০৯:৩৮ এম
ঋতু পরিবর্তনের ফলে আবহাওয়ার ওঠানামা শরীরে বিভিন্ন ধরনের অস্বস্তি সৃষ্টি করতে পারে। কখনো গরম, আবার কখনো ঠান্ডা- এমন পরিস্থিতিতে সর্দি-কাশি, গলায় খুসখুস কিংবা শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণের উপসর্গ দেখা দিতে পারে। এই সময় শরীরের যত্ন নেওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন করাও অত্যন্ত জরুরি।
সর্দি-কাশির অস্বস্তি কমানোর জন্য অনেকেই ঘরোয়া উপায়ের ওপর নির্ভর করেন। প্রচলিত এসব উপায়ের মধ্যে পানপাতার ব্যবহার অন্যতম। অতিথি আপ্যায়নে পরিচিত এই পাতাটি দীর্ঘকাল ধরে লোকজ চিকিৎসা ও ঘরোয়া পরিচর্যায় ব্যবহৃত হয়ে আসছে। গলার অস্বস্তি, পেট ফাঁপা কিংবা গাঁটে ব্যথার মতো সমস্যায় পানপাতা ব্যবহারের বিভিন্ন প্রচলিত পদ্ধতি বিদ্যমান। তবে এসব পদ্ধতির কার্যকারিতা সম্পর্কে যথেষ্ট বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। তাই ব্যবহারের আগে সম্ভাব্য ঝুঁকি ও সতর্কতা সম্পর্কে জানা প্রয়োজন।
কাশির অস্বস্তিতে পানপাতা ও গোলমরিচ
আরও পড়ুন: ঘুমিয়ে ৯.৬ লাখ টাকা জিতলেন জিনিয়া চ্যাটার্জি
গলায় খুসখুস, কাশির অস্বস্তি বা গলা বসে যাওয়ার সমস্যায় পানপাতার সঙ্গে গোলমরিচ, তুলসীপাতা ও মিছরি ব্যবহারের প্রচলন রয়েছে। লোকজ পদ্ধতিতে একটি পরিষ্কার পানপাতার সঙ্গে কয়েকটি গোলমরিচ, এক-দুটি তুলসীপাতা ও সামান্য মিছরি চিবিয়ে খাওয়ার কথা বলা হয়।
তবে কাশির পেছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে। ভাইরাসজনিত সংক্রমণ, অ্যালার্জি কিংবা শ্বাসতন্ত্রের অন্যান্য সমস্যার কারণে কাশি হতে পারে। তাই শুধুমাত্র ঘরোয়া পদ্ধতির ওপর নির্ভর না করে উপসর্গের কারণ বোঝা জরুরি। কাশি যদি দীর্ঘস্থায়ী হয় বা ক্রমে বাড়তে থাকে, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। শ্বাসকষ্ট, বুকে ব্যথা কিংবা কাশির সঙ্গে রক্ত বের হলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া প্রয়োজন।
পেট ফাঁপা ও হজমের সমস্যা
পেট ফাঁপা, পেটে ভারী ভাব বা হজমের অস্বস্তি কমাতে অনেকে জোয়ান ব্যবহার করেন। প্রচলিত একটি ঘরোয়া পদ্ধতিতে দুই-তিনটি পানপাতা পানিতে দিয়ে তার সঙ্গে সামান্য জোয়ান মিশিয়ে ফুটিয়ে নেওয়া হয়। পানি কিছুটা কমে এলে তা ঠান্ডা করে অল্প পরিমাণে পান করার কথা বলা হয়।
আরও পড়ুন: ৭ নভেম্বর: ইতিহাসে আলোচিত ঘটনা ও পরিবর্তনগুলো
তবে পানপাতা ও জোয়ান দিয়ে তৈরি এই পানীয় হজমের সমস্যা বা কোষ্ঠকাঠিন্য কমায়— এমন দাবির পক্ষে পর্যাপ্ত নির্ভরযোগ্য বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। পেটের অস্বস্তি বারবার দেখা দিলে এর কারণ নির্ণয় করা জরুরি।
হজমের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া ঠিক রাখতে পর্যাপ্ত পানি পান, আঁশযুক্ত খাবার খাওয়া এবং নিয়মিত শরীরচর্চা সহায়ক হতে পারে। বিশেষ করে শিশুদের চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এ ধরনের ঘরোয়া মিশ্রণ খাওয়ানো উচিত নয়।
গাঁটে ব্যথায় সেঁক
আবহাওয়ার পরিবর্তনের সময় কারও কারও গাঁটে ব্যথা বা অস্বস্তি বাড়তে পারে। এ ধরনের ব্যথা কমাতে লোকজ পদ্ধতিতে পানপাতায় সামান্য সরিষার তেল মাখিয়ে হালকা গরম করে আক্রান্ত স্থানে সেঁক দেওয়ার প্রচলন রয়েছে। কেউ কেউ এর সঙ্গে হলুদও ব্যবহার করেন।
আরও পড়ুন: প্রতিদিন একই খাবার খাওয়ার অভ্যাস শরীরে যেসব প্রভাব ফেলতে পারে
তবে পানপাতা, সরিষার তেল ও হলুদ দিয়ে সেঁক দিলে গাঁটের ব্যথা বা ফোলাভাব কমবে, এমন বৈজ্ঞানিক নিশ্চয়তা নেই। অতিরিক্ত গরম পাতা ত্বকে লাগালে পুড়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। তাই এ ধরনের পদ্ধতি ব্যবহার করার সময় তাপমাত্রার বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।
গাঁটে ব্যথা যদি দীর্ঘস্থায়ী হয়, আক্রান্ত স্থান ফুলে গেলে অথবা চলাফেরায় অসুবিধা দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
ব্যবহারে যেসব সতর্কতা জরুরি
পানপাতার বিভিন্ন উপাদানের সম্ভাব্য স্বাস্থ্যগুণ নিয়ে গবেষণা হয়েছে। তবে কোনো উপাদানের সম্ভাব্য উপকারিতা নিয়ে গবেষণার ফল পাওয়া এবং ঘরোয়া পদ্ধতিতে তা ব্যবহার করে রোগ সারানো এক বিষয় নয়। তাই পানপাতাকে কোনো রোগের নিশ্চিত চিকিৎসা হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়।
আরও পড়ুন: কম ঘুমিয়েও যেভাবে অনেকে সতেজ থাকেন
ঋতু পরিবর্তনে সুস্থ থাকতে যা করবেন
আবহাওয়ার পরিবর্তনের সময় সুস্থ থাকতে পর্যাপ্ত পানি পান, পুষ্টিকর খাবার খাওয়া, নিয়মিত বিশ্রাম এবং ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ। সর্দি-কাশি হলে পর্যাপ্ত ঘুম ও বিশ্রাম নেওয়ার পাশাপাশি অন্যদের মধ্যে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া রোধে সতর্ক থাকতে হবে।
যদি জ্বর দীর্ঘস্থায়ী হয়, শ্বাসকষ্ট দেখা দেয় অথবা শিশুর শ্বাস নিতে অসুবিধা হয়, তাহলে ঘরোয়া টোটকার ওপর নির্ভর না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। মনে রাখতে হবে, ঘরোয়া পদ্ধতি চিকিৎসার বিকল্প নয়।
আরও পড়ুন: পর্যাপ্ত ঘুমের পরও ক্লান্তি কাটছে না? সমস্যায় ভুগছেন জানুন
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন