প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
দেশের বিভিন্ন সমস্যা নিয়েও প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য ছিল। তিনি বলেছেন, ‘দেশে এত সমস্যা এখনও বিরাজমান দেখে আমি বিস্মিত হই। কারণ ১৭ বছরে এসব সমস্যার সমাধান হওয়ার কথা ছিল। যদি সে সময় এগুলো সমাধান করা যেত, তাহলে অনেক কিছুই ঠিক হয়ে যেতে পারত।’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘আগে এত উন্নয়নের গল্প শুনতাম, সেগুলো তো আসলে কোথায়? এখন সমস্ত চাপ আমাদের সরকারের ওপর এসেছে। জনগণের প্রত্যাশা বিশাল। আমরা চেষ্টা করছি, সেই অবস্থান থেকে উত্তরণ ঘটিয়ে ঘুরে দাঁড়াতে।’
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) দুপুরে সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জনপ্রশাসন সভাকক্ষে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর প্রতিনিধি সভায় প্রধানমন্ত্রী এই কথা বলেন।
সভায় উপস্থিত ছিলেন, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, প্রধানমন্ত্রী বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য আন্না মিনজ, সংস্কৃতিকর্মী সঞ্জীব দ্রংসহ ১৭ জেলার ১৮টি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা।
সভায় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর নেতারা তাদের জন্য পৃথক ভূমি কমিশন গঠন, সমতলের আদিবাসী অনগ্রসর জনগণের জন্য জাতীয় কনভেনশন, ‘ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী’ শব্দের পরিবর্তে জাতিভিত্তিক পরিচয়ের দাবি, সাংবিধানিক স্বীকৃতি, আইনগতভাবে ভূমির মালিকানা প্রতিষ্ঠা, কেন্দ্রীয় কালচারাল সেন্টার প্রতিষ্ঠা, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য ঋণসুবিধা এবং রিজার্ভ ফরেস্টের নামে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীদের বসতি থেকে উচ্ছেদ বন্ধের দাবিও জানান।
এ সময়ে প্রধানমন্ত্রী মনোযোগ দিয়ে বক্তব্য শুনলেন এবং সভায় সুখী, সমৃদ্ধ ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার করেন।
তিনি বলেন, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী দেশের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তার সরকার একটি বৈষম্যহীন দেশ গড়তে কাজ করছে। সবার জন্য প্রত্যাশিত বাংলাদেশ নির্মাণে তিনি সবাইকে নিয়ে এগিয়ে যেতে চান। কাউকে আলাদা মনে করেন না।
তিনি জানাচ্ছেন, ‘আমাদের ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে। দেশের সব প্রতিষ্ঠান ও অর্থনীতি ফ্যাসিস্ট সরকার ধ্বংস করে দিয়েছে। প্রতি বছর ১৬ বিলিয়ন ডলার পাচার হত। অর্থপাচার না হলে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর অনেক সমস্যার সমাধান হয়ে যেত। আমাদের সরকার যে সমস্যাগুলো নিরসনযোগ্য সেগুলো আগে সমাধান করছে।’
তারেক রহমান বলেন, ‘এখনকার যুদ্ধটা অনেক বড়। এখানে টিকে থাকতে হলে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে, এগিয়ে আসতে হবে। আমাদের দেখতে হবে, আমরা আরও ভালো অবস্থানে কীভাবে থাকতে পারি।’
দেশের সমস্যা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্য ছিল, ‘দেশে এত সমস্যা এখনও বিরাজমান দেখে আমি বিস্মিত হই। ১৭ বছরে এসবের সমাধান হওয়ার কথা ছিল। সে সময় এগুলো সমাধান হলে অনেক সমস্যার সমাধান হয়ে যেত।’
তিনি বলেন, ‘আগে এত উন্নয়নের গল্প শুনতাম, সেগুলো আসলে কোথায়? এখন সব চাপ আমাদের সরকারের ওপর। জনগণের প্রত্যাশা অনেক। আমরা চেষ্টা করছি, সেই অবস্থা থেকে উত্তরণ ঘটিয়ে ঘুরে দাঁড়াতে।’
দেশের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে ফ্যাসিস্ট সরকার ধ্বংস করে দিয়েছে। এই অবস্থা থেকে উত্তরণে সরকারের নেয়া উদ্যোগগুলোর কথাও প্রধানমন্ত্রী তুলে ধরেন।
তারেক রহমান বলেন, ‘ওরা একটি প্রজন্মকে ধ্বংস করে দিয়ে গেছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের যাত্রা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান শুরু করেছিলেন। তার সময় ৩১ শয্যার হাসপাতাল প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। এরপর যখন আমাদের সরকার ক্ষমতায় এসেছে, তখনই এর উন্নয়ন হয়েছে। বেগম খালেদা জিয়া ক্ষমতায় আসার পর সেটি ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। এখন আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, এটিকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার।’
তিনি অভিযোগ করেন, ‘আগের সরকার ইউনিয়নভিত্তিক কমিউনিটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করেছিল। কিন্তু সেগুলোর কোন কার্যক্রম নেই।’
২০২৬-২৭ অর্থবছরে স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বাড়ানো, জরুরি চিকিৎসা সামগ্রীর ওপর কর হ্রাসের বিষয়েও প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য ছিল।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন