১১:৩৬ এম
ইতালির ডানপন্থী জর্জো মেলোনি সরকারের নতুন ‘স্কুল ডিক্রি’ ও সার্বিক নীতির বিরুদ্ধে ক্ষোভে দেশটির অভিবাসী সমাজ ফুঁসে উঠেছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বোরকা ও নিকাব নিষিদ্ধকরণ এবং শ্রেণিকক্ষে বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশে সীমাবদ্ধ করার সিদ্ধান্তকে 'বৈষম্যমূলক' আখ্যা দিয়ে রাজধানী রোমে প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন স্থানীয় মানবাধিকারকর্মী, প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির প্রতিনিধি ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
ইতালির রাজনীতিতে অভিবাসন ও সংস্কৃতি রক্ষা সংক্রান্ত বিতর্ক নতুন কিছু নয়। তবে সম্প্রতি মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত নতুন স্কুল ডিক্রি এই বিতর্ককে শিক্ষাঙ্গনে সরাসরি নিয়ে এসেছে। ডিক্রিতে স্কুলের অভ্যন্তরে মুখ ঢেকে রাখা পোশাক সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি ক্লাসরুমে বিদেশি শিক্ষার্থীর সর্বোচ্চ সীমা ৩০ শতাংশ নির্ধারণের নিয়ম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সরকারের এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে বহুসংস্কৃতি চর্চার এলাকা হিসেবে পরিচিত রোমের তরপিনাত্তারায় রাস্তায় নেমে আসেন সর্বস্তরের মানুষ।
সমাবেশে অংশগ্রহণকারীরা জানান, এই এলাকায় বসবাসকারী অভিবাসী মানুষগুলো ইতালিতে বাড়তে থাকা বর্ণবাদী পরিবেশ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। স্কুলে কতজন শিশু পড়ালেখা করবে তার সীমা নির্ধারণ বা নারীদের পোশাক নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত প্রস্তাবনাগুলোর বিরুদ্ধে আজ সকল স্তরের মানুষ একত্রিত হয়েছেন। তারা কোনো ধরনের বর্ণবাদ চান না এবং ইতালীয় ও অভিবাসীরা বছরের পর বছর যেভাবে শান্তিতে বসবাস করছেন, সেভাবেই থাকতে চান।
আরও পড়ুন: নেতানিয়াহুকে ঠেকাতে এবার ‘অবশ্যই’ ভোট দেবেন ফিলিস্তিনিরা
সরকারের নতুন এই শিক্ষানীতিতে সমতা ও অন্তর্ভুক্তির অভাব দেখছেন প্রবাসে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীরাও। তাদের মতে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কোটা নির্ধারণ বা ধর্মীয় পোশাক পরিধানে বাধ্যবাধকতা তৈরি করা মৌলিক ও নাগরিক স্বাধীনতার পরিপন্থী।
সমাবেশে অংশ নেওয়া অভিবাসী কমিউনিটি নেতারা মেলোনি সরকারের এই নীতিকে ইতালির ঐতিহাসিক সামাজিক সম্প্রীতি বিনষ্টের শামিল বলে অভিযোগ করেন। তারা জানান, কোনো সামাজিক বিভাজন ছাড়াই ইতালীয় সমাজের মূলধারার অংশ হতে চান প্রবাসীরা। একই সঙ্গে সমাবেশ থেকে চরমপন্থী রাজনৈতিক উসকানি প্রতিহত করতে অভিবাসী মুসলিম সম্প্রদায়কেও দায়িত্বশীল ও সচেতন থাকার আহ্বান জানান আন্দোলনকারীরা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন