ঢাকা শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০১ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০১ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ফিলাডেলফিয়ায় কবুতর দেখতে পর্যটকদের ৯০ মিনিটের ব্যতিক্রমী ভ্রমণে ভিড়


ফিলাডেলফিয়ায় কবুতর দেখতে পর্যটকদের ৯০ মিনিটের ব্যতিক্রমী ভ্রমণে ভিড়

যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়া শহরে পর্যটকদের জন্য জনপ্রিয় দর্শনীয় স্থানগুলোর মধ্যে এত দিন স্বাধীনতার ঘণ্টা, স্বাধীনতা হল এবং বিখ্যাত রকি সিঁড়ি অন্তর্ভুক্ত ছিল। তবে, সম্প্রতি এই তালিকায় যুক্ত হয়েছে একটি নতুন আকর্ষণ—কবুতর দেখা। শহরের বিভিন্ন স্থানে কবুতর দেখানোর জন্য বিশেষ ভ্রমণের আয়োজন করছেন দুই নারী। তাদের এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ এখন পর্যটকদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে।

হান্না মিশেল ব্রাওয়ার এবং তার সঙ্গী অ্যাসপেন সিমোন মিলে শুরু করেছেন ‘ফিলি পিজন ট্যুরস’ নামের একটি ভ্রমণসেবা। এই সেবার মাধ্যমে পর্যটকদের শহরের বিভিন্ন এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে কবুতরের আনাগোনা বেশি দেখা যায়। প্রায় ৯০ মিনিটের এই ভ্রমণে অংশগ্রহণকারীরা কবুতরের জীবনযাপন, আচরণ ও বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারেন।

ভ্রমণবিষয়ক ওয়েবসাইট ট্রিপঅ্যাডভাইজারের তালিকায় এই আয়োজনটি ফিলাডেলফিয়া শহরের তৃতীয় জনপ্রিয় আকর্ষণ হিসেবে স্থান পেয়েছে।

আরও পড়ুন: ভূতিয়ার বিলের ‘পদ্ম-শাপলা’ ছড়াচ্ছে মুগ্ধতা

হান্না মিশেলের মতে, শহরে বসবাসকারী মানুষ প্রায় প্রতিদিনই কবুতর দেখেন। কিন্তু বারবার চোখে পড়লেও বেশির ভাগ মানুষ পাখিগুলোর দিকে মনোযোগ দেন না। তাদের এই ভ্রমণের উদ্দেশ্য হলো, পরিচিত এই পাখিগুলোর প্রতি মানুষের কৌতূহল বাড়ানো।

ভ্রমণের সময় অংশগ্রহণকারীরা কবুতর সম্পর্কে নানা প্রশ্নের উত্তর জানতে পারেন। যেমন, কবুতরগুলো প্রায়ই একই দিকে মুখ করে থাকে কেন? অ্যাসপেন সিমোন জানান, কবুতর সাধারণত বাতাসের দিকে মুখ করে থাকে। কারণ, তাদের পালক সামনের দিক থেকে পেছনের দিকে সাজানো, যা বাতাসের প্রবাহের সঙ্গে মানিয়ে চলতে সাহায্য করে।

কবুতর নিয়ে হান্না মিশেলের আগ্রহের শুরু খুব বেশি দিনের নয়। চার বছর আগে তিনি কবুতর পছন্দ করতেন না। কিন্তু একদিন অসুস্থ বা আহত বলে মনে হওয়া একটি কবুতর দেখতে পেয়ে তার দৃষ্টিভঙ্গি বদলে যায়।

পাখিটিকে ফেলে চলে যেতে পারেননি তিনি। বরং যত্ন নিয়ে সেটিকে সুস্থ করে তোলেন। হান্না জানান, পাখিটি ছিল খুব মিষ্টি ও এলোমেলো পালকের। তার যত্ন নিতে গিয়ে তিনি কবুতরের প্রতি গভীর মমতা অনুভব করতে শুরু করেন।

আরও পড়ুন: সর্দি-কাশি ও গাঁটে ব্যথা কমাতে পানপাতার উপকারিতা

পাখিটির নাম রাখা হয় প্রিমরোজ। বর্তমানে সেটি পুরোপুরি গৃহপালিত। গোসল করা, বিশেষভাবে পালকের যত্ন নেওয়া এবং মানুষের আদর পেতে ভালোবাসে সে।

হান্না মিশেল বলেন, তাদের বাসায় প্রায়ই কোনো না কোনো কবুতর চলে আসে। বিষয়টি তাদের কাছে একই সঙ্গে অদ্ভুত ও আনন্দের।

কবুতর দেখার এই আয়োজনকে অনেকে অদ্ভুত মনে করলেও এর পেছনে রয়েছে ভিন্ন একটি ভাবনা। প্রতিদিন চোখের সামনে থাকা কোনো কিছুর প্রতিও কীভাবে নতুন করে আগ্রহ তৈরি করা যায়, তা মানুষকে শেখাতে চান আয়োজকেরা।

হান্না মিশেলের ভাষ্য, প্রতিদিন যেসব জিনিসের পাশ দিয়ে মানুষ হেঁটে যায়, সেগুলোর প্রতিও কৌতূহলী হওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলার একটি উপায় হতে পারে এই ভ্রমণ।

আরও পড়ুন: পর্নোগ্রাফির আসক্তির ক্ষতি ও মুক্তির উপায় নিয়ে আলোচনা

ফিলাডেলফিয়ার এই ব্যতিক্রমী আয়োজন তাই শুধু কবুতর দেখার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। পরিচিত পরিবেশ ও সাধারণ প্রাণীদেরও নতুন চোখে দেখার সুযোগ করে দিচ্ছে এটি।

সূত্র: সিবিএস নিউজ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ব্রাজিলে আমাজনের বন উজাড় রেকর্ড পরিমাণে কমেছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:০২ এম


ব্রাজিলে আমাজনের বন উজাড় রেকর্ড পরিমাণে কমেছে

ব্রাজিলের আমাজন ও সাভানা অঞ্চলে বন উজাড়ের হার রেকর্ড পরিমাণে কমে এসেছে। সরকারি তথ্য এবং স্যাটেলাইট উপাত্তের ভিত্তিতে দেখা যাচ্ছে, বর্তমান বামপন্থী প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভার কঠোর পরিবেশগত নীতির কারণে এই অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জিত হয়েছে। প্রেসিডেন্ট লুলা ঘোষণা করেছেন যে ২০৩০ সালের মধ্যে অবৈধভাবে গাছ কাটা ও বন উজাড় সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করা হবে।

স্যাটেলাইটের তথ্য অনুযায়ী, বিবিসি জানাচ্ছে, ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত এক বছরের মধ্যে আমাজনে বন উজাড়ের হার ৪১.৮ শতাংশ কমেছে, যা ১৯৮৮ সালে তথ্য সংগ্রহ শুরু হওয়ার পর থেকে সবচেয়ে বড় হ্রাস। একই সঙ্গে সাভানা অঞ্চল ‘সেরাদো’-তেও বন উজাড় ২৩.৮ শতাংশ কমেছে। তিন বছর আগে বামপন্থী রাষ্ট্রপতি লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা ক্ষমতায় আসার পর পরিবেশ নজরদারি কঠোর করা হয়েছে এবং অবৈধভাবে গাছ কাটার শাস্তি বৃদ্ধি করা হয়েছে। তার পূর্বসূরি, ডানপন্থী জাইর বলসোনারোর আমলে আমাজনে বন উজাড় ব্যাপকভাবে বেড়ে গিয়েছিল, যা লুলার আমলে এসে ছয় বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। লুলা প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে ২০৩০ সালের মধ্যে আমাজনে অবৈধভাবে বন উজাড় সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করা হবে।

আগামী ২৫ অক্টোবর ব্রাজিলের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে লুলার মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন বলসোনারোর ছেলে ফ্লাভিও। জনমত জরিপে দেখা যাচ্ছে, দুই প্রার্থীর মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের ইঙ্গিত রয়েছে। ফ্লাভিও জয়ী হলে তিনি বাবার নীতিগুলো বজায় রাখবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে, তবে আমাজনে সংগঠিত অপরাধের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের আশ্বাসও দিয়েছেন।

বিশ্বের বৃহত্তম রেইনফরেস্ট আমাজনের ৬০ শতাংশই ব্রাজিলে অবস্থিত। এই বন বায়ুমণ্ডলের বিপুল পরিমাণ কার্বন ডাই-অক্সাইড শোষণ করে পৃথিবীকে শীতল রাখতে এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। পরিবেশবিদ ও জলবায়ু সংস্থাগুলোর মতে, ব্রাজিলের এই ঐতিহাসিক অর্জন প্রমাণ করে যে রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকলে বন উজাড় রোধ করা সম্ভব।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রেফারির পকেটে ডিজিটাল কার্ড, কাগজের লাল-হলুদ কার্ডের পরিবর্তে প্রযুক্তির ব্যবহার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:০৩ এম


রেফারির পকেটে ডিজিটাল কার্ড, কাগজের লাল-হলুদ কার্ডের পরিবর্তে প্রযুক্তির ব্যবহার

ফুটবল প্রযুক্তির উন্নতি অনেক আগেই শুরু হয়েছে। তবে প্রতিদিনই নতুন কিছু সংযোজন হচ্ছে। এবার কার্ডের ক্ষেত্রে একটি নতুনত্ব আসতে চলেছে। কাগজের হলুদ ও লাল কার্ডের ব্যবহার শীঘ্রই শেষ হতে যাচ্ছে, সতর্কতা ও শাস্তির জন্য।

রেফারির পরিচিত দৃশ্যটি এবার প্রযুক্তির প্রভাবে পরিবর্তিত হতে চলেছে। কাগজের কার্ডের পরিবর্তে ইলেকট্রনিক যন্ত্রের মাধ্যমে হলুদ ও লাল কার্ড প্রদর্শিত হবে। এই প্রযুক্তির পরীক্ষামূলক প্রয়োগ ঘটেছে উরুগুয়ে।

১৫ অক্টোবর উরুগুয়ের কোপা এইউএফ উরুগুয়ে টুর্নামেন্টে ন্যাসিওনাল ও রেন্তিস্তাসের মধ্যে ম্যাচে এই ডিজিটাল কার্ডের ব্যবহার করা হয়। রেফারি এদুয়ার্দো ভারেলা স্মার্টফোনের মতো দেখতে যন্ত্রটি ব্যবহার করে খেলোয়াড়দের শাস্তি প্রদান করেন। ম্যাচের ১২ মিনিটে প্রথম হলুদ কার্ডটি রেন্তিস্তাসের হুয়ান পাবলো প্লাদাকে দেখানো হয়। ন্যাসিওনালের ৩-০ গোলের জয়ের ম্যাচে ম্যাক্সি সিলভেরাকে ফাউল করার জন্য তাকে এই শাস্তি দেওয়া হয়।

তবে এই প্রযুক্তির কার্যকারিতা শুধুমাত্র কার্ড প্রদর্শনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। যন্ত্রটিতে দুটি বোতাম রয়েছে, একটি হলুদ কার্ড এবং অন্যটি লাল কার্ড প্রদর্শনের জন্য। একই সঙ্গে, শাস্তির সিদ্ধান্ত স্বয়ংক্রিয়ভাবে উরুগুয়ে ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের ‘কোমেট’ (COMET) ব্যবস্থায় নথিভুক্ত হয়ে যায়।

এই যন্ত্রের মাধ্যমে গোল, পেনাল্টি, খেলোয়াড় পরিবর্তনসহ ম্যাচের বিভিন্ন ঘটনার তথ্যও নথিভুক্ত করা সম্ভব। ফলে হাতে লিখে তথ্য রেকর্ড করার ঝামেলা কমে যাবে।

যদিও সময় ও ঝামেলা কমানোর জন্য এটি কার্যকর, পরীক্ষায় কিছু সীমাবদ্ধতা লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষ করে, দূর থেকে এবং তীব্র সূর্যের আলোতে পর্দার রং স্পষ্ট দেখা কঠিন। তাই ডিজিটাল ব্যবস্থা এখনই চিরচেনা কার্ডের স্থান দখল করছে না।

তবে ভবিষ্যতে রেফারির পকেটে কাগজের কার্ডের পরিবর্তে থাকবে একটি ছোট ইলেকট্রনিক যন্ত্র, যেখানে শাস্তির ভেদে কার্ডের ছবি প্রদর্শিত হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শতবর্ষের দুর্লভ ছবিতে জেরুজালেম ও ফিলিস্তিনের ইতিহাস তুলে ধরলেন মুহাম্মদ হাশেম ঘুশা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:০৩ এম


শতবর্ষের দুর্লভ ছবিতে জেরুজালেম ও ফিলিস্তিনের ইতিহাস তুলে ধরলেন মুহাম্মদ হাশেম ঘুশা

শতবর্ষের পুরনো আলোকচিত্র, স্থাপত্যের নকশা এবং দীর্ঘ গবেষণার মাধ্যমে ফিলিস্তিনের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণে কাজ করে যাচ্ছেন জর্দানের ইতিহাসবিদ ও স্থপতি মুহাম্মদ হাশেম ঘুশা। তাঁর দীর্ঘদিনের গবেষণা ও সংগ্রহের ফলস্বরূপ তৈরি পাঁচ খণ্ডের ‘জেরুজালেমের স্মৃতি’ বা ‘জাকিরাতুল কুদস’ সংকলনে উনিশ শতকের শেষভাগ থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত ফিলিস্তিনের স্থাপত্য, সামাজিক জীবন এবং রাজনৈতিক পরিবর্তনের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।

তুরস্কের সংবাদ সংস্থা আনাদোলুর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, সংকলনটিতে উসমানীয় শাসনামল, ব্রিটিশ ম্যান্ডেট, জর্ডানের শাসনকাল এবং ফিলিস্তিনের প্রতিরোধ আন্দোলনসহ বিভিন্ন ঐতিহাসিক সময়ের গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন ও জীবনযাত্রার চিত্র স্থান পেয়েছে। ঘুশার দীর্ঘদিনের গবেষণা ও নথি সংগ্রহের মাধ্যমে তৈরি এসব ছবি সাধারণ পাঠক, গবেষক এবং ফিলিস্তিনের ইতিহাসে আগ্রহীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে।

আনাদোলু জানিয়েছে, সংস্থাটি বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করে পাঁচ খণ্ডের মূল আরবি গ্রন্থ থেকে নির্বাচিত ছবির সঙ্গে থাকা তথ্য অনুবাদ করেছে, যাতে জেরুজালেমের ইতিহাসের এসব দৃশ্যমান দলিল আরো বিস্তৃতভাবে পাঠকের কাছে পৌঁছানো যায় এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সংরক্ষণ করা সম্ভব হয়।

জেরুজালেমের ইতিহাস ও ঐতিহ্য নিয়ে গবেষণার স্বীকৃতি হিসেবে ঘুশা ২০২০ সালে সৌদি আরবের কিং ফয়সাল পুরস্কার লাভ করেন। তাঁর গবেষণার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে নিজের পরিবারের বাস্তুচ্যুতির ইতিহাসও।

১৯৪৮ সালের নাকবা বা বিপর্যয়ের পর অসংখ্য ফিলিস্তিনির মতো ঘুশার পরিবারও বাস্তুচ্যুত হয়। ১৯৫৪ সালে তাঁদের জেরুজালেম ছেড়ে যেতে হয় এবং পরে তাঁরা কুয়েতে বসতি স্থাপন করেন। ১৯৬৭ সালে ইসরায়েল পূর্ব জেরুজালেম দখল করার পর পরিবারের পক্ষে শহরটিতে ফিরে আসা সম্ভব হয়নি।

ঘুশার ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন দূরে থাকার সময় জেরুজালেমে ফিরতে না পারার বেদনা তাঁদের তাড়িয়ে বেড়িয়েছে। তিনি বলেন, ‘জেরুজালেম ও ফিলিস্তিন শুধু আমাদের মাতৃভূমি ছিল না, এগুলো ছিল আমাদের অতীত, ভবিষ্যৎ ও হৃদয়।’ তাঁর দাবি, ১৯৯৪ সাল পর্যন্ত তাঁদের জেরুজালেম ও ফিলিস্তিনে প্রত্যাবর্তন নিষিদ্ধ ছিল।

১৯৯৪ সালে ফিরে আসতে পারার পর ঘুশা তাঁর জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু করেন। এরপর তিনি জেরুজালেমের ঐতিহাসিক স্থাপনা ও নিদর্শন অনুসন্ধান, মাঠপর্যায়ের গবেষণা এবং প্রাথমিক সূত্রের ভিত্তিতে শহরটির ইতিহাস নথিবদ্ধ করার কাজে নিজেকে নিয়োজিত করেন।

ঘুশার মতে, একজন ইতিহাসবিদের দায়িত্ব শুধু অতীতের ঘটনা লিপিবদ্ধ করায় সীমাবদ্ধ নয়; ঐতিহ্য ও সভ্যতার নিদর্শন সংরক্ষণ করে তা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়াও তাঁর গুরুত্বপূর্ণ কর্তব্য। তিনি বলেন, ‘আমাদের ঐতিহ্য, ইতিহাস ও সভ্যতা নিয়ে লেখা চালিয়ে যেতে হবে। কারণ, ঐতিহ্য ছাড়া আমরা আমাদের ভবিষ্যৎ খুঁজে পাব না।’

প্রায় ৩০ বছরের গবেষণা ও পেশাগত কাজের অভিজ্ঞতায় ঘুশা গাজা ও জেরুজালেমের বহু গুরুত্বপূর্ণ ইসলামি ও খ্রিষ্টীয় স্থাপনার ইতিহাস নথিবদ্ধ করেছেন। তিনি ফিলিস্তিনের বিভিন্ন ঐতিহাসিক স্থাপনার সম্মুখভাগ, অভ্যন্তরীণ অংশ ও স্থাপত্যপরিকল্পনার নকশাও তৈরি করেছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এসব স্থাপনার বেশ কয়েকটি পরবর্তী সময়ে ইসরায়েলি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে।

গাজার ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলোর মধ্যে তিনি আল-ওমারি গ্র্যান্ড মসজিদ ও মসজিদে সাইয়্যিদ হাশিমের কথা উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, স্থাপনাগুলো বর্তমানে সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার মুখে রয়েছে। এ ছাড়া গাজার বিভিন্ন গির্জা, ইবনে মারওয়ান মসজিদসহ অন্যান্য মসজিদ, মাজার, ঐতিহাসিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও প্রাচীন সরাইখানাও তাঁর গবেষণার আওতায় এসেছে।

ঘুশা মনে করেন, এসব স্থাপনার সঠিক স্থাপত্যগত জরিপ ও নথিপত্র তৈরি করা জরুরি। এর মাধ্যমে স্থাপনাগুলোর ঐতিহাসিক পরিচয় সংরক্ষণ করা যাবে এবং ভবিষ্যতে পুনরুদ্ধার ও গবেষণার কাজে সহায়তা মিলবে।

ফিলিস্তিনের ইতিহাস অনুসন্ধানে আলোকচিত্রের গুরুত্বও বিশেষভাবে তুলে ধরেছেন এই ইতিহাসবিদ। তাঁর মতে, পুরোনো ছবিতে মানুষের দৈনন্দিন জীবন, সামাজিক রীতিনীতি, ঐতিহ্য এবং স্থাপত্যের পরিবর্তন সম্পর্কে এমন তথ্য পাওয়া যায়, যা শুধু লিখিত নথি থেকে জানা কঠিন। উনিশ শতক থেকে ফিলিস্তিন সফর করা পর্যটক ও ভ্রমণকারীদের তোলা ছবি এখন দেশটির অতীত পুনর্গঠনের গুরুত্বপূর্ণ উৎস।

এ ছাড়া গাজা নিয়ে আনাদোলুর প্রকাশিত ‘দ্য গাইড’, ‘দ্য উইটনেস’ ও ‘দ্য অ্যাকিউজড’ শিরোনামের তিনটি বইয়ের কথাও উল্লেখ করেন ঘুশা। তাঁর দাবি, এসব বইয়ে গাজায় ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের সময় সংঘটিত অপরাধ ও ফিলিস্তিনিদের দুর্ভোগ সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ নথি সংকলিত হয়েছে।

ঘুশার দীর্ঘদিনের এই উদ্যোগে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে, ঐতিহাসিক স্থাপনা ও আলোকচিত্র সংরক্ষণ শুধু অতীতকে জানার বিষয় নয়; বরং একটি জনগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক পরিচয় ও ইতিহাস ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ারও গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। তাঁর বিশ্বাস, ফিলিস্তিনিরা একদিন নিজ ভূমিতে ফিরে আসবে এবং পরবর্তী প্রজন্মের জন্য তাদের ইতিহাস ও ঐতিহ্য সংরক্ষিত থাকা জরুরি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দেশে সোনার ভরি বিক্রি হচ্ছে দুই লাখ ২৮ হাজার ৩১ টাকায়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:০৬ এম


দেশে সোনার ভরি বিক্রি হচ্ছে দুই লাখ ২৮ হাজার ৩১ টাকায়

দেশের বাজারে গত মঙ্গলবার সোনার দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ভরিতে তিন হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরির দাম দুই লাখ ২৮ হাজার ৩১ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই নতুন দাম মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হয়েছে এবং আজ শনিবারও একই দামে সোনা বিক্রি হচ্ছে।

নতুন মূল্য তালিকা অনুযায়ী, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম তিন হাজার ১৪৯ টাকা কমিয়ে দুই লাখ ১৭ হাজার ৭৬৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম দুই হাজার ৬৮২ টাকা কমিয়ে এক লাখ ৮৭ হাজার ৩২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম দুই হাজার ১৫৮ টাকা কমিয়ে এক লাখ ৫২ হাজার ৭৯৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এর আগে, গত ৯ অক্টোবর দেশের বাজারে সোনার দাম বৃদ্ধি করা হয়েছিল। সেই সময় ভরিতে দুই হাজার ২১৬ টাকা বাড়িয়ে ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরির দাম দুই লাখ ৩১ হাজার ২৯৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম দুই হাজার ৯৯ টাকা বাড়িয়ে দুই লাখ ২০ হাজার ৯১৬ টাকা করা হয়েছিল।

এছাড়া, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম এক হাজার ৮০৮ টাকা বাড়িয়ে এক লাখ ৮৯ হাজার ৭১৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম এক হাজার ৪৫৮ টাকা বাড়িয়ে এক লাখ ৫৪ হাজার ৯৫৬ টাকা করা হয়েছিল।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৩
মাগরিব ০৫:৩১
ইশা ০৬:৪২
সূর্যোদয় : ০৫:৫৬ সূর্যাস্ত : ০৫:৩১
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%