ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

আদালতের নির্দেশের পরও সিলেটের বিরোধপূর্ণ বাড়িতে দখল অব্যাহত


আদালতের নির্দেশের পরও সিলেটের বিরোধপূর্ণ বাড়িতে দখল অব্যাহত

সিলেটের ওসমানীনগরে জমি ও বসতবাড়ির মালিকানা নিয়ে দুই লন্ডন প্রবাসী ভাইয়ের মধ্যে বিরোধ আদালতে গড়িয়েছে। এ ঘটনার প্রেক্ষিতে আদালতের স্থিতাবস্থা (স্ট্যাটাস কো) বজায় রাখার জন্য স্পষ্ট নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও, পূর্বের মতো বসবাস ও দখল অব্যাহত রাখার অভিযোগ উঠেছে। এর ফলে, আদালতের আদেশ বাস্তবায়ন এবং বিরোধপূর্ণ সম্পত্তির বর্তমান অবস্থা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

আদালতের নথি ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওসমানীনগর উপজেলার দয়ামীর ইউনিয়নের চণ্ডিতিয়র (কাজীবাড়ি) গ্রামের মৃত মদরিস আলীর চার ছেলের মধ্যে দুই সৎ ভাই মারা গেছেন এবং আপন দুই ভাই—মো. মকবুল আলী ও মো. মোফাজ্জল আলী জীবিত রয়েছেন। উভয়েই লন্ডনে বসবাস করেন। দীর্ঘদিন ধরে তাদের পৈতৃক ও ক্রয়সূত্রে পাওয়া সম্পত্তি ও বসতবাড়ির বাটোয়ারা (বণ্টন) নিয়ে বিরোধ চলছিল।

লন্ডন প্রবাসী মো. মকবুল আলী অভিযোগ করেন, তিনি এবং অন্য দুই ভাই বিদেশে থাকার সুযোগে ছোট ভাই মো. মোফাজ্জল আলী সম্পত্তি বণ্টন না করে এককভাবে ভোগদখল করছেন। বিরোধপূর্ণ জমিতে নির্মাণকাজের প্রতিবাদ করায় গত ২৪ ফেব্রুয়ারি তাকে মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে কারাবাস করানো হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।

আরও পড়ুন: কবি রাধারমণ দত্তের গ্রামে গানবাজনা বন্ধের আবেদন জমা

পরবর্তীতে, গত মার্চে সিলেটের দেওয়ানি আদালতে বাটোয়ারা মামলা (মামলা নম্বর: ৯৪/২০২৬) করেন মকবুল আলী। আবেদনের প্রেক্ষিতে ৩ সেপ্টেম্বর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের আদালত ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৫ ধারায় স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দেন। এরপর ২৯ সেপ্টেম্বর সিলেটের যুগ্ম জেলা জজ (দ্বিতীয় আদালত) মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত উভয় পক্ষকে বিরোধপূর্ণ জমিতে স্থিতাবস্থা বজায় রাখার আদেশ দেন। গত ১২ অক্টোবর আদালতের নির্দেশনার কপি বিবাদীপক্ষের কেয়ারটেকারের কাছে পৌঁছানো হয়।

তবে ১৩ অক্টোবর ওসমানীনগর থানা-পুলিশ আদালতের আদেশ বাস্তবায়নে ঘটনাস্থলে গেলে বিরোধপূর্ণ স্থানে মোফাজ্জল আলীর পক্ষের লোকজনের বসবাস ও দখলের চিত্র দেখতে পায়। আদালতের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও সেখানে দখল অব্যাহত থাকায় বিষয়টি আদালতকে লিখিতভাবে জানানোর আইনি প্রস্তুতি নিচ্ছে বাদীপক্ষ।

সার্বিক বিষয়ে বাদী মো. মকবুল আলী বলেন, "আমি ন্যায়বিচারের আশায় আদালতের দ্বারস্থ হয়েছি। আদালতের স্পষ্ট নির্দেশনার পরও যদি সেখানে দখল ও বসবাস বজায় থাকে, তবে সেই আদেশের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। আমি আমার ন্যায্য অধিকার ফিরে পেতে চাই।"

অভিযোগ স্বীকার করে বিবাদী মো. মোফাজ্জল আলী বলেন, "বাটোয়ারার পর আমি আমার নিজের সম্পত্তিতেই অবস্থান করছি। আমাকে অপহরণ ও হত্যার পরিকল্পনায় ব্যর্থ হয়ে একটি চক্রের যোগসাজশে আমাকে দখলবাজ ও সন্ত্রাসী বানানোর অপচেষ্টা করা হচ্ছে।"

আরও পড়ুন: কুমিল্লায় হাসপাতাল পরিদর্শনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী, ৫ চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ

আদালতের নির্দেশনার বিষয়ে ওসমানীনগর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. জয়নাল আবেদীন জানান, "স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশনার পর বিরোধপূর্ণ বাড়ি ও জমির রূপ পরিবর্তন বা নতুন করে ব্যবহারের সুযোগ নেই। মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত জায়গাটি যেভাবে আছে, সেভাবেই রাখতে হবে।"

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শ্রীমঙ্গলে মহাঅষ্টমীতে কুমারী পূজা, হাজারো ভক্তের উপস্থিতি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:৫৭ এম


শ্রীমঙ্গলে মহাঅষ্টমীতে কুমারী পূজা, হাজারো ভক্তের উপস্থিতি

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে শারদীয় দুর্গাপূজার মহাঅষ্টমী তিথিতে বিপুল উৎসাহ ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্যে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ কুমারী পূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রবিবার (১৮ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার সাতগাঁওয়ের রঘুনাথপুর শ্রী শ্রী আনন্দময়ী কালীবাড়িতে ঐতিহ্যবাহী এ পূজার আয়োজন করা হয়। দেবী দুর্গার কুমারী রূপ দর্শনে মৌলভীবাজারসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে হাজার হাজার ভক্ত ও দর্শনার্থী মন্দির প্রাঙ্গণে সমবেত হন।

দুপুর ১টা ২০ মিনিটে শাস্ত্রীয় আচারের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এ পূজা প্রায় এক ঘণ্টা ধরে চলে। এ বছর দেবী দুর্গার ‘অপরাজিতা’ রূপের প্রতীক হিসেবে পূজা করা হয় ১০ বছর বয়সী পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী অন্যা রানী চক্রবর্তীকে।

পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি দ্বীপ শিখা ধর জানান, রঘুনাথপুর আনন্দময়ী কালীবাড়িতে এটি কুমারী পূজার ২৯তম আয়োজন। প্রতিবছরই শাস্ত্রীয় নিয়ম মেনে দেবীর ভিন্ন ভিন্ন রূপ বেছে নেওয়া হয়।

পূজার তাৎপর্য ব্যাখ্যা করে পুরোহিত অসিত ভট্টাচার্য্য বলেন, ‘হিন্দু দর্শন ও তন্ত্রশাস্ত্র অনুযায়ী সমগ্র সৃষ্টিতে বিরাজমান আদিশক্তি বা নারীশক্তির প্রতীক কুমারী। প্রতিটি নারীর মধ্যেই দেবীর মাতৃরূপ নিহিত রয়েছে—কুমারী পূজার মাধ্যমে প্রকৃতপক্ষে সর্বজনীন নারীশক্তির প্রতি সম্মান ও শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।’ সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস, শুদ্ধ চিত্তে কুমারী পূজার আরাধনা করলে ভক্তদের সর্বপ্রকার মনোবাসনা পূর্ণ হয়।

হিন্দুশাস্ত্র অনুযায়ী, ১ থেকে ১৬ বছর বয়সী কন্যাকুমারীকে দেবীর বিভিন্ন রূপে পূজা করা হয়। বয়সভেদে তাদের নামকরণও আলাদা—১ বছরে সন্ধ্যা, ২ বছরে সরস্বতী, ৩ বছরে ত্রিধামূর্তি, ৪ বছরে কালিকা, ৫ বছরে সুভগা, ৬ বছরে উমা, ৭ বছরে মালিনী, ৮ বছরে কুব্জিকা, ৯ বছরে কালসন্দর্ভা, ১০ বছরে অপরাজিতা, ১১ বছরে রুদ্রাণী, ১২ বছরে ভৈরবী, ১৩ বছরে মহালক্ষ্মী, ১৪ বছরে পীঠনায়িকা, ১৫ বছরে ক্ষেত্রজ্ঞা এবং ১৬ বছর বয়সে অম্বিকা বা অন্নদা।

পূজা দেখতে আসা দর্শনার্থী তিথি পাল ঝুমা অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন, ‘কুমারী পূজা দেখতে এসে খুব ভালো লাগছে। মা দুর্গার কাছে প্রার্থনা করেছি, যেন সবার জীবনে সুখ, শান্তি ও মঙ্গল বিরাজ করে।’

ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও বিপুল ভক্তদের উপস্থিতিতে সুন্দর ও আনন্দঘন পরিবেশে শেষ পর্যন্ত কুমারী পূজার পুরো আয়োজন সম্পন্ন হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পিএসসিকে দলীয়করণের অপচেষ্টা জুলাই অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষার পরিপন্থি: ছাত্রশিবির

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:৫৮ এম


পিএসসিকে দলীয়করণের অপচেষ্টা জুলাই অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষার পরিপন্থি: ছাত্রশিবির

বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে, বাংলাদেশের সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) চেয়ারম্যান ও একাধিক সদস্যের আকস্মিক পদত্যাগের ঘটনায় সরকারের দুরভিসন্ধিমূলক তৎপরতা নিয়ে।

রোববার ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম এবং সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ এক যৌথ বিবৃতিতে এই উদ্বেগ জানিয়ে সতর্ক করে বলেন, পিএসসিতে কোনো দলীয় ব্যক্তিকে নিয়োগ দেওয়া হলে, প্রয়োজনীয় সংস্কার ছাড়া, তা মেনে নেওয়া হবে না।

বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। ৫৪ বছরের ইতিহাসে, এই প্রতিষ্ঠানকে বারবার রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে মেধার টুঁটি চেপে ধরা হয়েছে এবং ফ্যাসিবাদ কায়েমের হাতিয়ার হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে। ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম প্রধান চেতনা ছিল মেধাভিত্তিক বাংলাদেশ গঠন এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর আমূল সংস্কার। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, জুলাই সনদের আলোকে পিএসসিকে স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও গতিশীল প্রতিষ্ঠান হিসেবে সংস্কার না করে সেখানে পুনরায় দলীয় ও রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের অপচেষ্টা চলছে। এরই অংশ হিসেবে মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগেই চেয়ারম্যান ও একাধিক সদস্যকে কৌশলে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, রাষ্ট্রীয় সংস্কারের বড় বড় বুলি আওড়ালেও, ক্ষমতায় এসে নিজেদের ক্ষমতাকে পাকাপোক্ত করতে সরকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে দলীয় প্রভাব বিস্তারের অপচেষ্টা চালাচ্ছে। উচ্চ আদালত, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও মাঠ প্রশাসনের শীর্ষ পদগুলোতে মেধা ও জ্যেষ্ঠতা উপেক্ষা করে নিয়োগ, প্রশ্নফাঁস, ভেরিফিকেশনের নামে মেধাবীদের ছাঁটাই এবং দলীয় বিবেচনায় নিয়োগের মতো ঘটনা সরকারের দলীয়করণের রাজনীতিরই বহিঃপ্রকাশ। ক্ষমতাকে সুসংহত করতে স্বাধীন ও সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পরিকল্পনা চলছে। পিএসসির শীর্ষ নেতৃত্বে ধারাবাহিক পরিবর্তনও সেই পরিকল্পনার অংশ কি না, তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয়করণের এই অপচেষ্টা জুলাই অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা ও রাষ্ট্র সংস্কারের অঙ্গীকারের সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক।

ছাত্রশিবিরের নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করে বলেন, তারা জানতে পেরেছেন, একজন মন্ত্রী পিএসসির সদস্যদের ডেকে নিয়ে রাজনৈতিক সরকারের ইচ্ছা অনুযায়ী কাজ করার ইঙ্গিত দিয়েছেন। কোনো সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান কোনো মন্ত্রীর পারিবারিক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান নয়। পিএসসিকে রাজনৈতিক সরকারের ইচ্ছা পূরণের হাতিয়ারে পরিণত করার অধিকার কারও নেই। তারা হুঁশিয়ার করে বলেন, প্রয়োজনীয় সংস্কার ছাড়া পিএসসিতে কোনো দলীয় ব্যক্তিকে নিয়োগ দেওয়া হলে তা মেনে নেওয়া হবে না। রাজনৈতিক স্বার্থে পিএসসিকে ব্যবহার করার চেষ্টা করা হলে ছাত্র-জনতা আবারও রাজপথে তীব্র প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।

নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে জুলাই সনদের আলোকে পিএসসিকে সব ধরনের রাজনৈতিক সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে রেখে স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও গতিশীল প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে সৎ, দক্ষ ও যোগ্য ব্যক্তিদের সমন্বয়ে প্রতিষ্ঠানটি পুনর্গঠন ও সংস্কার করার জন্য সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি জোর আহ্বান জানান।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জঙ্গিবাদ ও উগ্রবাদের স্থান নেই: বিএনপির এমপি শাহজাহান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:৫৮ এম


জঙ্গিবাদ ও উগ্রবাদের স্থান নেই: বিএনপির এমপি শাহজাহান

বাংলাদেশে ধর্মীয় সম্প্রীতির একটি দীর্ঘ ইতিহাস বিদ্যমান এবং এদেশে কোনো প্রকার জঙ্গিবাদ বা উগ্রবাদের অস্তিত্ব নেই, এমন মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও নোয়াখালী-৪ আসনের এমপি মো. শাহজাহান। তিনি জানান, হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা যাতে নির্বিঘ্নে ও আনন্দময় পরিবেশে উদযাপন করা সম্ভব হয়, সেজন্য সরকার সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদান করছে।

রোববার নোয়াখালী সদর উপজেলা পরিষদের হলরুমে বিভিন্ন পূজামণ্ডপের প্রতিনিধিদের মাঝে শাড়ি বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

এমপি শাহজাহান উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ একটি সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির দেশ। দীর্ঘকাল ধরে এখানে মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মানুষ নিজেদের ধর্মীয় উৎসব উৎসবমুখর পরিবেশে পালন করে আসছেন।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, অতীতে ফ্যাসিবাদী শাসনামলে বাংলাদেশকে একটি উগ্রবাদী রাষ্ট্র হিসেবে উপস্থাপন করার জন্য নানা ধরনের চক্রান্ত করা হয়েছিল। সেই সময় জঙ্গিবাদের অভিযোগে বিরোধী দলের নেতাকর্মী ও আলেম-ওলামাসহ অনেক নিরপরাধ মানুষকে মিথ্যা মামলায় কারাগারে পাঠানো হয়েছিল এবং নির্যাতন করা হয়েছিল, দাবি করেন তিনি। তিনি বলেন, বিএনপি বাংলাদেশকে একটি অহিংস ও অসাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

সদর উপজেলা পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হোমোয়রা ইসলাম, নোয়াখালী পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি আবু নাছের, সদর উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি সলিম উল্লাহ বাহার, সাবেক সাধারণ সম্পাদক ভিপি জসিম, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি সাবের আহমেদ এবং মাইজদী দেবালয়ের সাধারণ সম্পাদক রাজু উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়া স্থানীয় বিভিন্ন দেবালয় ও পূজামণ্ডপের প্রতিনিধি এবং বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের স্থানীয় নেতারা অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সরকারি হাসপাতালে রোগীদের দৈনিক খাবারের বরাদ্দ ২৫০ টাকা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:২৯ এম


সরকারি হাসপাতালে রোগীদের দৈনিক খাবারের বরাদ্দ ২৫০ টাকা

সরকারি হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের জন্য দৈনিক খাবারের বরাদ্দ ১৭৫ টাকা থেকে বৃদ্ধি করে ২৫০ টাকা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই তথ্য জানিয়ে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ডা. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার। তিনি আরও উল্লেখ করেন, দেশের সনাতন ও চিকিৎসানির্ভর স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে পরিবর্তন করে প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যব্যবস্থায় রূপান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।

রোববার (১৮ অক্টোবর) রাতে বাগেরহাট ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে চিকিৎসক ও কর্মচারীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব মন্তব্য করেন।

ডা. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, “সরকারি হাসপাতালে রোগীদের খাবারের জন্য জনপ্রতি বরাদ্দ মাত্র ১৭৫ টাকা। ভ্যাট-ট্যাক্স কেটে নিলে হাতে থাকে ১৪৯ থেকে ১৫০ টাকা। এই টাকায় একজন মানুষের তিন বেলা খাওয়া খুবই কষ্টকর। তাই এই বরাদ্দ বাড়িয়ে ২৫০ টাকা করা হবে।”

প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ তুলে ধরে তিনি বলেন, “বাংলাদেশের বর্তমান স্বাস্থ্যব্যবস্থা সনাতন এবং মূলত চিকিৎসানির্ভর। এটিকে পরিবর্তন করে প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যব্যবস্থায় নেয়ার প্রক্রিয়া চলছে। এ জন্য প্রধানমন্ত্রী ১ লাখ স্বাস্থ্য ও উন্নয়নকর্মী নিয়োগ দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। এর মধ্যে চলতি বছরই ৪৩ থেকে ৪৫ হাজার কর্মী নিয়োগ দেয়া হবে। বর্তমানে কর্মরত ৪০ হাজার স্বাস্থ্যকর্মীসহ মোট ১ লাখ ৪০ থেকে ৪৫ হাজার কর্মী গ্রামাঞ্চলে কাজ করবেন।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা নিশ্চিত করতে চাই, একজন স্বাস্থ্যকর্মী তার স্বাস্থ্য পরীক্ষার বক্স নিয়ে প্রতি বছর দেশের প্রতিটি ঘরে অন্তত তিন থেকে চারবার যাবেন এবং পরিবারের সবার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করবেন, যাতে যেকোনো রোগ আগেই শনাক্ত করা যায়। কারণ বর্তমানে অসংক্রামক রোগে যত মানুষ মারা যাচ্ছেন, তা মূলত দেরিতে রোগ শনাক্ত হওয়ার কারণেই ঘটছে।”

বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলো অপর্যাপ্ত আইনের মধ্য দিয়ে চলছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর এই বিশেষ সহকারী বলেন, “১৯৮২ সালের একটি অধ্যাদেশ দিয়ে বেসরকারি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানগুলো চলছে। অথচ ঢাকা ও বড় শহরগুলোর ৬০ থেকে ৬৫ শতাংশ চিকিৎসাসেবা বেসরকারি খাতনির্ভর। আইনগত এই দুর্বলতার কারণে অনিয়ম বা অপরাধ হলেও অনেক সময় ব্যবস্থা নেয়া কঠিন হয়ে পড়ে। এ বিষয়টি নিয়েও সরকার কাজ করছে।”

সভায় বাগেরহাট ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালের বিভিন্ন সংকট নিরসনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দেন ডা. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার। এ সময় বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মনজুরুল হক রাহাদ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মেজবাহ উদ্দিন, সিভিল সার্জন আ স ম মাহবুবুল আলম, হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক অসীম কুমার সমাদ্দার ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আবু রাসেলসহ হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%