বৃহস্পতিবার, ১৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং
০৭:০৬ পি.এম
ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন বলেছেন, "প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে আগামী দিনের বাংলাদেশ হবে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির একটি অনন্য উদাহরণ।" তিনি উল্লেখ করেন যে, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের রথযাত্রা এখন সব সম্প্রদায়ের মানুষের মাঝে সম্প্রীতির মেলবন্ধন সৃষ্টি করেছে।
তিনি আরও বলেন, "চট্টগ্রামের তুলসীধাম ঐতিহ্যবাহী তীর্থস্থান।" এখানকার ৩০০ বছরের প্রাচীন কেন্দ্রীয় রথযাত্রা আজকাল একটি সর্বজনীন উৎসবে রূপ নিয়েছে।
বৃহস্পতিবার বিকালে চট্টগ্রাম নগরের নন্দনকানন রথের পুকুর পাড় এলাকায় কেন্দ্রীয় রথযাত্রা উদযাপন কমিটির আয়োজনে রথপরিক্রমা উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই কথাগুলি উল্লেখ করেন।
ঋষিধাম অধিপতি ও তুলসীধামের মোহন্ত শ্রীমৎ দেবদীপানন্দ পুরী মহারাজের পৌরহিত্যে অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, "নন্দনকাননের ঐতিহাসিক রথের পুকুর পাড় আজও রথপরিক্রমার আয়োজন করে ঐতিহ্য ধরে রেখেছে।" হাজারও ভক্তের উপস্থিতি আজ আবারও প্রমাণ করেছে যে, বাংলাদেশ সত্যিকারের অসাম্প্রদায়িক চেতনা ধারণ করে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, "এই রথের পুকুর পাড় দখল করে প্রভাবশালীদের স্থাপনা গড়তে দেওয়া হবে না।" দখলদারদের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে, এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।
অতিথিদের বক্তব্যে চট্টগ্রাম-৯ আসনের এমপি আবু সুফিয়ান বলেন, "একটি গোষ্ঠী নানা অজুহাতে দেশকে অস্থিতিশীল করতে চায়।" তবে তিনি উল্লেখ করেন যে, "বাংলাদেশের সব ধর্ম, বর্ণ ও সম্প্রদায়ের মানুষ বিএনপি’র কাছে নিরাপদ।"
কেন্দ্রীয় রথযাত্রার উদ্বোধক চট্টগ্রামস্থ ভারতীয় দূতাবাসের সহকারী হাইকমিশনার শ্রী হরিশ কুমার বলেন, "রথযাত্রা হল ভগবানের বিশেষ কৃপার প্রকাশ।" এই সময় ভগবান মন্দির থেকে বেরিয়ে এসে রাজপথে অবতীর্ণ হন। এ কারণেই রথযাত্রাকে বলা হয় সর্বজনীন করুণার উৎসব।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন- চট্টগ্রাম মেট্টোপলিটন পুলিশ কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি দীপক কুমার পালিত।
এতে স্বাগত বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় রথযাত্রা উদযাপন কমিটির সভাপতি হিরন্ময় ধর এবং শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক বিধান ধর।
এ সময় অতিথিদের কেন্দ্রীয় রথযাত্রা উদযাপন কমিটির পক্ষ থেকে সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয়।
পরে তুলসীধামের মোহন্ত মহারাজের নেতৃত্বে রথের দড়ি টেনে রথপরিক্রমা উদ্বোধন করেন অতিথিরা।
এর আগে ঢোলক বাদ্য, মঙ্গল শঙ্খ ও উলুধ্বনি দিয়ে জগন্নাথ-সুভদ্রা-বলভদ্রকে রথারোহণ করানো হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ সরকারের অনুরোধে নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা শুরু করেছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। এর পাশাপাশি সংস্থাটি সতর্কতা প্রকাশ করে বলেছে, রাজস্ব ঘাটতি, ব্যাংক খাতের দুর্বলতা ও উচ্চ মূল্যস্ফীতি কারণে দেশের অর্থনীতি উল্লেখযোগ্য চাপের মধ্যে রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধের প্রভাবের ফলে আমদানি ব্যয় এবং ভর্তুকির চাপ বেড়েছে, যা অর্থনীতির ঝুঁকি বাড়াতে সহযোগিতা করছে।
আইএমএফের মিশন প্রধান আইভো ক্রজনারের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল ১২ থেকে ১৬ জুলাই ঢাকা সফর শেষে বৃহস্পতিবার যে বিবৃতি প্রকাশ করেছে, তাতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই সফরের উদ্দেশ্য ছিল দেশের সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক ও আর্থিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা এবং সরকারের অর্থনৈতিক সংস্কার অগ্রাধিকার নিয়ে আলোচনা করা। নতুন ঋণ কর্মসূচির সম্ভাব্য আকার, শর্ত ও সংস্কার কর্মসূচি নিয়ে আগামী কয়েক মাসের মধ্যে আরও আলোচনা করা হবে।
আইএমএফের মন্তব্য অনুসারে, বাংলাদেশ এখন রাজস্ব, আর্থিক খাত এবং মূল্যস্ফীতি- এই তিনটি বড় চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক পণ্যমূল্য বৃদ্ধি ও সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন সৃষ্টি হওয়ায় মূল্যস্ফীতির চাপ আবারও বেড়ে গেছে। এক্ষেত্রে, ভর্তুকি ব্যয়ের বৃদ্ধি সরকারের সীমিত রাজস্ব সক্ষমতার ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি করেছে। আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় বৈদেশিক লেনদেনেও চাপ সৃষ্টি হচ্ছে, যদিও প্রবাসী আয় শক্তিশালী রয়েছে।
আইএমএফ বলেছে, ব্যাংক খাতের চাপ এখনও উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়েছে। এই পরিস্থিতির মধ্যে ব্যাংক খাত পুনর্গঠনের জন্য একটি বিশ্বাসযোগ্য এবং সমন্বিত কৌশল গ্রহণ করা প্রয়োজন, পাশাপাশি সমস্যাগ্রস্ত ব্যাংকগুলোর কার্যকর সংস্কার জরুরি। এর মাধ্যমে আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি বিনিয়োগেও উৎসাহিত হবে।
সংস্থাটি উল্লেখ করেছে, অর্থনীতির টেকসই উন্নয়নের জন্য রাজস্ব আহরণ বাড়ানো, অপ্রয়োজনীয় ভর্তুকি যৌক্তিক করা এবং সেই অর্থ সামাজিক নিরাপত্তা ও উন্নয়ন ব্যয়ে ব্যবহার করা প্রয়োজন। দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জন্য লক্ষ্যভিত্তিক সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি জোরদার করার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।
মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ পুনর্গঠনের জন্য আইএমএফ কঠোর মুদ্রানীতি ও সতর্ক রাজস্বনীতি অব্যাহত রাখার সুপারিশ করেছে। এছাড়া, ২০২৫ সালে চালু হতে যাওয়া 'ক্রলিং পেগ' বিনিময় হার ব্যবস্থা ধারাবাহিকভাবে বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে, যাতে বিনিময় হার আরও নমনীয় হতে পারে এবং বৈদেশিক খাতের স্থিতিশীলতা বজায় থাকে।
আইএমএফের পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি সংস্কার কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত না হলে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কমে ৩ দশমিক ৫ শতাংশে নেমে আসতে পারে। পরবর্তী মধ্যমেয়াদে প্রবৃদ্ধি ৩ শতাংশেরও নিচে নেমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সংস্থাটি আরও বলেছে, ব্যাংক খাতের সংকট, রাজস্ব চ্যালেঞ্জ এবং বৈদেশিক চাপ একে অপরকে জটিল করে তুলতে পারে। ফলে, অর্থনীতির ঝুঁকি নিম্নমুখী অবস্থায় রয়েছে।
তবে আইএমএফ জানিয়েছে, সফরকালে বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে গঠনমূলক ও ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। সংস্থাটি আগামী মাসগুলোতে নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে সরকারের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রাখবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দেশের বিভিন্ন সমস্যা নিয়েও প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য ছিল। তিনি বলেছেন, ‘দেশে এত সমস্যা এখনও বিরাজমান দেখে আমি বিস্মিত হই। কারণ ১৭ বছরে এসব সমস্যার সমাধান হওয়ার কথা ছিল। যদি সে সময় এগুলো সমাধান করা যেত, তাহলে অনেক কিছুই ঠিক হয়ে যেতে পারত।’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘আগে এত উন্নয়নের গল্প শুনতাম, সেগুলো তো আসলে কোথায়? এখন সমস্ত চাপ আমাদের সরকারের ওপর এসেছে। জনগণের প্রত্যাশা বিশাল। আমরা চেষ্টা করছি, সেই অবস্থান থেকে উত্তরণ ঘটিয়ে ঘুরে দাঁড়াতে।’
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) দুপুরে সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জনপ্রশাসন সভাকক্ষে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর প্রতিনিধি সভায় প্রধানমন্ত্রী এই কথা বলেন।
সভায় উপস্থিত ছিলেন, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, প্রধানমন্ত্রী বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য আন্না মিনজ, সংস্কৃতিকর্মী সঞ্জীব দ্রংসহ ১৭ জেলার ১৮টি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা।
সভায় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর নেতারা তাদের জন্য পৃথক ভূমি কমিশন গঠন, সমতলের আদিবাসী অনগ্রসর জনগণের জন্য জাতীয় কনভেনশন, ‘ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী’ শব্দের পরিবর্তে জাতিভিত্তিক পরিচয়ের দাবি, সাংবিধানিক স্বীকৃতি, আইনগতভাবে ভূমির মালিকানা প্রতিষ্ঠা, কেন্দ্রীয় কালচারাল সেন্টার প্রতিষ্ঠা, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য ঋণসুবিধা এবং রিজার্ভ ফরেস্টের নামে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীদের বসতি থেকে উচ্ছেদ বন্ধের দাবিও জানান।
এ সময়ে প্রধানমন্ত্রী মনোযোগ দিয়ে বক্তব্য শুনলেন এবং সভায় সুখী, সমৃদ্ধ ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার করেন।
তিনি বলেন, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী দেশের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তার সরকার একটি বৈষম্যহীন দেশ গড়তে কাজ করছে। সবার জন্য প্রত্যাশিত বাংলাদেশ নির্মাণে তিনি সবাইকে নিয়ে এগিয়ে যেতে চান। কাউকে আলাদা মনে করেন না।
তিনি জানাচ্ছেন, ‘আমাদের ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে। দেশের সব প্রতিষ্ঠান ও অর্থনীতি ফ্যাসিস্ট সরকার ধ্বংস করে দিয়েছে। প্রতি বছর ১৬ বিলিয়ন ডলার পাচার হত। অর্থপাচার না হলে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর অনেক সমস্যার সমাধান হয়ে যেত। আমাদের সরকার যে সমস্যাগুলো নিরসনযোগ্য সেগুলো আগে সমাধান করছে।’
তারেক রহমান বলেন, ‘এখনকার যুদ্ধটা অনেক বড়। এখানে টিকে থাকতে হলে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে, এগিয়ে আসতে হবে। আমাদের দেখতে হবে, আমরা আরও ভালো অবস্থানে কীভাবে থাকতে পারি।’
দেশের সমস্যা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্য ছিল, ‘দেশে এত সমস্যা এখনও বিরাজমান দেখে আমি বিস্মিত হই। ১৭ বছরে এসবের সমাধান হওয়ার কথা ছিল। সে সময় এগুলো সমাধান হলে অনেক সমস্যার সমাধান হয়ে যেত।’
তিনি বলেন, ‘আগে এত উন্নয়নের গল্প শুনতাম, সেগুলো আসলে কোথায়? এখন সব চাপ আমাদের সরকারের ওপর। জনগণের প্রত্যাশা অনেক। আমরা চেষ্টা করছি, সেই অবস্থা থেকে উত্তরণ ঘটিয়ে ঘুরে দাঁড়াতে।’
দেশের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে ফ্যাসিস্ট সরকার ধ্বংস করে দিয়েছে। এই অবস্থা থেকে উত্তরণে সরকারের নেয়া উদ্যোগগুলোর কথাও প্রধানমন্ত্রী তুলে ধরেন।
তারেক রহমান বলেন, ‘ওরা একটি প্রজন্মকে ধ্বংস করে দিয়ে গেছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের যাত্রা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান শুরু করেছিলেন। তার সময় ৩১ শয্যার হাসপাতাল প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। এরপর যখন আমাদের সরকার ক্ষমতায় এসেছে, তখনই এর উন্নয়ন হয়েছে। বেগম খালেদা জিয়া ক্ষমতায় আসার পর সেটি ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। এখন আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, এটিকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার।’
তিনি অভিযোগ করেন, ‘আগের সরকার ইউনিয়নভিত্তিক কমিউনিটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করেছিল। কিন্তু সেগুলোর কোন কার্যক্রম নেই।’
২০২৬-২৭ অর্থবছরে স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বাড়ানো, জরুরি চিকিৎসা সামগ্রীর ওপর কর হ্রাসের বিষয়েও প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য ছিল।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বর্তমান সরকার গণভোটে জনগণের দেয়া রায় বাস্তবায়ন না করে জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে বলে অভিযোগ করেছেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) দুপুরে রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার বাবনপুর গ্রামে শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত ও দোয়া মাহফিল শেষে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন। পরে তিনি ও দলের নেতাকর্মীরা শহীদ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাদের খোঁজখবর নেন।
নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর আমাদের দাবি ছিল তিনটি- বিচার, সংস্কার এবং নির্বাচন। আমরা দেখেছি নির্বাচন হয়েছে। কিন্তু বিচার ও সংস্কার বাংলাদেশের জনগণ এখনো পায়নি। আবু সাঈদ হত্যা মামলার যে রায়, তা আমরা পেয়েছি। কিন্তু সেই রায় এখনো কার্যকর হয়নি।’
তিনি বলেন, ‘গণভোটে ৭০ শতাংশ মানুষ হ্যাঁ-এর পক্ষে রায় দিয়েছে। কিন্তু বর্তমান সরকার সেই রায়ের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। তারা গণভোটের রায় কার্যকর করছে না। তারা বলছে, জুলাই সনদ মুখে মুখে কার্যকর করবে। এটা তাদের কেবলই মৌখিক প্রতারণা। তারা বলেছিল সংবিধান সংস্কার কমিশন করবে, সেটি তারা করেনি।’
জুলাই হত্যা মামলার রায় কার্যকরের দাবি জানিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘অনেকগুলো মামলার রায় হয়েছে। এখন বাংলাদেশের মানুষ সেই রায়গুলোর বাস্তবায়ন দেখতে চায়। শহীদ আবু সাঈদের হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনাকে সরকার যেন দ্রুত দেশে ফিরিয়ে এনে আদালতের দেয়া রায় কার্যকর করে। অন্যান্য মামলার বিচারকাজও দ্রুত শেষ করে রায় কার্যকর করা উচিত। এতে আন্দোলনে নিহতদের পরিবার ও ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিরা ন্যায়বিচার পাবেন।’
সরকার ও বিরোধী দল একসঙ্গে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করছে- মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রীর এমন বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সরকার যদি সত্যিকার অর্থে সংস্কার করতে চায়, তাহলে আমরা এই প্রশ্নে সর্বাত্মকভাবে সহযোগিতা করছি। সংস্কার, বিচার, ফ্যাসিবাদের বিলুপ্তি, বাংলাদেশের স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি ইত্যাদি প্রশ্নে আমরা সরকার ও বিরোধী দল হিসেবে দেখি না। দেশের জনগণের পক্ষে, রাষ্ট্রের পক্ষে এক কাতারে দাঁড়ানো উচিত।’
তিনি আরও বলেন, ‘কিন্তু আমরা সরকারের কোনো আচরণে সেরকম কোনো আলামত দেখতে পাচ্ছি না। ফলে গণভোটের রায়ের আলোকে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে হবে। তাদের নোট অব ডিসেন্টের আলোকে বাস্তবায়ন করলে সেখানে আমাদের কোনো সহযোগিতা তো থাকবেই না, কোনো অংশগ্রহণও থাকবে না।’
এ সময় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব আখতার হোসেন, যুগ্ম আহ্বায়ক ড. আতিক মুজাহিদ, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী, মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলমসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার কাছে ২-১ গোলে হেরে গিয়ে আবারও শিরোপার স্বপ্নভঙ্গ হয়েছে ইংল্যান্ডের। টুর্নামেন্টজুড়ে দলে নেতৃত্ব দেওয়া অধিনায়ক হ্যারি কেইনের সামনে এখন বড় প্রশ্ন, ২০২৬ সালের পরের বিশ্বকাপে কি দেখা যাবে তাকে?
ইংল্যান্ডের হয়ে ২০১৮ বিশ্বকাপে ক্যারিয়ার শুরু করার পর কেইন আস্থা ও বিশ্বাসের প্রতীক হয়ে উঠেছেন। সেই আসরে তার ছয়টি গোল ছিল, যা তাকে গোল্ডেন বুট এনে দেয় এবং ২৮ বছরের বিরতির পর ইংল্যান্ডকে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে নিয়ে যেতে সাহায্য করে। ২০২২ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের পথ কোয়ার্টার-ফাইনাল পর্যন্তই থেমে যায়, আর এবার ২০২৬ বিশ্বকাপেও তাদের যাত্রা শেষ হলো সেমিফাইনালে।
ক্লাব ফুটবলে, তিনি দীর্ঘদিন ধরে টটেনহ্যামের পরিধানে ছিলেন, কিন্তু বড় কোনো শিরোপা তার হাতেনাতে আসেনি। এরপর বায়ার্ন মিউনিখে যোগ দেওয়ার মাধ্যমে তিনি প্রথমবারের মতো ট্রফি জয়ের স্বাদ পান। তবে ইংল্যান্ডের হয়ে এখনও বড় কোনো আন্তর্জাতিক শিরোপা অধরাই রয়ে গেছে।
ইউরো টুর্নামেন্টগুলোতেও কেইন একই মাত্রিক অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হয়েছেন। ২০২০ ও ২০২৪ ইউরোতে তিনি দুবার ফাইনালে উঠেছিলেন, কিন্তু ইতালি ও স্পেনের বিপক্ষে হেরে শিরোপা হাতছাড়া করে ইংল্যান্ড।
পরবর্তী বিশ্বকাপে কেইনের বয়স হবে ৩৬ বছর, তাই জাতীয় দলের হয়ে আরেকটি বিশ্বকাপে খেলার সম্ভাবনা সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে ইংলিশ অধিনায়ক সরাসরি কোনো সিদ্ধান্ত দেননি। কেইন বলেন, “এখনই আমি কিছু বলতে চাই না। তখন আমি কেমন খেলছি, শারীরিক অবস্থা কেমন থাকবে এসবের ওপর নির্ভর করবে বিশ্বকাপে খেলা।”
তবে বয়সকে বড় বাধা হিসেবে দেখছেন না তিনি। তার কথা অনুযায়ী, লিওনেল মেসির উদাহরণ টেনে, কেইন বলেন, “এই গ্রীষ্মে আমার বয়স ৩৩ হবে। মেসি ৩৯ বছর বয়সেও খেলছে এবং ভালো পারফর্ম করছে। দেখা যাক আমার ক্ষেত্রে কী হয়। আমি এখনই কোনো সীমারেখা টানতে চাই না।”
আর্জেন্টিনার বিপক্ষে সেমিফাইনালের হারটি নিয়ে হতাশা প্রকাশও করেছেন কেইন। তার মতে, ম্যাচের বেশিরভাগ সময় তারা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখলেও শেষ পর্যন্ত জয় ধরে রাখতে পারেনি ইংল্যান্ড।
কেইন বলেন, “মনে হচ্ছে আগের টুর্নামেন্টগুলোর পুনরাবৃত্তিই হলো। ৬০ মিনিট পর্যন্ত ম্যাচ আমাদের নিয়ন্ত্রণে ছিল, কিন্তু এরপর পরিস্থিতি বদলে যায়।”
এক গোলের লিড ধরে রাখতে না পারার আক্ষেপ রয়েছে ইংল্যান্ড অধিনায়কের। তিনি বলেন, “এগিয়ে যাওয়ার পর স্বাভাবিকভাবেই লক্ষ্য থাকে ব্যবধান ধরে রাখা। কিন্তু ২০ মিনিটের মধ্যেই তারা ঘুরে দাঁড়িয়েছে। ম্যাচটা আমাদের হাতেই ছিল, কিন্তু আমরা ধরে রাখতে পারিনি।”
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ