুক্তিতে যৌথ সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়টি বিবেচনা করছে ফ্রান্স। গত বছর তুরস্কের প্রতিরক্ষা রপ্তানি ১০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়, যা দেশটির প্রতিরক্ষা শিল্পের দ্রুত উত্থানের প্রমাণ।

তবে সম্পর্ক উন্নয়নের পথে এখনো বেশ কিছু জটিলতা রয়েছে। ফরাসি গবেষণা প্রতিষ্ঠান আইএফআরআইর বিশ্লেষকদের মতে, ফ্রান্স মনে করে তুরস্ক ক্রমেই কর্তৃত্ববাদী রাজনৈতিক পথে এগোচ্ছে এবং আঙ্কারার পররাষ্ট্রনীতি অনেক ক্ষেত্রে ইউরোপীয় স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

বন্ধ রাষ্ট্রায়ত্ত কলকারখানা দ্রুত চালুর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর। এছাড়া আর্মেনিয়ার সঙ্গে সীমান্ত খুলে দেওয়া, তুরস্কে ফরাসি দূতাবাস পরিচালিত বিদ্যালয় নিয়ে বিরোধ এবং পূর্ব ভূমধ্যসাগরে গ্রিস-তুরস্ক উত্তেজনাও দুই দেশের সম্পর্কের বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে।

ফ্রান্সের সঙ্গে গ্রিসের প্রতিরক্ষা চুক্তি এবং গ্রিসের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ম্যাক্রোঁর প্রকাশ্য অবস্থান নিয়েও আঙ্কারার অসন্তোষ রয়েছে। তবে তুর্কি কর্মকর্তাদের দাবি, তুরস্ক কখনোই গ্রিসে হামলার পরিকল্পনা করেনি এবং ফরাসি অবস্থান মূলত এথেন্সের কাছে আরও অস্ত্র বিক্রির কূটনৈতিক কৌশল।

অনিশ্চয়তার আরেক কারণ ম্যাক্রোঁর বিদায়। আগামী বছরের এপ্রিলে প্রেসিডেন্ট হিসেবে ম্যাক্রোঁর মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা। ফলে তার উত্তরসূরি বিশেষ করে ডানপন্থী নেতা মারিন লে পেন বা জর্দান বারদেলা ক্ষমতায় এলে ফ্রান্সের তুরস্কনীতি পরিবর্তিত হতে পারে। তবে কূটনৈতিক সূত্রগুলোর দাবি, সম্ভাব্য রাজনৈতিক পরিবর্তনের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে তুর্কিরা ইতোমধ্যে ফ্রান্সের বিভিন্ন রাজনৈতিক শক্তির সঙ্গেও যোগাযোগ বজায় রাখছে।

বিশ্লেষকদের মতে, অতীতের মতবিরোধ পুরোপুরি কাটিয়ে উঠতে সময় লাগলেও ইউরোপের নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা এবং আঞ্চলিক ভূরাজনীতির নতুন বাস্তবতা ফ্রান্স-তুরস্ক সম্পর্ককে একটি নতুন কৌশলগত পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারে।

সূত্র: মিডলইস্ট আই

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৩ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৪
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৪৮
মাগরিব ০৫:২৫
ইশা ০৬:৩৭
সূর্যোদয় : ০৬:০০ সূর্যাস্ত : ০৫:২৫
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%