০১:৫৫ এম
ভোলার চরফ্যাশনে অনুষ্ঠিত জাতীয় শিশু-কিশোর সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার বিজয়ী শিক্ষার্থীদের পুরস্কার হিসেবে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে যে, পুরোনো, দাগযুক্ত ও ছেঁড়া বই বিতরণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিতরণকৃত বইয়ে ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে শেখ মুজিবুর রহমানের নাম থাকায় অভিভাবক ও স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন এবং ইসলামিক ফাউন্ডেশন কর্তৃপক্ষ বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে।
১২ অক্টোবর চরফ্যাশন উপজেলা মডেল মসজিদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের উপজেলা পর্যায়ের জাতীয় শিশু-কিশোর সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। ইসলামিক ফাউন্ডেশন ভোলা জেলা কার্যালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত এই প্রতিযোগিতায় কোরআন তিলাওয়াত, হামদ-নাত, ইসলামী জ্ঞান, আজান, কবিতা আবৃত্তি ও উপস্থিত বক্তৃতাসহ বিভিন্ন বিষয়ে শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করে।
বিজয়ী একাধিক শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা অভিযোগ করেছেন যে, বিজয়ী শিশুদের হাতে তুলে দেওয়া বইগুলোর মধ্যে অনেকগুলো ৭ থেকে ১২ বছরের পুরোনো। কিছু বইয়ের পৃষ্ঠা ছেঁড়া এবং গায়ে দাগ রয়েছে। ভালো পারফরম্যান্সের পর নতুন বইয়ের প্রত্যাশা থাকলেও জীর্ণ বই পেয়ে অনেক শিশু হতাশ হয়ে পড়ে। বিচারকমণ্ডলীর এক সদস্য জানান, অনুচিত এই উপহার পেয়ে কয়েকজন শিশু অনুষ্ঠানস্থলেই কেঁদে ফেলেছে।
আরও পড়ুন: কসবায় ৯ রাউন্ড চাইনিজ গুলিসহ যুবক মো. শামিম আটক
অনুসন্ধানে দেখা যায়, বিতরণ করা ‘সৈনিকের চল্লিশ হাদিস’ বইটি ২০১৪ সালের আগস্টে এবং ‘ওলীকুল শিরোমণি শায়খ মুহিউদ্দিন আবদুল কাদির জিলানী (কা.সি.)’ বইটি ২০১৭ সালের জুনে প্রকাশিত হয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, এসব বই পুরোনো হওয়ায় এবং ভেতরে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে শেখ মুজিবুর রহমানের নাম থাকার কারণে জেলা ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপপরিচালক এম. মাকসুদুর রহমানের দায়িত্বশীলতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
বিতর্কিত বই বিতরণ প্রসঙ্গে জেলা উপপরিচালক এম. মাকসুদুর রহমান বলেন, বাজেটের সীমাবদ্ধতার কারণে এমনটি হতে পারে। তবে যারা পুরোনো বই পেয়েছে, তাদের জানালে আমরা নতুন বই দিয়ে দেব। বইয়ে শেখ মুজিবুর রহমানের নাম থাকার বিষয়টি স্বীকার করে তিনি জানান, এগুলো আগে ছাপানো পুরোনো বই বলেই নাম রয়ে গেছে, তবে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে আলাদা কোনো বই দেওয়া হয়নি।
এ বিষয়ে ভোলার চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ মন্তব্য করেন, সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় পুরস্কার হিসেবে পুরোনো ও ক্ষতিগ্রস্ত বই দেওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অন্যদিকে, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সমন্বয় বিভাগের পরিচালক মো. মহিউদ্দিন জানান, শেখ মুজিবুর রহমানের নাম সংবলিত বা পুরোনো বই শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেওয়ার সুযোগ নেই। পুরো বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আরও পড়ুন: আজ লক্ষ্মীপূজা, দেবী লক্ষ্মীর আরাধনা করবেন হিন্দুরা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন