প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ফেসবুক ব্যবহারকারীদের ওপর নজরদারি বাড়াচ্ছে। সংগৃহীত ছবির মাধ্যমে তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। ৯ জুন ২০২৬, ০৩:২১ পিএম নাগাদ মুখপাত্র জানিয়েছেন যে, ব্যবহারকারীদের ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারের অভিজ্ঞতা আরও ব্যক্তিগত বা পারসোনালাইজড করতে অ্যালগরিদমে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে মেটা। বর্তমানে, ব্যবহারকারীরা ফেসবুকের বাইরের অন্য কোনো ওয়েবসাইট বা অ্যাপে কী করছেন, সেই তথ্যও মেটার হাতে চলে যাবে। এই তথ্য বিশ্লেষণ করে শুধু বিজ্ঞাপন নয়, ব্যবহারকারীদের নিউজ ফিডের কনটেন্ট, রিলস এবং মেটা এআই-এর উত্তরগুলোও ঠিক করা হবে। মেটা নিশ্চিত করেছে যে, তাদের সঙ্গে ইতিমধ্যে তথ্য শেয়ার করে এমন থার্ড-পার্টি বা বহিরাগত ওয়েবসাইট ও অ্যাপের ডেটা এখন থেকে ফেসবুকের মূল সিস্টেমে যুক্ত করা হবে। আগে এই তথ্যগুলো মূলত লক্ষ্যভিত্তিক বিজ্ঞাপন দেখানোর জন্য ব্যবহার করা হতো। তবে নতুন আপডেটের ফলে এটি ব্যবহারকারীর পুরো ফিডের কনটেন্ট নির্ধারণে ভূমিকা রাখবে। উদাহরণস্বরূপ, কোনো ব্যবহারকারী যদি একটি অনলাইন শপ থেকে ক্যাম্পিং করার তাবু (টেন্ট) কেনেন, তবে তিনি ফেসবুক বা ইনস্টাগ্রামে ঢোকার পর তার ফিডে স্বয়ংক্রিয়ভাবেই ট্রাভেল গাইড, পাহাড়ি অঞ্চলের ভিডিও কিংবা অ্যাডভেঞ্চারধর্মী কনটেন্ট বেশি দেখতে পাবেন। বিজ্ঞাপন থেকে পুরো কনটেন্ট পারসোনালাইজেশন নিয়ে মেটার মুখপাত্র এমিল ভাজকুয়েজ জানিয়েছেন, আগে ফেসবুক বা ইনস্টাগ্রামের অ্যালগরিদম মূলত অ্যাপের ভেতরের আচরণ যেমন—লাইক, কমেন্ট, ভিউ এবং ফলো করা অ্যাকাউন্টের ওপর ভিত্তি করে কনটেন্ট সাজাত। তবে নতুন সিস্টেমে ডেটা সংগ্রহের পরিধি না বাড়িয়ে, বিদ্যমান ডেটা পাইপলাইনের কাজের পরিধি আরও প্রসারিত করা হয়েছে। এর অর্থ হলো, মেটা প্ল্যাটফর্মের বাইরের আপনার যেকোনো কার্যক্রম এখন থেকে ফেসবুকের কনটেন্ট ও এআই ফিচারকে সরাসরি নিয়ন্ত্রণ করবে। পাশাপাশি, মেটা তাদের প্রাইভেসি বা গোপনীয়তার সেটিংস আরও সহজ করার দাবি করেছে। ব্যবহারকারীরা এখন একটি সেন্ট্রাল বা একক সেটিংস থেকেই নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন যে, কীভাবে তাদের অ্যাপের বাইরের কার্যক্রমগুলো বিজ্ঞাপন, কনটেন্ট রেকমেন্ডেশন এবং এআই ফিচারের জন্য ব্যবহার করা হবে। যেসব ব্যবহারকারী চান না যে মেটা তাদের বাইরের কাজের ওপর নজর রাখুক, তারা চাইলে সেটিংস থেকে ‘অ্যাক্টিভিটি ফ্রম আদার কোম্পানিজ’ অপশনটি বন্ধ করে দিতে পারবেন। এটি বন্ধ করলে পার্টনার অ্যাপগুলোর ডেটা ফেসবুকের ফিড বা এআই-এর ওপর কোনো প্রভাব ফেলবে না। মেটা জানিয়েছে, এই আপডেটটি বিশ্বব্যাপী চালু করা হচ্ছে। তবে প্রথম ধাপে বেশ কয়েকটি দেশ ও অঞ্চলকে এর আওতামুক্ত রাখা হয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে এই পরিবর্তন দেখতে পাবেন না যুক্তরাজ্য, ব্রাজিল, দক্ষিণ কোরিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, নাইজেরিয়া, ইকুয়েডর, থাইল্যান্ড এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নির্দিষ্ট কিছু দেশের ব্যবহারকারীরা। এই নতুন পদক্ষেপ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ব্যবহারকারীর ডেটা প্রাইভেসি এবং স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দেয়। তথ্য সুরক্ষা আন্দোলনকারীরা মেটার এই বর্ধিত ডেটা ব্যবহারের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করলেও মেটার দাবি—ব্যবহারকারীদের নিজস্ব অ্যাপের বাইরেও তাদের রুচি ও আগ্রহের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ কনটেন্ট দেখাতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই পরিবর্তন স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে, সোশ্যাল মিডিয়া অ্যালগরিদমগুলোর নজরদারি এখন আর নিজেদের অ্যাপের ভেতর সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা ব্যবহারকারীর ই-কমার্স কেনাকাটা ও অন্যান্য অ্যাপ ব্যবহারের অভ্যাসের সঙ্গেও গভীরভাবে জড়িয়ে যাচ্ছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন