ঢাকা সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ওজন কমানোর পাশাপাশি ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণেও কার্যকর হতে পারে অ্যাস্ট্রাজেনেকার নতুন ওষুধ


ওজন কমানোর পাশাপাশি ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণেও কার্যকর হতে পারে অ্যাস্ট্রাজেনেকার নতুন ওষুধ

ওজন কমানোর সঙ্গে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে কাজ করবে অ্যাস্ট্রাজেনেকার নতুন ওষুধ।

ওজন কমানোর সঙ্গে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে কাজ করবে অ্যাস্ট্রাজেনেকার নতুন ওষুধ। সংগৃহীত ছবির মাধ্যমে তথ্যটি জানানো হয়।

মেদভুঁড়ি বা স্থূলতা কমানোর ক্ষেত্রে গতকাল ব্রিটিশ-সুইডিশ প্রতিষ্ঠান অ্যাস্ট্রাজেনেকার কাছ থেকে একটি বড় সাফল্যের খবর এসেছে। তাদের পরীক্ষামূলক একটি ওবেসিটি পিল দ্বিতীয় ধাপের (মিড-স্টেজ) ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে অসাধারণ ফলাফল প্রদর্শন করেছে। এই পিল সেবন করে রোগীরা ২৬ সপ্তাহে গড়ে ১০ দশমিক ৫ শতাংশ পর্যন্ত ওজন কমাতে সক্ষম হয়েছেন।

আরও পড়ুন: নেত্রকোণায় হেমন্তের শিশিরে শীতের আগাম বার্তা প্রকাশিত

প্রতিষ্ঠানটি জানায়, দিনে একবার সেবনযোগ্য এই ওষুধটির ট্রায়াল সফল হওয়ার ফলে স্থূলতার ওষুধের বিশ্ববাজারে তাদের অবস্থান এক ধাপ এগিয়ে গেল। এই মুহূর্তে তারা ওষুধটির চূড়ান্ত বা শেষ ধাপের ট্রায়াল শুরু করতে যাচ্ছে।

অ্যাস্ট্রাজেনেকার তথ্য অনুযায়ী, ‘ইলেকোগ্লিপ্রন’ নামের এই পরীক্ষামূলক বড়িটি গবেষণাকালীন সময়ে ওজন কমাতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছে। সর্বোচ্চ ডোজের ওষুধ সেবনকারী অংশগ্রহণকারীদের ক্ষেত্রে দেখা গেছে যে:

২৬ সপ্তাহে তাদের ওজন কমেছে ১০.৫ শতাংশ,

৩৬ সপ্তাহে তাদের ওজন কমেছে ১১.৮ শতাংশ।

আরও পড়ুন: সমাজের পিছিয়ে পড়া নারীদের এগিয়ে নেবে স্বপ্নবুনন

প্রতিষ্ঠানটি আরও জানায়, সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ওজন কমার এই ধারা অব্যাহত ছিল এবং পুরো ট্রায়াল জুড়েই টেকসই ফলাফল লক্ষ্য করা গেছে।

চূড়ান্ত ধাপের ট্রায়ালের প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। গত ফেব্রুয়ারিতে প্রাথমিক ইতিবাচক ফল পাওয়ার পরে অ্যাস্ট্রাজেনেকা ওষুধটিকে চূড়ান্ত ধাপের ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। এই ট্রায়ালে স্থূলতা বা অতিরিক্ত ওজনের সমস্যায় ভুগছেন এমন ৩১০ জন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি অংশগ্রহণ করেন, যাদের অনেকেরই ওজনজনিত অন্তত একটি স্বাস্থ্য সমস্যা ছিল। সর্বোচ্চ ডোজ নেওয়া রোগীদের প্রায় ৮৯ শতাংশই অন্তত ৫ শতাংশ ওজন কমাতে সক্ষম হয়েছেন, যা এই গবেষণার একটি বড় লক্ষ্য ছিল।

এই সাফল্যের ফলে ওজন কমানোর ওষুধের বাজারে নভো নরডিস্ক, ইলাই লিলি এবং রোশের মতো বিশ্বখ্যাত ফার্মাসিউটিক্যালস জায়ান্টগুলোর সঙ্গে সরাসরি প্রতিযোগিতায় নামতে শুরু করেছে অ্যাস্ট্রাজেনেকা। দ্রুত বর্ধনশীল এই বৈশ্বিক বাজারে আধিপত্য বিস্তারের দৌড় এখন আরও তীব্র হয়ে উঠেছে।

গবেষণায় দেখা গেছে, এই ওষুধটি সেবনের ফলে সাধারণত গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল বা পরিপাকতন্ত্রজনিত কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। এর মধ্যে রয়েছে—বমি বমি ভাব, কোষ্ঠকাঠিন্য, ডায়রিয়া ও বমি। সর্বোচ্চ ৭৫ মিলিগ্রামের ডোজের ক্ষেত্রে:

আরও পড়ুন: ফিলাডেলফিয়ায় কবুতর দেখতে পর্যটকদের ৯০ মিনিটের ব্যতিক্রমী ভ্রমণে ভিড়

• ৫৫ শতাংশ রোগীর বমি বমি ভাব হয়েছে,

• ৪১ শতাংশ রোগীর কোষ্ঠকাঠিন্য দেখা দিয়েছে,

• ৩৫ শতাংশ রোগীর ডায়রিয়া হয়েছে,

• ২৭ শতাংশ রোগীর বমি হয়েছে।

আরও পড়ুন: সর্দি-কাশি ও গাঁটে ব্যথা কমাতে পানপাতার উপকারিতা

তবে এসব পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সত্ত্বেও রোগীরা ওষুধ সেবন বন্ধ করে দেননি এবং ট্রায়াল ছেড়ে যাওয়ার হার ছিল খুবই কম।

টাইপ-২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগীদের ওপর করা পৃথক এক গবেষণায় দেখা গেছে, পিলটি রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণেও সফল হয়েছে। সর্বোচ্চ ডোজে অংশ নেওয়া ডায়াবেটিস রোগীরা ২৬ সপ্তাহে ৭ দশমিক ৭ শতাংশ ওজন কমাতে পেরেছেন।

অ্যাস্ট্রাজেনেকা ২০২৩ সালে চীনের ‘ইকোজিন’ নামক প্রতিষ্ঠান থেকে প্রায় ২০০ কোটি মার্কিন ডলার চুক্তির বিনিময়ে এই ‘ইলেকোগ্লিপ্রন’ পিলের লাইসেন্স নিয়েছিল। প্রতিষ্ঠানটির কর্তাব্যক্তিরা আশা করছেন, ভবিষ্যতে এই ওষুধটিকে স্থূলতার পাশাপাশি ডায়াবেটিস, কিডনি ও হৃদরোগের মতো ওজনজনিত অন্যান্য স্বাস্থ্য সমস্যার চিকিৎসার ক্ষেত্রেও সমন্বিতভাবে ব্যবহার করা যাবে।

সূত্র: সামা টিভি

আরও পড়ুন: পর্নোগ্রাফির আসক্তির ক্ষতি ও মুক্তির উপায় নিয়ে আলোচনা

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ফেসবুক ব্যবহারকারীদের ওপর নজরদারি বাড়াচ্ছে, অ্যালগরিদমে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১১ই জুন, ২০২৬ ইং

০৬:০১ এম


ফেসবুক ব্যবহারকারীদের ওপর নজরদারি বাড়াচ্ছে, অ্যালগরিদমে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত

ফেসবুক ব্যবহারকারীদের ওপর নজরদারি বাড়াচ্ছে। সংগৃহীত ছবির মাধ্যমে তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। ৯ জুন ২০২৬, ০৩:২১ পিএম নাগাদ মুখপাত্র জানিয়েছেন যে, ব্যবহারকারীদের ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারের অভিজ্ঞতা আরও ব্যক্তিগত বা পারসোনালাইজড করতে অ্যালগরিদমে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে মেটা। বর্তমানে, ব্যবহারকারীরা ফেসবুকের বাইরের অন্য কোনো ওয়েবসাইট বা অ্যাপে কী করছেন, সেই তথ্যও মেটার হাতে চলে যাবে। এই তথ্য বিশ্লেষণ করে শুধু বিজ্ঞাপন নয়, ব্যবহারকারীদের নিউজ ফিডের কনটেন্ট, রিলস এবং মেটা এআই-এর উত্তরগুলোও ঠিক করা হবে। মেটা নিশ্চিত করেছে যে, তাদের সঙ্গে ইতিমধ্যে তথ্য শেয়ার করে এমন থার্ড-পার্টি বা বহিরাগত ওয়েবসাইট ও অ্যাপের ডেটা এখন থেকে ফেসবুকের মূল সিস্টেমে যুক্ত করা হবে। আগে এই তথ্যগুলো মূলত লক্ষ্যভিত্তিক বিজ্ঞাপন দেখানোর জন্য ব্যবহার করা হতো। তবে নতুন আপডেটের ফলে এটি ব্যবহারকারীর পুরো ফিডের কনটেন্ট নির্ধারণে ভূমিকা রাখবে। উদাহরণস্বরূপ, কোনো ব্যবহারকারী যদি একটি অনলাইন শপ থেকে ক্যাম্পিং করার তাবু (টেন্ট) কেনেন, তবে তিনি ফেসবুক বা ইনস্টাগ্রামে ঢোকার পর তার ফিডে স্বয়ংক্রিয়ভাবেই ট্রাভেল গাইড, পাহাড়ি অঞ্চলের ভিডিও কিংবা অ্যাডভেঞ্চারধর্মী কনটেন্ট বেশি দেখতে পাবেন। বিজ্ঞাপন থেকে পুরো কনটেন্ট পারসোনালাইজেশন নিয়ে মেটার মুখপাত্র এমিল ভাজকুয়েজ জানিয়েছেন, আগে ফেসবুক বা ইনস্টাগ্রামের অ্যালগরিদম মূলত অ্যাপের ভেতরের আচরণ যেমন—লাইক, কমেন্ট, ভিউ এবং ফলো করা অ্যাকাউন্টের ওপর ভিত্তি করে কনটেন্ট সাজাত। তবে নতুন সিস্টেমে ডেটা সংগ্রহের পরিধি না বাড়িয়ে, বিদ্যমান ডেটা পাইপলাইনের কাজের পরিধি আরও প্রসারিত করা হয়েছে। এর অর্থ হলো, মেটা প্ল্যাটফর্মের বাইরের আপনার যেকোনো কার্যক্রম এখন থেকে ফেসবুকের কনটেন্ট ও এআই ফিচারকে সরাসরি নিয়ন্ত্রণ করবে। পাশাপাশি, মেটা তাদের প্রাইভেসি বা গোপনীয়তার সেটিংস আরও সহজ করার দাবি করেছে। ব্যবহারকারীরা এখন একটি সেন্ট্রাল বা একক সেটিংস থেকেই নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন যে, কীভাবে তাদের অ্যাপের বাইরের কার্যক্রমগুলো বিজ্ঞাপন, কনটেন্ট রেকমেন্ডেশন এবং এআই ফিচারের জন্য ব্যবহার করা হবে। যেসব ব্যবহারকারী চান না যে মেটা তাদের বাইরের কাজের ওপর নজর রাখুক, তারা চাইলে সেটিংস থেকে ‘অ্যাক্টিভিটি ফ্রম আদার কোম্পানিজ’ অপশনটি বন্ধ করে দিতে পারবেন। এটি বন্ধ করলে পার্টনার অ্যাপগুলোর ডেটা ফেসবুকের ফিড বা এআই-এর ওপর কোনো প্রভাব ফেলবে না। মেটা জানিয়েছে, এই আপডেটটি বিশ্বব্যাপী চালু করা হচ্ছে। তবে প্রথম ধাপে বেশ কয়েকটি দেশ ও অঞ্চলকে এর আওতামুক্ত রাখা হয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে এই পরিবর্তন দেখতে পাবেন না যুক্তরাজ্য, ব্রাজিল, দক্ষিণ কোরিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, নাইজেরিয়া, ইকুয়েডর, থাইল্যান্ড এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নির্দিষ্ট কিছু দেশের ব্যবহারকারীরা। এই নতুন পদক্ষেপ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ব্যবহারকারীর ডেটা প্রাইভেসি এবং স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দেয়। তথ্য সুরক্ষা আন্দোলনকারীরা মেটার এই বর্ধিত ডেটা ব্যবহারের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করলেও মেটার দাবি—ব্যবহারকারীদের নিজস্ব অ্যাপের বাইরেও তাদের রুচি ও আগ্রহের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ কনটেন্ট দেখাতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই পরিবর্তন স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে, সোশ্যাল মিডিয়া অ্যালগরিদমগুলোর নজরদারি এখন আর নিজেদের অ্যাপের ভেতর সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা ব্যবহারকারীর ই-কমার্স কেনাকাটা ও অন্যান্য অ্যাপ ব্যবহারের অভ্যাসের সঙ্গেও গভীরভাবে জড়িয়ে যাচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

স্ত্রীর আয় বেশি হলে পুরুষের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব পড়তে পারে: গবেষণা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১১ই জুন, ২০২৬ ইং

০৬:১০ এম


স্ত্রীর আয় বেশি হলে পুরুষের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব পড়তে পারে: গবেষণা

স্বামীর চেয়ে স্ত্রীর আয় বেশি হলে পুরুষের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব পড়ে।

বিশ্বজুড়ে নারীদের আর্থিক স্বাধীনতা ও কর্মক্ষেত্রে অংশগ্রহণ ক্রমাগত বেড়ে চলেছে। ফলে অনেক পরিবারে স্বামীর চেয়ে স্ত্রীর বেশি আয় করার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। এই পরিবর্তনটি লিঙ্গ সমতার ক্ষেত্রে একটি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হলেও বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি অনেক পুরুষের মানসিক স্বাস্থ্য, আত্মসম্মান এবং দাম্পত্য সম্পর্কের ওপর গভীর প্রভাব ফেলছে।

বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, অর্থনৈতিক বাস্তবতা বদলে গেলেও অনেক সমাজে এখনও পুরুষকে পরিবারের প্রধান উপার্জনক্ষম ব্যক্তি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এই কারণে, যখন স্ত্রীরা বেশি আয় করতে শুরু করেন, তখন কিছু পুরুষ নিজেদের কার্যকারিতা নিয়ে সংশয়ে ভোগেন এবং হীনম্মন্যতা ও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে থাকেন।

গবেষকরা মন্তব্য করেছেন যে, আয় কেবল একটি আর্থিক বিষয় নয়; এটি সামাজিক মর্যাদা, কর্তৃত্ব এবং ব্যক্তিগত পরিচয়ের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। একাধিক গবেষণা প্রতিবেদনে সাক্ষাৎকার নেওয়া পুরুষরা জানান যে, স্ত্রীরা বেশি আয় করার পর বা তারা নিজস্বভাবে ঘরের কাজের দায়িত্ব নিতে শুরু করার পর সমালোচনা ও উপহাসের মুখোমুখি হয়েছেন, এমনকি তাদের পুরুষত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। এই সামাজিক চাপ পুরুষদের মানসিক চাপ বৃদ্ধি করে এবং নিজেদের মূল্য ধরা দেয়।

সুইডেনে পরিচালিত একটি দীর্ঘমেয়াদি গবেষণায় ১০ বছরের আর্থিক ও চিকিৎসা সংক্রান্ত রেকর্ড বিশ্লেষণ করে পারিবারিক আয়ের এই পরিবর্তনের অবস্থান বোঝার চেষ্টা করা হয়েছে। ফলাফল অনুসারে, যেসব পুরুষের স্ত্রীরা বেশি আয় করতে শুরু করেছিলেন, তাদের মানসিক স্বাস্থ্যজনিত সমস্যায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি ছিল। বিশেষজ্ঞরা লক্ষ্য করেছেন, নারীদের তুলনায় পুরুষদের মধ্যে এই মানসিক স্বাস্থ্য সংকটের প্রবণতা অনেক বেশি স্পষ্ট।

গবেষণা অনুযায়ী, যেসব পুরুষ চাকরি হারিয়েছেন বা পরিবারে একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তির ঐতিহ্যগত ভূমিকা থেকে সরে এসেছেন, তারা সামাজিক বিচ্ছিন্নতা, হতাশা এবং উদ্বেগের প্রতি বেশি সংবেদনশীল ছিলেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, নারীরা সাধারণত পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে শক্তিশালী সামাজিক যোগাযোগ বজায় রাখেন, যার ফলে তাদের একটি বড় মানসিক সমর্থনের নেটওয়ার্ক তৈরি হয়। অন্যদিকে, পুরুষরা মানসিক ও সামাজিক সমর্থনের জন্য মূলত তাদের স্ত্রীদের ওপর বেশি নির্ভরশীল। এই অতিরিক্ত নির্ভরতার কারণে যখন সম্পর্কের মধ্যে ভূমিকার পরিবর্তন ঘটে, তখন কিছু পুরুষের জন্য তা মানসিকভাবে মেনে নেওয়া বেশ কঠিন হয়ে পড়ে।

গবেষকরা জানিয়েছেন, এই চ্যালেঞ্জগুলো কাটানোর পাশাপাশি পারিবারিক কাঠামোর এই পরিবর্তনের কিছু ইতিবাচক দিকও রয়েছে। যেসব বাবা ঘরে বেশি সময় কাটান, তাদের সন্তানের সঙ্গে আত্মিক বন্ধন আরও দৃঢ় হয় এবং তারা সন্তানের লালন-পালনে আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখতে সক্ষম হন। এছাড়া, ঘরের কাজের সুষম বণ্টন শিশুদের মনে লিঙ্গ সমতার লক্ষ্যে ইতিবাচক ধারণা তৈরি করতে সাহায্য করে।

বিশেষজ্ঞরা সুনির্দিষ্টভাবে বলেছেন, আসল সমস্যা নারীদের বেশি আয় করা নয়, বরং সমস্যাটি সমাজের সনাতন বিশ্বাস—যা একজন পুরুষের মূল্যকে কেবল তার উপার্জন ক্ষমতার সঙ্গে পরিমাপ করে। গবেষকরা পরামর্শ দেন, পুরুষদের নিজের পরিচয়কে আর্থিক অবস্থার ফ্রেমে বন্দি না করে বাবা, জীবনসঙ্গী, যত্নশীল অভিভাবক এবং সমাজের একজন অবদানকারী হিসেবেও নিজেদের মূল্যায়ন করা উচিত।

বিশ্বাস করা হচ্ছে যে, বিশ্বজুড়ে নারীদের অর্থনৈতিক অংশগ্রহণ যত বাড়বে, ততটাই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে নারী ও পুরুষ উভয়ই পরিবারের ঐতিহ্যগত ভূমিকা নিয়ে নতুন করে ভাবা। এই পরিবর্তনের সঙ্গে ইতিবাচকভাবে মানিয়ে নিতে পারলে আরও ভারসাম্যপূর্ণ, সুস্থ ও দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্ক গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পাখিরা মানুষের মতো কথা বলতে শেখে কীভাবে?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১১ই জুন, ২০২৬ ইং

০৬:২০ এম


পাখিরা মানুষের মতো কথা বলতে শেখে কীভাবে?

পাখিরা মানুষের মতো কীভাবে কথা বলে—এই প্রশ্ন অনেকের মনে আসে। কিন্তু যদি বলা হয়, ঠোঁট না নাড়িয়ে স্পষ্টভাবে কথা বলা সম্ভব, তাহলে বিষয়টি আরও বিস্ময়কর মনে হতে পারে। বাস্তবে মানুষের জন্য ঠোঁট না নাড়িয়ে স্পষ্ট কথা বলা প্রায় অসম্ভব। যদিও ভেন্ট্রিলোকুইস্ট বা মায়াস্বরীরা দীর্ঘ অনুশীলনের মাধ্যমে এটি করতে পারে, তবে তা অত্যন্ত কঠিন একটি দক্ষতা।

আবার প্রকৃতির কিছু পাখির জন্য বিষয়টি একেবারেই স্বাভাবিক বিষয়। যেমন, টিয়া, ময়না, তোতা বা কাকাতুয়ার মতো পাখি মানুষের বলা শব্দ হুবহু নকল করতে পারে। যদিও তাদের মানুষের মতো ঠোঁট বা ভোকাল কর্ড নেই।

বিজ্ঞান অনুযায়ী, পাখিদের শরীরে ভোকাল কর্ডের পরিবর্তে থাকে একটি বিশেষ অঙ্গ, যার নাম সিরিঙ্কস। এটি পাখির শ্বাসনালী ও ফুসফুসের মাঝামাঝি অংশে অবস্থিত একটি ইংরেজি ‘ওয়াই’ আকৃতির গঠন হিসেবে পরিচিত। যখন পাখি শ্বাস নেয়, তখন বাতাস শ্বাসনালী দিয়ে সিরিঙ্কসের মধ্য দিয়ে ফুসফুসে প্রবাহিত হয়। সেই সময় সিরিঙ্কসের কম্পন থেকেই তৈরি হয় শব্দ।

এই সিরিঙ্কস পেশি ও নরম হাড়ের সাহায্যে নিয়ন্ত্রিত হয়, ফলে পাখিরা খুব নিখুঁতভাবে শব্দের ওঠানামা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। এ কারণেই তারা মানুষের কথা, গান এমনকি নির্দিষ্ট শব্দও অনুকরণ করতে সক্ষম হয়।

অর্থাৎ, মানুষের মতো মুখের ঠোঁট দিয়ে নয়, বরং গলার বিশেষ গঠন দিয়েই পাখিরা কথা তৈরি করে। তাই অনেক সময় দেখা যায়, টিয়া বা ময়না পরিষ্কারভাবে মানুষের বাক্যও উচ্চারণ করতে পারে—যেমন জনপ্রিয় কার্টুন চরিত্র মিঠুর মতো।

প্রকৃতির এই অসাধারণ শারীরবৃত্তীয় ক্ষমতাই পাখিদের করে তুলেছে অনন্য।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে শিশুকে ছোটবেলা থেকেই যা শেখানো প্রয়োজন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১১ই জুন, ২০২৬ ইং

০৬:২২ এম


ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে শিশুকে ছোটবেলা থেকেই যা শেখানো প্রয়োজন

সন্তানকে ছোটবেলা থেকেই কৃতজ্ঞ হতে শেখানো অত্যন্ত জরুরি। কারণ কৃতজ্ঞতা শুধুই ভদ্রতা নয়, এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মানবিক গুণ। বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশুকে কেবল মুখে ধন্যবাদ বলতে শেখালেই সে কৃতজ্ঞ হয়ে ওঠে না। বরং, অন্যের ভালোবাসা, যত্ন, পরিশ্রম ও সাহায্যের মূল্য বোঝার মধ্যেই প্রকৃত কৃতজ্ঞতার শিক্ষা নিহিত রয়েছে।

অনেক বাবা-মা সন্তানকে উপহার পেলে বা কেউ কিছু দিলে ধন্যবাদ বলতে শেখান। কিন্তু কেন ধন্যবাদ জানাতে হয়, এই অনুভূতিটি শিশুর মধ্যে সৃষ্টিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। শিশুকে বোঝাতে হবে, কৃতজ্ঞতা শুধু উপহার পাওয়ার সঙ্গে জড়িত নয়। মা-বাবার পরিশ্রম, শিক্ষকের সময় ও পরিবারের সদস্যদের যত্নের মূল্যও তাকে বুঝতে হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশুরা কথার চেয়ে কাজ দেখে বেশি শেখে। তাই বাবা-মাকেই আগে কৃতজ্ঞতার চর্চা করতে হবে। ছোট ছোট বিষয়ে অন্যকে ধন্যবাদ জানানো, কারও সাহায্যের প্রশংসা করা অথবা জীবনের ভালো দিকগুলো নিয়ে কথা বলা শিশুর মনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।

শিশুকে অন্যকে সাহায্য করার অভ্যাসও গড়ে তুলতে হবে। কোনো বন্ধু তাকে সাহায্য করলে সেও যেন সুযোগ পেলে অন্যের পাশে দাঁড়ায়। এতে সে বুঝতে শিখবে, কৃতজ্ঞতা শুধুই কথায় নয়, বরং কাজের মাধ্যমেও প্রকাশ করা যায়।

এ ছাড়া সন্তানের মধ্যে 'আমি কী পাইনি' এই ভাবনার পরিবর্তে 'আমি কী পেয়েছি' সেই উপলব্ধি তৈরি করা প্রয়োজন। সমাজের সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের কথা জানানো কিংবা সামাজিক কাজে অংশ নিতে উৎসাহ দিলে সে নিজের প্রাপ্তির মূল্য বুঝতে শিখবে।

মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, শিশুকে অচেনা মানুষের পরিশ্রমের মূল্যও শেখানো দরকার। যেমন পরিচ্ছন্নতাকর্মী, নিরাপত্তাকর্মী অথবা পণ্য পৌঁছে দেওয়া কর্মীদের অবদান সম্পর্কে জানালে তার মধ্যে সহমর্মিতা ও সম্মানবোধ তৈরি হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃতজ্ঞতার শিক্ষা শিশুদের আরও সুখী, সহানুভূতিশীল এবং মানসিকভাবে শক্তিশালী করে তোলে। তাই শুধু ধন্যবাদ শব্দ শেখানো নয়, বরং সন্তানের হৃদয়ে কৃতজ্ঞতার অনুভূতি গড়ে তোলাই হওয়া উচিত পরিবারের প্রধান লক্ষ্য।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%