প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের হামলার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গঠনের জন্য সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন জোট রাজধানী রিয়াদসহ বিভিন্ন স্থানে চারটি ড্রোন ভূপাতিত করার তথ্য প্রকাশ করেছে। এটি সৌদি আরবের বিমানবন্দর ও তেল স্থাপনায় হুথিদের ধারাবাহিক আক্রমণের মধ্যে ঘটে। অন্যদিকে, সৌদি আরবের নিরাপত্তা হুমকির সম্মুখীন হলে মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি দেশটিকে সহায়তা দিতে প্রস্তুত থাকার কথা জানিয়েছেন।
গতকাল শনিবার, সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি জানান, গত কয়েক ঘণ্টার মধ্যে রিয়াদ, পূর্বাঞ্চল ও দক্ষিণাঞ্চলে চারটি ড্রোন শনাক্ত করে ধ্বংস করা হয়েছে।
তিনি একটি ভিডিও ফুটেজও প্রকাশ করেন, যেখানে হুথিদের ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করার পাশাপাশি তাদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণস্থলে হামলার দৃশ্য রয়েছে বলে দাবি করেন।
গত জুলাইয়ে ইরান সমর্থিত হুথি এবং পশ্চিমা সমর্থিত সরকারের বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষ নতুন করে তীব্র হওয়ার পর থেকে রিয়াদের বাদশা খালিদ বিমানবন্দরে অন্তত ২০ বার হামলা হয়েছে। এর মধ্যে গত সপ্তাহের একটি হামলায় ১৩ জন নিহত হন।
গত বৃহস্পতিবার, পশ্চিমা সমর্থিত ইয়েমেন সরকারের আসন এডেনের প্রেসিডেন্ট প্রাসাদের কাছে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত পাঁচজন নিহত হন। ইয়েমেন সরকার এই হামলার জন্য হুথিদের দায়ী করেছে।
শুক্রবার, ইয়েমেন সরকার জানায়, হুথিরা এডেন বিমানবন্দর লক্ষ্য করে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। একই দিনে, দেশটির সরকারি বাহিনী জানায়, তারা রাজধানী সানার উত্তর-পূর্বে অবস্থিত মারিব প্রদেশে অগ্রসর হয়েছে।
সৌদি আরব ইয়েমেনে ‘ডন অব ইয়েমেন’ নামে পরিচিত সরকারি বাহিনীর পাল্টা অভিযানে সমর্থন দিচ্ছে। পাশাপাশি, হুথিদের লক্ষ্য করে বিমান হামলাও চালাচ্ছে দেশটি। এসব হামলার মধ্যে সানার একটি তেল স্থাপনায় হামলাও রয়েছে।
সৌদিকে সহায়তা দিতে প্রস্তুত মিসর
সৌদি আরব সহায়তা চাইলে দেশটির সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় যেকোনো পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত থাকার কথা জানিয়েছেন মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি।
শনিবার তিনি এ কথা জানান।
আল-সিসি বলেন, মিসর আঞ্চলিক যুদ্ধে জড়াতে চায় না। তবে সৌদি আরব ক্ষতিগ্রস্ত হলে কায়রো চুপ করে বসে থাকতে পারে না।
তার ভাষায়, সৌদি আরবের অনুরোধ এলে দেশটির সুরক্ষায় যেকোনো ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত মিসর।
তিনি বলেন, ‘আমি কারো সঙ্গে লড়াই করা বা কাউকে আক্রমণ করার কথা বলছি না। আমরা শুধু প্রতিরক্ষার কথা বলছি।’
প্রেসিডেন্টের অনুরোধে রোববার মিসরের পার্লামেন্টে জরুরি অধিবেশন বসার কথা রয়েছে।
এদিকে, সৌদি আরব অভিযোগ করেছে, ইরান হুথিদের হামলা বাড়াতে উৎসাহ দিচ্ছে। তবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, সংঘাত নিরসনে একটি ‘সমন্বিত রাজনৈতিক প্রক্রিয়াই একমাত্র বাস্তবসম্মত ও টেকসই পথ’। তেহরান এ প্রক্রিয়াকে সমর্থন করে।
সৌদি আরবে অবস্থিত কয়েকটি দেশের দূতাবাস ভ্রমণের ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। পাশাপাশি, নাগরিকদের বিমানবন্দর ব্যবহার না করার বিষয়ে সতর্ক করেছে।
সাম্প্রতিক হুথি হামলার পরিপ্রেক্ষিতে সৌদি আরবের শিক্ষা মন্ত্রণালয় রিয়াদ ও কাছের দিরিয়াহ এলাকার শিক্ষার্থীদের জন্য দূরশিক্ষণ কার্যক্রমের মেয়াদ বাড়িয়েছে।
উল্লেখ্য, রাজধানী সানাসহ ইয়েমেনের একটি বড় অংশ এবং প্রধান সরকারি অফিসগুলোর নিয়ন্ত্রণ মূলত হুথিদের হাতে রয়েছে। ২০১৪ সালের শেষের দিকে হুথিরা সানা দখল করার পর থেকেই তারা সেখানে নিজস্ব প্রশাসনিক কাঠামো ও সরকার পরিচালনা করে আসছে। তবে, কূটনীতি এবং জাতিসংঘের দপ্তরে ইয়েমেনের বৈধ সরকার হিসেবে স্বীকৃতি ভোগ করে কথিত ‘সরকারি বাহিনী’, যাদের সঙ্গে হুথিদের সংঘাত চলছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন