ঢাকা বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

নকলায় প্রাথমিক বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা


নকলায় প্রাথমিক বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা

শেরপুরের নকলায় ‘নকলা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়’-এর ২০২৫ সালে প্রাথমিক বৃত্তিপ্রাপ্ত ৪৬ জন মেধাবী শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে। ৯ অক্টোবর (শুক্রবার) বিকেলে দেশ-বিদেশে সুপরিচিত আকিজ গ্রুপের সহযোগিতায় উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এই সংবর্ধনা দেওয়া হয়।

এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংসদীয় আসন ১৪৪ শেরপুর-২ (নকলা-নালিতাবাড়ী) আসনের এমপি প্রকৌশলী মাহাম্মদ ফাহিম চৌধুরী। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জাহাঙ্গীর আলম-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মোফাজ্জল হোসেন খান।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন নকলা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মুহাম্মদ ফখরুল আলম। ওই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শিমু রানী বনিক ও মুহাম্মদ কামরুজ্জামান আলালের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অনুভূতি প্রকাশ করে শিক্ষার্থীদের পক্ষে ২ কৃতি শিক্ষার্থী, অভিভাবকের পক্ষ থেকে ২ জন এবং আমন্ত্রিত অতিথিদের মধ্যে অনেকে বক্তব্য রাখেন।

আরও পড়ুন: বিরোধীদল সরকারের কাজে ঈর্ষান্বিত হয়ে মিডিয়ার সামনে আবোল তাবোল বলছে এমপি খোকন তালুকদার

বক্তারা তাদের বক্তব্যে বলেন, ‘নকলা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা শেরপুর জেলার মধ্যে সর্বোচ্চ সংখ্যক বৃত্তিপ্রাপ্তির গৌরব অর্জন করেছে। এটি আমাদের বিদ্যালয়ের জন্য অত্যন্ত আনন্দ, গর্ব ও সম্মানের বিষয়।’ শিক্ষার্থীদের এই অসাধারণ সাফল্য বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা, আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার উজ্জ্বল প্রতিফলন বলে তারা মন্তব্য করেন।

এই গৌরবময় অর্জনের জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে জানাই আন্তরিক অভিনন্দন, কৃতজ্ঞতা ও শুভেচ্ছা জানান প্রধান শিক্ষক মুহাম্মদ ফখরুল আলম। শিক্ষার্থীদের উজ্জল ভবিষ্যতের জন্য সবার কাছে দোয়া কামনা করেন তিনি। কৃতি শিক্ষার্থীরা আগামী দিনে জ্ঞান, মেধা ও নৈতিকতায় সমৃদ্ধ হয়ে যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠবে এবং দেশ ও জাতির কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন বক্তারা।

আলোচনা সভার পরে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা ২০২৫-এ নকলা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তিপ্রাপ্ত ২০ জন এবং সাধারণ গ্রেডে বৃত্তিপ্রাপ্ত ২৬ জন কৃতি শিক্ষার্র্থীর হাতে ক্রেস্ট ও উপহার সামগ্রী তুলে দেওয়া হয়।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের পরে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে শিক্ষার্থীরা হামদ-নাত, আবৃত্তি, সংঙ্গিত ও নৃত্য পরিবেশন করে। সবশেষে সচেতনতামূলক একটি নাটিকা মঞ্চস্থ করে শিক্ষার্থীরা। এসময় বিভিন্ন স্তরের রাজনৈতিক ব্যাক্তিবর্গ, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাক, স্থানীয় গন্যমান্য ব্যাক্তিবর্গ ও বিভিন্ন পেশা-শ্রেনির জনগণ উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন: উচ্চশিক্ষায় মেধাবী ও অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের পাশে ইউনাইটেড ট্রাস্ট, মাসে মিলবে ১,৫০০ থেকে ৩,০০০ টাকা

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আরও পড়ুন

পরবর্তী খবর

শ্রমিকের কাজ ও মানুষের সাহায্যে বিসিএস ক্যাডার হলেন আমিনুল হক মাখন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:৫৩ এম


শ্রমিকের কাজ ও মানুষের সাহায্যে বিসিএস ক্যাডার হলেন আমিনুল হক মাখন

সাত মাস বয়সে বাবা-মায়ের বিচ্ছেদ ঘটে, এরপর ছোটবেলায় বাবাকেও হারান। দাদির আদরে বেড়ে ওঠা আমিনুল হক মাখন আজ বিসিএস ক্যাডার। চরম অর্থকষ্টের মধ্যে কৃষি ও শ্রমিকের কাজ করে এবং মানুষের সহযোগিতায় পড়াশোনা সম্পন্ন করেন তিনি।

ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রাম কান্দানিয়া ভাটিপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন মাখন। শৈশব থেকেই অভাব এবং প্রিয়জন হারানোর যন্ত্রণা তাকে শিখিয়েছে। কঠোর পরিশ্রমের মধ্য দিয়ে কৈশোর অতিবাহিত করেছেন। তবুও অভাবের কাছে মাথা নত করেননি তিনি। ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণিতে ইট ভাঙা, রডের কাজ, কৃষিকাজসহ নবম শ্রেণি থেকে টিউশনি শুরু করেন। ২০১২ সালে, যখন মাখন অষ্টম শ্রেণির ছাত্র, তখন তার বাবা মারা যান। এই ঘটনা তার জীবনে এক বড় ধাক্কা ছিল। তবে তিনি ভেঙে পড়েননি। কৃষিকাজ এবং টিউশনের পাশাপাশি প্রতিদিন ৭ কিলোমিটার সাইকেল চালিয়ে কলেজে গিয়েছেন।

আমিনুল হক মাখন বলেন, ‘আমার বয়স তখন ছয় বা সাত মাস, তখন বাবা-মায়ের বিচ্ছেদ হয় ও মা চলে যান। মা কেমন হয় সেটা আমি পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ার সময় দেখেছি। এর আগে আমি মাকে দেখিনি। অষ্টম শ্রেণিতে পড়ার সময় বাবা মারা যান। আমার কোনো ভাইবোন ছিল না। চাচা-চাচি, দাদি ও ফুফুরাই আমাকে আগলে রেখেছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের পরিবারটি ছিল খুবই দরিদ্র। চাচা রিকশা চালিয়ে সংসার চালাতেন। আমাদের ছিল মাটির ঘর। আমার পড়াশোনার জন্য গ্রামের মানুষরাই সহযোগিতা করেছেন। ৯৫ ভাগ খরচ এসেছে তাদের কাছ থেকে। আমি কৃষি কাজ, ইট ভাঙার কাজ, রডের কাজ করেছি। সেই আয় থেকে পড়াশোনার খরচ ও পরিবারে দিয়েছি। বন্ধুরা যখন মাঠে খেলত, বেড়াতে যেত, তখন আমাকে কাজ করতে হতো। শিশু হিসেবে তা কষ্টের ছিল। তখন মনে হয়েছে, আমার সামনে কোনো পথ নেই। পড়াশোনাটাই আমার একমাত্র সম্বল।’

২০১৫ সালে মাধ্যমিক এবং ২০১৭ সালে শাহাবুদ্দিন ডিগ্রি কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক সম্পন্ন করার পর স্বপ্নের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজকল্যাণ বিভাগে ভর্তি হন। বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়েও অভাব তাকে ছাড়েনি। বিভিন্ন শিক্ষাবৃত্তি ও টিউশনি করে পড়াশোনা চালিয়ে যান। বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকাকালীন চাকরির প্রস্তুতি শুরু করেন। তিনি পাঁচটি বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন। ৪৬তম বিসিএসে শিক্ষা ক্যাডারের সুপারিশ পেয়েছেন এবং ৪৯তম বিশেষ বিসিএসেও শিক্ষা ক্যাডারে গ্যাজেটভুক্ত হয়েছেন। মাখন বলেন, ‘২০২১ সালের মার্চ থেকে চাকরির প্রস্তুতিতে পুরোপুরি মনোযোগ দিই। কোনো কোচিংয়ে পড়িনি। বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে প্রস্তুতি নিয়েছি।’

কঠিন সময়ে বাবা-মায়ের মতোই মাখনকে আগলে রেখেছেন চাচা-চাচি। তাদের চোখে আজ আনন্দশ্রু। চাচা আবদুল খালেক বলেন, ‘সাত মাসের বাচ্চা থুইয়া ওর মা চলে গেছিল। অনেক কষ্ট কইরা ওরে বড় করছি। কোনো দিন ভাতিজা মনে করি নাই। আল্লাহ ওরে বড় করছেন।’

চাচি মিনারা খাতুন বলেন, ‘নিজের বুকের দুধ খাওয়াইয়া ওরে বড় করছি। ওর বাবা আমার হাত ধইরা কইছিল, তোমার তিনটা ছেলে আর এইটা আরও একটা। চারজনরে এক চোখে দেখবা। আমি কোনো দিন ওরে আলাদা করি নাই।’

আমিনুলের পড়াশোনার পেছনে তার পরিবারের পাশাপাশি পুরো গ্রামের সমর্থন ছিল। কেউ টাকা দিয়েছেন, কেউ খাতা-কলম কিনে দিয়েছেন, কেউ পোশাক কিনে দিয়েছেন। পরীক্ষার ফি দেওয়ার সময়ও সহায়তা পেয়েছেন তিনি। স্থানীয় বাসিন্দা মাসুদ করিম বলেন, ‘স্কুলজীবন থেকেই আমরা ওর পাশে ছিলাম। খাতা, কলম, পোশাক লাগলে দিয়েছি। কলেজে ফরম পূরণের সময়ও টাকা দিয়েছি। কারণ, ও ভালো ছাত্র ছিল। মনে হতো, ওর পাশে দাঁড়ালে একদিন আমাদের এলাকার গর্ব হবে। সত্যিই সে আজ সফল। সে আমাদের এলাকার গর্ব। মানুষ চেষ্টা করলে যে সব সম্ভব সেটা মাখন দেখিয়ে দিয়েছে।’

তবে এমন সফলতার দিনে মাখনের কণ্ঠে আক্ষেপ রয়েছে। তিনি বলেন, ‘যারা আমার জন্য সবচেয়ে বেশি কষ্ট করেছেন, সেই বাবা-দাদি আমার সাফল্য দেখে যেতে পারেননি। দাদি সব সময় বলতেন, তুমি একদিন বড় অফিসার হবা। বাবা আমার জন্য কোনো সংসারও করেননি। তিনিও আমার সাফল্য দেখে যেতে পারেননি এটাই আফসোস।’

বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় সাবিকুন্নাহার সিনথিয়ার সঙ্গে পরিচয় হয় মাখনের। ২০২৪ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর তারা বিয়ে করেন। কঠিন সময়ে স্ত্রীর কাছ থেকে মানসিক সমর্থন পেয়েছেন বলে জানান আমিনুল হক। তিনি বলেন, ‘সফলতার জন্য সততা, পরিশ্রম ও ধৈর্য দরকার। এর সঙ্গে সৃষ্টিকর্তার কাছে দোয়া করতে হবে। আমি মনে করি, সততা, পরিশ্রম ও ধৈর্য যার মধ্যে আছে, তিনি সব ক্ষেত্রেই সফল হতে পারবেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দেশীয় শিল্পের বিকাশে স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়তে হবে: প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:৫৪ এম


দেশীয় শিল্পের বিকাশে স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়তে হবে: প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু

দেশীয় শিল্পের বিকাশ এবং অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতার ওপর গুরুত্বারোপ করে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেছেন, দেশে শিল্পকারখানা ও প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার জন্য নিজেদের উদ্যোগ নিতে হবে। স্বনির্ভর বাংলাদেশকে স্বয়ংসম্পূর্ণ করে গড়ে তোলার লক্ষ্য সবার হওয়া উচিত। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকারও এই লক্ষ্যে কাজ করছে। ‘সবার আগে বাংলাদেশ’-এই চেতনাকে ধারণ করে দেশের উন্নয়ন এবং মানুষের কল্যাণে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ে বুটেক্স-আইটিইটি ডাই-ক্যাম এক্সপো ২০২৬-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের ২০ কোটি মানুষকে সমস্যা হিসেবে না দেখে কর্মশক্তি হিসেবে কাজে লাগাতে হবে। দেশের বিপুল জনগোষ্ঠীর হাতকে কর্মের হাতে পরিণত করতে পারলে এর চেয়ে সম্পদশালী দেশ আর হতে পারে না। দেশপ্রেমকে ধারণ করে নিজেদের কর্মের মাধ্যমে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে হবে।

সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সংযোগ স্থাপনের উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা বাস্তব কর্মক্ষেত্র সম্পর্কে ধারণা লাভ করতে পারবেন। পাশাপাশি, তাদের অর্জিত জ্ঞান ও দক্ষতা কর্মজীবনে কাজে লাগানোর সুযোগ তৈরি হবে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে এগিয়ে নিতে এ ধরনের উদ্যোগ প্রশংসার দাবি রাখে। নতুন নতুন উদ্যোগ ও চিন্তার মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে এগিয়ে নেয়ার ক্ষেত্রে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

সরকারের দায়িত্ব পালনের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারে যারা রয়েছেন, তারা জনগণের অর্পিত দায়িত্ব পালন করছেন। প্রধানমন্ত্রীও দায়িত্বকে ক্ষমতা হিসেবে দেখেন না বরং জনগণের স্বার্থ রক্ষার দায়িত্ব হিসেবে বিবেচনা করেন। বর্তমান সরকার জনগণের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে দেশকে এগিয়ে নেয়ার চেষ্টা করছে।

দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, বিগত সরকারের সময়ে অর্থনৈতিক খাতে ব্যাপক সংকট তৈরি হয়েছে। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি এবং যুদ্ধের কারণে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিদ্যুৎ ও গ্যাসসহ বিভিন্ন খাতে সংকট এবং মূল্যবৃদ্ধির ঘটনা ঘটেছে। এমন পরিস্থিতিতে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই বর্তমান সরকার দেশের অর্থনীতি এবং উন্নয়ন কার্যক্রম এগিয়ে নেয়ার চেষ্টা করছে।

তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থী ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে কার্যকর সংযোগ গড়ে উঠলে শিক্ষার্থীরা বাস্তব কর্মক্ষেত্র সম্পর্কে ধারণা লাভের পাশাপাশি শিল্পের চাহিদা অনুযায়ী নিজেদের দক্ষ করে তুলতে পারবেন। এতে দেশীয় শিল্পের বিকাশের পাশাপাশি দক্ষ জনশক্তি তৈরি ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে।

‎সমাপনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইঞ্জিনিয়ার মো. জুলহাস উদ্দিন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংরক্ষিত নারী আসন-৪৮-এর সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মাহবুবা হাকিম, বিজিএমইএর সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মাহমুদ হাসান খান, আইটিইটি বাংলাদেশের সভাপতি ও মেম্পায়ার লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার এনায়েত হোসেন এবং আইটিইটি বাংলাদেশের মহাসচিব ইঞ্জিনিয়ার এ. এস. এম. হাফিজুর রহমান নিক্সন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দারিদ্র্য বিমোচনে বাংলাদেশ বিশ্বে মডেল হতে পারে: ড. তিতুমীর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:৫৪ এম


দারিদ্র্য বিমোচনে বাংলাদেশ বিশ্বে মডেল হতে পারে: ড. তিতুমীর

বৈদেশিক কর্মসংস্থান, তৈরি পোশাকশিল্পে নারীর অংশগ্রহণ এবং সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশ বিশ্বে দারিদ্র্য বিমোচনে একটি অনুসরণযোগ্য মডেল হয়ে উঠতে পারে। প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর এ জন্য সামাজিক সুরক্ষার সঙ্গে উৎপাদনশীল বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং আয় বৃদ্ধির কার্যকর সংযোগ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন।

তিনি উল্লেখ করেন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সুফল সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে বিচ্ছিন্ন সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনী কর্মসূচির পরিবর্তে কর্মসংস্থান, উৎপাদনশীল বিনিয়োগ এবং করের আওতা সম্প্রসারণের সঙ্গে সমন্বিত সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার কার্যকর উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে চুলালংকর্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত ‘সবার জন্য এশিয়া: সরকারি সেবা, সামাজিক সুরক্ষা ও অভিন্ন সমৃদ্ধির প্রতিশ্রুতি’ শীর্ষক এক উচ্চপর্যায়ের আঞ্চলিক সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি অনুষদ ও অক্সফাম ইন এশিয়া সম্মেলনটি যৌথভাবে আয়োজন করে। ব্যাংককে বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বার্ষিক সভার আগে অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনে বিভিন্ন দেশের নীতিনির্ধারক, অর্থনীতিবিদ, গবেষক এবং উন্নয়নকর্মীরা অংশগ্রহণ করেন।

সম্মেলনের ‘অর্থনৈতিক সমতা অর্থায়ন: সরকারি সেবায় সম্পদ আহরণ’ শীর্ষক অধিবেশনে ড. তিতুমীর বলেন, করোনা মহামারি এবং পূর্ববর্তী সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থার দুর্বলতার কারণে দেশে নতুন করে প্রায় ৭০ লাখ থেকে ১ কোটি মানুষ দারিদ্র্যের মধ্যে পড়েছিলেন। সুরক্ষা কর্মসূচিতে যোগ্য ব্যক্তির বাদ পড়া এবং অযোগ্যদের সুবিধা পাওয়ার মতো সমন্বয়হীনতার বিষয়টিও ছিল।

এই পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য তিনি জীবনচক্রভিত্তিক সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর জোর দেন। এর অংশ হিসেবে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির কথা তুলে ধরে তিনি জানান, ডিজিটাল পদ্ধতিতে ‘জিটুপি’ (সরকার থেকে সরাসরি ব্যক্তি) প্রক্রিয়ায় অর্থ পৌঁছে দেয়ার এই উদ্যোগে ২০৩০ সালের মধ্যে উপকারভোগীর সংখ্যা ১ কোটি ৬১ লাখে পৌঁছাবে। এটি বাস্তবায়িত হলে দেশের দারিদ্র্যের হার ৫ শতাংশীয় পয়েন্ট কমতে পারে।

এছাড়া ‘কৃষক কার্ড’ কর্মসূচির মাধ্যমে ২০৩০ সালের মধ্যে কৃষি উৎপাদন ও প্রকৃত মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) ০.৭ থেকে ১ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির প্রাক্কলন করা হয়েছে। একই সঙ্গে জলবায়ু ও পরিবেশ সংরক্ষণে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন এবং ৫ বছরে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর লক্ষ্যমাত্রার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।

বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলা এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোর অগ্রগতি ধরে রাখতে তিতুমীর ছয়টি প্রস্তাব উপস্থাপন করেন। এর মধ্যে রয়েছে–জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধিতে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর জন্য বিশেষ বহুপক্ষীয় তারল্য-সহায়তা তহবিল গঠন, খাদ্য ও সারের চালানে গ্যারান্টি ব্যবস্থা, বৈশ্বিক সংকটে ঋণ পরিশোধ স্থগিতের স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা, উন্নত দেশের অব্যবহৃত এসডিআর পুনর্বণ্টন, জলবায়ু অর্থায়নে ভারসাম্য এবং বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলে (বাংলাদেশ, থাইল্যান্ড ও মিয়ানমার) অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি।

সম্মেলনে অক্সফামের নীতিপত্রের তথ্য তুলে ধরে জানানো হয়, এশিয়ার মাত্র ১০ শতাংশ ধনীর হাতে জাতীয় আয়ের ৬০ থেকে ৭৭ শতাংশ কেন্দ্রীভূত, আর দরিদ্র ৫০ শতাংশের হাতে রয়েছে মাত্র ১২ থেকে ১৫ শতাংশ।

২০২৫ সালে এশিয়ার শত কোটিপতিদের মোট সম্পদ বেড়ে ৪ লাখ কোটি ডলারে পৌঁছাবে। বৈষম্যের কারণে এ অঞ্চলের ৫০ কোটিরও বেশি মানুষ এখনও দারিদ্র্যের মধ্যে বা ঝুঁকির মুখে রয়েছেন। এছাড়া এশিয়ার আনুমানিক ৪৬.৪ শতাংশ মানুষ (প্রায় ২১০ কোটি) কোনো সামাজিক সুরক্ষা সুবিধার আওতায় নেই।

পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য অক্সফাম এশিয়ার সবচেয়ে ধনী ব্যক্তিদের সম্পদের ওপর বছরে ২ থেকে ৫ শতাংশ কর আরোপের সুপারিশ করেছে, যা থেকে বছরে ৭৯ হাজার ২০০ কোটি ডলার পর্যন্ত অতিরিক্ত রাজস্ব আয় সম্ভব।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গাইবান্ধায় হাতির পিঠে চড়ে কনের বাড়িতে বর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:৫৫ এম


গাইবান্ধায় হাতির পিঠে চড়ে কনের বাড়িতে বর

গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরে হাতির পিঠে চড়ে বিয়ের জন্য কনের বাড়িতে যাচ্ছেন সাকিব মিয়া (২৫) নামের এক বর। মায়ের স্বপ্ন পূরণ করার উদ্দেশ্যে, তিনি অন্য কোনো যানবাহন ব্যবহার না করে হাতির পিঠে চড়ে গেছেন।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) ধাপেরহাট ইউনিয়নের তিলকপাড়া গ্রাম থেকে একই ইউনিয়নের হিংগারপাড়া গ্রামে কনের বাড়ির উদ্দেশ্যে তিনি রওনা হন। এই ব্যতিক্রমী বরযাত্রা দেখতে উৎসুক জনতা পথে পথে ভিড় জমায়।

সাকিব মিয়া ধাপেরহাট ইউনিয়নের তিলকপাড়া গ্রামের ছায়েদ আলীর পুত্র। কনের নাম সুরাইয়া আক্তার, যিনি একই ইউনিয়নের হিংগারপাড়া গ্রামের খোকন মিয়ার কন্যা।

স্থানীয়দের মতে, সাধারণত বিয়ের বরযাত্রায় দেখা যায় ব্যক্তিগত গাড়ি, মাইক্রোবাস, মোটরসাইকেল কিংবা ঘোড়ার গাড়ি। কিন্তু সাকিবের বরযাত্রায় ছিল একটি হাতি, যা একটি ব্যতিক্রমী আয়োজন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। হাতির পিঠে চড়ে কনের বাড়ির পথে যাত্রা করা বর স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল সৃষ্টি করেছে।

বর সাকিব মিয়া জানিয়েছেন, "বিয়ের দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখার পাশাপাশি মায়ের দীর্ঘদিনের শখ পূরণ করতে হাতির পিঠে বিয়ের আয়োজন করেছি। মায়ের ইচ্ছা পূরণ করতে পেরে আমি অনেক ভালো লাগছে।"

ধাপেরহাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম শিপন মন্তব্য করেছেন, "মায়ের শখ পূরণ করতে হাতির পিঠে চড়ে সাকিবের বিয়ে করতে যাওয়ার বিষয়টি সত্যিই ব্যতিক্রমী। এমন প্রকাশ নিঃসন্দেহে সুন্দর একটি বিষয়। নবদম্পতির সুখী ও সুন্দর দাম্পত্যজীবন কামনা করছি।"

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫০
মাগরিব ০৫:২৭
ইশা ০৬:৩৯
সূর্যোদয় : ০৫:৫৮ সূর্যাস্ত : ০৫:২৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%