ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

মধ্যপ্রদেশের গওয়ালিয়রে ট্রাকচাপায় ১২ দর্শনার্থী নিহত, তদন্ত শুরু


মধ্যপ্রদেশের গওয়ালিয়রে ট্রাকচাপায় ১২ দর্শনার্থী নিহত, তদন্ত শুরু

ভারতের মধ্যপ্রদেশের গওয়ালিয়র শহরে সড়ক দুর্ঘটনায় অন্তত ১২ জন দর্শনার্থী প্রাণ হারিয়েছেন। রবিবার (১৮ অক্টোবর) গভীর রাতে গওয়ালিয়রের শীতেলা মাতা মন্দিরের নিকট এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। একটি নিয়ন্ত্রণহীন ভারী ট্রাক পুলিশের চেকপোস্ট ও ব্যারিকেড ভেঙে মন্দিরের আশপাশে সমবেত দর্শনার্থীদের ওপর উঠে যায়। পুলিশ প্রশাসন নিশ্চিত করেছে যে, ঘটনাস্থলে ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এই দুর্ঘটনায় আরো বেশ কয়েকজন দর্শনার্থী আহত হয়েছেন। খবর এনডিটিভি'র।

পুলিশের সূত্রে জানা যায়, রবিবার রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে এই দুর্ঘটনা ঘটে। প্রাথমিক তথ্যে প্রকাশ, ধানবোঝাই একটি ভারী ট্রাক চিনোর দিক থেকে গওয়ালিয়রের দিকে আসছিল। একটি তীব্র ঢালু রাস্তায় পৌঁছানোর পর ট্রাকটির চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন।

এটি লক্ষণীয় যে, ওই নির্দিষ্ট ঢালু ও ঝুঁকিপূর্ণ রাস্তায় ভারী যান চলাচলের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তবুও নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ট্রাকটি ওই পথ দিয়ে প্রবেশ করে এবং ভয়াবহ বিপর্যয় ডেকে আনে।

আরও পড়ুন: ইন্দোনেশিয়ার দাবানলে বিষাক্ত ধোঁয়ায় বিপর্যস্ত দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ কর্মকর্তাদের বিবরণ অনুযায়ী, নিয়ন্ত্রণহীন ট্রাকটি প্রথমে মন্দিরের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশের ব্যারিকেড ও চেকপোস্ট ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয়।

এরপর গতি বাড়ানোর ফলে রাস্তার ওপর অবস্থান করা দর্শনার্থীদের ওপর ট্রাকটি সজোরে চালিয়ে দেওয়া হয়। তীর্থযাত্রীদের চাপা দেওয়ার পর ভারী ট্রাকটি সোজা গিয়ে ধাক্কা খায় শীতেলা মাতা মন্দিরের মূল গেট এবং সুরক্ষিত বাইরের দেয়ালে। ধাক্কার তীব্রতায় মন্দিরের গেট ও দেয়ালের উল্লেখযোগ্য অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয় এলাকাবাসী ও পুলিশ দ্রুত উদ্ধারকাজ শুরু করে। গওয়ালিয়রের সিনিয়র সুপারিনটেন্ডেন্ট অব পুলিশ (এসএসপি) ধর্মবীর সিং সংবাদমাধ্যমকে জানান, দুর্ঘটনার পরপরই আহত অবস্থায় মোট ৩৯ জনকে দ্রুত নিকটবর্তী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে ১২ জনকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

হাসপাতাল ও পুলিশ সূত্রে আরও জানা গেছে, হতাহতদের মধ্যে অন্তত ৫ থেকে ৬ জন দর্শনার্থীর অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। তাদের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে, বাকি আহতরা তুলনামূলকভাবে সামান্য আঘাত পেয়েছেন এবং প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে অনেকেই হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরেছেন।

আরও পড়ুন: স্পেনে প্রবল বৃষ্টিতে বন্যায় ৪ জনের মৃত্যু

এই দুর্ঘটনায় পুরো গওয়ালিয়র এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। মন্দিরে সমবেত হওয়া সাধারণ মানুষ ও দর্শনার্থীদের পরিবারের মধ্যে চলছে আহাজারি।

এদিকে, পুলিশ প্রশাসন পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। কীভাবে ভারী যানটি নিষিদ্ধ পাহাড়ি ও ঢালু রাস্তায় প্রবেশ করল এবং চালক মদ্যপ ছিলেন কি না কিংবা যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে দুর্ঘটনা ঘটেছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসন নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে এবং আহতদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করার ঘোষণা দিয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

তেলের দাম কমবে কবে: রুশ উপপ্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:১১ এম


তেলের দাম কমবে কবে: রুশ উপপ্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য

রাশিয়ার উপপ্রধানমন্ত্রী আলেকজ্যান্ডার নোভাক জানিয়েছেন, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি উন্নত না হলে তেলের দাম আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। তিনি একই সঙ্গে তেলের দাম কবে নাগাদ কমতে পারে, সেই বিষয়ে পূর্বাভাস প্রদান করেছেন।

নোভাক রাশিয়ার রাজনৈতিক টক শো ‘সোলোভিয়েভ লাইভে’ বলেছেন, বিশ্ববাজারে প্রতিদিন প্রায় ৪০ থেকে ৬০ লাখ ব্যারেল তেলের ঘাটতি বিদ্যমান। তিনি সতর্ক করে উল্লেখ করেছেন, যদি হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি উন্নতি না করে, তবে তেলের দাম উচ্চ পর্যায়েই থাকবে এবং তা আরও বাড়তে পারে।

তিনি আরও বলেন, যদি পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলো থেকে সরবরাহ পুনরায় শুরু হয়, তবে বাজারে ভারসাম্য ফিরে আসতে এক থেকে দেড় বছরের সময় লাগতে পারে।

নোভাক জানিয়েছেন, বাজার স্থিতিশীল করার জন্য বিশ্বের হাতে থাকা তেলের মজুত ব্যবহারের সক্ষমতা ইতোমধ্যেই ফুরিয়ে আসছে।

তিনি ওই অনুষ্ঠানে আরও উল্লেখ করেন, রাশিয়ার তেল নিয়ে প্রথম ট্যাঙ্কারটি একটি রুশ বন্দর থেকে বিশ্ববাজারের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছে। ৯ অক্টোবর ট্রাম্প মস্কোর সঙ্গে একটি চুক্তির ঘোষণা দিয়েছিলেন, যার আওতায় রাশিয়া যুক্তরাষ্ট্র ও বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ করবে।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এবং যুক্তরাষ্ট্রের উভয় রাজনৈতিক শিবিরের আইনপ্রণেতারা এই চুক্তির সমালোচনা করেছেন। তাদের সতর্কবার্তা হলো, এই চুক্তির মাধ্যমে রাশিয়া যে আয় করবে, তা ইউক্রেনে তাদের যুদ্ধকে আরও দীর্ঘস্থায়ী করতে সহায়তা করতে পারে। সূত্র: আল জাজিরা

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বরিশালসহ ৮টি ‘শান্তি নিবাস’ নির্মাণের ৫ বছর পর চালু হতে যাচ্ছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:১২ এম


বরিশালসহ ৮টি ‘শান্তি নিবাস’ নির্মাণের ৫ বছর পর চালু হতে যাচ্ছে

বরিশালে বয়োবৃদ্ধদের জন্য নির্মিত ‘শান্তি নিবাস’ কার্যক্রম শুরুর অপেক্ষা শেষ হতে চলেছে। প্রায় ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই প্রকল্পটির জনবল মঞ্জুরির বিষয়টি অর্থ মন্ত্রণালয় ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে। তবে ৮টি বিভাগীয় সদরে নির্মিত এসব শান্তি নিবাস এখনো রাজস্ব খাতে স্থানান্তরিত না হওয়ায় পরিচালন ব্যয় নিয়ে জটিলতা রয়ে গেছে।

সমাজসেবা অধিদপ্তরের দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে, সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী জানুয়ারি থেকে মার্চের মধ্যে বরিশালসহ দেশের ৮টি বিভাগীয় সদরে বৃদ্ধাশ্রমের আদলে নির্মিত ‘শান্তি নিবাস’গুলোতে অসহায় বয়োবৃদ্ধদের আবাসন সুবিধা চালু করা সম্ভব হবে। নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পর দীর্ঘদিন অব্যবহৃত অবস্থায় থাকার কারণে এ শান্তিনিবাসের অবকাঠামোর অনেক কিছু বিনষ্ট হয়েছে এবং কিছু অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্তও হয়েছে। নির্মাণ বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এসব মেরামত না করে প্রতিষ্ঠান চালু করতে গেলে নতুন সমস্যা তৈরি হতে পারে। তবে গণপূর্ত অধিদপ্তর বা সমাজসেবা অধিদপ্তর সরাসরি কোনো মেরামত ও পুনর্বাসন কাজ করতে পারছে না, কারণ এ খাতে কোনো অর্থ বরাদ্দ নেই।

সরকারের নিজস্ব অর্থে বরিশালসহ দেশের ৮টি বিভাগীয় সদরে প্রায় ১০০ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘শান্তি নিবাস’র অবকাঠামো নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করেছে গণপূর্ত অধিদপ্তর। কিন্তু ৫ বছর আগে নির্মিত এসব শান্তি নিবাসগুলো চালু না হওয়ায় সেখানে কেউ ঠাঁই পায়নি। সম্পূর্ণ দেশীয় তহবিলে নির্মিত এসব শান্তি নিবাসে ৫ তলা ভিতের ওপর নির্মিত ৩ তলা ভবনগুলোতে ২৫ জন করে অসহায় দুস্থ বয়োবৃদ্ধের আবাসন সুবিধা তৈরি হয়েছে। সরকারি এসব বৃদ্ধাশ্রমের নাম দেয়া হয়েছে ‘শান্তি নিবাস’। প্রতিটি শান্তি নিবাসে নিবাসীদের জন্য তিন বেলা আহার এবং আবাসন সুবিধা ছাড়াও নিয়মিত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি এসব শান্তি নিবাসে প্রার্থনা কক্ষ ও বিনোদনের ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে। সমাজসেবা অধিদপ্তর আশা করছে, একজন বয়োবৃদ্ধ যেন জীবনের শেষ সময়ে এসে এসব শান্তি নিবাসে কিছুটা সাচ্ছন্দে ও সুস্থ অবস্থায় দিন কাটাতে পারেন।

সমাজসেবা অধিদপ্তরের মতে, জীবনের শেষ সময়ে অনেক পিতামাতাকেই সন্তানের বোঝা মনে করে তাদের প্রতি অবহেলা করা হয়। আবার অনেক পরিবারে সন্তান-সন্ততিও নেই। ফলে অসহায় মা-বাবার ভরণপোষণের জন্য কেউ থাকে না। অনেক পিতা-মাতা সন্তানের লেখাপড়ায় সব সহায়-সম্পদ বিক্রি করে নিঃস্ব হয়ে যান। অথচ সেই সব সন্তানেরা জীবনে প্রতিষ্ঠিত হয়ে অসহায় পিতা-মাতার খোঁজ নেয় না। দক্ষিণাঞ্চলের নদীভাঙনী অনেক অসহায় পরিবারের বয়োজ্যেষ্ঠ সদস্যরা ভিটেমাটি হারিয়ে উদ্বাস্তুতে পরিণত হন। বরিশালসহ দেশের ৮টি বিভাগীয় সদরে ‘শান্তিনিবাস’ নির্মিত হলেও বিগত ৫ বছর তা অবহেলায় পড়েছিল।

বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর বিষয়টি আলোচনায় আসে এবং এ বিষয়ে উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। সমাজসেবা অধিদপ্তর থেকে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় হয়ে অর্থ ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করার পর জনবল মঞ্জুরি প্রদানের জন্য সরকারি আদেশ জারি করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে এসব শান্তি নিবাসে ২৫ জন করে পুরুষ নিবাসীর নিরাপদ আবাসনসহ চিকিৎসা ও ভরণপোষণের ব্যবস্থা থাকবে। প্রতিটি শান্তি নিবাসে একজন উপ-তত্ত্বাবধায়কসহ ১০ জনের জনবল মঞ্জুরি প্রদান করা হয়েছে। সমাজসেবা অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট উপ-পরিচালক জানান, বরিশালসহ ৮টি শান্তিনিবাসের জনবল মঞ্জুরির চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়া গেছে। নিয়োগ প্রক্রিয়া যত দ্রুত সম্ভব শুরু হবে। তবে রাজস্ব খাতে স্থানান্তর না হওয়ায় প্রাথমিকভাবে পরিচালন ব্যয় নির্বাহের বিষয়ে কিছু জটিলতা তৈরি হলেও সমাজসেবা অধিদপ্তর অদূর ভবিষ্যতে তার সমাধানের লক্ষ্যে কাজ করছে। চলতি অর্থ বছরের মধ্যেই বরিশাল শান্তি নিবাস নিবাসীদের জন্য খুলে দেয়ার ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন তিনি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পাকিস্তান ইরানের সঙ্গে সীমান্ত বাণিজ্য স্থগিত করেছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:১৩ এম


পাকিস্তান ইরানের সঙ্গে সীমান্ত বাণিজ্য স্থগিত করেছে

পাকিস্তান, নিরাপত্তা উদ্বেগ এবং চোরাচালান প্রতিরোধের কারণে ইরানের সঙ্গে গাবদ-রিমদান ও তাফতান সীমান্তপথে বাণিজ্য স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। শুক্রবার পাকিস্তানের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় একটি স্মারকলিপি প্রকাশ করেছে। এতে ৩ অক্টোবর জারি করা পূর্ববর্তী আদেশটি অবিলম্বে কার্যকর হওয়ার শর্তে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

বেলুচিস্তানের মুখ্যমন্ত্রীর গণমাধ্যমবিষয়ক উপদেষ্টা শহিদ রিন্দ জানিয়েছেন, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা কার্যকর করার জন্য এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি সাধনের লক্ষ্যে সাময়িকভাবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, দুই দেশের কর্মকর্তারা সমস্যা সমাধানের জন্য আলোচনা অব্যাহত রেখেছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন যে শিগগিরই সীমান্ত খুলে দেওয়া হবে।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাইও সীমান্ত বন্ধের বিষয়টিকে সাময়িক বলে অভিহিত করেছেন। তিনি জানান, কারিগরি সমস্যার কারণে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে এবং স্বাভাবিক কার্যক্রম পুনরায় চালুর বিষয়ে দুই দেশ আলোচনা করছে।

এদিকে, পাকিস্তানের কোয়েটা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যে জড়িত ব্যবসায়ীদের নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত নতুন আমদানি-রপ্তানি আদেশ দেওয়া থেকে বিরত থাকার জন্য বলেছে। সীমান্তের দুই পাশে এলপিজি, চাল, তাজা ফলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যবোঝাই শত শত ট্রাক আটকা পড়েছে। তবে রিমদান-গাবদ সীমান্ত দিয়ে যাত্রী চলাচল অব্যাহত রয়েছে।

গাবদ-রিমদান পথ দিয়ে প্রতিদিন প্রায় চার হাজার টন তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) আমদানি করা হতো। এই পথ বন্ধ থাকায় পাকিস্তানের করাচিসহ বিভিন্ন এলাকায় এলপিজি সংকট এবং বাজারে দাম বৃদ্ধির আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা। একই সঙ্গে রপ্তানি ব্যাহত হওয়ায় আর্থিক ক্ষতি এবং কর্মসংস্থান সংকটের আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে।

এর আগে চলতি বছরের মার্চে পাকিস্তান ও ইরান সীমান্ত বাণিজ্য বাড়ানোর লক্ষ্যে শুল্কপ্রক্রিয়া সহজীকরণের মতো বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করে। আগস্টে দুই দেশের যৌথ বাণিজ্য কমিটির বৈঠকে সীমান্ত চব্বিশ ঘণ্টা খোলা রাখার, পরিবহনব্যবস্থা উন্নয়ন এবং শুল্কপ্রক্রিয়া সমন্বয়ের বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছিল। তবে নতুন করে বাণিজ্য স্থগিতের সিদ্ধান্ত দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্কে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করেছে।

সূত্র: ডন

আরএ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সৌদিতে চারটি ড্রোন ভূপাতিত, সহায়তা দেওয়ার কথা ভাবছে মিসর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:১৩ এম


সৌদিতে চারটি ড্রোন ভূপাতিত, সহায়তা দেওয়ার কথা ভাবছে মিসর

ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের হামলার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গঠনের জন্য সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন জোট রাজধানী রিয়াদসহ বিভিন্ন স্থানে চারটি ড্রোন ভূপাতিত করার তথ্য প্রকাশ করেছে। এটি সৌদি আরবের বিমানবন্দর ও তেল স্থাপনায় হুথিদের ধারাবাহিক আক্রমণের মধ্যে ঘটে। অন্যদিকে, সৌদি আরবের নিরাপত্তা হুমকির সম্মুখীন হলে মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি দেশটিকে সহায়তা দিতে প্রস্তুত থাকার কথা জানিয়েছেন।

গতকাল শনিবার, সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি জানান, গত কয়েক ঘণ্টার মধ্যে রিয়াদ, পূর্বাঞ্চল ও দক্ষিণাঞ্চলে চারটি ড্রোন শনাক্ত করে ধ্বংস করা হয়েছে।

তিনি একটি ভিডিও ফুটেজও প্রকাশ করেন, যেখানে হুথিদের ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করার পাশাপাশি তাদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণস্থলে হামলার দৃশ্য রয়েছে বলে দাবি করেন।

গত জুলাইয়ে ইরান সমর্থিত হুথি এবং পশ্চিমা সমর্থিত সরকারের বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষ নতুন করে তীব্র হওয়ার পর থেকে রিয়াদের বাদশা খালিদ বিমানবন্দরে অন্তত ২০ বার হামলা হয়েছে। এর মধ্যে গত সপ্তাহের একটি হামলায় ১৩ জন নিহত হন।

গত বৃহস্পতিবার, পশ্চিমা সমর্থিত ইয়েমেন সরকারের আসন এডেনের প্রেসিডেন্ট প্রাসাদের কাছে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত পাঁচজন নিহত হন। ইয়েমেন সরকার এই হামলার জন্য হুথিদের দায়ী করেছে।

শুক্রবার, ইয়েমেন সরকার জানায়, হুথিরা এডেন বিমানবন্দর লক্ষ্য করে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। একই দিনে, দেশটির সরকারি বাহিনী জানায়, তারা রাজধানী সানার উত্তর-পূর্বে অবস্থিত মারিব প্রদেশে অগ্রসর হয়েছে।

সৌদি আরব ইয়েমেনে ‘ডন অব ইয়েমেন’ নামে পরিচিত সরকারি বাহিনীর পাল্টা অভিযানে সমর্থন দিচ্ছে। পাশাপাশি, হুথিদের লক্ষ্য করে বিমান হামলাও চালাচ্ছে দেশটি। এসব হামলার মধ্যে সানার একটি তেল স্থাপনায় হামলাও রয়েছে।

সৌদিকে সহায়তা দিতে প্রস্তুত মিসর

সৌদি আরব সহায়তা চাইলে দেশটির সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় যেকোনো পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত থাকার কথা জানিয়েছেন মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি।

শনিবার তিনি এ কথা জানান।

আল-সিসি বলেন, মিসর আঞ্চলিক যুদ্ধে জড়াতে চায় না। তবে সৌদি আরব ক্ষতিগ্রস্ত হলে কায়রো চুপ করে বসে থাকতে পারে না।

তার ভাষায়, সৌদি আরবের অনুরোধ এলে দেশটির সুরক্ষায় যেকোনো ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত মিসর।

তিনি বলেন, ‘আমি কারো সঙ্গে লড়াই করা বা কাউকে আক্রমণ করার কথা বলছি না। আমরা শুধু প্রতিরক্ষার কথা বলছি।’

প্রেসিডেন্টের অনুরোধে রোববার মিসরের পার্লামেন্টে জরুরি অধিবেশন বসার কথা রয়েছে।

এদিকে, সৌদি আরব অভিযোগ করেছে, ইরান হুথিদের হামলা বাড়াতে উৎসাহ দিচ্ছে। তবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, সংঘাত নিরসনে একটি ‘সমন্বিত রাজনৈতিক প্রক্রিয়াই একমাত্র বাস্তবসম্মত ও টেকসই পথ’। তেহরান এ প্রক্রিয়াকে সমর্থন করে।

সৌদি আরবে অবস্থিত কয়েকটি দেশের দূতাবাস ভ্রমণের ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। পাশাপাশি, নাগরিকদের বিমানবন্দর ব্যবহার না করার বিষয়ে সতর্ক করেছে।

সাম্প্রতিক হুথি হামলার পরিপ্রেক্ষিতে সৌদি আরবের শিক্ষা মন্ত্রণালয় রিয়াদ ও কাছের দিরিয়াহ এলাকার শিক্ষার্থীদের জন্য দূরশিক্ষণ কার্যক্রমের মেয়াদ বাড়িয়েছে।

উল্লেখ্য, রাজধানী সানাসহ ইয়েমেনের একটি বড় অংশ এবং প্রধান সরকারি অফিসগুলোর নিয়ন্ত্রণ মূলত হুথিদের হাতে রয়েছে। ২০১৪ সালের শেষের দিকে হুথিরা সানা দখল করার পর থেকেই তারা সেখানে নিজস্ব প্রশাসনিক কাঠামো ও সরকার পরিচালনা করে আসছে। তবে, কূটনীতি এবং জাতিসংঘের দপ্তরে ইয়েমেনের বৈধ সরকার হিসেবে স্বীকৃতি ভোগ করে কথিত ‘সরকারি বাহিনী’, যাদের সঙ্গে হুথিদের সংঘাত চলছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫১
মাগরিব ০৫:২৮
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৮ সূর্যাস্ত : ০৫:২৮
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%