ঢাকা শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৭ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১২ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৭ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

দেশের অর্থনীতি তিন কাঠামোগত ফাঁদে আটকে, দারিদ্র্য ও বিনিয়োগে স্থবিরতা


দেশের অর্থনীতি তিন কাঠামোগত ফাঁদে আটকে, দারিদ্র্য ও বিনিয়োগে স্থবিরতা

দেশের অর্থনীতি তিনটি কাঠামোগত ফাঁদে আটকে পড়েছে, যা হলো দারিদ্র্য বৃদ্ধি, বিনিয়োগের স্থবিরতা এবং রাজনৈতিক ও শাসনব্যবস্থার দুর্বলতা। একদিকে আয় বৃদ্ধি পাচ্ছে না, অপরদিকে পরিবারের ব্যয় ও ঋণের চাপ বাড়ছে। বিনিয়োগের গতি কমছে এবং প্রবৃদ্ধি নিম্নমুখী হচ্ছে। এই চিত্রগুলো উঠে এসেছে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টারের (পিপিআরসি) ‘স্টেট অব দ্য রিয়াল ইকোনমি’ শীর্ষক প্রকাশনায়।

শনিবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে আয়োজিত প্রকাশনা অনুষ্ঠানে পিপিআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. হোসেন জিল্লুর রহমান গবেষণার সারসংক্ষেপ তুলে ধরেন। তিনি জানান, দেশে মাঝারি দারিদ্র্যের হার ২০২২ সালের ১৮.৭ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০২৫ সালে ২৭.৯ শতাংশে পৌঁছেছে। একই সময়ে চরম দারিদ্র্যের হার ৫.৬ শতাংশ থেকে বেড়ে ৯.৩৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। ব্যয়ভিত্তিক জিনি সহগ (জিনি কো-এফিশিয়েন্ট) বেড়ে হয়েছে ০.৪৩৬।

প্রকাশনার তথ্য অনুযায়ী, দেশের প্রায় ১৮ শতাংশ পরিবার বা ৩ কোটি ১০ লাখ মানুষ ভঙ্গুর মধ্যবিত্ত শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত। এই শ্রেণির মানুষদের স্থবির আয়, বাড়তি ব্যয় ও অর্থনৈতিক ধাক্কার কারণে দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। এছাড়া, দেশের প্রায় অর্ধেক পরিবারের অন্তত একজন সদস্য দীর্ঘস্থায়ী রোগে আক্রান্ত। ফলে চিকিৎসা ও ওষুধের ব্যয় পরিবারগুলোর ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে।

আরও পড়ুন: রিয়াদ বিমানবন্দরে লাগেজ হারানো যাত্রীদের জন্য বাংলাদেশ দূতাবাসের জরুরি বার্তা

পিপিআরসির বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ শুধু বহিরাগত অর্থনৈতিক ধাক্কার মুখে নয়, বরং ‘উচ্চ দারিদ্র্য-নিম্ন বিনিয়োগ-নিম্ন প্রবৃদ্ধি’র কাঠামোগত ফাঁদে আটকে পড়েছে।

হোসেন জিল্লুর বলেন, দেশে দারিদ্র্য কমার পরিবর্তে বাড়ছে এবং মধ্যবিত্ত শ্রেণি ক্রমাগত ঝুঁকির মুখে পড়ছে। অর্থনৈতিক চাপের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে পরিবারগুলোর সক্ষমতা কাঠামোগত সীমায় পৌঁছেছে। দারিদ্র্য ও বৈষম্য বৃদ্ধি এবং মধ্যবিত্তের ভঙ্গুরতা নিয়ে পিপিআরসি ও বিশ্বব্যাংকের তথ্যেও মিল পাওয়া গেছে।

তিনি বলেন, এই অর্থনৈতিক ফাঁদের প্রথম বৈশিষ্ট্য হলো পরিবার পর্যায়ে আর্থিক সংকটের বিস্তার। দারিদ্র্য, অনিশ্চিত কর্মসংস্থান, ছদ্ম বেকারত্ব ও চিকিৎসা ব্যয় মানুষের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে। অর্ধেকের বেশি পরিবারের অন্তত একজন সদস্য দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত। এছাড়া, সঞ্চয়ের তুলনায় পারিবারিক ঋণের বোঝা ৪৪ শতাংশের বেশি বেড়েছে।

দ্বিতীয় বৈশিষ্ট্য হলো বিনিয়োগে স্থবিরতা ও প্রবৃদ্ধির নিম্নমুখী গতি। বিশ্বব্যাংক, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) এবং এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের মূল্যায়নেও বিনিয়োগের স্থবিরতার বিষয়টি উঠে এসেছে। তৃতীয় বৈশিষ্ট্য রাজনৈতিক ও শাসনতান্ত্রিক দুর্বলতা।

আরও পড়ুন: সরাইল থানায় গিয়ে ওসির ওপর চটলেন এমপি রুমিন ফারহানা

জিল্লুর রহমান বলেন, এ সংকট থেকে বের হতে হলে পরিবারগুলোর আর্থিক চাপ কমাতে হবে, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি আনতে হবে এবং কার্যকর শাসনব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। এটি সাময়িক দুরবস্থা নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি কাঠামোগত সংকট। তাই শুধু কমিশন গঠন বা নীতিপ্রতিবেদন প্রকাশ করলেই হবে না। সমাজ, সরকার ও অর্থনীতির সমন্বয়ে কার্যকর সংস্কার পরিকল্পনা নিতে হবে।

তিনি আরো বলেন, বিনিয়োগের স্থবিরতা ও সংস্কারহীন প্রতিষ্ঠানের কাঠামোগত সংকট স্বীকার করে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। এ জন্য অর্থনৈতিক গণতন্ত্র, প্রবৃদ্ধির নতুন চালিকাশক্তি, মানসম্মত শিক্ষা, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি ও শাসনব্যবস্থার সংস্কার—এই পাঁচটি স্তম্ভের ভিত্তিতে সমন্বিত ‘ট্রানজিশন কমপ্যাক্ট’ বা উত্তরণকালীন সমঝোতা গড়ে তুলতে হবে।

তার মতে, রাষ্ট্র ও প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন স্তরে হয়রানি মানুষের উদ্যোগ, সক্ষমতা ও স্বপ্নকে বাধাগ্রস্ত করছে। তাই কাঠামোগত সংস্কারের মূল লক্ষ্য হতে হবে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক শাসনব্যবস্থাকে হয়রানিমুক্ত করা।

সংস্কারের তাগিদ অর্থনীতিবিদদের

আরও পড়ুন: সরকার নাগরিকদের জীবন রক্ষায় উদ্যোগ নিতে ব্যর্থ: সিপিবি

বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর জঁ পেম বলেন, অর্থনীতির সংকট মোকাবিলায় বাণিজ্য, সরকারি অর্থব্যবস্থা ও জ্বালানি দক্ষতায় কাঠামোগত সংস্কার জরুরি। কর্মসংস্থান বাড়াতে শ্রমবাজার ও শিক্ষাব্যবস্থাকে বেসরকারি খাতের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে হবে।

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, দেশে আয়বৈষম্য বাড়ছে। অথচ প্রবৃদ্ধির সুফল আগের মতো দারিদ্র্য কমাতে পারছে না। ২০২২ সালের তুলনায় ২০২৫ সালের মে পর্যন্ত ভোক্তা মূল্যসূচক প্রায় ২২ শতাংশ বাড়লেও দারিদ্র্যসীমা সমন্বয় করা হয়েছে মাত্র ১৩ শতাংশ।

তার হিসাব অনুযায়ী, শীর্ষ ১০ শতাংশ ও সর্বনিম্ন ৪০ শতাংশ মানুষের আয়ের অনুপাত ২০২২ সালের ৩ দশমিক ২ থেকে বেড়ে ৭ দশমিক ২ হয়েছে। রাজস্ব আদায় কম থাকায় সরকারি ব্যয় ও বিনিয়োগও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, কৃষিতে দেশের প্রায় ৪০ শতাংশ শ্রমশক্তি নিয়োজিত থাকলেও মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) এ খাতের অবদান মাত্র ১২ শতাংশ। কৃষিকে শিল্প ও বৈশ্বিক বাজারের সঙ্গে যুক্ত করা, মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা এবং দক্ষতাভিত্তিক প্রতিযোগিতায় সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি।

আরও পড়ুন: মোহাম্মদপুরে সাত মামলার আসামি কিশোর গ্যাং লিডার ‘কেন্তা ফিরোজ’ গ্রেপ্তার

ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) প্রশাসক মো. ফজলুল হক বলেন, দেশের রপ্তানি আয়ে তৈরি পোশাক খাতের ওপর নির্ভরতা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। দুই দশক আগে মোট রপ্তানিতে এ খাতের অংশ ছিল ৭৩ থেকে ৭৫ শতাংশ। বর্তমানে তা বেড়ে ৮৪ থেকে ৮৫ শতাংশে পৌঁছেছে।

তিনি বলেন, চামড়া, ওষুধ ও তথ্যপ্রযুক্তির মতো সম্ভাবনাময় খাত বিকল্প প্রবৃদ্ধির চালিকাশক্তি হয়ে উঠতে পারেনি। নীতি সহায়তা পাওয়ার পরও এসব খাত কেন এগোতে পারছে না, তা নিয়ে গবেষণা প্রয়োজন। দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষার অভাব ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতাও তরুণদের কর্মসংস্থান এবং বিনিয়োগের পথে বাধা তৈরি করছে। প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের কতজন কর্মসংস্থানে যুক্ত হচ্ছেন, তার কার্যকর মূল্যায়নও জরুরি।

অ্যাকশনএইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ কবির খাদ্যমূল্যের চাপ ও অনানুষ্ঠানিক শ্রমিকদের অনিশ্চিত আয়ের বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি নারী কর্মসংস্থান, শিশুযত্ন কেন্দ্র এবং লিঙ্গসংবেদনশীল বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন।

পিপিআরসির ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য ড. সৈয়দ এম হাশমির স্বাগত বক্তব্যের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। এতে বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও গবেষকেরা বক্তব্য দেন।

আরও পড়ুন: জাপান বাংলাদেশে ৬.৩৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে

এমই

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শ্রীলঙ্কায় দেশব্যাপী বিদ্যুৎ বিপর্যয়, জাতীয় গ্রিডে ত্রুটি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৭:১৭ এম


শ্রীলঙ্কায় দেশব্যাপী বিদ্যুৎ বিপর্যয়, জাতীয় গ্রিডে ত্রুটি

জাতীয় গ্রিডে ত্রুটি দেখা দেওয়ার কারণে শনিবার শ্রীলঙ্কার বিভিন্ন স্থানে বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে যায়। কর্মকর্তাদের মতে, সৌরবিদ্যুতের উৎপাদন বিদ্যুৎ উৎপাদনের তুলনায় বেশি হয়ে যাওয়ার ফলস্বরূপ এই বিপর্যয় ঘটতে পারে।

দুই ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে দেশটির গ্রিড থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ ছিল। বিদ্যুৎ সরবরাহ কখন পুরোপুরি স্বাভাবিক হবে, সে সম্পর্কে স্পষ্ট কোনো সময়সীমা জানানো হয়নি।

রাষ্ট্রায়ত্ত বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থা ইলেকট্রিসিটি ডিস্ট্রিবিউশন লঙ্কা (ইডিএল) জানায়, পুরো গ্রিডে সৃষ্ট ত্রুটির মেরামতের জন্য প্রকৌশলীরা কাজ করছেন। তাদের ধারণা, অতিরিক্ত সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের কারণে এই বিপর্যয় ঘটেছে।

জ্বালানিমন্ত্রী অনুরা করুণাথিলাকা জানিয়েছেন, কর্তৃপক্ষ ধাপে ধাপে বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনরায় চালু করার আশা করছে।

তিনি সংক্ষিপ্ত এক বিবৃতিতে বলেন, বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনরুদ্ধারের কাজে সহায়তা করার জন্য পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ছাদে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনকারীদের সেগুলো বিচ্ছিন্ন রাখার অনুরোধ করা হচ্ছে।

এর আগে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে পুরো জাতীয় গ্রিড বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। উজ্জ্বল রৌদ্রোজ্জ্বল এক রোববার সৌরবিদ্যুতের উৎপাদন চাহিদা ছাড়িয়ে যাওয়ার কারণে ওই বিপর্যয় ঘটে। তখন বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনরুদ্ধার করতে ছয় ঘণ্টারও বেশি সময় লেগেছিল।

শ্রীলঙ্কায় স্থাপিত সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনক্ষমতা ৩ হাজার মেগাওয়াটের কিছু বেশি। তবে দিনের বেলায় দেশটিতে বিদ্যুতের চাহিদা থাকে ২ হাজার থেকে আড়াই হাজার মেগাওয়াট।

কর-সুবিধার কারণে অনেক গ্রাহক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারে উৎসাহিত হয়েছেন এবং তারা নিজেদের প্রয়োজনের অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে বিক্রি করছেন। এতে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থায় ভারসাম্যহীনতা তৈরি হচ্ছে, যা সামাল দিতে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী সংস্থা হিমশিম খাচ্ছে।

সরকার আগামী তিন বছরের মধ্যে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনক্ষমতা প্রায় ৪ হাজার ৪০০ মেগাওয়াটে উন্নীত করার লক্ষ্য নিয়েছে। ২০২৪ সালের তুলনায় এই বৃদ্ধি হবে ৩৮৮ শতাংশ।

সূত্র: চ্যানেল নিউজ এশিয়া

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কলকাতায় পূজামণ্ডপ ভেঙে প্রাণহানি, শোক জানালেন মোদি ও মমতা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৭:১৮ এম


কলকাতায় পূজামণ্ডপ ভেঙে প্রাণহানি, শোক জানালেন মোদি ও মমতা

ভারতের কলকাতায় দুর্গাপূজার মণ্ডপ ভেঙে হতাহতের ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও হতাহতদের পরিবারের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) দুর্গাপূজার মহাসপ্তমীর রাতে কলকাতার চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গাপূজার মণ্ডপ ভেঙে অন্তত ২০ জন নিহত হন। এই ঘটনার ফলে আরও অনেকে আহত হয়েছেন, যাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এদিন সকাল থেকেই কলকাতা এবং এর আশপাশের এলাকায় বৃষ্টি হচ্ছিল। সেই বৃষ্টির মধ্যেই দুর্গাপূজা দেখতে কলকাতাসহ পার্শ্ববর্তী এলাকা থেকে প্রচুর দর্শনার্থী আসেন। রাতের দিকে বৃষ্টির তীব্রতা বাড়লে দর্শনার্থীরা মণ্ডপে আশ্রয় নেন। তখন প্রচণ্ড ভিড়ের চাপে মণ্ডপের একটি অংশ ভেঙে পড়ে এবং অনেক দর্শনার্থী চাপা পড়েন।

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দুর্ঘটনার পর বলেন, "আমরা হতাহতদের পরিবারের লোকেদের পাশে দাঁড়াবার জন্য যা যা করার তাই করছি। সেখানে আমাদের এসটিএফ, ফায়ার সার্ভিস, কলকাতা পুলিশ সবাই আছে। এখন সেখানে কোনো ভিড় নেই, ফাঁকা হয়েছে। এই মুহূর্তে কোনো ভিড় নেই।"

তিনি আরও বলেন, "এ ঘটনার দুঃখ জানানোর মতো কোনো ভাষা নেই। আমাদের সরকারের সবাই একসঙ্গে কাজ করছি। গুরুতর আহত ২৫ জনের উন্নতমানের চিকিৎসা দেওয়া আমাদের প্রথম কাজ।"

শুভেন্দু অধিকারী রাজ্যবাসীর উদ্দেশে বলেন, "আমি গোটা রাজ্যবাসীকে বলব, এটা একটি শোকের ঘটনা। নিশ্চিতভাবে আমরা দায়িত্ব নিয়ে যা করার করব। ভয় পাওয়ার দরকার নেই। পুজো কমিটিগুলোকে বলব- অনেক জায়গায় হঠাৎ বৃষ্টি হচ্ছে। অনেক জায়গায় থিম পূজা করেছে। এবং অতিরিক্ত দর্শনার্থীও হচ্ছে। এ ধরনের ঘটনা আটকাবার জন্য যা যা প্রস্তুতি নেওয়ার দরকার, এই সমস্ত প্রস্তুতি নিতে হবে।"

এ ঘটনার পর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি শোক প্রকাশ করেন। তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লেখেন, "কলকাতার ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করছি। যারা তাদের প্রিয়জনদের হারিয়েছেন তাদের প্রতি আমার সহানুভূতি এবং সমবেদনা জানাই। আহতরা তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে উঠুক। প্রশাসন সমস্ত রকমের সহযোগিতা করছে।"

পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জিও দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিখেছেন, "চোরবাগান পূজামণ্ডপে পদপৃষ্টের ঘটনায় আমি গভীরভাবে মর্মাহত ও দুঃখিত। আমি মা দুর্গার কাছে প্রার্থনা করি, যেন আহত ব্যক্তিরা দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠেন এবং তাদের পরিবারগুলো এই কঠিন সময়ে প্রয়োজনীয় শক্তি ও সাহস লাভ করে।"

শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, বর্তমানে চোরবাগান পূজামণ্ডপ অঞ্চলের উদ্ধারকাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং পুরো এলাকাটি কলকাতা পুলিশ ঘিরে রেখেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ক্যালিফোর্নিয়ায় দাবানল, ৬ হাজার বাসিন্দাকে নিরাপদ স্থানে সরানো হচ্ছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৭:১৮ এম


ক্যালিফোর্নিয়ায় দাবানল, ৬ হাজার বাসিন্দাকে নিরাপদ স্থানে সরানো হচ্ছে

যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার অরেঞ্জ কাউন্টিতে দাবানল দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার ফলে অন্তত ছয়টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। কর্তৃপক্ষ প্রায় ৬ হাজার বাড়ির বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।

স্থানীয় সময় শুক্রবার (১৬ অক্টােবর) উপকূলীয় শহর সান ক্লেমেন্তে ‘নর্তে ফায়ার’ শুরু হয়ে পরে সান হুয়ান ক্যাপিস্ত্রানো এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। ক্যালিফোর্নিয়ার দমকল সংস্থা ক্যাল ফায়ার জানিয়েছে, সন্ধ্যা নাগাদ আগুনে প্রায় ২৩১ হেক্টর এলাকা পুড়ে গেছে। এ ঘটনায় প্রায় ১৬ হাজার বাসিন্দাকে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দুই শহরে আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। খবর আল জাজিরার।

অস্বাভাবিক উচ্চ তাপমাত্রা, কম আর্দ্রতা এবং তীব্র বাতাসের কারণে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। আবহাওয়াবিদদের মতে, ঘণ্টায় ৫৫ থেকে ৯০ কিলোমিটার বেগে বইতে থাকা সান্তা আনা বাতাস পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে। শুক্রবার বাতাসের তীব্রতা বেশি থাকলেও শনিবার রাত পর্যন্ত গরম ও শুষ্ক আবহাওয়া অব্যাহত থাকতে পারে।

দাবানলের ঝুঁকি কমাতে লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টির কয়েক হাজার বাসিন্দার বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়েছে। বাতাসে বিদ্যুতের তার থেকে স্ফুলিঙ্গ ছড়িয়ে আগুন লাগার আশঙ্কা থেকেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে স্থলবাহিনীর পাশাপাশি হেলিকপ্টারও কাজ করছে।

এদিকে ক্যালিফোর্নিয়ায় আরও দুটি দাবানল নিয়ন্ত্রণে কাজ করছেন দমকলকর্মীরা। লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টির মালিবুর কাছে ছড়িয়ে পড়া ব্রাইসন ফায়ারে প্রায় ৫৯ হেক্টর এলাকা পুড়েছে এবং আগুনের ১৭ শতাংশ নিয়ন্ত্রণে এসেছে। অন্যদিকে সান দিয়েগো কাউন্টির হেন্ডারসন ফায়ারে প্রায় ৮৪২ হেক্টর এলাকা পুড়ে গেছে এবং আগুনের ২০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে।

এ আগুনের কারণে মেরিন কর্পসের ক্যাম্প পেন্ডলটন এলাকায় প্রভাব পড়েছে এবং কয়েকটি মহাসড়ক বন্ধ রাখা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মাদারীপুরে প্রেমের টানে বাংলাদেশে এলেন চীনা যুবক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৭:১৯ এম


মাদারীপুরে প্রেমের টানে বাংলাদেশে এলেন চীনা যুবক

মাদারীপুরে প্রেমের টানে চীনা যুবক। পরিচয়ের সময়কাল মাত্র কয়েক মাস, যেখানে অচেনা দুইজনের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। হাজার হাজার মাইল পাড়ি দিয়ে চীন থেকে প্রেমিকার বাড়িতে পৌঁছেছেন ওই যুবক।

শত শত মানুষ চীনা যুবককে একনজর দেখার জন্য ভিড় করছেন।

জানা গেছে, চার মাস আগে চাপাতলী গ্রামের মোস্তফা বেপারীর কলেজপড়ুয়া মেয়ে হাফিজা আক্তারের সঙ্গে ‘ওয়ার্ল্ড টক’ (World Talk) অ্যাপের মাধ্যমে পরিচয় হয় চীনের হেনান প্রদেশের যুবক ওয়াং এরলিংয়ের। এরপর নিয়মিত চ্যাটিংয়ের মাধ্যমে তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা বৃদ্ধি পায়। প্রথমে বন্ধুত্ব হলেও পরে তা প্রেমে রূপ নেয়।

অবশেষে, বৃহস্পতি বার চীন থেকে রাজধানী ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান ওই যুবক। পরে হাফিজার আত্মীয়স্বজনের মাধ্যমে প্রেমিকার বোনের বাসায় ওঠেন তিনি। পরদিন তাকে মেয়েটির গ্রামের বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। ভাষা, দেশ এবং সংস্কৃতি আলাদা হলেও ভালোবাসার টানে তিনি এখানে এসেছেন।

খবর পেয়ে হাফিজার বাড়িতে পুলিশ ও প্রশাসনের লোকজন উপস্থিত হন। চলছে কাগজপত্র যাচাই-বাছাই। সব তথ্য সঠিক থাকলে শিগগিরই মেয়েটিকে বিয়ে করতে আগ্রহী ওই চীনা যুবক। এমনকি মুসলিম হওয়ার বিষয়েও তিনি রাজি আছেন। বিয়ে করে স্ত্রীকে নিয়ে নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার পরিকল্পনা তার রয়েছে। কৃষক মোস্তফা বেপারীর ছয় ছেলেমেয়ের মধ্যে হাফিজা চতুর্থ। অন্যদিকে, ওয়াং এরলিং চীনের একটি ওয়ার্কশপে কাজ করেন বলে জানা গেছে।

হাফিজা আক্তার বলেন, ‘ওয়াং এরলিংয়ের ছবি দেখে আমার ভালো লাগে। পরে আমাদের মধ্যে প্রেম হয়। পরিবারের সম্মতিতেই আমরা দুজনে বিয়ে করতে চাই। ওয়াং এরলিং আমাকে চীন নিয়ে যেতে চেয়েছে, আমিও সেখানে যেতে আগ্রহী।’

চীনা যুবক ওয়াং এরলিং বলেন, ‘আমার মুসলিম হতে কোনো আপত্তি নেই। আমি আসার আগেই আমার পরিবারের কাছ থেকে অনুমতি নিয়ে এসেছি। বিয়ে করে বউকে সঙ্গেই নিয়ে নিজ দেশে ফিরতে চাই।’

হাফিজার বাবা মোস্তফা বেপারী বলেন, ‘আমার মেয়ে যেখানে সুখে থাকবে, আমি সেখানেই ওর বিয়ে দেবো। যা কিছু হবে, সব সামাজিকতা রক্ষা করেই হবে।’

মাদারীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চীনা যুবকের আসার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর পুলিশ মেয়েটির বাড়িতে যায়। ছেলেটি চীন থেকে এসেছে কি না, তার পাসপোর্ট ও কাগজপত্রের তথ্য যাচাই-বাছাই করা হয়েছে। চীনা যুবককে কলেজপড়ুয়া ওই মেয়ে বিয়ে করবে কি না, তা সম্পূর্ণ তাদের পারিবারিক সিদ্ধান্ত।

এমই

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১২ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৪৯
মাগরিব ০৫:২৬
ইশা ০৬:৩৭
সূর্যোদয় : ০৫:৫৯ সূর্যাস্ত : ০৫:২৬
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%