ঢাকা সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে শিশুকে ছোটবেলা থেকেই যা শেখানো প্রয়োজন


ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে শিশুকে ছোটবেলা থেকেই যা শেখানো প্রয়োজন

সন্তানকে ছোটবেলা থেকেই কৃতজ্ঞ হতে শেখানো অত্যন্ত জরুরি। কারণ কৃতজ্ঞতা শুধুই ভদ্রতা নয়, এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মানবিক গুণ। বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশুকে কেবল মুখে ধন্যবাদ বলতে শেখালেই সে কৃতজ্ঞ হয়ে ওঠে না। বরং, অন্যের ভালোবাসা, যত্ন, পরিশ্রম ও সাহায্যের মূল্য বোঝার মধ্যেই প্রকৃত কৃতজ্ঞতার শিক্ষা নিহিত রয়েছে।

অনেক বাবা-মা সন্তানকে উপহার পেলে বা কেউ কিছু দিলে ধন্যবাদ বলতে শেখান। কিন্তু কেন ধন্যবাদ জানাতে হয়, এই অনুভূতিটি শিশুর মধ্যে সৃষ্টিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। শিশুকে বোঝাতে হবে, কৃতজ্ঞতা শুধু উপহার পাওয়ার সঙ্গে জড়িত নয়। মা-বাবার পরিশ্রম, শিক্ষকের সময় ও পরিবারের সদস্যদের যত্নের মূল্যও তাকে বুঝতে হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশুরা কথার চেয়ে কাজ দেখে বেশি শেখে। তাই বাবা-মাকেই আগে কৃতজ্ঞতার চর্চা করতে হবে। ছোট ছোট বিষয়ে অন্যকে ধন্যবাদ জানানো, কারও সাহায্যের প্রশংসা করা অথবা জীবনের ভালো দিকগুলো নিয়ে কথা বলা শিশুর মনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।

আরও পড়ুন: লম্বা ছুটিতে ভিসা ছাড়া ভ্রমণ করা যাবে ৩৫টি দেশে

শিশুকে অন্যকে সাহায্য করার অভ্যাসও গড়ে তুলতে হবে। কোনো বন্ধু তাকে সাহায্য করলে সেও যেন সুযোগ পেলে অন্যের পাশে দাঁড়ায়। এতে সে বুঝতে শিখবে, কৃতজ্ঞতা শুধুই কথায় নয়, বরং কাজের মাধ্যমেও প্রকাশ করা যায়।

এ ছাড়া সন্তানের মধ্যে 'আমি কী পাইনি' এই ভাবনার পরিবর্তে 'আমি কী পেয়েছি' সেই উপলব্ধি তৈরি করা প্রয়োজন। সমাজের সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের কথা জানানো কিংবা সামাজিক কাজে অংশ নিতে উৎসাহ দিলে সে নিজের প্রাপ্তির মূল্য বুঝতে শিখবে।

মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, শিশুকে অচেনা মানুষের পরিশ্রমের মূল্যও শেখানো দরকার। যেমন পরিচ্ছন্নতাকর্মী, নিরাপত্তাকর্মী অথবা পণ্য পৌঁছে দেওয়া কর্মীদের অবদান সম্পর্কে জানালে তার মধ্যে সহমর্মিতা ও সম্মানবোধ তৈরি হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃতজ্ঞতার শিক্ষা শিশুদের আরও সুখী, সহানুভূতিশীল এবং মানসিকভাবে শক্তিশালী করে তোলে। তাই শুধু ধন্যবাদ শব্দ শেখানো নয়, বরং সন্তানের হৃদয়ে কৃতজ্ঞতার অনুভূতি গড়ে তোলাই হওয়া উচিত পরিবারের প্রধান লক্ষ্য।

আরও পড়ুন: ইলিশের নামে চন্দনা ও সুরমা বিক্রির অভিযোগ, চিনবেন যেভাবে

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সাধারণ কিছু লক্ষণও হতে পারে ব্রেন টিউমারের ইঙ্গিত, অবহেলা নয়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১১ই জুন, ২০২৬ ইং

০৬:৩১ এম


সাধারণ কিছু লক্ষণও হতে পারে ব্রেন টিউমারের ইঙ্গিত, অবহেলা নয়

ব্রেন টিউমার নিয়ে উদ্বেগ বিশ্বজুড়ে ক্রমেই বাড়ছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২০ সালে নতুন করে প্রায় ৩ লাখের বেশি মানুষ এই রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। প্রতি বছর লাখে কয়েকজন করে নতুন করে এই রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন, এবং বিশেষ করে ম্যালিগন্যান্ট ব্রেন টিউমারের ক্ষেত্রে বেঁচে থাকার হার ৩০ শতাংশেরও কম বলে জানা যায়। বিশেষজ্ঞদের মতামত হলো, সময়মতো রোগ শনাক্ত করতে পারলে চিকিৎসার সাফল্যের সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায়।

বিশ্ব ব্রেন টিউমার দিবস, প্রতি বছর ৮ জুন পালিত হয়, যা ব্রেন টিউমার নিয়ে সচেতনতা বাড়ানোর জন্য উদযাপিত হয়। বিশেষজ্ঞরা বলেন, এই রোগের শুরুতে কিছু সাধারণ উপসর্গ দেখা দেয়, কিন্তু অনেকেই সেগুলোর প্রতি গুরুত্ব দেন না। কিন্তু এই বিষয়টি পরবর্তীতে বড় ঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে।

ব্রেন টিউমার সম্পর্কে বললে, এটি হলো মস্তিষ্ক বা তার আবরণে অস্বাভাবিক কোষের বৃদ্ধি হওয়া, যা মস্তিষ্কের স্বাভাবিক কাজকর্মে বাধা সৃষ্টি করে। সাধারণত এটি দুই ধরনের হয়ে থাকে—বিনাইন (সাধারণ) এবং ম্যালিগন্যান্ট (ক্ষতিকর)। যথা সময়ে চিকিৎসা না করালে এটি গুরুতর শারীরিক জটিলতা এমনকি প্রাণঘাতীও হতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সব মাথাব্যথা বিপজ্জনক নয়। তবে কিছু ক্ষেত্রে সতর্ক হওয়া খুবই জরুরি। এর মধ্যে রয়েছে—ঘুম থেকে ওঠার পর তীব্র মাথাব্যথা, বমি বমি ভাব বা বমির সঙ্গে মাথাব্যথা, সময়ের সঙ্গে মাথাব্যথা বাড়ে যে। সাধারণ ওষুধ দিয়ে ব্যথা না কমলে এবং কাশি বা শারীরিক পরিশ্রমে ব্যথা বেড়ে গেলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

ব্রেন টিউমারের লক্ষণগুলো অনেক সময় ধীরে ধীরে প্রকাশ পায়। এর মধ্যে থাকতে পারে—চোখে ঝাপসা দেখা বা ডাবল ভিশন, শ্রবণ শক্তির পরিবর্তন, ভারসাম্য রাখতে অসুবিধা, হাত-পায়ে দুর্বলতা বা অসাড়তা, কথা বলতে সমস্যা, স্মৃতিশক্তি ও মনোযোগ কমে যাওয়া, আচরণে পরিবর্তন বা অস্বাভাবিক খিটখিটে মেজাজ, হঠাৎ খিঁচুনি হওয়া। অনেকেই এসব লক্ষণকে সাধারণ ক্লান্তি বা মানসিক চাপ ধরে উপেক্ষা করেন, যা সত্যিই বিপজ্জনক হতে পারে।

আপনার যদি উপসর্গগুলো দীর্ঘদিন ধরে থাকে, ধীরে ধীরে বাড়ে বা একাধিক লক্ষণ একসঙ্গে দেখা দেয়, তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া অতীব জরুরি। তবে মনে রাখতে হবে, সব উপসর্গের কিন্তু এটাই কারণ নয়—বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এর পেছনে তুলনামূলক কম গুরুতর কারণ থাকে। বিশেষজ্ঞদের মতে, শরীরের অস্বাভাবিক পরিবর্তনকে অবহেলা না করে সময়মতো পরীক্ষা করানোই নিরাপদ এবং দ্রুত শনাক্তকরণই ব্রেন টিউমারের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় সুরক্ষা হিসেবে কাজ করতে পারে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কিডনির পাথর প্রতিরোধে শুধু পানি পানই যথেষ্ট নয়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১১ই জুন, ২০২৬ ইং

০৬:৩৯ এম


কিডনির পাথর প্রতিরোধে শুধু পানি পানই যথেষ্ট নয়

বছরের পর বছর ধরে যাদের কিডনিতে পাথর হওয়ার প্রবণতা রয়েছে, তারা একটি সাধারণ পরামর্শ পেয়েছেন- ‘প্রচুর পানি পান করুন।’ প্রচলিত ধারণা ছিল, বেশি পানি পান করলে প্রস্রাব পাতলা হয়ে যায় এবং পাথর সৃষ্টিকারী খনিজগুলো জমাট বাঁধতে পারে না। তবে বিখ্যাত চিকিৎসাবিজ্ঞান সাময়িকী দ্য ল্যানসেট-এ ২০২৬ সালে প্রকাশিত একটি নতুন গবেষণা এই পুরোনো ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করেছে। গবেষণায় দেখা গেছে, উল্লেখযোগ্য পরিমাণ পানি পানের পরও রোগীদের কিডনিতে পুনরায় পাথর হওয়ার ঝুঁকি আশানুরূপ কমেনি। অর্থাৎ, কিডনির পাথর প্রতিরোধে কেবল পানি পান করাই একমাত্র চূড়ান্ত সমাধান নয়। কিডনিতে খনিজ এবং লবণের জমাট থেকে শক্তভাবে পাথর তৈরি হয়, যা তীব্র ব্যথার সৃষ্টি করে। বিশেষজ্ঞদের মতে, একবার কিডনিতে পাথর হলে পরবর্তী ১০ বছরের মধ্যে আবারও পাথর হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় ৫০ শতাংশ। গবেষণায় ১৬০০ জনেরও বেশি কিডনি পাথরের রোগীকে নিয়ে একটি বড় আকারের পরীক্ষা করা হয়। সেখানে অংশগ্রহণকারীদের বেশি করে পানি পান করার জন্য উদ্বুদ্ধ করা হয়। কিন্তু ফলাফল দেখায়, যারা বেশি পানি পান করেছেন এবং যারা সাধারণ নিয়ম মেনে চলেছেন, তাদের মধ্যে পুনরায় পাথর হওয়ার হারে তেমন কোনো বড় পার্থক্য নেই। এর প্রধান কারণ শুধুমাত্র পানি পানের পরিমাণ বাড়ালেই যে শরীর সঠিকভাবে হাইড্রেটেড হচ্ছে, তার কোনো গ্যারান্টি নেই। চিকিৎসকদের মতে, পাথর প্রতিরোধ করতে হলে প্রতিদিন অন্তত ২.৫ লিটার প্রস্রাব নির্গত হওয়া প্রয়োজন, যা অনেক অংশগ্রহণকারীর জন্য সম্ভব হয়নি। পানি পানের চেয়েও খাদ্যাভ্যাস কিডনির পাথর প্রতিরোধে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। চিকিৎসাবিজ্ঞান সাময়িকী অ্যানালস অব ইন্টারনাল মেডিসিন-এ প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী কিছু কার্যকরী কৌশলঃ লবণ বা সোডিয়ামের পরিমাণ কমানো। খাবারে অতিরিক্ত লবণ প্রস্রাবের মাধ্যমে ক্যালসিয়াম নির্গমন বাড়িয়ে দেয়, যা পাথর তৈরির অন্যতম প্রধান কারণ। পর্যাপ্ত ক্যালসিয়াম গ্রহণ। প্রচলিত ভুল ধারণার বিপরীতে, খাবারে কম ক্যালসিয়াম থাকলে কিডনিতে পাথরের ঝুঁকি বেড়ে যায়। প্রাণিজ প্রোটিন সীমিত করা। অতিরিক্ত মাংস বা প্রোটিন শরীরে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। অক্সালেটযুক্ত খাবার পরিহার। পালং শাক, বিটের মতো উচ্চ-অক্সালেটযুক্ত খাবার অতিরিক্ত পরিমাণে খাওয়া এড়িয়ে চলা উচিত। যাদের বারবার কিডনিতে পাথর হয়, তাদের ক্ষেত্রে শুধু জীবনযাত্রার পরিবর্তন যথেষ্ট নাও হতে পারে। পাথরের ধরন বুঝে চিকিৎসকদের কাছে নির্দিষ্ট ওষুধের প্রয়োজন হতে পারে। এই ধরনের কিছু ওষুধ হলো: পটাশিয়াম সাইট্রেট, যা প্রস্রাবের ক্ষারীয় ভাব বজায় রেখে ক্রিস্টাল বা পাথর জমতে বাধা দেয়; থিয়াজাইড ডাইউরেটিকস, যা প্রস্রাবে ক্যালসিয়ামের মাত্রা কমায়; এবং অ্যালোপিউরিনল, যা শরীরে ইউরিক অ্যাসিডের উৎপাদন হ্রাস করে। বিশেষজ্ঞরা নির্দিষ্টভাবে গ্লাস মেপে পানি পানের চেয়ে প্রস্রাবের রঙের দিকে নজর দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। প্রস্রাবের রঙ হালকা হলুদ বা পানির মতো পরিষ্কার হওয়া সঠিক হাইড্রেশনের লক্ষণ। সাধারণভাবে দৈনিক ২ থেকে ২.৫ লিটার প্রস্রাব তৈরির জন্য যথেষ্ট পানি পান করা উচিত। তবে বাংলাদেশ বা ভারতের মতো গ্রীষ্মপ্রধান দেশে ঘামের মাধ্যমে শরীর থেকে প্রচুর পানি বের হয়ে যায় বলে এখানকার মানুষের পানির প্রয়োজনীয়তা আবহাওয়া ও শারীরিক পরিশ্রম অনুযায়ী আরও বেশি হতে পারে। নতুন এই গবেষণার বার্তা পরিষ্কার, কিডনিতে পাথর রোধ করতে হলে কেবল পানির ওপর নির্ভর না করে একটি সমন্বিত উপায় বেছে নিতে হবে। যেমন: পর্যাপ্ত পানি পান (লক্ষ্য থাকবে প্রস্রাবের পরিমাণের ওপর), লবণ ও প্রোটিন নিয়ন্ত্রিত সুষম খাদ্য তালিকা, শরীরের আদর্শ ওজন বজায় রাখা এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া। তাই ‘যত বেশি পানি, তত কম পাথর’—এই সরল সমীকরণটি এখন পুনর্বিবেচনার সময় এসেছে। কিডনি সুস্থ রাখতে পানির ভূমিকা অবশ্যই আছে, তবে এর সঙ্গে সঠিক ডায়েট এবং সামগ্রিক স্বাস্থ্যের ভারসাম্য বজায় রাখাই আসল সমাধান।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬: এক নজরে গ্রুপ ‘জে’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১১ই জুন, ২০২৬ ইং

০৬:৪৫ এম


ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬: এক নজরে গ্রুপ ‘জে’

 

‘জে’ না হয়ে এই গ্রুপটা ‘গ্রুপ-এ’ হলেও নেহায়েত মন্দ হতো না। এই গ্রুপে যে আছে ইংরেজি বর্ণ ‘এ’ আদ্যক্ষরের তিন দল আর্জেন্টিনা, আলজেরিয়া, অস্ট্রিয়া! আর্জেন্টিনা বাদে বাকি দুই দল অবশ্য এখানে আসছে বেশ বড় বিরতির পর। ১২ বছর পর এসেছে আলজেরিয়া, অস্ট্রিয়া ফিরছে ২৮ বছর পর।

আদ্যক্ষরের হিসেবে অবশ্য গ্রুপের অন্য দলটি যথার্থ গ্রুপেই পড়েছে– জর্ডান। এই দলটি এবার প্রথমবারের মতো এসেছে বিশ্বকাপে।

এই গ্রুপের প্রতিটি দলের সূচি, শক্তিসামর্থ্য, দুর্বলতা ও চ্যালেঞ্জসহ আদ্যোপান্ত জেনে নেওয়া যাক

গ্রুপ জে-র ম্যাচসূচি

১৬ জুন ২০২৬, আর্জেন্টিনা-আলজেরিয়া, কানসাস সিটি

১৬ জুন ২০২৬, অস্ট্রিয়া-জর্ডান, সান ফ্রান্সিসকো বে এরিয়া

২২ জুন ২০২৬, আর্জেন্টিনা-অস্ট্রিয়া, ডালাস

২২ জুন ২০২৬, জর্ডান-আলজেরিয়া, সান ফ্রান্সিসকো বে এরিয়া

২৭ জুন ২০২৬, আলজেরিয়া-অস্ট্রিয়া, কানসাস সিটি

২৭ জুন ২০২৬, জর্ডান-আর্জেন্টিনা, ডালাস

দল প্রিভিউ– আর্জেন্টিনা

আর্জেন্টিনা এই বিশ্বকাপে ৩৬ বছর পর যাচ্ছে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন হিসেবে। কোচ লিওনেল স্কালোনির নেতৃত্বে দলটি অনেক সংগঠিত ও শক্তিশালী, এই মুহূর্তে বিশ্ব র‍্যাঙ্কিংয়ের সেরাও।

আর্জেন্টিনার এই দলের কেন্দ্রীয় চরিত্রগুলো ২০২২ বিশ্বকাপ থেকে বদলায়নি একটুও। সেই বিশ্বকাপের বেশিরভাগ মূল খেলোয়াড়ই এবার দলে আছেন।

দলটির সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয় হলো লিওনেল মেসি। তিনি বেশ ছন্দে আছেন। বিশ্বকাপের ঠিক আগে প্রস্তুতি ম্যাচে ২০ মিনিটের মতো খেলেই বুঝিয়ে দিয়েছেন, নিজের সেরাটা দিতে প্রস্তুত তিনি।

আক্রমণ

আর্জেন্টিনার আক্রমণভাগ অত্যন্ত শক্তিশালী ও বৈচিত্র্যময়। লাউতারো মার্টিনেজ দলের প্রধান স্ট্রাইকার। সিরি আতে তিনি এই মুহূর্তে ক্যারিয়ারের সেরা ফর্মে আছেন। তিনি বক্সের ভেতরে অত্যন্ত ক্লিনিক্যাল এবং দুর্দান্ত লিঙ্কআপ প্লে করেন। হুলিয়ান আলভারেজের অক্লান্ত প্রেসিং ও বুদ্ধিদীপ্ত মুভমেন্ট দলের জন্য অনেক জায়গা তৈরি করে।

মেসির অনুপস্থিতিতে নিকো পাজও সৃজনশীল ভূমিকা পালন করতে পারবেন বলে মনে করা হচ্ছে। মৌরিতানিয়ার বিপক্ষে পাজ দুর্দান্ত একটি ফ্রি কিক থেকে গোল করেছিলেন। আর মেসি যখন খেলবেন তখন দলের পুরো আক্রমণ কাঠামোটাই তাকে কেন্দ্র করে পরিবর্তিত হবে।

মিডফিল্ড

আর্জেন্টিনার মিডফিল্ড বেশ শক্তিশালী। এনজো ফার্নান্দেজ ও অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার মিডফিল্ডের দুই স্তম্ভ। এই দুজন আর্জেন্টিনার প্রেসিং স্ট্রাকচার ধরে রাখেন। রদ্রিগো দে পল মিডফিল্ডের ইঞ্জিন হিসেবে কাজ করেন। তিনি মাঠের বিশাল এলাকা কভার করেন এবং বলের জন্য অক্লান্ত লড়াই করেন। এই মিডফিল্ড ত্রয়ীকে নিয়ে দলটি ট্রানজিশনে বাড়তি গতি পেয়ে আরও বিপজ্জনক হয়ে ওঠে।

রক্ষণ

এমিলিয়ানো মার্টিনেজ এই মুহূর্তে বিশ্বের সেরা গোলরক্ষকদের একজন বলে ধরা হয়। কাতার ২০২২ বিশ্বকাপে তিনি গোল্ডেন গ্লাভ জিতেছিলেন। রক্ষণে ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো অত্যন্ত আক্রমণাত্মক ও শক্তিশালী একজন সেন্টারব্যাক। নিকোলাস ওতামেন্দি অভিজ্ঞ জুটি হিসেবে তার পাশে থাকেন। নাহুয়েল মলিনা ডান দিক থেকে নিয়মিত আক্রমণে যোগ দেন এবং দলের জন্য অনেক সুযোগ তৈরি করেন। বাম দিকে তালিয়াফিকো ভারসাম্য ও স্থিতিশীলতা দেন।

সম্ভাব্য একাদশ

এমিলিয়ানো মার্টিনেজ; মোলিনা, ওতামেন্দি, লিসান্দ্রো মার্টিনেজ, তাগলিয়াফিকো; ফার্নান্দেজ, দে পল; মেসি, ম্যাক অ্যালিস্টার, আলভারেজ; লাউতারো মার্টিনেজ

সেট পিস তথ্য

কর্নার: লিওনেল মেসি, রোদ্রিগো দে পল, অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার, হুলিয়ান আলভারেজ

ডিরেক্ট ফ্রি কিক: লিওনেল মেসি, নিকো পাজ

পেনাল্টি: লিওনেল মেসি, লাউতারো মার্টিনেজ, হুলিয়ান আলভারেজ

চ্যালেঞ্জ

চোটের কারণে একাধিক খেলোয়াড় যেমন লিয়ান্দ্রো পারেদেস, এমিলিয়ানো মার্তিনেজ, হুলিয়ান আলভারেজকে নিয়ে শঙ্কা আছে। বিশ্বকাপের আগে তাদের সেরে ওঠাটা খুব জরুরি।

মেসি গ্রুপপর্বের তৃতীয় ম্যাচের ঠিক আগে ৩৯ বছর পূর্ণ করবেন। তাকে খেলানো নিয়েও বাড়তি সতর্ক থাকতে হবে কোচ স্কালোনিকে।

আলজেরিয়া কমপ্যাক্ট ডিফেন্স সাজিয়ে আর্জেন্টিনার ট্রানজিশন গেম বন্ধ করার চেষ্টা করবে। ওদিকে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে কোচ রালফ র‍্যাগনিকের প্রেসিং ফুটবল ‘গেগেনপ্রেসিং’য়ের সামনে পড়তে হবে তাদের।

এদিকে তাপমাত্রার বিষয়টিও মাথায় রাখতে হবে। উত্তর আমেরিকার গ্রীষ্মে খেলা সহজ নয়।

দল প্রিভিউ– আলজেরিয়া

আলজেরিয়া ২০১৪ সালের পর আবার বিশ্বকাপে ফিরেছে। ১২ বছরের অপেক্ষার পর তারা এই মঞ্চে এসেছে। ক্যাফ বাছাইপর্বের গ্রুপ জি থেকে তারা দুর্দান্তভাবে কোয়ালিফাই করেছে। ১০টি ম্যাচে ৮টি জিতে ও উগান্ডার চেয়ে ৭ পয়েন্ট এগিয়ে থেকে তারা গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে।

কোচ ভ্লাদিমির পেটকোভিচ আগে সুইজারল্যান্ডকে ইউরো ২০২০ কোয়ার্টার ফাইনাল ও ২০১৮ বিশ্বকাপের রাউন্ড অফ ১৬ পর্যন্ত নিয়ে গিয়েছিলেন। ফলে তার ওপরও নজর থাকবে বৈকি!

আক্রমণ

রিয়াদ মাহরেজ এই দলের প্রাণ, ১০৭ ক্যাপের অভিজ্ঞতা তার কাঁধে। ম্যানচেস্টার সিটিতে প্রিমিয়ার লিগ শিরোপা ও চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন এই ৩৫ বছর বয়সী তারকা ডানদিক থেকে দারুণ সব সুযোগ তৈরি করতে পারেন, তা ম্যাচের গতিপথ পাল্টে দিতে সক্ষম। এটি তার শেষ বিশ্বকাপ; সেই আবেগটাই হয়তো তাকে আরও ধারালো করে তুলবে।

মোহাম্মদ আমুরা এই দলের সবচেয়ে বিপজ্জনক অস্ত্র। বাছাইপর্বয়ে দশটি গোল করা এই স্ট্রাইকারের গতি ও ফিনিশিং যেকোনো রক্ষণের জন্য দুঃস্বপ্ন। ছয় ফুটের এই ফরোয়ার্ড শুধু দৌড়ে নয়, বুদ্ধিতেও প্রতিপক্ষকে ছাড়িয়ে যেতে পারেন।

আমিন গোইরি হলেন দলের তৃতীয় অ্যাটাকার। তার বুদ্ধিদীপ্ত মুভমেন্ট এবং ফাইনাল থার্ডে টেকনিক্যালিটি তাকে সব পজিশনে সমানভাবে কার্যকর করে তোলে।

হোসেম আউয়ার মিডফিল্ড থেকে লেট রান নিয়ে বক্সে ঢুকতে পারেন, গোলও করতে পারেন। গুয়াতেমালা ম্যাচে তার গোলটি তার সেরা উদাহরণ।

আলজেরিয়ার আক্রমণ সবচেয়ে ধারালো হয় যখন ওয়াইড অ্যাটাকাররা স্পেস পান, আর তা কাজে লাগান। আমুরার প্রতিপক্ষ রক্ষণকে ব্যস্ত রাখতে পারলে পেছন থেকে আউয়ার বা গোইরি সুযোগ নিতে পারেন।

মিডফিল্ড

ইসমাইল বেন্নাসের প্রভাব এই দলের মিডফিল্ডে অতুলনীয়। তার ডিফেন্সিভ সচেতনতা ও চাপের মধ্যে বল ধরে রাখার ক্ষমতা দলকে চার অ্যাটাকার খেলানোর সুযোগ করে দেয়।

বুদাউই তার সঙ্গে পিভট জুটিতে খেলবেন। তার সঙ্গে চাইবি অতিরিক্ত সৃজনশীলতা যোগ করেন।

রক্ষণ

রামি বেনসেবাইনি বুন্দেসলিগার অভিজ্ঞতা এনেছেন বরুসিয়া ডর্টমুন্ড থেকে এবং বাছাইপর্ব জুড়ে নির্ভরযোগ্য ছিলেন। রায়ান আইত-নুরি ম্যানচেস্টার সিটিতে যোগ দেওয়ার পর থেকে লেফট ফুলব্যাক হিসেবে রক্ষণ আর আক্রমণ দুই দিকেই কার্যকর হয়ে উঠেছেন।

গোলরক্ষক হিসেবে লুকা জিদান স্পেনের দ্বিতীয় বিভাগে কঠিন মৌসুম পার করেছেন, তবু কোচ পেতকোভিচ তাকেই ধরে রেখেছেন, যদিও বড় ম্যাচে এই সিদ্ধান্ত প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে।

সম্ভাব্য একাদশ

জিদান; বেলঘালি, মান্দি, বেনসেবাইনি, আইত-নুরি; বুদাউই, চাইবি; মাহরেজ, আউয়ার, আমুরা; গোইরি

সেট পিস তথ্য

কর্নার: রিয়াদ মাহরেজ, হোসেম আউয়ার, আমিন গোইরি, ইসমাইল বেন্নাসের

ডিরেক্ট ফ্রি কিক: রিয়াদ মাহরেজ, হোসেম আউয়ার

পেনাল্টি: রিয়াদ মাহরেজ, মোহাম্মদ আমুরা

চ্যালেঞ্জ

মাহরেজের বয়স ও ফিটনেস ম্যানেজমেন্ট আরেকটি জটিল হিসেব। তিনটি গ্রুপ ম্যাচে ৯০ মিনিট করে খেলা তার জন্য কঠিন হতে পারে। পেতকোভিচ কীভাবে তার মিনিট নিয়ন্ত্রণ করবেন সেটা বড় প্রশ্ন, কারণ মাহরেজ ছাড়া দলের সার্বিক মান অনেকটাই কমে যায়।

গোলরক্ষক জিদানের সময় ভালো কাটছে না। উচ্চমানের আক্রমণের মুখে কেমন করবেন, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।

দল প্রিভিউ– অস্ট্রিয়া

১৯৯৮ সালের পর প্রথমবার বিশ্বকাপে ফিরছে অস্ট্রিয়া, আটাশ বছরের অপেক্ষার অবসান হয়েছে তাদের। কোচ র‍্যাল্ফ র‍্যাগনিক আধুনিক ফুটবলের অন্যতম প্রভাবশালী চিন্তক, যার প্রেস-নির্ভর দর্শন ক্লাব পর্যায়ে বেশ সমাদৃত।

ইউরোপীয় বাছাইপর্বে ছয় জয় ও এক ড্রয়ে গ্রুপ শীর্ষে থেকে এবং ২২ গোল করে মাত্র চারটি হজম করে অস্ট্রিয়া জানান দিয়েছে এই দলটি স্রেফ হাজিরা দিতে আসেনি।

আক্রমণ

মার্সেল সাবিত্জার এই দলের সৃজনশীল হৃদয়। ত্রেকোয়ার্তিস্তা বা ফাইনাল প্লেমেকারের ভূমিকায় গোল এবং সুযোগ উভয়ই তৈরি করতে পারেন।

৩৭ বছর বয়সী মার্কো আর্নাউটোভিচ অস্ট্রিয়ার সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা, ১৩০ ম্যাচে তিনি করেছেন ৪৭ গোল। বয়স নিঃসন্দেহে প্রশ্ন, কিন্তু তার ফিজিক্যাল প্রেজেন্স, হেডার এবং হোল্ড-আপ প্লে এখনও বিশ্বমানের।

কনরাড লাইমার বায়ার্ন মিউনিখের খেলোয়াড় যিনি রক্ষণ ও মিডফিল্ড উভয় ভূমিকায় সমান স্বচ্ছন্দ। তার শক্তি ও প্রেসিং তীব্রতা র‍্যাগনিকের সিস্টেমকে দারুণ প্রাণশক্তি দেয়।

কার্নি চুকওয়ামেকা সবচেয়ে নতুন সংযোজন। বরুসিয়া ডর্টমুন্ডের এই উইঙ্গার আগে ইংল্যান্ড যুব দলে খেলেছিলেন, ফিফার ছাড়পত্র পেয়ে অস্ট্রিয়ার হয়ে অভিষেক ম্যাচেই গোল করেছেন। তার ডিরেক্ট রান ও টেকনিক্যাল দক্ষতা এখন ওয়াইড স্পেসেও অস্ট্রিয়াকে বেশ শক্তি যোগাচ্ছে।

র‍্যাগনিকের সিস্টেমে আক্রমণ কোনো একক প্রতিভার ওপর নির্ভর করে না। পুরো দল প্রেস করে বল জেতে, দ্রুত ট্রানজিশনে গোল করে এবং প্রতিটি পজিশনে একাধিক খেলোয়াড় এই দর্শন বোঝেন।

মিডফিল্ড

নিকোলাস সাইওয়ালড ও জাভার শ্লাগার ডাবল পিভট হিসেবে র‍্যাগনিকের ৪-২-৩-১ ছককে স্থিতিশীল রাখেন। সাইওয়ালড ঘানা ম্যাচে স্টপেজ টাইমে গোল করে দেখিয়েছেন যে তিনি শুধু রক্ষণাত্মক দায়িত্ব পালন করেন না। ফ্লোরিয়ান গ্রিলিৎশ তৃতীয় অপশন হিসেবে গভীরতা যোগ করেন। এই জুটির একটি দুর্বলতা হলো- দীর্ঘ সময় ধরে বল পায়ে রাখতে পারে না।

রক্ষণ

কেভিন দানসো টটেনহামে প্রিমিয়ার লিগের অভিজ্ঞতা নিয়ে এসেছেন এবং সেন্টার ব্যাকে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য অপশন। মার্কো ফ্রিডল এবং ফিলিপ লিয়েনহার্ট গভীরতা যোগ করেন।

ডেভিড আলাবা যদি সুস্থ থাকেন, তৃতীয় সেন্টার-ব্যাক অপশন হিসেবে আদর্শ কিন্তু রিয়াল মাদ্রিদ ডিফেন্ডারের চোটের ইতিহাস এবার একটি বড় প্রশ্নচিহ্ন।

সম্ভাব্য একাদশ

আ. শ্লাগার; লাইমার, ফ্রিডল, দানসো, মওয়েনে; জা. শ্লাগার, সাইওয়ালড; শ্মিড, গ্রেগোরিৎশ, সাবিত্জার; আর্নাউটোভিচ

সেট পিস তথ্য

কর্নার: মার্সেল সাবিত্জার, নিকোলাস সাইওয়ালড

ডিরেক্ট ফ্রি কিক: মার্সেল সাবিত্জার, মার্কো আর্নাউটোভিচ, ডেভিড আলাবা

পেনাল্টি: মার্সেল সাবিত্জার, মার্কো আর্নাউটোভিচ

চ্যালেঞ্জ

গোলরক্ষকের অনিশ্চয়তা একটি সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়ে আছে অস্ট্রিয়ার সামনে। টুর্নামেন্ট শুরুর এত কাছে এসেও পেন্টজ-শ্লাগার বিতর্ক সমাপ্ত না হওয়া মানে দলের মধ্যে একটি অনিশ্চয়তার বীজ রয়ে গেছে।

উত্তর আমেরিকার গরম বয়স্ক আর্নাউটোভিচকে কতটা সমস্যায় ফেলবে, সেটা বড় প্রশ্ন। তিনটি ম্যাচে কার্যকর থাকতে হলে রোটেশন দরকার; কিন্তু তার বিকল্প হিসেবে যে ফরোয়ার্ড অপশন আছে, তারা একই মান রাখতে পারবেন কিনা সন্দেহ।

র‍্যাগনিকের ইনটেনসিটি-ভিত্তিক প্রেসিং গেম আর্জেন্টিনার বিপক্ষে কতটা ধরে রাখা যাবে সেটা আরেকটি পরীক্ষা। ২২ জুন ডালাসে ওই ম্যাচে প্রথম ২০ মিনিটের চাপ সামলানো না গেলে আর্জেন্টিনার দ্রুত কাউন্টার অ্যাটাক মারাত্মক হতে পারে।

দল প্রিভিউ– জর্ডান

জর্ডানের বিশ্বকাপে এসেছে এএফসি গ্রুপ বি-তে দ্বিতীয় হয়ে এবং ২০২৫ সালের জুনে ওমানকে ৩-০ গোলে হারিয়ে নিশ্চিত হয় তাদের বিশ্বকাপ যাত্রা। কোচ জামাল সেলামি, মরক্কোন এই কোচ ২০১৮ আফ্রিকান নেশনস কাপ জিতেছেন। গত বারো ম্যাচে মাত্র দুটিতে হেরেছে তার দল, গেল ডিসেম্বরে আরব কাপের ফাইনালেও তুলেছেন এই দলকে।

আক্রমণ

মুসা আল তামারি হলেন জর্ডানের একমাত্র খেলোয়াড় যিনি ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগে খেলছেন ফরাসি লিগ ১-এ রেন্সের হয়ে। ২০২৪ এশিয়ান কাপ সেমিফাইনালে দক্ষিণ কোরিয়ার বিরুদ্ধে ঐতিহাসিক ২-০ জয়ে গোল ও অ্যাসিস্ট করেছিলেন তিনি। বাম বা ডান উভয় উইংয়ে খেলতে পারেন, ফিনিশ করতে পারেন এবং সুযোগ তৈরি করতে পারেন।

আলি ইয়াদ আলি আল-ওলওয়ান ও মোহান্নাদ মাহমুদ সালেহ আবু তাহা ওয়াইড স্পেস থেকে আক্রমণে ওঠেন, দুইজনেরই আছে দ্রুতগতি। দুই জনেই কাউন্টারে জায়গা তৈরি করতে সক্ষম, যা সেলামির মূল কৌশলের সঙ্গে মিলে যায়। সেট পিস আলাদাভাবে অস্ত্র হিসেবে কাজ করে বাছাইপর্ব ও আরব কাপে জর্ডান বারবার ডেড বল থেকে গোল করেছে।

জর্ডানের আক্রমণ মূলত কাউন্টার-ভিত্তিক। নিজেদের অর্ধে ডিপ ব্লক, সেখান থেকে বল জিতে তা আল তামারির পায়ে পাঠান… এই সরল কিন্তু কার্যকর পরিকল্পনাতেই সফল জর্ডান।

মিডফিল্ড

আল-রাশদান ও আল-রাওয়াবদেহ কেন্দ্রীয় মিডফিল্ডে কাঠামো ধরে রাখেন। তাদের মূল কাজ হলো প্রতিপক্ষের বল সরবরাহের পথ আগলে রাখা, বল জিতে দ্রুত আল তামারির কাছে পৌঁছে দেওয়া। কোনো কারণে দুজনের একজন যদি বাদ পড়েন, তাহলে দলটির পারফর্ম্যান্সেও বেশ হেরফের হতে পারে।

রক্ষণ

ইয়াজিদ মো'ইন হাসান আবুলাইলা গোলরক্ষক হিসেবে বাছাইপর্ব জুড়ে নির্ভরযোগ্য ছিলেন। ইয়াযান আল-আরাব ও আবদাল্লাহ মুসা মুসাল্লাম নাসিব সেন্টার ব্যাকে ইস্পাত-কঠিন এবং সংগঠিত। পুরো ব্যবস্থাটি জর্ডানীয় প্রো লিগের অভিজ্ঞতার উপর দাঁড়িয়ে যার মানে আর্জেন্টিনা বা অস্ট্রিয়ার মতো দলের বিপক্ষে তারা এমন ধরনের চাপের সামনে পড়বেন, তা তারা আগে কখনও সামলাননি।

সম্ভাব্য একাদশ

আবুলাইলা; আল-আরাব, নাসিব, আবু দাহাব; হাদ্দাদ, আল-রাশদান, আল-রাওয়াবদেহ, আবু তাহা; আল তামারি, আল-ওলওয়ান, আল-মার্দি

সেট পিস তথ্য

কর্নার: মুসা আল তামারি, মোহান্নাদ মাহমুদ সালেহ আবু তাহা

ডিরেক্ট ফ্রি কিক: মুসা আল তামারি

পেনাল্টি: মুসা আল তামারি

চ্যালেঞ্জ

আর্জেন্টিনা ও অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে প্রথম ২০ মিনিট টিকে থাকাটাই জর্ডানের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা। দুটি দলই হাই প্রেস থেকে তাৎক্ষণিক সুযোগ তৈরি করতে পারে এবং যদি প্রথম গোলটি খুব তাড়াতাড়ি এসে যায়, তাহলে জর্ডানের কাউন্টার-পরিকল্পনা অর্থহীন হয়ে পড়ে।

আল তামারির শারীরিক সতেজতা তিনটি ম্যাচ জুড়ে ধরে রাখাটা সেলামির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যবস্থাপনার সিদ্ধান্ত। তিনি জর্ডানের একমাত্র আন্তর্জাতিক মানের অ্যাটাকার একজন, তাকে ক্লান্ত করে দিতে পারলে দলটির ধারও কমে যায় অনেকটা।

আলজেরিয়ার বিপক্ষে ২২ জুনের ম্যাচটি বাস্তবিকভাবে জর্ডানের পয়েন্ট নেওয়ার সেরা সুযোগ। কিন্তু সেই ম্যাচে পৌঁছানোর আগে প্রথম দুটি ম্যাচে দলের মনোবল এবং রক্ষণের ঐক্য অটুট থাকাটা অপরিহার্য।

জর্ডান ইতিহাসের সবচেয়ে বড় উপলক্ষে খেলছে এবং সেই ভার কখনও কখনও সবচেয়ে প্রস্তুত দলকেও চাপে ফেলে দেয়। সেই মনস্তাত্ত্বিক চ্যালেঞ্জটিকে শক্তিতে রূপান্তর করার ক্ষমতা সেলামির নেতৃত্বের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।

গ্রুপ জে প্রেডিকশন

আর্জেন্টিনা এই গ্রুপ জেতার জন্য ফেভারিট। বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের স্কোয়াডের গভীরতা, বোঝাপড়া এবং স্কালোনির ট্যাকটিক্যাল নমনীয়তা জর্ডান ও আলজেরিয়ার বিপক্ষে পয়েন্ট নিশ্চিত করার জন্য যথেষ্ট হতে পারে। মেসি যদি পুরো ফিটনেসে খেলেন, তাহলে আর্জেন্টিনার প্রতিটি ম্যাচ আরও ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠে।

দ্বিতীয় স্থানের লড়াইটাই এই গ্রুপের আসল গল্প। অস্ট্রিয়া ও আলজেরিয়া এখানে সমান দাবিদার। অস্ট্রিয়ার বাছাইপর্ব রেকর্ড ভালো, র‍্যাগনিকের সিস্টেম প্রমাণিত এবং দলের কাঠামো টুর্নামেন্ট ফুটবলের জন্য তৈরি। আলজেরিয়ার আক্রমণের মেধা মাহরেজ, আমুরা, গোইরির সমন্বয় অস্ট্রিয়ার সামনে লাইনের চেয়ে ব্যক্তিগতভাবে অনেক বেশি প্রতিভাবান।

মূল মুহূর্তটি আসবে ২৭ জুন কানসাস সিটিতে আলজেরিয়া বনাম অস্ট্রিয়া। সেই ম্যাচে আলজেরিয়া জিতলে দ্বিতীয় স্থান তাদের। অস্ট্রিয়া ড্র বা জয় তুললে র‍্যাগনিকের কৌশলগত শ্রেষ্ঠত্ব তাদের টিকিয়ে রাখবে।

ওদিকে জর্ডান একটি শক ফলাফল উপহার দিতে চাইবে সবাইকে। ২০২২-এ সৌদি আরব যেমন আর্জেন্টাকে হারিয়েছিল, ঠিক তেমন করে। কিন্তু সেই অলৌকিক মুহূর্ত না এলে, তাদের প্রথম বিশ্বকাপ অধ্যায়টি হবে গর্বের, তবে গ্রুপ পর্বেই শেষ হয়ে যাবে তা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হরমুজ প্রণালী বন্ধের ঘোষণা দিল ইরান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১১ই জুন, ২০২৬ ইং

০৬:৪৯ এম


হরমুজ প্রণালী বন্ধের ঘোষণা দিল ইরান

ইরান হরমুজ প্রণালী বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে। মার্কিন হামলা শুরু হওয়ার পরে দেশটির শীর্ষ সামরিক কমান্ড এ ঘোষণা দিয়েছেন।

বুধবার (১০ জুন) ইরানের বার্তা সংস্থা মেহেরের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ইরানের শীর্ষ সামরিক কমান্ড থেকে তেলবাহী ট্যাঙ্কার ও বাণিজ্যিক জাহাজসহ সব ধরনের নৌযানের জন্য হরমুজ প্রণালী বন্ধ রাখার নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।

আইআরজিসি উল্লেখ করেছে যে, যদি কোন জাহাজ এই পথ দিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে, তাহলে সেটিকে লক্ষ্যবস্তু করা হবে। আমেরিকান আগ্রাসনের প্রতিবাদেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ইরানের সেনাবাহিনী।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, আমেরিকা ইরানের একাধিক লক্ষ্যবস্তুতে আবারও আত্মরক্ষার্থে হামলা শুরু করেছে।

সেন্টকম আরও জানিয়েছে যে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশেই এই হামলা চালানো হচ্ছে এবং এগুলো ইরানের অযাচিত আগ্রাসনের প্রতি জবাব।

সেন্টকমের এই ঘোষণার পরে বার্তা সংস্থা মেহের ইরানের ফার্স নগরীতে বিস্ফোরণের খবর জানিয়েছে। তারা আরও জানায়, শহরটির বাইরে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়েছে।

সুত্র: আল জাজিরা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%