ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

স্ত্রীর আয় বেশি হলে পুরুষের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব পড়তে পারে: গবেষণা


স্ত্রীর আয় বেশি হলে পুরুষের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব পড়তে পারে: গবেষণা

স্বামীর চেয়ে স্ত্রীর আয় বেশি হলে পুরুষের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব পড়ে।

বিশ্বজুড়ে নারীদের আর্থিক স্বাধীনতা ও কর্মক্ষেত্রে অংশগ্রহণ ক্রমাগত বেড়ে চলেছে। ফলে অনেক পরিবারে স্বামীর চেয়ে স্ত্রীর বেশি আয় করার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। এই পরিবর্তনটি লিঙ্গ সমতার ক্ষেত্রে একটি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হলেও বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি অনেক পুরুষের মানসিক স্বাস্থ্য, আত্মসম্মান এবং দাম্পত্য সম্পর্কের ওপর গভীর প্রভাব ফেলছে।

বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, অর্থনৈতিক বাস্তবতা বদলে গেলেও অনেক সমাজে এখনও পুরুষকে পরিবারের প্রধান উপার্জনক্ষম ব্যক্তি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এই কারণে, যখন স্ত্রীরা বেশি আয় করতে শুরু করেন, তখন কিছু পুরুষ নিজেদের কার্যকারিতা নিয়ে সংশয়ে ভোগেন এবং হীনম্মন্যতা ও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে থাকেন।

আরও পড়ুন: ‘ভালোবাসি’ বললেই কি যথেষ্ট? সম্পর্কে ৫টি বিষয়ও জরুরি

গবেষকরা মন্তব্য করেছেন যে, আয় কেবল একটি আর্থিক বিষয় নয়; এটি সামাজিক মর্যাদা, কর্তৃত্ব এবং ব্যক্তিগত পরিচয়ের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। একাধিক গবেষণা প্রতিবেদনে সাক্ষাৎকার নেওয়া পুরুষরা জানান যে, স্ত্রীরা বেশি আয় করার পর বা তারা নিজস্বভাবে ঘরের কাজের দায়িত্ব নিতে শুরু করার পর সমালোচনা ও উপহাসের মুখোমুখি হয়েছেন, এমনকি তাদের পুরুষত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। এই সামাজিক চাপ পুরুষদের মানসিক চাপ বৃদ্ধি করে এবং নিজেদের মূল্য ধরা দেয়।

সুইডেনে পরিচালিত একটি দীর্ঘমেয়াদি গবেষণায় ১০ বছরের আর্থিক ও চিকিৎসা সংক্রান্ত রেকর্ড বিশ্লেষণ করে পারিবারিক আয়ের এই পরিবর্তনের অবস্থান বোঝার চেষ্টা করা হয়েছে। ফলাফল অনুসারে, যেসব পুরুষের স্ত্রীরা বেশি আয় করতে শুরু করেছিলেন, তাদের মানসিক স্বাস্থ্যজনিত সমস্যায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি ছিল। বিশেষজ্ঞরা লক্ষ্য করেছেন, নারীদের তুলনায় পুরুষদের মধ্যে এই মানসিক স্বাস্থ্য সংকটের প্রবণতা অনেক বেশি স্পষ্ট।

গবেষণা অনুযায়ী, যেসব পুরুষ চাকরি হারিয়েছেন বা পরিবারে একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তির ঐতিহ্যগত ভূমিকা থেকে সরে এসেছেন, তারা সামাজিক বিচ্ছিন্নতা, হতাশা এবং উদ্বেগের প্রতি বেশি সংবেদনশীল ছিলেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, নারীরা সাধারণত পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে শক্তিশালী সামাজিক যোগাযোগ বজায় রাখেন, যার ফলে তাদের একটি বড় মানসিক সমর্থনের নেটওয়ার্ক তৈরি হয়। অন্যদিকে, পুরুষরা মানসিক ও সামাজিক সমর্থনের জন্য মূলত তাদের স্ত্রীদের ওপর বেশি নির্ভরশীল। এই অতিরিক্ত নির্ভরতার কারণে যখন সম্পর্কের মধ্যে ভূমিকার পরিবর্তন ঘটে, তখন কিছু পুরুষের জন্য তা মানসিকভাবে মেনে নেওয়া বেশ কঠিন হয়ে পড়ে।

আরও পড়ুন: প্রতিদিন কতগুলো ডিম খাওয়া নিরাপদ?

গবেষকরা জানিয়েছেন, এই চ্যালেঞ্জগুলো কাটানোর পাশাপাশি পারিবারিক কাঠামোর এই পরিবর্তনের কিছু ইতিবাচক দিকও রয়েছে। যেসব বাবা ঘরে বেশি সময় কাটান, তাদের সন্তানের সঙ্গে আত্মিক বন্ধন আরও দৃঢ় হয় এবং তারা সন্তানের লালন-পালনে আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখতে সক্ষম হন। এছাড়া, ঘরের কাজের সুষম বণ্টন শিশুদের মনে লিঙ্গ সমতার লক্ষ্যে ইতিবাচক ধারণা তৈরি করতে সাহায্য করে।

বিশেষজ্ঞরা সুনির্দিষ্টভাবে বলেছেন, আসল সমস্যা নারীদের বেশি আয় করা নয়, বরং সমস্যাটি সমাজের সনাতন বিশ্বাস—যা একজন পুরুষের মূল্যকে কেবল তার উপার্জন ক্ষমতার সঙ্গে পরিমাপ করে। গবেষকরা পরামর্শ দেন, পুরুষদের নিজের পরিচয়কে আর্থিক অবস্থার ফ্রেমে বন্দি না করে বাবা, জীবনসঙ্গী, যত্নশীল অভিভাবক এবং সমাজের একজন অবদানকারী হিসেবেও নিজেদের মূল্যায়ন করা উচিত।

বিশ্বাস করা হচ্ছে যে, বিশ্বজুড়ে নারীদের অর্থনৈতিক অংশগ্রহণ যত বাড়বে, ততটাই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে নারী ও পুরুষ উভয়ই পরিবারের ঐতিহ্যগত ভূমিকা নিয়ে নতুন করে ভাবা। এই পরিবর্তনের সঙ্গে ইতিবাচকভাবে মানিয়ে নিতে পারলে আরও ভারসাম্যপূর্ণ, সুস্থ ও দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্ক গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

আরও পড়ুন: ফেলে দেয়া ৬ হাজার প্লাস্টিক বোতলে নির্মিত পূজামণ্ডপে দর্শনার্থীদের ভিড়

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পাখিরা মানুষের মতো কথা বলতে শেখে কীভাবে?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১১ই জুন, ২০২৬ ইং

০৬:২০ এম


পাখিরা মানুষের মতো কথা বলতে শেখে কীভাবে?

পাখিরা মানুষের মতো কীভাবে কথা বলে—এই প্রশ্ন অনেকের মনে আসে। কিন্তু যদি বলা হয়, ঠোঁট না নাড়িয়ে স্পষ্টভাবে কথা বলা সম্ভব, তাহলে বিষয়টি আরও বিস্ময়কর মনে হতে পারে। বাস্তবে মানুষের জন্য ঠোঁট না নাড়িয়ে স্পষ্ট কথা বলা প্রায় অসম্ভব। যদিও ভেন্ট্রিলোকুইস্ট বা মায়াস্বরীরা দীর্ঘ অনুশীলনের মাধ্যমে এটি করতে পারে, তবে তা অত্যন্ত কঠিন একটি দক্ষতা।

আবার প্রকৃতির কিছু পাখির জন্য বিষয়টি একেবারেই স্বাভাবিক বিষয়। যেমন, টিয়া, ময়না, তোতা বা কাকাতুয়ার মতো পাখি মানুষের বলা শব্দ হুবহু নকল করতে পারে। যদিও তাদের মানুষের মতো ঠোঁট বা ভোকাল কর্ড নেই।

বিজ্ঞান অনুযায়ী, পাখিদের শরীরে ভোকাল কর্ডের পরিবর্তে থাকে একটি বিশেষ অঙ্গ, যার নাম সিরিঙ্কস। এটি পাখির শ্বাসনালী ও ফুসফুসের মাঝামাঝি অংশে অবস্থিত একটি ইংরেজি ‘ওয়াই’ আকৃতির গঠন হিসেবে পরিচিত। যখন পাখি শ্বাস নেয়, তখন বাতাস শ্বাসনালী দিয়ে সিরিঙ্কসের মধ্য দিয়ে ফুসফুসে প্রবাহিত হয়। সেই সময় সিরিঙ্কসের কম্পন থেকেই তৈরি হয় শব্দ।

এই সিরিঙ্কস পেশি ও নরম হাড়ের সাহায্যে নিয়ন্ত্রিত হয়, ফলে পাখিরা খুব নিখুঁতভাবে শব্দের ওঠানামা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। এ কারণেই তারা মানুষের কথা, গান এমনকি নির্দিষ্ট শব্দও অনুকরণ করতে সক্ষম হয়।

অর্থাৎ, মানুষের মতো মুখের ঠোঁট দিয়ে নয়, বরং গলার বিশেষ গঠন দিয়েই পাখিরা কথা তৈরি করে। তাই অনেক সময় দেখা যায়, টিয়া বা ময়না পরিষ্কারভাবে মানুষের বাক্যও উচ্চারণ করতে পারে—যেমন জনপ্রিয় কার্টুন চরিত্র মিঠুর মতো।

প্রকৃতির এই অসাধারণ শারীরবৃত্তীয় ক্ষমতাই পাখিদের করে তুলেছে অনন্য।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে শিশুকে ছোটবেলা থেকেই যা শেখানো প্রয়োজন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১১ই জুন, ২০২৬ ইং

০৬:২২ এম


ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে শিশুকে ছোটবেলা থেকেই যা শেখানো প্রয়োজন

সন্তানকে ছোটবেলা থেকেই কৃতজ্ঞ হতে শেখানো অত্যন্ত জরুরি। কারণ কৃতজ্ঞতা শুধুই ভদ্রতা নয়, এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মানবিক গুণ। বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশুকে কেবল মুখে ধন্যবাদ বলতে শেখালেই সে কৃতজ্ঞ হয়ে ওঠে না। বরং, অন্যের ভালোবাসা, যত্ন, পরিশ্রম ও সাহায্যের মূল্য বোঝার মধ্যেই প্রকৃত কৃতজ্ঞতার শিক্ষা নিহিত রয়েছে।

অনেক বাবা-মা সন্তানকে উপহার পেলে বা কেউ কিছু দিলে ধন্যবাদ বলতে শেখান। কিন্তু কেন ধন্যবাদ জানাতে হয়, এই অনুভূতিটি শিশুর মধ্যে সৃষ্টিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। শিশুকে বোঝাতে হবে, কৃতজ্ঞতা শুধু উপহার পাওয়ার সঙ্গে জড়িত নয়। মা-বাবার পরিশ্রম, শিক্ষকের সময় ও পরিবারের সদস্যদের যত্নের মূল্যও তাকে বুঝতে হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশুরা কথার চেয়ে কাজ দেখে বেশি শেখে। তাই বাবা-মাকেই আগে কৃতজ্ঞতার চর্চা করতে হবে। ছোট ছোট বিষয়ে অন্যকে ধন্যবাদ জানানো, কারও সাহায্যের প্রশংসা করা অথবা জীবনের ভালো দিকগুলো নিয়ে কথা বলা শিশুর মনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।

শিশুকে অন্যকে সাহায্য করার অভ্যাসও গড়ে তুলতে হবে। কোনো বন্ধু তাকে সাহায্য করলে সেও যেন সুযোগ পেলে অন্যের পাশে দাঁড়ায়। এতে সে বুঝতে শিখবে, কৃতজ্ঞতা শুধুই কথায় নয়, বরং কাজের মাধ্যমেও প্রকাশ করা যায়।

এ ছাড়া সন্তানের মধ্যে 'আমি কী পাইনি' এই ভাবনার পরিবর্তে 'আমি কী পেয়েছি' সেই উপলব্ধি তৈরি করা প্রয়োজন। সমাজের সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের কথা জানানো কিংবা সামাজিক কাজে অংশ নিতে উৎসাহ দিলে সে নিজের প্রাপ্তির মূল্য বুঝতে শিখবে।

মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, শিশুকে অচেনা মানুষের পরিশ্রমের মূল্যও শেখানো দরকার। যেমন পরিচ্ছন্নতাকর্মী, নিরাপত্তাকর্মী অথবা পণ্য পৌঁছে দেওয়া কর্মীদের অবদান সম্পর্কে জানালে তার মধ্যে সহমর্মিতা ও সম্মানবোধ তৈরি হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃতজ্ঞতার শিক্ষা শিশুদের আরও সুখী, সহানুভূতিশীল এবং মানসিকভাবে শক্তিশালী করে তোলে। তাই শুধু ধন্যবাদ শব্দ শেখানো নয়, বরং সন্তানের হৃদয়ে কৃতজ্ঞতার অনুভূতি গড়ে তোলাই হওয়া উচিত পরিবারের প্রধান লক্ষ্য।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সাধারণ কিছু লক্ষণও হতে পারে ব্রেন টিউমারের ইঙ্গিত, অবহেলা নয়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১১ই জুন, ২০২৬ ইং

০৬:৩১ এম


সাধারণ কিছু লক্ষণও হতে পারে ব্রেন টিউমারের ইঙ্গিত, অবহেলা নয়

ব্রেন টিউমার নিয়ে উদ্বেগ বিশ্বজুড়ে ক্রমেই বাড়ছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২০ সালে নতুন করে প্রায় ৩ লাখের বেশি মানুষ এই রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। প্রতি বছর লাখে কয়েকজন করে নতুন করে এই রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন, এবং বিশেষ করে ম্যালিগন্যান্ট ব্রেন টিউমারের ক্ষেত্রে বেঁচে থাকার হার ৩০ শতাংশেরও কম বলে জানা যায়। বিশেষজ্ঞদের মতামত হলো, সময়মতো রোগ শনাক্ত করতে পারলে চিকিৎসার সাফল্যের সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায়।

বিশ্ব ব্রেন টিউমার দিবস, প্রতি বছর ৮ জুন পালিত হয়, যা ব্রেন টিউমার নিয়ে সচেতনতা বাড়ানোর জন্য উদযাপিত হয়। বিশেষজ্ঞরা বলেন, এই রোগের শুরুতে কিছু সাধারণ উপসর্গ দেখা দেয়, কিন্তু অনেকেই সেগুলোর প্রতি গুরুত্ব দেন না। কিন্তু এই বিষয়টি পরবর্তীতে বড় ঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে।

ব্রেন টিউমার সম্পর্কে বললে, এটি হলো মস্তিষ্ক বা তার আবরণে অস্বাভাবিক কোষের বৃদ্ধি হওয়া, যা মস্তিষ্কের স্বাভাবিক কাজকর্মে বাধা সৃষ্টি করে। সাধারণত এটি দুই ধরনের হয়ে থাকে—বিনাইন (সাধারণ) এবং ম্যালিগন্যান্ট (ক্ষতিকর)। যথা সময়ে চিকিৎসা না করালে এটি গুরুতর শারীরিক জটিলতা এমনকি প্রাণঘাতীও হতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সব মাথাব্যথা বিপজ্জনক নয়। তবে কিছু ক্ষেত্রে সতর্ক হওয়া খুবই জরুরি। এর মধ্যে রয়েছে—ঘুম থেকে ওঠার পর তীব্র মাথাব্যথা, বমি বমি ভাব বা বমির সঙ্গে মাথাব্যথা, সময়ের সঙ্গে মাথাব্যথা বাড়ে যে। সাধারণ ওষুধ দিয়ে ব্যথা না কমলে এবং কাশি বা শারীরিক পরিশ্রমে ব্যথা বেড়ে গেলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

ব্রেন টিউমারের লক্ষণগুলো অনেক সময় ধীরে ধীরে প্রকাশ পায়। এর মধ্যে থাকতে পারে—চোখে ঝাপসা দেখা বা ডাবল ভিশন, শ্রবণ শক্তির পরিবর্তন, ভারসাম্য রাখতে অসুবিধা, হাত-পায়ে দুর্বলতা বা অসাড়তা, কথা বলতে সমস্যা, স্মৃতিশক্তি ও মনোযোগ কমে যাওয়া, আচরণে পরিবর্তন বা অস্বাভাবিক খিটখিটে মেজাজ, হঠাৎ খিঁচুনি হওয়া। অনেকেই এসব লক্ষণকে সাধারণ ক্লান্তি বা মানসিক চাপ ধরে উপেক্ষা করেন, যা সত্যিই বিপজ্জনক হতে পারে।

আপনার যদি উপসর্গগুলো দীর্ঘদিন ধরে থাকে, ধীরে ধীরে বাড়ে বা একাধিক লক্ষণ একসঙ্গে দেখা দেয়, তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া অতীব জরুরি। তবে মনে রাখতে হবে, সব উপসর্গের কিন্তু এটাই কারণ নয়—বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এর পেছনে তুলনামূলক কম গুরুতর কারণ থাকে। বিশেষজ্ঞদের মতে, শরীরের অস্বাভাবিক পরিবর্তনকে অবহেলা না করে সময়মতো পরীক্ষা করানোই নিরাপদ এবং দ্রুত শনাক্তকরণই ব্রেন টিউমারের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় সুরক্ষা হিসেবে কাজ করতে পারে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কিডনির পাথর প্রতিরোধে শুধু পানি পানই যথেষ্ট নয়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১১ই জুন, ২০২৬ ইং

০৬:৩৯ এম


কিডনির পাথর প্রতিরোধে শুধু পানি পানই যথেষ্ট নয়

বছরের পর বছর ধরে যাদের কিডনিতে পাথর হওয়ার প্রবণতা রয়েছে, তারা একটি সাধারণ পরামর্শ পেয়েছেন- ‘প্রচুর পানি পান করুন।’ প্রচলিত ধারণা ছিল, বেশি পানি পান করলে প্রস্রাব পাতলা হয়ে যায় এবং পাথর সৃষ্টিকারী খনিজগুলো জমাট বাঁধতে পারে না। তবে বিখ্যাত চিকিৎসাবিজ্ঞান সাময়িকী দ্য ল্যানসেট-এ ২০২৬ সালে প্রকাশিত একটি নতুন গবেষণা এই পুরোনো ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করেছে। গবেষণায় দেখা গেছে, উল্লেখযোগ্য পরিমাণ পানি পানের পরও রোগীদের কিডনিতে পুনরায় পাথর হওয়ার ঝুঁকি আশানুরূপ কমেনি। অর্থাৎ, কিডনির পাথর প্রতিরোধে কেবল পানি পান করাই একমাত্র চূড়ান্ত সমাধান নয়। কিডনিতে খনিজ এবং লবণের জমাট থেকে শক্তভাবে পাথর তৈরি হয়, যা তীব্র ব্যথার সৃষ্টি করে। বিশেষজ্ঞদের মতে, একবার কিডনিতে পাথর হলে পরবর্তী ১০ বছরের মধ্যে আবারও পাথর হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় ৫০ শতাংশ। গবেষণায় ১৬০০ জনেরও বেশি কিডনি পাথরের রোগীকে নিয়ে একটি বড় আকারের পরীক্ষা করা হয়। সেখানে অংশগ্রহণকারীদের বেশি করে পানি পান করার জন্য উদ্বুদ্ধ করা হয়। কিন্তু ফলাফল দেখায়, যারা বেশি পানি পান করেছেন এবং যারা সাধারণ নিয়ম মেনে চলেছেন, তাদের মধ্যে পুনরায় পাথর হওয়ার হারে তেমন কোনো বড় পার্থক্য নেই। এর প্রধান কারণ শুধুমাত্র পানি পানের পরিমাণ বাড়ালেই যে শরীর সঠিকভাবে হাইড্রেটেড হচ্ছে, তার কোনো গ্যারান্টি নেই। চিকিৎসকদের মতে, পাথর প্রতিরোধ করতে হলে প্রতিদিন অন্তত ২.৫ লিটার প্রস্রাব নির্গত হওয়া প্রয়োজন, যা অনেক অংশগ্রহণকারীর জন্য সম্ভব হয়নি। পানি পানের চেয়েও খাদ্যাভ্যাস কিডনির পাথর প্রতিরোধে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। চিকিৎসাবিজ্ঞান সাময়িকী অ্যানালস অব ইন্টারনাল মেডিসিন-এ প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী কিছু কার্যকরী কৌশলঃ লবণ বা সোডিয়ামের পরিমাণ কমানো। খাবারে অতিরিক্ত লবণ প্রস্রাবের মাধ্যমে ক্যালসিয়াম নির্গমন বাড়িয়ে দেয়, যা পাথর তৈরির অন্যতম প্রধান কারণ। পর্যাপ্ত ক্যালসিয়াম গ্রহণ। প্রচলিত ভুল ধারণার বিপরীতে, খাবারে কম ক্যালসিয়াম থাকলে কিডনিতে পাথরের ঝুঁকি বেড়ে যায়। প্রাণিজ প্রোটিন সীমিত করা। অতিরিক্ত মাংস বা প্রোটিন শরীরে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। অক্সালেটযুক্ত খাবার পরিহার। পালং শাক, বিটের মতো উচ্চ-অক্সালেটযুক্ত খাবার অতিরিক্ত পরিমাণে খাওয়া এড়িয়ে চলা উচিত। যাদের বারবার কিডনিতে পাথর হয়, তাদের ক্ষেত্রে শুধু জীবনযাত্রার পরিবর্তন যথেষ্ট নাও হতে পারে। পাথরের ধরন বুঝে চিকিৎসকদের কাছে নির্দিষ্ট ওষুধের প্রয়োজন হতে পারে। এই ধরনের কিছু ওষুধ হলো: পটাশিয়াম সাইট্রেট, যা প্রস্রাবের ক্ষারীয় ভাব বজায় রেখে ক্রিস্টাল বা পাথর জমতে বাধা দেয়; থিয়াজাইড ডাইউরেটিকস, যা প্রস্রাবে ক্যালসিয়ামের মাত্রা কমায়; এবং অ্যালোপিউরিনল, যা শরীরে ইউরিক অ্যাসিডের উৎপাদন হ্রাস করে। বিশেষজ্ঞরা নির্দিষ্টভাবে গ্লাস মেপে পানি পানের চেয়ে প্রস্রাবের রঙের দিকে নজর দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। প্রস্রাবের রঙ হালকা হলুদ বা পানির মতো পরিষ্কার হওয়া সঠিক হাইড্রেশনের লক্ষণ। সাধারণভাবে দৈনিক ২ থেকে ২.৫ লিটার প্রস্রাব তৈরির জন্য যথেষ্ট পানি পান করা উচিত। তবে বাংলাদেশ বা ভারতের মতো গ্রীষ্মপ্রধান দেশে ঘামের মাধ্যমে শরীর থেকে প্রচুর পানি বের হয়ে যায় বলে এখানকার মানুষের পানির প্রয়োজনীয়তা আবহাওয়া ও শারীরিক পরিশ্রম অনুযায়ী আরও বেশি হতে পারে। নতুন এই গবেষণার বার্তা পরিষ্কার, কিডনিতে পাথর রোধ করতে হলে কেবল পানির ওপর নির্ভর না করে একটি সমন্বিত উপায় বেছে নিতে হবে। যেমন: পর্যাপ্ত পানি পান (লক্ষ্য থাকবে প্রস্রাবের পরিমাণের ওপর), লবণ ও প্রোটিন নিয়ন্ত্রিত সুষম খাদ্য তালিকা, শরীরের আদর্শ ওজন বজায় রাখা এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া। তাই ‘যত বেশি পানি, তত কম পাথর’—এই সরল সমীকরণটি এখন পুনর্বিবেচনার সময় এসেছে। কিডনি সুস্থ রাখতে পানির ভূমিকা অবশ্যই আছে, তবে এর সঙ্গে সঠিক ডায়েট এবং সামগ্রিক স্বাস্থ্যের ভারসাম্য বজায় রাখাই আসল সমাধান।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫১
মাগরিব ০৫:২৮
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৮ সূর্যাস্ত : ০৫:২৮
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%