প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়া শহরে পর্যটকদের জন্য জনপ্রিয় দর্শনীয় স্থানগুলোর মধ্যে এত দিন স্বাধীনতার ঘণ্টা, স্বাধীনতা হল এবং বিখ্যাত রকি সিঁড়ি অন্তর্ভুক্ত ছিল। তবে, সম্প্রতি এই তালিকায় যুক্ত হয়েছে একটি নতুন আকর্ষণ—কবুতর দেখা। শহরের বিভিন্ন স্থানে কবুতর দেখানোর জন্য বিশেষ ভ্রমণের আয়োজন করছেন দুই নারী। তাদের এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ এখন পর্যটকদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে।
হান্না মিশেল ব্রাওয়ার এবং তার সঙ্গী অ্যাসপেন সিমোন মিলে শুরু করেছেন ‘ফিলি পিজন ট্যুরস’ নামের একটি ভ্রমণসেবা। এই সেবার মাধ্যমে পর্যটকদের শহরের বিভিন্ন এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে কবুতরের আনাগোনা বেশি দেখা যায়। প্রায় ৯০ মিনিটের এই ভ্রমণে অংশগ্রহণকারীরা কবুতরের জীবনযাপন, আচরণ ও বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারেন।
ভ্রমণবিষয়ক ওয়েবসাইট ট্রিপঅ্যাডভাইজারের তালিকায় এই আয়োজনটি ফিলাডেলফিয়া শহরের তৃতীয় জনপ্রিয় আকর্ষণ হিসেবে স্থান পেয়েছে।
হান্না মিশেলের মতে, শহরে বসবাসকারী মানুষ প্রায় প্রতিদিনই কবুতর দেখেন। কিন্তু বারবার চোখে পড়লেও বেশির ভাগ মানুষ পাখিগুলোর দিকে মনোযোগ দেন না। তাদের এই ভ্রমণের উদ্দেশ্য হলো, পরিচিত এই পাখিগুলোর প্রতি মানুষের কৌতূহল বাড়ানো।
ভ্রমণের সময় অংশগ্রহণকারীরা কবুতর সম্পর্কে নানা প্রশ্নের উত্তর জানতে পারেন। যেমন, কবুতরগুলো প্রায়ই একই দিকে মুখ করে থাকে কেন? অ্যাসপেন সিমোন জানান, কবুতর সাধারণত বাতাসের দিকে মুখ করে থাকে। কারণ, তাদের পালক সামনের দিক থেকে পেছনের দিকে সাজানো, যা বাতাসের প্রবাহের সঙ্গে মানিয়ে চলতে সাহায্য করে।
কবুতর নিয়ে হান্না মিশেলের আগ্রহের শুরু খুব বেশি দিনের নয়। চার বছর আগে তিনি কবুতর পছন্দ করতেন না। কিন্তু একদিন অসুস্থ বা আহত বলে মনে হওয়া একটি কবুতর দেখতে পেয়ে তার দৃষ্টিভঙ্গি বদলে যায়।
পাখিটিকে ফেলে চলে যেতে পারেননি তিনি। বরং যত্ন নিয়ে সেটিকে সুস্থ করে তোলেন। হান্না জানান, পাখিটি ছিল খুব মিষ্টি ও এলোমেলো পালকের। তার যত্ন নিতে গিয়ে তিনি কবুতরের প্রতি গভীর মমতা অনুভব করতে শুরু করেন।
পাখিটির নাম রাখা হয় প্রিমরোজ। বর্তমানে সেটি পুরোপুরি গৃহপালিত। গোসল করা, বিশেষভাবে পালকের যত্ন নেওয়া এবং মানুষের আদর পেতে ভালোবাসে সে।
হান্না মিশেল বলেন, তাদের বাসায় প্রায়ই কোনো না কোনো কবুতর চলে আসে। বিষয়টি তাদের কাছে একই সঙ্গে অদ্ভুত ও আনন্দের।
কবুতর দেখার এই আয়োজনকে অনেকে অদ্ভুত মনে করলেও এর পেছনে রয়েছে ভিন্ন একটি ভাবনা। প্রতিদিন চোখের সামনে থাকা কোনো কিছুর প্রতিও কীভাবে নতুন করে আগ্রহ তৈরি করা যায়, তা মানুষকে শেখাতে চান আয়োজকেরা।
হান্না মিশেলের ভাষ্য, প্রতিদিন যেসব জিনিসের পাশ দিয়ে মানুষ হেঁটে যায়, সেগুলোর প্রতিও কৌতূহলী হওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলার একটি উপায় হতে পারে এই ভ্রমণ।
ফিলাডেলফিয়ার এই ব্যতিক্রমী আয়োজন তাই শুধু কবুতর দেখার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। পরিচিত পরিবেশ ও সাধারণ প্রাণীদেরও নতুন চোখে দেখার সুযোগ করে দিচ্ছে এটি।
সূত্র: সিবিএস নিউজ
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন