ঢাকা শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৮ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৩ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৮ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

কৌশলগত ভারসাম্য নষ্টের চেষ্টা নিয়ে ভারতকে পাকিস্তানের হুঁশিয়ারি


কৌশলগত ভারসাম্য নষ্টের চেষ্টা নিয়ে ভারতকে পাকিস্তানের হুঁশিয়ারি

পাকিস্তান দক্ষিণ এশিয়ায় কৌশলগত ভারসাম্য নষ্ট হলে তা পুনরুদ্ধারের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের হুঁশিয়ারি প্রদান করেছে। দেশটির জাতীয় কমান্ড কর্তৃপক্ষের (এনসিএ) উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল খালিদ কিদওয়াই মন্তব্য করেছেন, ভারতের পারমাণবিক সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি সম্ভাব্য ‘ফার্স্ট ইউজ’ নীতির দিকে ঝুঁকে পড়া আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য একটি হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মঙ্গলবার ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় নন-প্রলিফারেশন সম্মেলনে তিনি উল্লেখ করেন, দক্ষিণ এশিয়ায় কৌশলগত ভারসাম্যহীনতা পাকিস্তান কখনো মেনে নেয়নি এবং ভবিষ্যতেও তা মেনে নেবে না। পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে পাকিস্তান তার পারমাণবিক অস্ত্র মোতায়েনের বিকল্পগুলো পুনর্বিবেচনা করার কথা ভাবতে পারে।

লেফটেন্যান্ট জেনারেল খালিদ কিদওয়াই এবং পাকিস্তানের সাবেক সামরিক কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট জেনারেল সরফরাজ সাত্তার অভিযোগ করেছেন, ভারতের সাবমেরিনে পারমাণবিক অস্ত্র মোতায়েন, ক্ষেপণাস্ত্রের আধুনিকায়ন এবং সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি দেশটির ঘোষিত ‘নো ফার্স্ট ইউজ’ নীতির বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

আরও পড়ুন: ইরানের প্রেসিডেন্ট: ‘কাপুরুষের মতো সবকিছু পণ্ড করেছে’ যুক্তরাষ্ট্র

তাদের দাবি, ভারতের সাবমেরিনে প্রায় ১২টি পারমাণবিক ওয়ারহেড মোতায়েনের খবর এবং সমুদ্রভিত্তিক পারমাণবিক টহল দক্ষিণ এশিয়ায় উত্তেজনা বৃদ্ধি করতে পারে। এই ধরনের সক্ষমতা সংকটের সময় ভুল বোঝাবুঝি এবং অনিচ্ছাকৃত পারমাণবিক সংঘাতের ঝুঁকিও বাড়িয়ে দিতে পারে।

পাকিস্তানের ‘ফুল স্পেকট্রাম ডিটারেন্স’ নীতির গুরুত্বের প্রতি ভারতের দৃষ্টি আকর্ষণ করে কিদওয়াই বলেন, জাতীয় নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক কৌশলগত ভারসাম্য রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ গ্রহণের অধিকার পাকিস্তানের রয়েছে।

অন্যদিকে, সরফরাজ সাত্তার ২০২৫ সালের মে মাসে দুই দেশের সংঘাতের উদাহরণ তুলে ধরে বলেন, প্রচলিত সামরিক সংঘর্ষ দ্রুত পারমাণবিক উত্তেজনায় রূপ নিতে পারে। ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন, হাইপারসনিক অস্ত্র এবং ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থার আধুনিকায়ন পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তুলছে।

তাদের মতে, ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে কার্যকর দ্বিপক্ষীয় অস্ত্র নিয়ন্ত্রণব্যবস্থার অভাব এবং সামরিক প্রতিযোগিতা দক্ষিণ এশিয়ার কৌশলগত স্থিতিশীলতাকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে। এতে ভুল হিসাব-নিকাশ বা দুর্ঘটনার কারণে সংঘাত পারমাণবিক পর্যায়ে পৌঁছানোর আশঙ্কা বাড়ছে।

আরও পড়ুন: হুতিদের এডেনের নৌঘাঁটি ও সামরিক শিবিরে হামলা

সূত্র: ডন

আরএ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রোমে বোরকা নিষিদ্ধ ও বিদেশি শিক্ষার্থী কোটা নির্ধারণের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:৩৬ এম


রোমে বোরকা নিষিদ্ধ ও বিদেশি শিক্ষার্থী কোটা নির্ধারণের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ

ইতালির ডানপন্থী জর্জো মেলোনি সরকারের নতুন ‘স্কুল ডিক্রি’ ও সার্বিক নীতির বিরুদ্ধে ক্ষোভে দেশটির অভিবাসী সমাজ ফুঁসে উঠেছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বোরকা ও নিকাব নিষিদ্ধকরণ এবং শ্রেণিকক্ষে বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশে সীমাবদ্ধ করার সিদ্ধান্তকে 'বৈষম্যমূলক' আখ্যা দিয়ে রাজধানী রোমে প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন স্থানীয় মানবাধিকারকর্মী, প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির প্রতিনিধি ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

ইতালির রাজনীতিতে অভিবাসন ও সংস্কৃতি রক্ষা সংক্রান্ত বিতর্ক নতুন কিছু নয়। তবে সম্প্রতি মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত নতুন স্কুল ডিক্রি এই বিতর্ককে শিক্ষাঙ্গনে সরাসরি নিয়ে এসেছে। ডিক্রিতে স্কুলের অভ্যন্তরে মুখ ঢেকে রাখা পোশাক সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি ক্লাসরুমে বিদেশি শিক্ষার্থীর সর্বোচ্চ সীমা ৩০ শতাংশ নির্ধারণের নিয়ম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সরকারের এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে বহুসংস্কৃতি চর্চার এলাকা হিসেবে পরিচিত রোমের তরপিনাত্তারায় রাস্তায় নেমে আসেন সর্বস্তরের মানুষ।

সমাবেশে অংশগ্রহণকারীরা জানান, এই এলাকায় বসবাসকারী অভিবাসী মানুষগুলো ইতালিতে বাড়তে থাকা বর্ণবাদী পরিবেশ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। স্কুলে কতজন শিশু পড়ালেখা করবে তার সীমা নির্ধারণ বা নারীদের পোশাক নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত প্রস্তাবনাগুলোর বিরুদ্ধে আজ সকল স্তরের মানুষ একত্রিত হয়েছেন। তারা কোনো ধরনের বর্ণবাদ চান না এবং ইতালীয় ও অভিবাসীরা বছরের পর বছর যেভাবে শান্তিতে বসবাস করছেন, সেভাবেই থাকতে চান।

সরকারের নতুন এই শিক্ষানীতিতে সমতা ও অন্তর্ভুক্তির অভাব দেখছেন প্রবাসে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীরাও। তাদের মতে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কোটা নির্ধারণ বা ধর্মীয় পোশাক পরিধানে বাধ্যবাধকতা তৈরি করা মৌলিক ও নাগরিক স্বাধীনতার পরিপন্থী।

সমাবেশে অংশ নেওয়া অভিবাসী কমিউনিটি নেতারা মেলোনি সরকারের এই নীতিকে ইতালির ঐতিহাসিক সামাজিক সম্প্রীতি বিনষ্টের শামিল বলে অভিযোগ করেন। তারা জানান, কোনো সামাজিক বিভাজন ছাড়াই ইতালীয় সমাজের মূলধারার অংশ হতে চান প্রবাসীরা। একই সঙ্গে সমাবেশ থেকে চরমপন্থী রাজনৈতিক উসকানি প্রতিহত করতে অভিবাসী মুসলিম সম্প্রদায়কেও দায়িত্বশীল ও সচেতন থাকার আহ্বান জানান আন্দোলনকারীরা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আম্বানির শেয়ার কিনতে বিনিয়োগকারীদের ঢল, প্রথম ঘণ্টাতেই রেকর্ড

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:৩৬ এম


আম্বানির শেয়ার কিনতে বিনিয়োগকারীদের ঢল, প্রথম ঘণ্টাতেই রেকর্ড

ভারতের ধনকুবের মুকেশ আম্বানির প্রতিষ্ঠান জিও প্ল্যাটফর্মসের শেয়ার বিক্রিতে ব্যাপক সাড়া লক্ষ্য করা গেছে, যার পরিমাণ প্রায় ৩২০ কোটি ডলার।

বুধবার (২১ অক্টোবর) আবেদন শুরুর প্রথম ঘণ্টাতেই বিক্রির জন্য নির্ধারিত শেয়ারের ৮৫ শতাংশের আবেদন জমা পড়ে। এটি ভারতের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় প্রাথমিক গণপ্রস্তাব হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে জানা গেছে, জিও প্ল্যাটফর্মসের সম্ভাব্য বাজারমূল্য সর্বোচ্চ ১০ হাজার ৮৩০ কোটি ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে। আগামী ২৮ অক্টোবর প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারবাজারে লেনদেন শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

শেয়ার বিক্রিতে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে। তাদের জন্য সংরক্ষিত শেয়ারের বিপরীতে ২ দশমিক ৮ গুণ আবেদন জমা পড়েছে। অন্যদিকে, সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য বরাদ্দ করা শেয়ারের বিপরীতে আবেদন পড়েছে মাত্র শূন্য দশমিক ১৪ গুণ। মোট শেয়ারের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য রাখা হয়েছে।

শেয়ারপ্রতি দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার ৬৫ থেকে ১ হাজার ১১৯ রুপি। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) পর্যন্ত আবেদন করা যাবে। সাধারণ বিনিয়োগকারীদের পাশাপাশি রিলায়েন্সের কর্মী ও শেয়ারধারীরাও শেয়ার কেনার সুযোগ পাচ্ছেন।

মুকেশ আম্বানির ছেলে আকাশ আম্বানির নেতৃত্বে ২০১৬ সালে জিওর টেলিযোগাযোগ ব্যবসা শুরু হয়। কম দামে ইন্টারনেট ও বিনা মূল্যে ভয়েস কলের সুবিধা দিয়ে প্রতিষ্ঠানটি দ্রুত জনপ্রিয়তা অর্জন করে। বর্তমানে জিওর গ্রাহকসংখ্যা ৫০ কোটির বেশি।

জিওতে মেটা, গুগলসহ বিভিন্ন বড় বিনিয়োগকারীর অর্থ রয়েছে। গত মার্চে শেষ হওয়া অর্থবছরে প্রতিষ্ঠানটির আয় ছিল প্রায় ১ হাজার ৫৫০ কোটি ডলার এবং মুনাফা প্রায় ৩২০ কোটি ডলার। এর প্রায় ৯০ শতাংশই এসেছে টেলিযোগাযোগ ব্যবসা থেকে।

দুই দশক পর রিলায়েন্স গোষ্ঠীর কোনো প্রতিষ্ঠানের এই প্রথম শেয়ারবাজারে আসার উদ্যোগ। বিশ্লেষকদের মতে, জিওর শেয়ার বিক্রিতে বিনিয়োগকারীদের সাড়া বৈশ্বিক প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগের আগ্রহ বোঝার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ হবে।

সূত্র: রয়টার্স

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কৃষিঋণের খেলাপির হার ৪২%

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:৩৭ এম


কৃষিঋণের খেলাপির হার ৪২%

কৃষি খাতে খেলাপি ঋণের হার একসময় অন্যান্য খাতের তুলনায় কম ছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে। গত আগস্টের শেষে কৃষি খাতে বিতরণ করা ঋণের ৪২ দশমিক ৩৮ শতাংশ খেলাপি হয়ে পড়েছে। পুরো ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের হার ৩২ দশমিক ৭৮ শতাংশ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত আগস্টের শেষে কৃষি খাতে ঋণস্থিতি দাঁড়িয়েছে ৭০ হাজার ৪৩২ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ২৯ হাজার ৮৪৯ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৪২ দশমিক ৩৮ শতাংশ। গত জুনের শেষে এ খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ১৮ হাজার ৫৭৮ কোটি টাকা বা ২৯ দশমিক ২২ শতাংশ। অর্থাৎ, মাত্র দুই মাসে কৃষি খাতে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ১১ হাজার ২৭১ কোটি টাকা।

দেশের অর্থনীতি ও খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কৃষি খাতের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) এ খাতের অবদান ১১ দশমিক ৭১ শতাংশ। দেশের মোট কর্মসংস্থানের প্রায় ৪৬ শতাংশ কৃষি খাতের ওপর নির্ভরশীল। ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার খাদ্য ও পুষ্টির চাহিদা পূরণেও এ খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এ কারণে কৃষিঋণ বিতরণে সরকারও গুরুত্ব দিয়ে থাকে।

বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পরপরই শস্য, ফসল, মৎস্য ও পশুপালন খাতে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফ করেছে। এর ফলে ১২ লাখ কৃষকের দেড় হাজার কোটি টাকার ঋণ মাফ করা হয়েছে। এরপরও কৃষি খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কৃষি খাতের অস্বাভাবিক খেলাপি ঋণ বৃদ্ধির পেছনে মূল কারণ হলো, ২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে জারি করা নতুন ঋণ শ্রেণিকরণ ও প্রভিশনিং বা নিরাপত্তা সঞ্চিতির নীতিমালা। ওই নীতিমালায় উল্লেখ করা হয়েছে, ঋণের কিস্তি বা সম্পূর্ণ টাকা পরিশোধের মেয়াদের পরের দিন থেকেই তা ওভারডিউ বা বকেয়া হিসেবে গণ্য হবে। বকেয়ার মেয়াদের ওপর ভিত্তি করে ঋণকে নিয়মিত ও খেলাপি হিসেবে ভাগ করা হয়। মূলত আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে মিল রেখে ঋণ পরিশোধের সময়সীমা কঠোর করায় এবং গ্রেস পিরিয়ড বা ছাড়ের সুবিধা কমিয়ে আনার কারণে কৃষিতে বিপুল পরিমাণ ঋণ একসঙ্গে খেলাপি ঋণে পরিণত হয়েছে।

নীতিমালা জারির আগে ২০২৪ সালের জুনের শেষে কৃষি খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ৩ হাজার ৮৭৭ কোটি টাকা।

দুই মাসে সাত হাজার কোটি টাকার ঋণ বিতরণ

চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে (জুলাই-আগস্ট) কৃষি ও পল্লি খাতে ছয় হাজার ৮৫৮ কোটি টাকার ঋণ বিতরণ করেছে ব্যাংকগুলো। এ অর্থ চলতি অর্থবছরের মোট লক্ষ্যমাত্রার ১১ দশমিক ৪৩ শতাংশ। গত অর্থবছরের একই সময়ে ঋণ বিতরণ হয়েছিল চার হাজার ৮২৬ কোটি টাকা। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে ঋণ বিতরণ বেড়েছে দুই হাজার ৩২ কোটি টাকা বা ৪২ দশমিক ১১ শতাংশ।

চলতি অর্থবছরে কৃষি ও পল্লি খাতে ৬০ হাজার কোটি টাকা ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গত অর্থবছরে এ লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩৯ হাজার কোটি টাকা। সে হিসাবে এবার লক্ষ্যমাত্রা বেড়েছে প্রায় ৫৪ শতাংশ। গত অর্থবছরে এ খাতে মোট ৪২ হাজার ৮৩৪ কোটি ১৬ লাখ টাকা ঋণ বিতরণ করা হয়েছিল।

এবার কৃষিঋণ কর্মসূচির আওতা বাড়ানো হয়েছে। এর আওতায় হ্যাচারিতে মাছের পোনা উৎপাদন, হাঁস-মুরগির বাচ্চা উৎপাদন ও উট পালনের মতো কার্যক্রম যুক্ত করা হয়েছে।

চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে কৃষিঋণ বিতরণের পাশাপাশি ঋণ আদায়ও বেড়েছে। জুলাই-আগস্ট সময়ে এ খাতে সাত হাজার ৪১৯ কোটি টাকা ঋণ আদায় হয়েছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে আদায় হয়েছিল ছয় হাজার ৭৩ কোটি টাকা। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে ঋণ আদায় বেড়েছে ১ হাজার ৩৪৬ কোটি টাকা বা ২২ দশমিক ২১ শতাংশ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হরমুজ প্রণালিতে মাইন বিস্ফোরণে ৩ ট্যাংকার ক্ষতিগ্রস্ত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:৪০ এম


হরমুজ প্রণালিতে মাইন বিস্ফোরণে ৩ ট্যাংকার ক্ষতিগ্রস্ত

ঢাকা, ২১ অক্টোবর, ২০২৬ : ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে যে, হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের সময় তিনটি তেলবাহী জাহাজ সমুদ্রে পেতে রাখা মাইন বিস্ফোরণের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

সংস্থাটির বক্তব্য অনুযায়ী, তেহরানের দৃষ্টিতে অবৈধ পথে প্রণালিটি অতিক্রমের চেষ্টা করায় এই জাহাজগুলো মাইনের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

এ বিষয়ে খবরটি বার্তা সংস্থা এএফপি’র মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।

আইআরজিসি মঙ্গলবার তাদের সরকারি সংবাদমাধ্যম সেপাহ নিউজের ওয়েবসাইটে একটি বিবৃতিতে জানায়, হরমুজ প্রণালির দক্ষিণাংশে অবৈধ প্রবেশপথে তাদের নৌবাহিনীর সদস্যদের পেতে রাখা মাইন বিস্ফোরিত হয়ে দু’টি তেলবাহী জাহাজে আগুন ধরে যায়। এর ফলে জাহাজ দুটি থেমে যায়।

পরবর্তীতে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত আরেক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, হরমুজ প্রণালির দক্ষিণে একটি নৌমাইনে আঘাত লেগে তৃতীয় একটি তেলবাহী জাহাজেও বিস্ফোরণ ঘটে এবং আগুন ধরে যায়।

বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয় যে, জাহাজটিতে ২০ লাখ ব্যারেলের বেশি অপরিশোধিত তেল ছিল। এছাড়া, জাহাজটি তার সব রাডার ও নৌ-চলাচল সংক্রান্ত ব্যবস্থা বন্ধ করে রেখেছিল বলেও দাবি করেছে ইরানি বাহিনী।

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ওমানের উপকূলঘেঁষা দক্ষিণ দিকের পথ দিয়ে হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের চেষ্টা করা জাহাজগুলোকে বারবার লক্ষ্যবস্তু করেছে ইরানি বাহিনী।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানে হামলা চালানোর মধ্য দিয়ে এ সংঘাত শুরু হয়। ওই হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা এবং দেশটির জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তারা নিহত হন।

এর পর থেকে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে অবরোধ আরোপের চেষ্টা করছে ইরান। দেশটির দাবি, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের আগে সব জাহাজকে ইরানের অনুমতি নিতে হবে। স্বাভাবিক সময়ে বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দর ও জাহাজ চলাচলের ওপর পাল্টা অবরোধ আরোপ করেছে।

মঙ্গলবার ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব স্টাফ আলি আবদোল্লাহি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয়বহুল সামরিক সরঞ্জামকে লক্ষ্যবস্তু করতে কম খরচের অস্ত্র ব্যবহার করছে তার দেশ।

তিনি বলেন, ‘শত্রুপক্ষ আরও কোনো ভুল করলে আমরা স্বল্পমূল্যের, কিন্তু কার্যকর বিভিন্ন সরঞ্জাম ব্যবহার করে তাদের ব্যয়বহুল ও অত্যাধুনিক সামরিক সরঞ্জামের কার্যকারিতা নষ্ট করে দেব।’

সাম্প্রতিক দিনগুলোতে হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের চেষ্টাকারী জাহাজগুলোর ওপর হামলার ঘটনা বেড়েছে।

আরও বেশি জাহাজকে প্রণালি পার হতে নিরাপত্তা দিয়ে এগিয়ে নিতে চাইছে ওয়াশিংটন। অন্যদিকে, জাহাজ চলাচলের ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে চাইছে তেহরান।

গত কয়েক দিনেও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে একাধিক তেলবাহী জাহাজ মাইনে আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে আইআরজিসি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৩ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৪
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৪৮
মাগরিব ০৫:২৫
ইশা ০৬:৩৭
সূর্যোদয় : ০৬:০০ সূর্যাস্ত : ০৫:২৫
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%