ঢাকা রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

আইয়ুব বাচ্চুর অপূর্ণ স্বপ্ন, ১৫ লাখ দর্শকের সামনে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে কনসার্ট


আইয়ুব বাচ্চুর অপূর্ণ স্বপ্ন, ১৫ লাখ দর্শকের সামনে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে কনসার্ট

আউল-বাউল ও লালনের দেশে ব্যান্ড সংগীতকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে অন্যতম শিল্পী হলেন আইয়ুব বাচ্চু। অসাধারণ গায়কী ও গিটার বাজানোর দক্ষতা এবং নিজস্ব সংগীতভাষার মাধ্যমে তিনি শ্রোতাদের হৃদয় জয় করেছেন। তাঁর সাফল্যের পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের অনেক সংগীতশিল্পীর পথচলায়ও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। তবে সংগীতজীবনে অসংখ্য অর্জনের পরেও কিছু স্বপ্ন তাঁর অপূর্ণ রয়ে গেছে।

আজ ১৮ অক্টোবর আইয়ুব বাচ্চুর অষ্টম প্রয়াণবার্ষিকী। ২০১৮ সালের এই দিনে বাংলা রক সংগীতের কিংবদন্তি ৫৬ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন। প্রতিবছরের মতো এবারও তাঁর স্মরণে বিভিন্ন আয়োজন করা হবে। পারিবারিকভাবে তাঁকে স্মরণ করা হবে এবং আয়োজন করা হবে দোয়া মাহফিল। ব্যান্ড সংগীতের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরাও নানা আয়োজনে এই শিল্পীকে স্মরণ করবেন।

আইয়ুব বাচ্চু কেবল একজন গায়ক বা গিটারবাদক ছিলেন না; বরং তিনি ছিলেন স্বপ্নদ্রষ্টা। নিজের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার পাশাপাশি নতুনদেরও স্বপ্ন দেখতে শিখিয়েছেন। তাঁর অনুপ্রেরণা ও দিকনির্দেশনায় সংগীতজগতে অনেক শিল্পী জায়গা করে নিয়েছেন। তাঁদের কাছে আইয়ুব বাচ্চু কেবল একজন তারকা নন, সংগীতের পথে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণাও।

আরও পড়ুন: ৩ বছর পর গ্রিন কার্ড পেলেন মৌসুমী, যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু

১৫ লাখ দর্শকের সামনে কনসার্টের স্বপ্ন ছিল আইয়ুব বাচ্চুর। মঞ্চে তাঁর উপস্থিতি মানেই দর্শকের উচ্ছ্বাস। গানের পাশাপাশি গিটারের সুরে শ্রোতাদের মুগ্ধ করার অসাধারণ ক্ষমতা ছিল তাঁর। কনসার্ট নিয়ে এই শিল্পীর একটি বড় স্বপ্ন ছিল, যা বাস্তবায়িত হয়নি।

এক সাক্ষাৎকারে আইয়ুব বাচ্চু তাঁর স্বপ্নের কনসার্টের পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করেছিলেন। ঢাকার মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে বিশাল এক কনসার্ট আয়োজনের ইচ্ছা ছিল তাঁর। সেখানে দেশি-বিদেশি খ্যাতিমান সংগীতশিল্পীদের সঙ্গে একই মঞ্চে পারফর্ম করার পরিকল্পনা ছিল।

বিদেশি শিল্পীদের মধ্যে মার্কিন গিটারবাদক স্টিভ ভাই, জো সাত্রানি ও কার্লোস সান্টানা ছিলেন। তাঁদের সঙ্গে ব্রিটিশ ড্রামার আয়েন পেজও থাকবেন। বাংলাদেশের শিল্পীদের মধ্যে আইয়ুব বাচ্চুর পরিকল্পনায় ছিলেন জেমস, বেজবাবা সুমন ও মানাম আহমেদ।

স্বপ্নের সেই আয়োজনের ব্যাপ্তি বোঝাতে আইয়ুব বাচ্চু বলেছিলেন, "আমরা একটা স্লট বাজাবো, ঘণ্টা তিনেক ধরে। আর দর্শক থাকবে ১৫ লাখ। তাহলে সেটা হবে স্বপ্নের কনসার্ট।"

আরও পড়ুন: এআইয়ের ব্যবহার রুখতে আদালতে কৃতি, মন্তব্য দিল্লির হাইকোর্ট

তার কল্পনায় এটি ছিল কেবল একটি কনসার্ট নয়, বরং বাংলাদেশের ব্যান্ড সংগীতের সক্ষমতা ও জনপ্রিয়তাকে বড় পরিসরে তুলে ধরার আয়োজন। কিন্তু সেই স্বপ্ন পূরণের আগেই তিনি পৃথিবী থেকে বিদায় নেন।

গিটার ঘিরে আরেক স্বপ্ন

গিটারের প্রতি আইয়ুব বাচ্চুর ভালোবাসা ছিল আজীবনের। তিনি বিভিন্ন ধরনের দামি ও নামী গিটার সংগ্রহ করতেন। গিটার বাজানোর নিজস্ব দক্ষতা দিয়ে বাংলা রক সংগীতে তিনি তৈরি করেছিলেন স্বতন্ত্র পরিচয়।

তবে তিনি নিজের গিটারচর্চা ও সংগ্রহের মধ্যেই এই ভালোবাসাকে সীমাবদ্ধ রাখতে চাননি। তাঁর ইচ্ছা ছিল, এমন একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার, যেখানে ছেলেমেয়েরা গিটারসহ বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্র বাজানো শিখতে পারবে। সেখান থেকে প্রশিক্ষিত শিল্পীরা এককভাবে কিংবা দল গঠন করে সংগীতজগতে নিজেদের প্রতিভার পরিচয় দেবেন।

আরও পড়ুন: ইনানীর আগুনে শোকের ছায়া, অগ্নিনিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন তৌসিফ

নতুন সংগীতশিল্পী তৈরির এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে দেশের ব্যান্ড সংগীতের বিকাশে তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারত। কিন্তু সেই উদ্যোগও পূর্ণতা পায়নি আইয়ুব বাচ্চুর জীবদ্দশায়।

যেভাবে হয়ে উঠলেন আইয়ুব বাচ্চু

১৯৬২ সালের ১৬ আগস্ট চট্টগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন আইয়ুব বাচ্চু। পরিবারের অনিচ্ছা সত্ত্বেও সংগীতের প্রতি তাঁর আগ্রহ ছিল প্রবল। ১৯৭৩ সালে বাবার কাছ থেকে গিটার পাওয়ার পর শুরু হয় সেই বাদ্যযন্ত্রের সঙ্গে তাঁর নিবিড় পথচলা।

কলেজজীবনে বন্ধুদের নিয়ে ‘গোল্ডেন বয়েজ’ নামে একটি ব্যান্ড গঠন করেন তিনি। স্থানীয় বিভিন্ন অনুষ্ঠানে গান করত দলটি। ১৯৭৭ সালে যোগ দেন ‘ফিলিংস’ ব্যান্ডে। সেখানে জেমসের সঙ্গে একই দলে কাজ করার অভিজ্ঞতা হয় তাঁর।

আরও পড়ুন: শাহরুখের ছবিতে কাজ করতে না পেরে আজও আক্ষেপ নেহার

১৯৮০ সালে আইয়ুব বাচ্চু যোগ দেন ‘সোলস’ ব্যান্ডে। দীর্ঘ সময় এই দলের সঙ্গে যুক্ত থাকার পর ১৯৯১ সালে গড়ে তোলেন নিজের ব্যান্ড ‘এলআরবি’। একই বছরের এপ্রিলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কনসার্টের মধ্য দিয়ে যাত্রা শুরু করে দলটি।

১৯৯২ সালে এলআরবি প্রকাশ করে ‘এলআরবি ১’ ও ‘এলআরবি ২’ নামে দুটি অ্যালবাম। বাংলাদেশের ব্যান্ড সংগীতের ইতিহাসে এই দ্বৈত অ্যালবাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। পরে ‘সুখ’ অ্যালবামের মাধ্যমে দেশজুড়ে জনপ্রিয়তা পায় এলআরবি।

এরপর একে একে প্রকাশিত হয় ‘তবুও’, ‘ঘুমন্ত শহরে’, ‘আমাদের বিস্ময়’, ‘মন চাইলে মন পাবে’, ‘অচেনা জীবন’, ‘মনে আছে নাকি নাই’, ‘স্পর্শ’ ও ‘যুদ্ধ’-এর মতো অ্যালবাম। এসব গানের মধ্য দিয়ে বাংলা ব্যান্ড সংগীতে নিজেদের শক্ত অবস্থান তৈরি করে এলআরবি।

ব্যান্ডের বাইরেও ছিল জনপ্রিয়তা

আরও পড়ুন: রজনীকান্তের প্রতিদিনের রুটিন প্রকাশ করলেন মিরনা মেনন

এলআরবির সঙ্গে কাজ করার পাশাপাশি একক শিল্পী হিসেবেও ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন আইয়ুব বাচ্চু। তাঁর একক অ্যালবামের মধ্যে রয়েছে ‘রক্ত গোলাপ’, ‘ময়না’, ‘কষ্ট’, ‘সময়’, ‘একা’, ‘প্রেম তুমি কি!’, ‘পথের গান’ ও ‘জীবন’। সব মিলিয়ে ১৬টি একক অ্যালবাম প্রকাশ করেছিলেন তিনি। চলচ্চিত্রের গানেও ছিল তাঁর উপস্থিতি; অন্তত এক ডজন সিনেমায় প্লেব্যাক করেছেন এই শিল্পী।

আইয়ুব বাচ্চুর কণ্ঠ, গিটার আর গান বাংলা সংগীতের শ্রোতাদের কাছে এখনো সমানভাবে স্মরণীয়। তাঁর প্রয়াণের পরও সেই জনপ্রিয়তায় ভাটা পড়েনি। নতুন প্রজন্মের শ্রোতারাও তাঁর গান শুনছেন, গিটারের সুরে খুঁজে নিচ্ছেন নিজেদের আবেগের প্রকাশ।

সংগীতে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ২০২৬ সালে তাঁকে মরণোত্তর একুশে পদক দেওয়া হয়েছে। জন্মশহর চট্টগ্রামের প্রবর্তক মোড়ে তাঁর সম্মানে স্থাপন করা হয়েছে গিটার ভাস্কর্য।

জীবদ্দশায় আইয়ুব বাচ্চু নিজের স্বপ্নের কনসার্ট কিংবা সংগীতশিক্ষার প্রতিষ্ঠান- কোনোটিই বাস্তবায়ন করতে পারেননি। তবে তাঁর গান, গিটারের সুর এবং নতুন শিল্পীদের অনুপ্রাণিত করার উত্তরাধিকার রয়ে গেছে। মৃত্যুর সাত বছর পরও শ্রোতাদের ভালোবাসায় বেঁচে আছেন ‘রূপালি গিটার’-এর এই জাদুকর।

আরও পড়ুন: আত্মহত্যার প্ররোচনা মামলায় রাখি সাওয়ান্তের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ফ্রান্সে সহিংসতার জন্য অভিবাসনকে দায়ী করলেন ভ্যান্স

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:০৮ এম


ফ্রান্সে সহিংসতার জন্য অভিবাসনকে দায়ী করলেন ভ্যান্স

ঢাকা, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬ : যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ফ্রান্সে চলমান বিক্ষোভের সময় সহিংসতার জন্য অভিবাসনকে দায়ী করেছেন।

তিনি শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একটি পোস্টে এই মন্তব্য করেন। পোস্টের সঙ্গে তিনি ফ্রান্সের লিমোজ শহরের সিটি হল ভবনে আগুন জ্বলতে থাকা একটি ভিডিও শেয়ার করেন।

খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

ভ্যান্স সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে উল্লেখ করেছেন, ‘বৈচিত্র্য ও সহমর্মিতার নামে পশ্চিমা উদারপন্থীরা ফ্রান্সসহ অন্যান্য দেশে তৃতীয় বিশ্বের মানুষদের নিয়ে এসেছেন। তারা অভিবাসীদের স্থানীয় সমাজের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়া এবং তাদের সংস্কৃতি ও মূল্যবোধের সঙ্গে স্থানীয় সমাজের সামঞ্জস্যের মতো মৌলিক বিষয়গুলো উপেক্ষা করেছেন। তাদের আগেই সতর্ক করা হয়েছিল, এর পরিণতি এমন হতে পারে। কিন্তু তাঁরা সেই সতর্কবার্তায় কর্ণপাত করেননি।’

তিনি আরও বলেন, ‘ফ্রান্স একটি সুন্দর দেশ, যার মানুষ অসাধারণ। আমি প্রার্থনা করি, আরও ঐতিহাসিক স্থাপনা আগুনে পুড়ে যাওয়ার আগেই দেশটি যেন এই উন্মত্ততা থেকে বেরিয়ে আসতে পারে।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

লালমনিরহাটে বিএসএফের পুশইন চেষ্টা ব্যর্থ, বিজিবির বাধা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:১০ এম


লালমনিরহাটে বিএসএফের পুশইন চেষ্টা ব্যর্থ, বিজিবির বাধা

লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার বুড়িমারী বামনদল সীমান্তের মাধ্যমে নারী ও শিশু সহ মোট ১২ জনকে বাংলাদেশে পুশইনের উদ্দেশ্যে চেষ্টা চালিয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) কার্যকর বাধার কারণে তাদের এই প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে।

বর্তমানে এই ১২ জন ভারতের অভ্যন্তরে সীমান্তের নিকটবর্তী স্থানে অবস্থান করছেন।

রোববার (১৮ অক্টোবর) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ৬১ বিজিবি তিস্তা ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. শাহিনুল ইসলাম।

বিজিবি ও স্থানীয় সূত্র থেকে জানা যায়, শনিবার (১৭ অক্টোবর) দিবাগত রাত ৩টার দিকে বুড়িমারী বামনদল সীমান্তের ৮৩৮/১ নম্বর পিলারসংলগ্ন এলাকায় বিএসএফ একযোগে ২ শিশু, ২ নারী এবং ৮ পুরুষকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করে। খবর পেয়ে বিজিবি দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায় এবং তাদের বাধার সম্মুখীন করে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, ওই ১২ জন বর্তমানে সীমান্তের প্রায় ১০০ গজ ভারতের অভ্যন্তরে অবস্থান করছেন। তাদের বাংলাদেশে প্রবেশ প্রতিরোধে বিজিবি সীমান্ত এলাকায় টহল ও নজরদারি বৃদ্ধি করেছে।

এ বিষয়ে ৬১ বিজিবি তিস্তা ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. শাহিনুল ইসলাম জানান, বিএসএফের পুশইনের চেষ্টার বিরুদ্ধে বিজিবির পক্ষ থেকে পতাকা বৈঠকের আহ্বান জানানো হয়েছে। পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে বিষয়টির সমাধানের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

অরেগনের স্কুলে গুলিতে নিহত ৪, আহত ২; শোকে স্তব্ধ শহর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:১১ এম


অরেগনের স্কুলে গুলিতে নিহত ৪, আহত ২; শোকে স্তব্ধ শহর

যুক্তরাষ্ট্রের অরেগন অঙ্গরাজ্যের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বন্দুকধারীর গুলিতে তিন শিশু ও এক শিক্ষকের মৃত্যুর ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বেন্ড শহরের সিলভার রেইল প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এই হামলার পর আহত এক শিক্ষক ও এক শিশু এখনো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাদের বেঁচে থাকা স্বজন ও পরিচিতদের মনে কিছুটা আশার আলো জোগাচ্ছে, যদিও শোকের পরিবেশ বিরাজমান।

আহতদের মধ্যে সবচেয়ে ছোট সাত বছর বয়সী সেলর গ্রাহাম। জিনগত সমস্যার কারণে সাধারণত হুইলচেয়ারে চলাফেরা করে সে এবং কথা বলতেও পারে না। তবে তার প্রাণবন্ত স্বভাব ও হাসিমুখ অনেকের মন ছুঁয়ে গেছে। শিশুদের চিকিৎসাজনিত প্রয়োজনে সহায়তা করা স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন স্প্যারো ক্লাবসের নির্বাহী পরিচালক ম্যাট স্যাম্পসন জানিয়েছেন, শারীরিক সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও সেলর চোখ ও বিশেষ কম্পিউটার ট্যাবলেটের মাধ্যমে যোগাযোগ করতে সক্ষম।

আহত শিক্ষক ৫৪ বছর বয়সী বেকি ড্রুরি হাত ও বাহুতে আঘাত নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। তার পরিবারের এক ঘনিষ্ঠজনের মতে, তিনি দ্রুত বাড়ি ফেরার আশা করছেন।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) ১৬ বছর বয়সী সাবেক শিক্ষার্থী গ্রিফিন জে জন দ্বিতীয় বিদ্যালয়টির বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের শ্রেণিকক্ষে ঢুকে গুলি চালায়। এতে পাঁচ, আট ও ১১ বছর বয়সী তিন শিশু এবং ২৫ বছর বয়সী শিক্ষিকা মেগান ল্যামবার্ট নিহত হন।

এ সময় এক শিক্ষক বন্দুকধারীর কাছ থেকে অস্ত্র কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। পরে দুই শিক্ষার্থীর বাবা সেখানে এসে বন্দুকধারীকে গুলি করে হত্যা করেন। তাদের সাহসী ভূমিকার কারণে আরও অনেকের প্রাণ রক্ষা পেয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) বিদ্যালয়ের বাইরে ফুল, খেলনা ও বেলুন রেখে নিহতদের স্মরণ করেন স্থানীয় বাসিন্দা, অভিভাবক ও শিক্ষকরা। নিহত শিক্ষিকা মেগান ল্যামবার্টের সহকর্মীরা জানিয়েছেন, তিনি ছিলেন নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষক ও প্রশিক্ষক। খেলাধুলার খরচ বহন করতে না পারা শিশুদের বৃত্তি দেওয়ার জন্য নিজের প্রশিক্ষকের পারিশ্রমিকও ছেড়ে দিয়েছিলেন তিনি।

একদিকে স্বজন হারানোর শোক, অন্যদিকে হাসপাতালে জীবনযুদ্ধে থাকা শিক্ষক ও শিশুকে ঘিরে উদ্বেগ—সব মিলিয়ে অরেগনের এই ছোট্ট শহর এখন গভীর বেদনায় আচ্ছন্ন। পুলিশ হামলার উদ্দেশ্য খতিয়ে দেখছে।

সূত্র: এপি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মধ্যপ্রদেশের গওয়ালিয়রে ট্রাকচাপায় ১২ দর্শনার্থী নিহত, তদন্ত শুরু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:১১ এম


মধ্যপ্রদেশের গওয়ালিয়রে ট্রাকচাপায় ১২ দর্শনার্থী নিহত, তদন্ত শুরু

ভারতের মধ্যপ্রদেশের গওয়ালিয়র শহরে সড়ক দুর্ঘটনায় অন্তত ১২ জন দর্শনার্থী প্রাণ হারিয়েছেন। রবিবার (১৮ অক্টোবর) গভীর রাতে গওয়ালিয়রের শীতেলা মাতা মন্দিরের নিকট এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। একটি নিয়ন্ত্রণহীন ভারী ট্রাক পুলিশের চেকপোস্ট ও ব্যারিকেড ভেঙে মন্দিরের আশপাশে সমবেত দর্শনার্থীদের ওপর উঠে যায়। পুলিশ প্রশাসন নিশ্চিত করেছে যে, ঘটনাস্থলে ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এই দুর্ঘটনায় আরো বেশ কয়েকজন দর্শনার্থী আহত হয়েছেন। খবর এনডিটিভি'র।

পুলিশের সূত্রে জানা যায়, রবিবার রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে এই দুর্ঘটনা ঘটে। প্রাথমিক তথ্যে প্রকাশ, ধানবোঝাই একটি ভারী ট্রাক চিনোর দিক থেকে গওয়ালিয়রের দিকে আসছিল। একটি তীব্র ঢালু রাস্তায় পৌঁছানোর পর ট্রাকটির চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন।

এটি লক্ষণীয় যে, ওই নির্দিষ্ট ঢালু ও ঝুঁকিপূর্ণ রাস্তায় ভারী যান চলাচলের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তবুও নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ট্রাকটি ওই পথ দিয়ে প্রবেশ করে এবং ভয়াবহ বিপর্যয় ডেকে আনে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ কর্মকর্তাদের বিবরণ অনুযায়ী, নিয়ন্ত্রণহীন ট্রাকটি প্রথমে মন্দিরের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশের ব্যারিকেড ও চেকপোস্ট ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয়।

এরপর গতি বাড়ানোর ফলে রাস্তার ওপর অবস্থান করা দর্শনার্থীদের ওপর ট্রাকটি সজোরে চালিয়ে দেওয়া হয়। তীর্থযাত্রীদের চাপা দেওয়ার পর ভারী ট্রাকটি সোজা গিয়ে ধাক্কা খায় শীতেলা মাতা মন্দিরের মূল গেট এবং সুরক্ষিত বাইরের দেয়ালে। ধাক্কার তীব্রতায় মন্দিরের গেট ও দেয়ালের উল্লেখযোগ্য অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয় এলাকাবাসী ও পুলিশ দ্রুত উদ্ধারকাজ শুরু করে। গওয়ালিয়রের সিনিয়র সুপারিনটেন্ডেন্ট অব পুলিশ (এসএসপি) ধর্মবীর সিং সংবাদমাধ্যমকে জানান, দুর্ঘটনার পরপরই আহত অবস্থায় মোট ৩৯ জনকে দ্রুত নিকটবর্তী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে ১২ জনকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

হাসপাতাল ও পুলিশ সূত্রে আরও জানা গেছে, হতাহতদের মধ্যে অন্তত ৫ থেকে ৬ জন দর্শনার্থীর অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। তাদের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে, বাকি আহতরা তুলনামূলকভাবে সামান্য আঘাত পেয়েছেন এবং প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে অনেকেই হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরেছেন।

এই দুর্ঘটনায় পুরো গওয়ালিয়র এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। মন্দিরে সমবেত হওয়া সাধারণ মানুষ ও দর্শনার্থীদের পরিবারের মধ্যে চলছে আহাজারি।

এদিকে, পুলিশ প্রশাসন পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। কীভাবে ভারী যানটি নিষিদ্ধ পাহাড়ি ও ঢালু রাস্তায় প্রবেশ করল এবং চালক মদ্যপ ছিলেন কি না কিংবা যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে দুর্ঘটনা ঘটেছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসন নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে এবং আহতদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করার ঘোষণা দিয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৩
মাগরিব ০৫:৩০
ইশা ০৬:৪১
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:৩০
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%