মোঃ উজ্জ্বল মিয়া, নেত্রকোনা জেলা প্রতিনিধি:
০৭:২৪ এম
নেত্রকোনার দুর্গাপুরে দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকিরের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ও নেত্রকোনা-১ (দুর্গাপুর-কলমাকান্দা) আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। শনিবার (১৭ অক্টোবর) বিকেলে তাঁর পক্ষ থেকে নিহতের পরিবারকে এক লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা ও পোশাকসামগ্রী দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নিহতের স্ত্রী আনন্দিতা সাংমার কর্মসংস্থানের ব্যবস্থার আশ্বাসও দেওয়া হয়েছে।
শনিবার বিকেলে ডেপুটি স্পিকারের নির্দেশে স্থানীয় বিএনপির নেতারা নিহত সাংবাদিকের পরিবারের কাছে গিয়ে এসব সহায়তা পৌঁছে দেন। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে স্ত্রী ও দুই শিশুসন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তার মধ্যে এ সহায়তা দেওয়া হয়।
সহায়তা হস্তান্তরের সময় উপস্থিত ছিলেন দুর্গাপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি জহিরুল আলম ভূঁইয়া, সহসভাপতি এম এ জিন্নাহ, শিক্ষাবিদ অধ্যক্ষ শহীদ খান, সাংগঠনিক সম্পাদক আলহাজ জামাল উদ্দিন মাস্টার, পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল করিম, ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মজিবুর মাস্টারসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সাংবাদিকেরা।
উপজেলা বিএনপির সভাপতি জহিরুল আলম ভূঁইয়া বলেন, নিহত সাংবাদিক আলিফ ফকিরের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। ভবিষ্যতেও পরিবারটির প্রতি সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিরা যাতে পার পেয়ে না যান, সে বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।
এদিকে স্বামীকে হারিয়ে শোকে ভেঙে পড়েছেন আনন্দিতা সাংমা। তিনি স্বামী হত্যার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। তাঁর ভাষ্য, দুই সন্তানকে এতিম করা ব্যক্তিদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে আর কেউ এমন হত্যাকাণ্ড ঘটানোর সাহস না পায়।
যেভাবে হত্যা করা হয় আলিফকে
গত বৃহস্পতিবার রাত সোয়া ৮টার দিকে দুর্গাপুর পৌরসভার তেলুঞ্জিয়া এলাকার একটি দোকান থেকে নিজের রেখে যাওয়া মুঠোফোন আনতে গেলে সাংবাদিক আলিফ ফকিরকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে দুর্বৃত্তরা। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়দের বর্ণনা অনুযায়ী, তাঁকে লক্ষ্য করে ছয়টি গুলি ছোড়া হয়। পরে স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে এর মধ্যেই তাঁর মৃত্যু হয়।
৪০ বছর বয়সী আলিফ ফকির বেসরকারি আইপি টেলিভিশন চ্যানেল রূপসী বাংলার নেত্রকোনা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পাশাপাশি ‘ডিটেকটিভ আর্টিকেল’ নামে একটি ফেসবুক পেজ পরিচালনা করতেন তিনি। ওই পেজে মাদক কারবার, চোরাচালান ও দুর্নীতিবিরোধী বিভিন্ন প্রতিবেদন ও ভিডিও প্রকাশ করতেন। তিনি সেনাবাহিনীর সাবেক সদস্য ছিলেন।
আলিফের পৈতৃক বাড়ি কলমাকান্দা উপজেলার পোগলা ইউনিয়নের শুনুই গ্রামে। তিনি দুর্গাপুরের বিরিশিরি এলাকায় শ্বশুরবাড়িতে বসবাস করতেন।
এ ঘটনায় শুক্রবার রাতে নিহতের স্ত্রী আনন্দিতা সাংমা বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আটজনকে আসামি করে দুর্গাপুর থানায় হত্যা মামলা করেন।
সাংবাদিক আলিফ ফকির হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এলাকায় শোক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। হত্যায় জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্ত, গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নেত্রকোনার কলমাকান্দায় সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান ফকির আলিফ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় অপূর্ব (২২) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববার (১৮ অক্টোবর) দুর্গাপুর পৌর শহরের পুরোনো সিনেমা হলের সামনে থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, হত্যাকাণ্ডের সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিতি এবং অস্ত্র বহনে ব্যবহৃত একটি ব্যাগের সঙ্গে অপূর্বর সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে প্রাথমিক তথ্য পাওয়া গেছে। তবে হত্যাকাণ্ডে তাঁর সুনির্দিষ্ট ভূমিকা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
এ ঘটনায় সাংবাদিক আলিফের স্ত্রী অনিন্দিতা সাংমা বাদী হয়ে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেছেন। মামলাটির তদন্ত চলছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্য ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
সাংবাদিক আলিফ হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন সাংবাদিকদের বিভিন্ন মহল।
উল্লেখ্য, গ্রেপ্তার হওয়া মানেই অপরাধ প্রমাণিত হওয়া নয়। তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা নির্ধারিত হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
প্রশ্ন ফাঁসের খবরের পর পরীক্ষাটি স্থগিত করা হয়। এরপর প্রতিমন্ত্রী রাত জেগে নতুন প্রশ্নপত্র প্রণয়ন করেন এবং নজিরবিহীন নিরাপত্তার মধ্যে নতুন প্রশ্নে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। যুব উন্নয়ন অধিদফতরের ‘সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা’ পদের বাছাই পরীক্ষাটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়। অবশেষে এই বহুল চর্চিত পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়েছে। এতে ৫ হাজার ৩৮৬ জন প্রার্থী উত্তীর্ণ হয়েছেন।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) অধিদফতরের যুগ্ম সচিব ও বিভাগীয় নিয়োগ কমিটির সভাপতি ডি এম আতিকুর রহমানের সই করা এক অফিস আদেশের মাধ্যমে ফলাফল জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, যুব উন্নয়ন অধিদফতরের রাজস্ব খাতভুক্ত সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা (গ্রেড-১১) পদের জন্য ২৪২টি শূন্য পদে নিয়োগের উদ্দেশ্যে এই পরীক্ষা পরিচালিত হয়।
অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, প্রাক-বাছাইয়ে উত্তীর্ণ প্রার্থীদের লিখিত পরীক্ষার তারিখ, সময় ও কেন্দ্র পরবর্তী সময়ে যুব উন্নয়ন অধিদফতরের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট (www.dyd.gov.bd) এবং প্রার্থীদের মুঠোফোনে টেলিটকের মাধ্যমে খুদে বার্তার সাহায্যে জানিয়ে দেয়া হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে উল্লেখ করা হয়েছে, নিয়োগ প্রক্রিয়ার যে কোনো পর্যায়ে কোনো প্রার্থী অসদুপায় অবলম্বন বা অনিয়ম করলে তার প্রার্থিতা ও ফলাফল সরাসরি বাতিল বলে গণ্য হবে।
উল্লেখ্য, ২৪২টি শূন্য পদের বিপরীতে এই নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নিতে আবেদন করেছিলেন প্রায় ৩ লাখ ১৯ হাজার চাকরিপ্রার্থী। পূর্বঘোষিত সূচি অনুযায়ী পরীক্ষাটি ১০ অক্টোবর হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু পরীক্ষা শুরুর ঠিক আগমুহূর্তে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্নপত্র ছড়িয়ে পড়ায় তা স্থগিত করা হয়।
পরবর্তীতে প্রশ্নপত্র তৈরি ও ছাপানোর স্থান পরিবর্তন করে সম্পূর্ণ নতুন প্রশ্নে ১৬ অক্টোবর পরীক্ষা নেয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। প্রশ্ন ফাঁস ঠেকাতে পরীক্ষার আগের রাতে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক নিজেই সচিবালয়ে রাত কাটান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নতুন সাইবার সুরক্ষা আইনে দায়ের করা বহুল আলোচিত সাইবার বুলিং মামলায় চূড়ান্ত নিষ্পত্তি (খালাস) পেয়েছেন মোংলায় সময় টিভির সাবেক চিত্র সাংবাদিক মাসুদ রানা। এ সময় তিনি পুলিশের জব্দ করা মোবাইল ফোনসহ অন্যান্য মালামালও ফেরত পেয়েছেন।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) দুপুরে বাগেরহাটের বিজ্ঞ আদালত বাদী ও বিবাদীর উপস্থিতিতে মামলাটির নিষ্পত্তির ঘোষণা করেন।
জানা গেছে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের মাধ্যমে অপপ্রচারের অভিযোগে বাগেরহাটের মোংলার ময়লাপোতা এলাকার বিউটি পার্লারের এক নারীর পক্ষে তার ভাই সাইবার সুরক্ষা আইনে চিত্র সাংবাদিক রেজা মাসুদের বিরুদ্ধে ২ সেপ্টেম্বর থানায় মামলা দায়ের করেন। ওই দিন রাতেই পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। উক্ত মামলায় ৩ সেপ্টেম্বর পুলিশ তাকে আদালতে পাঠায়। গ্রেফতারের দুই দিন পর ৬ সেপ্টেম্বর আদালত থেকে জামিন পেয়ে মুক্ত হন রেজা মাসুদ।
তবে মোংলা প্রেসক্লাবের সাংবাদিক ও স্থানীয় সচেতন মহল শুরু থেকেই এই মামলাটিকে ‘ষড়যন্ত্রমূলক ও সাজানো’ বলে দাবি করে আসছিল।
রেজা মাসুদের বক্তব্য, তিনি এলাকায় ইয়াবা ও মাদক কারবারের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন। মোংলার বিভিন্ন বিউটি পার্লারে মাদকের একটি বড় আকড়াখানা ছিল। পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সময়মতো কার্যকর ব্যবস্থা না নেয়ায় তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তথ্য ও প্রমাণসহ মাদকের বিরুদ্ধে সোচ্চার ভূমিকা পালন করেন। এই মাদকবিরোধী সত্য প্রকাশের কারণে একটি কুচক্রী মহল বাদীকে ভুল তথ্য দিয়ে তাকে এই ষড়যন্ত্রমূলক মামলায় ফাঁসায়।
তিনি আরও জানান, ১৭ অক্টোবর বাগেরহাটের বিজ্ঞ আদালত মামলাটি নিষ্পত্তি ঘোষণা করার পর মাসুদ রানা বলেন, "বিভিন্ন স্পটে মাদকে সয়লাব এখন মোংলা শহর ও ইউনিয়নের গ্রামাঞ্চল। সেই মাদকের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে গিয়ে আজ মিথ্যা মামলা ও হয়রানির শিকার হলাম। আমার বিরুদ্ধে সাইবার সুরক্ষা আইনের মামলাটি শনিবার বিজ্ঞ আদালত নিষ্পত্তি ঘোষণা করেছেন এবং জব্দকৃত আমার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটিও আদালত থেকে ফেরত পেয়েছি। দেশের আইন ও বিচার ব্যবস্থার প্রতি আমার সবসময়ই পূর্ণ আস্থা ছিল, আজ তা আবারও প্রমাণিত হলো। এই বিপদের সময় যেসব সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষী আমার পাশে থেকেছেন, সাহস দিয়েছেন ও দোয়া করেছেন তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে বিদায় নেওয়ার পর ক্লাবের জার্সিতে অসাধারণ ছন্দে রয়েছেন লিওনেল মেসি। সম্প্রতি, তার জোড়া গোল ও একটি অ্যাসিস্টের মাধ্যমে আটালান্টা ইউনাইটেডকে ৩-১ গোলে পরাজিত করেছে ইন্টার মায়ামি। এই ম্যাচে নতুন একটি রেকর্ডও স্থাপন করেছেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা।
বাংলাদেশ সময় রোববার (১৮ অক্টোবর) ভোরে আটালান্টার মার্সিডিজ বেঞ্জ স্টেডিয়ামে প্রথমার্ধে এগিয়ে যায় মায়ামি। বিরতির পর মাত্র চার মিনিটের ব্যবধানে দুটি গোল করেন মেসি। ৫৬তম মিনিটে তার প্রথম গোলের পর ৬০তম মিনিটে ব্যবধান বাড়ান তিনি। দুই গোলেই সহায়তা করেন জেরেমি বার্তেরামে। ম্যাচের শেষ দিকে পেনাল্টি থেকে একটি গোল শোধ করে আটালান্টা।
এই জয়ের মাধ্যমে মেজর লিগ সকারে (এমএলএস) টানা তিন মৌসুমে অন্তত ১৫টি করে অ্যাসিস্ট করার কীর্তি গড়েছেন মেসি। তিনি লিগের ইতিহাসে প্রথম ফুটবলার, যিনি এই রেকর্ডটি স্থাপন করলেন। চলতি মৌসুমে ২৫ গোল ও ১৫ অ্যাসিস্ট নিয়ে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে এগিয়ে আছেন মায়ামির অধিনায়ক।
মেসির পেশাদার ক্যারিয়ারে গোলসংখ্যা এখন ৯৩৬। চলতি মৌসুমে তার অবদান ৪০ গোল। এমএলএসে এক মৌসুমে সর্বোচ্চ ৪৯ গোলে অবদান রাখার রেকর্ডটি কার্লোস ভেলার। মেসির সামনে সেই রেকর্ড ভাঙার সুযোগ রয়েছে, কারণ মৌসুমে মায়ামির বাকি চার ম্যাচ রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ