০৭:১৯ এম
মাদারীপুরে প্রেমের টানে চীনা যুবক। পরিচয়ের সময়কাল মাত্র কয়েক মাস, যেখানে অচেনা দুইজনের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। হাজার হাজার মাইল পাড়ি দিয়ে চীন থেকে প্রেমিকার বাড়িতে পৌঁছেছেন ওই যুবক।
শত শত মানুষ চীনা যুবককে একনজর দেখার জন্য ভিড় করছেন।
জানা গেছে, চার মাস আগে চাপাতলী গ্রামের মোস্তফা বেপারীর কলেজপড়ুয়া মেয়ে হাফিজা আক্তারের সঙ্গে ‘ওয়ার্ল্ড টক’ (World Talk) অ্যাপের মাধ্যমে পরিচয় হয় চীনের হেনান প্রদেশের যুবক ওয়াং এরলিংয়ের। এরপর নিয়মিত চ্যাটিংয়ের মাধ্যমে তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা বৃদ্ধি পায়। প্রথমে বন্ধুত্ব হলেও পরে তা প্রেমে রূপ নেয়।
আরও পড়ুন: বালিয়াকান্দিতে ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত
অবশেষে, বৃহস্পতি বার চীন থেকে রাজধানী ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান ওই যুবক। পরে হাফিজার আত্মীয়স্বজনের মাধ্যমে প্রেমিকার বোনের বাসায় ওঠেন তিনি। পরদিন তাকে মেয়েটির গ্রামের বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। ভাষা, দেশ এবং সংস্কৃতি আলাদা হলেও ভালোবাসার টানে তিনি এখানে এসেছেন।
খবর পেয়ে হাফিজার বাড়িতে পুলিশ ও প্রশাসনের লোকজন উপস্থিত হন। চলছে কাগজপত্র যাচাই-বাছাই। সব তথ্য সঠিক থাকলে শিগগিরই মেয়েটিকে বিয়ে করতে আগ্রহী ওই চীনা যুবক। এমনকি মুসলিম হওয়ার বিষয়েও তিনি রাজি আছেন। বিয়ে করে স্ত্রীকে নিয়ে নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার পরিকল্পনা তার রয়েছে। কৃষক মোস্তফা বেপারীর ছয় ছেলেমেয়ের মধ্যে হাফিজা চতুর্থ। অন্যদিকে, ওয়াং এরলিং চীনের একটি ওয়ার্কশপে কাজ করেন বলে জানা গেছে।
হাফিজা আক্তার বলেন, ‘ওয়াং এরলিংয়ের ছবি দেখে আমার ভালো লাগে। পরে আমাদের মধ্যে প্রেম হয়। পরিবারের সম্মতিতেই আমরা দুজনে বিয়ে করতে চাই। ওয়াং এরলিং আমাকে চীন নিয়ে যেতে চেয়েছে, আমিও সেখানে যেতে আগ্রহী।’
চীনা যুবক ওয়াং এরলিং বলেন, ‘আমার মুসলিম হতে কোনো আপত্তি নেই। আমি আসার আগেই আমার পরিবারের কাছ থেকে অনুমতি নিয়ে এসেছি। বিয়ে করে বউকে সঙ্গেই নিয়ে নিজ দেশে ফিরতে চাই।’
আরও পড়ুন: নান্দনিক উপস্থাপনায় সারি সারি প্রাণীর কঙ্কাল চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি বিশ্ববিদ্যালয়ে
হাফিজার বাবা মোস্তফা বেপারী বলেন, ‘আমার মেয়ে যেখানে সুখে থাকবে, আমি সেখানেই ওর বিয়ে দেবো। যা কিছু হবে, সব সামাজিকতা রক্ষা করেই হবে।’
মাদারীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চীনা যুবকের আসার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর পুলিশ মেয়েটির বাড়িতে যায়। ছেলেটি চীন থেকে এসেছে কি না, তার পাসপোর্ট ও কাগজপত্রের তথ্য যাচাই-বাছাই করা হয়েছে। চীনা যুবককে কলেজপড়ুয়া ওই মেয়ে বিয়ে করবে কি না, তা সম্পূর্ণ তাদের পারিবারিক সিদ্ধান্ত।
এমই
আরও পড়ুন: কুমিল্লায় হারিয়ে যাচ্ছে পান চাষের ঐতিহ্য
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন