০৭:১৮ এম
ভারতের কলকাতায় দুর্গাপূজার মণ্ডপ ভেঙে হতাহতের ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও হতাহতদের পরিবারের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) দুর্গাপূজার মহাসপ্তমীর রাতে কলকাতার চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গাপূজার মণ্ডপ ভেঙে অন্তত ২০ জন নিহত হন। এই ঘটনার ফলে আরও অনেকে আহত হয়েছেন, যাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এদিন সকাল থেকেই কলকাতা এবং এর আশপাশের এলাকায় বৃষ্টি হচ্ছিল। সেই বৃষ্টির মধ্যেই দুর্গাপূজা দেখতে কলকাতাসহ পার্শ্ববর্তী এলাকা থেকে প্রচুর দর্শনার্থী আসেন। রাতের দিকে বৃষ্টির তীব্রতা বাড়লে দর্শনার্থীরা মণ্ডপে আশ্রয় নেন। তখন প্রচণ্ড ভিড়ের চাপে মণ্ডপের একটি অংশ ভেঙে পড়ে এবং অনেক দর্শনার্থী চাপা পড়েন।
আরও পড়ুন: শাহজালাল বিমানবন্দরে প্রবাসীদের জন্য ২০০ ট্রলি প্রদান
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দুর্ঘটনার পর বলেন, "আমরা হতাহতদের পরিবারের লোকেদের পাশে দাঁড়াবার জন্য যা যা করার তাই করছি। সেখানে আমাদের এসটিএফ, ফায়ার সার্ভিস, কলকাতা পুলিশ সবাই আছে। এখন সেখানে কোনো ভিড় নেই, ফাঁকা হয়েছে। এই মুহূর্তে কোনো ভিড় নেই।"
তিনি আরও বলেন, "এ ঘটনার দুঃখ জানানোর মতো কোনো ভাষা নেই। আমাদের সরকারের সবাই একসঙ্গে কাজ করছি। গুরুতর আহত ২৫ জনের উন্নতমানের চিকিৎসা দেওয়া আমাদের প্রথম কাজ।"
শুভেন্দু অধিকারী রাজ্যবাসীর উদ্দেশে বলেন, "আমি গোটা রাজ্যবাসীকে বলব, এটা একটি শোকের ঘটনা। নিশ্চিতভাবে আমরা দায়িত্ব নিয়ে যা করার করব। ভয় পাওয়ার দরকার নেই। পুজো কমিটিগুলোকে বলব- অনেক জায়গায় হঠাৎ বৃষ্টি হচ্ছে। অনেক জায়গায় থিম পূজা করেছে। এবং অতিরিক্ত দর্শনার্থীও হচ্ছে। এ ধরনের ঘটনা আটকাবার জন্য যা যা প্রস্তুতি নেওয়ার দরকার, এই সমস্ত প্রস্তুতি নিতে হবে।"
এ ঘটনার পর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি শোক প্রকাশ করেন। তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লেখেন, "কলকাতার ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করছি। যারা তাদের প্রিয়জনদের হারিয়েছেন তাদের প্রতি আমার সহানুভূতি এবং সমবেদনা জানাই। আহতরা তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে উঠুক। প্রশাসন সমস্ত রকমের সহযোগিতা করছে।"
আরও পড়ুন: ফ্রান্সের বিভিন্ন শহরে কারফিউ জারি, তীব্র বিক্ষোভ ও সহিংসতার মধ্যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে
পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জিও দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিখেছেন, "চোরবাগান পূজামণ্ডপে পদপৃষ্টের ঘটনায় আমি গভীরভাবে মর্মাহত ও দুঃখিত। আমি মা দুর্গার কাছে প্রার্থনা করি, যেন আহত ব্যক্তিরা দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠেন এবং তাদের পরিবারগুলো এই কঠিন সময়ে প্রয়োজনীয় শক্তি ও সাহস লাভ করে।"
শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, বর্তমানে চোরবাগান পূজামণ্ডপ অঞ্চলের উদ্ধারকাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং পুরো এলাকাটি কলকাতা পুলিশ ঘিরে রেখেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন