প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বাংলাদেশ সরকারের অনুরোধে নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা শুরু করেছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। এর পাশাপাশি সংস্থাটি সতর্কতা প্রকাশ করে বলেছে, রাজস্ব ঘাটতি, ব্যাংক খাতের দুর্বলতা ও উচ্চ মূল্যস্ফীতি কারণে দেশের অর্থনীতি উল্লেখযোগ্য চাপের মধ্যে রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধের প্রভাবের ফলে আমদানি ব্যয় এবং ভর্তুকির চাপ বেড়েছে, যা অর্থনীতির ঝুঁকি বাড়াতে সহযোগিতা করছে।
আইএমএফের মিশন প্রধান আইভো ক্রজনারের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল ১২ থেকে ১৬ জুলাই ঢাকা সফর শেষে বৃহস্পতিবার যে বিবৃতি প্রকাশ করেছে, তাতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই সফরের উদ্দেশ্য ছিল দেশের সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক ও আর্থিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা এবং সরকারের অর্থনৈতিক সংস্কার অগ্রাধিকার নিয়ে আলোচনা করা। নতুন ঋণ কর্মসূচির সম্ভাব্য আকার, শর্ত ও সংস্কার কর্মসূচি নিয়ে আগামী কয়েক মাসের মধ্যে আরও আলোচনা করা হবে।
আইএমএফের মন্তব্য অনুসারে, বাংলাদেশ এখন রাজস্ব, আর্থিক খাত এবং মূল্যস্ফীতি- এই তিনটি বড় চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক পণ্যমূল্য বৃদ্ধি ও সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন সৃষ্টি হওয়ায় মূল্যস্ফীতির চাপ আবারও বেড়ে গেছে। এক্ষেত্রে, ভর্তুকি ব্যয়ের বৃদ্ধি সরকারের সীমিত রাজস্ব সক্ষমতার ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি করেছে। আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় বৈদেশিক লেনদেনেও চাপ সৃষ্টি হচ্ছে, যদিও প্রবাসী আয় শক্তিশালী রয়েছে।
আইএমএফ বলেছে, ব্যাংক খাতের চাপ এখনও উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়েছে। এই পরিস্থিতির মধ্যে ব্যাংক খাত পুনর্গঠনের জন্য একটি বিশ্বাসযোগ্য এবং সমন্বিত কৌশল গ্রহণ করা প্রয়োজন, পাশাপাশি সমস্যাগ্রস্ত ব্যাংকগুলোর কার্যকর সংস্কার জরুরি। এর মাধ্যমে আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি বিনিয়োগেও উৎসাহিত হবে।
সংস্থাটি উল্লেখ করেছে, অর্থনীতির টেকসই উন্নয়নের জন্য রাজস্ব আহরণ বাড়ানো, অপ্রয়োজনীয় ভর্তুকি যৌক্তিক করা এবং সেই অর্থ সামাজিক নিরাপত্তা ও উন্নয়ন ব্যয়ে ব্যবহার করা প্রয়োজন। দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জন্য লক্ষ্যভিত্তিক সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি জোরদার করার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।
মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ পুনর্গঠনের জন্য আইএমএফ কঠোর মুদ্রানীতি ও সতর্ক রাজস্বনীতি অব্যাহত রাখার সুপারিশ করেছে। এছাড়া, ২০২৫ সালে চালু হতে যাওয়া 'ক্রলিং পেগ' বিনিময় হার ব্যবস্থা ধারাবাহিকভাবে বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে, যাতে বিনিময় হার আরও নমনীয় হতে পারে এবং বৈদেশিক খাতের স্থিতিশীলতা বজায় থাকে।
আইএমএফের পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি সংস্কার কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত না হলে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কমে ৩ দশমিক ৫ শতাংশে নেমে আসতে পারে। পরবর্তী মধ্যমেয়াদে প্রবৃদ্ধি ৩ শতাংশেরও নিচে নেমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সংস্থাটি আরও বলেছে, ব্যাংক খাতের সংকট, রাজস্ব চ্যালেঞ্জ এবং বৈদেশিক চাপ একে অপরকে জটিল করে তুলতে পারে। ফলে, অর্থনীতির ঝুঁকি নিম্নমুখী অবস্থায় রয়েছে।
তবে আইএমএফ জানিয়েছে, সফরকালে বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে গঠনমূলক ও ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। সংস্থাটি আগামী মাসগুলোতে নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে সরকারের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রাখবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন