বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০১:৫৪ পি.এম
অধিকৃত পশ্চিম তীরে জলপাই সংগ্রহের সময় মার্কিন কংগ্রেস নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটিক প্রার্থী ব্র্যাড ল্যান্ডারকে আটক করেছে ইসরাইলি বাহিনী। ল্যান্ডার নিউ ইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানির ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত।
ল্যান্ডার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্টে জানান, বেথলেহেমের পশ্চিমে জলপাই সংগ্রহের সময় একদল রাব্বি ও স্বেচ্ছাসেবকের সঙ্গে তাকে আটক করা হয়। তিনি এক্সে লেখেন, "আন্তর্জাতিক আইনে দখলদারত্ব একটি অপরাধ। অথচ জলপাই সংগ্রহ করা কোনো আইনেই অপরাধ নয়- অন্তত আমার জানা কোনো আইনে নয়।"
পরে ল্যান্ডার আরেকটি পোস্টে উল্লেখ করেন যে, তার পরিচিতি ও প্রভাবের কারণে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ফিলিস্তিনিরা প্রতিদিন এর চেয়ে অনেক ভয়াবহ পরিণতির মুখোমুখি হন।
ফিলিস্তিনি আন্দোলনকারী আমিরা মুসলিম আনাদোলুকে জানান, বেথলেহেমের পশ্চিমে হুসান শহরে জলপাই সংগ্রহের সময় ইসরাইলি বাহিনী ল্যান্ডারসহ ৪৫ জন বিদেশি স্বেচ্ছাসেবক ও ২৫ জন ইসরাইলি আন্দোলনকারীকে আটক করে।
ল্যান্ডারের অভিযোগের প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ইসরাইলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঘটনাটিকে ‘পরিকল্পিত রাজনৈতিক নাটক’ হিসেবে অভিহিত করে। মন্ত্রণালয় জানায়, ল্যান্ডার ইসরাইলি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করার নির্দেশনা উপেক্ষা করেছেন।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ফিলিস্তিনি জমির মালিক জলপাই সংগ্রহের জন্য প্রয়োজনীয় অনুমতি চাননি। তাদের দাবি, একটি ইসরাইলি বসতির কাছে ‘সমন্বয়হীনভাবে জলপাই সংগ্রহের’ কারণে নিরাপত্তাঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
সামরিক বাহিনী এক বিবৃতিতে উল্লেখ করে, এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জনশৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য এ ধরনের সমন্বয় অপরিহার্য।
জলপাই সংগ্রহের মৌসুমে ফিলিস্তিনিদের ওপর সহিংসতা ও হামলার ঘটনায় ইসরাইলের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সমালোচনা ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো জানাচ্ছে, বসতি স্থাপনকারীরা প্রতিদিন ফিলিস্তিনিদের ওপর একাধিক হামলা চালাচ্ছেন এবং জলপাই সংগ্রহে বাধা দিচ্ছেন।
ইহুদি বংশোদ্ভূত ল্যান্ডার নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানির ঘনিষ্ঠ সহযোগী। মামদানি ইসরাইলি নীতির প্রকাশ্য সমালোচক হিসেবে পরিচিত।
গত জুনে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রাথমিক নির্বাচনে ল্যান্ডার বর্তমান কংগ্রেস সদস্য ড্যান গোল্ডম্যানকে পরাজিত করেন। গোল্ডম্যান ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে ইসরাইলের প্রতি সমর্থন অব্যাহত রাখা অল্প কয়েকজন নেতার একজন।
সূত্র: আনাদোলু
আরএ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মাদারীপুরের কালকিনিতে বোরকা পরে বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলার অভিযোগ উঠেছে চার যুবকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় স্থানীয় জনতার ধাওয়া ও মারধরে তাইজুল সরদার (২৬) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। হামলায় আহত হয়েছেন আরও চারজন। তাঁদের মধ্যে দুই ভাই মহাসিন ও জহির চৌকিদারের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাঁদের ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। নিহত তাইজুল সরদার আলীনগর ইউনিয়নের মানিক সরদার হত্যা মামলার আসামি বলে জানিয়েছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকালে কালকিনি উপজেলার আলীনগর ইউনিয়নের কালিগঞ্জ বাজারে এ ঘটনা ঘটে। নিহত তাইজুল মাদারীপুর সদর উপজেলার কুলপদ্দি এলাকার রুস্তম সরদারের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সকালে কালিগঞ্জ বাজারের হানিফের চায়ের দোকানের সামনে বোরকা পরিহিত চার যুবক একটি অটোরিকশা থেকে নেমে পরপর তিনটি বোমার বিস্ফোরণ ঘটায়। এ সময় তারা সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মিলন সরদার, মহাসিন ও জহির চৌকিদারের ওপর ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। এতে কয়েকজন আহত হন। পরে স্থানীয় লোকজন হামলাকারীদের ধাওয়া করলে তিনজন পালিয়ে যায় এবং তাইজুল জনতার হাতে আটক হন। এ সময় গণপিটুনিতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে তাঁকে কালকিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হয়ে মাদারীপুর সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য, হামলায় আহত মহাসিন ও জহির চৌকিদার আপন দুই ভাই। তাঁদের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। বিশেষ করে জহিরের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
স্থানীয় দফাদার ও বাজার কমিটির সভাপতি ফিরোজ সরদার বলেন, ‘দোকানের সামনে চারজনকে বোরকা পরা অবস্থায় দেখে প্রথমে ভেবেছিলাম, তাঁরা নারী ও ভিক্ষা করতে এসেছেন। অটোরিকশা থেকে নেমেই তাঁরা তিনটি বোমা বিস্ফোরণ ঘটান। একটি বোমার বিস্ফোরণে প্রচুর ধোঁয়া সৃষ্টি হয়ে চারপাশ অন্ধকার হয়ে যায়। এরপর তাঁরা জহিরকে কোপাতে শুরু করেন। মিলন চেয়ারম্যান তাঁকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে তাঁর শরীরেও রক্ত লাগে। পরে মহাসিনের ওপর হামলা চালানো হয়। স্থানীয়রা ধাওয়া করলে তিনজন পালিয়ে যায়। তাইজুলকে আটক করার পর মারধরে তিনি গুরুতর আহত হন।’
এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, কয়েক দিন ধরে অন্য এলাকা থেকে আসা কয়েকজনের বিরুদ্ধে কালিগঞ্জে চাঁদাবাজি ও মামলা-বাণিজ্যসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। তাঁদের দাবি, এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) জাহাঙ্গীর আলম বলেন, সকালে সাবেক চেয়ারম্যান মিলন সরদার তাঁর লোকজন নিয়ে কালিগঞ্জ বাজারের হানিফের চায়ের দোকানে বসে চা পান করছিলেন। এ সময় বোরকা পরিহিত চারজন তাঁদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীদের মধ্যে নিহত তাইজুল, সাইফুল ও আলামিন—এই তিনজনকে শনাক্ত করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, মহাসিন ও জহিরের সঙ্গে তাইজুলের হাতাহাতি হয়। পরে তাইজুল পালানোর চেষ্টা করলে স্থানীয় লোকজন তাঁকে ধাওয়া করে আটক করে এবং মারধর করে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। প্রাথমিকভাবে আধিপত্য বিস্তার ও পূর্বশত্রুতার বিষয়টি সামনে এসেছে। তবে এ ঘটনার সঙ্গে রাজনৈতিক কোনো সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়নি। তদন্ত শেষে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা নবম জাতীয় পে-স্কেল অনুযায়ী বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা লাভ করবেন। তবে তাদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর করার জন্য আরও কিছুটা সময় লাগবে। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) গণমাধ্যমের কাছে তিনি জানান, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা নতুন পে-স্কেল অনুযায়ী বেতন পাবেন। অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে নিয়মিত আলোচনা চলছে তাদের দ্রুত নতুন বেতন কাঠামোর আওতায় আনার জন্য। তবে এ প্রক্রিয়ায় কিছুটা দেরি হতে পারে।
মাউশির মহাপরিচালক বলেন, "আমরা চাই, শিক্ষক-কর্মচারীরা যেন দ্রুত নবম জাতীয় পে-স্কেল অনুযায়ী বেতন পান।" তিনি আরও বলেন, অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। যদিও কিছুটা দেরি হবে, তবে শিক্ষকদের নতুন পে-স্কেলে বেতন পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত।
সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য গত ১ জুলাই থেকে নবম জাতীয় পে-স্কেল কার্যকর করার পরিপত্র অর্থ মন্ত্রণালয় জারি করেছে। চলতি অক্টোবর মাসের বেতনের সঙ্গে সরকারি চাকরিজীবীরা তিন মাসের বকেয়া বেতন পেতে পারেন। কিন্তু এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর করার নির্দিষ্ট সময়সীমা এখনও ঘোষণা করা হয়নি।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের নতুন পে-স্কেলের আওতায় আনতে অর্থ বিভাগের পক্ষ থেকে আদেশ জারি করা হবে। তবে এ বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো দিন-তারিখ এখনও জানানো হয়নি।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও মাউশির তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে সারা দেশে ছয় লাখের বেশি এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারী রয়েছেন। এর মধ্যে মাউশির অধীন প্রায় চার লাখ, মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীন পৌনে দুই লাখ এবং কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীন ২৩ হাজারের বেশি শিক্ষক-কর্মচারী কর্মরত আছেন।
নতুন পে-স্কেল কার্যকর হলে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের মূল বেতন ও বাড়িভাড়া ভাতার পরিমাণ বৃদ্ধি পাবে। বর্তমানে তারা মূল বেতনের ১৫ শতাংশ হারে বাড়িভাড়া ভাতা পাচ্ছেন। নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর হলে তাদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধির বিষয়টি স্পষ্ট হবে।
তবে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা কবে থেকে নতুন পে-স্কেল অনুযায়ী বেতন পাবেন, তা জানতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের পরবর্তী আদেশের অপেক্ষায় থাকতে হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাঙ্গামাটি, ২২ অক্টোবর, ২০২৬ : অনিবার্য কারণে পরবর্তী নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত রাঙ্গামাটির অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র সাজেক ভ্যালিতে ভ্রমণ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসন।
জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফীর স্বাক্ষরিত এক জরুরি গণবিজ্ঞপ্তিতে বুধবার সন্ধ্যা ৭টা ৫১ মিনিটে এই নির্দেশনা প্রদান করা হয়। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সাজেক ভ্যালিতে পর্যটন ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে এবং এটি বন্ধ রাখা হবে।
জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী বাসস’কে নিশ্চিত করে জানান, গতকাল বুধবার সন্ধ্যা থেকে পরবর্তী নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত বাঘাইছড়ি উপজেলার অন্তর্গত সাজেক ভ্যালিতে পর্যটকদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
এছাড়া, রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসনের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, বর্তমানে সাজেক পর্যটন এলাকায় অবস্থানরত সকল পর্যটককে আজ বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টার মধ্যে নিরাপদে নিজ নিজ গন্তব্যে ফিরে যেতে হবে।
সাজেক জীপ সমিতির লাইনম্যান ইয়াছিন আরাফাত আজ সকালে বাসস’কে জানিয়েছেন, বুধবার বিকেল পর্যন্ত ছোট-বড় ও ব্যক্তিগত মিলিয়ে প্রায় দেড় শতাধিক যানবাহন সাজেকে প্রবেশ করেছিল। সেখানে আনুমানিক ২-৩ হাজার পর্যটক অবস্থান করছিল। জেলা প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী বৃহস্পতিবার সকাল ৮টায় স্কর্টে সাজেক ছাড়ার নির্দেশনা থাকায় গাড়িগুলো সারিবদ্ধভাবে রাখা হয়েছে।
পরবর্তী নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত সাজেক ভ্যালি বন্ধ থাকায় পর্যটকদের সেখানে ভ্রমণের পরিকল্পনা স্থগিত রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দেশে ডেঙ্গুর সংক্রমণ ও মৃত্যু উদ্বেগজনক পর্যায়ে থাকায়, রোগটির বিস্তার রোধে সরকার ও ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন পরিচ্ছন্নতা অভিযান, মশকনিধন, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং চিকিৎসাসেবার প্রস্তুতি জোরদার করেছে। তবে, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে কেবল ওষুধ ছিটানো কিংবা পরিচ্ছন্নতা অভিযান যথেষ্ট নয়। বিশেষজ্ঞরা এডিস মশার প্রকৃত প্রজননস্থল শনাক্ত করে তা ধ্বংস, কীটনাশকের কার্যকারিতা যাচাই এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় নিয়মিত নজরদারি বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ লাখ ১২ হাজার ৪০০ জন। তাদের মধ্যে ১ লাখ ৬ হাজার ২৬ জন চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন। এ সময়ে ডেঙ্গুতে ৩৪৮ জনের মৃত্যু হয়েছে।
কীটতত্ত্ববিদ ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. কবিরুল বাশার বলেন, অক্টোবর ও নভেম্বর মাসেও ডেঙ্গুর পরিস্থিতি উদ্বেগজনক থাকতে পারে। নভেম্বর মাসে প্রকোপ কিছুটা কমলেও উল্লেখযোগ্য উন্নতির জন্য ডিসেম্বর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে। সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার পাশাপাশি মাঠ পর্যায়ে নজরদারি বাড়ানো জরুরি।
তিনি আরও বলেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণের প্রথম কাজ হলো এডিস মশার প্রজননস্থল শনাক্ত করা। কোথায় মশা বংশবিস্তার করছে, কোন ধরনের স্থানে লার্ভা বেশি পাওয়া যাচ্ছে এবং মশক নিধনে ব্যবহৃত ওষুধ কতটা কার্যকর হচ্ছে, তা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করতে হবে। প্রজননস্থল শনাক্ত না করে নির্বিচারে কীটনাশক প্রয়োগ করলে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া সম্ভব নয়।
অধ্যাপক কবিরুল বাশার উল্লেখ করেন, এডিস মশা শুধু নর্দমা বা রাস্তার পাশে জন্মায় না। বাসাবাড়ি, নির্মাণাধীন ভবন, ভবনের বেজমেন্ট ও পার্কিং এলাকা, ছাদ-বারান্দায় পড়ে থাকা পাত্র, ফুলের টব, পানির ট্যাংক এবং বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা স্বচ্ছ পানিতে এ মশা বংশবিস্তার করতে পারে। ভবনের আড়ালে কিংবা দুই ভবনের মধ্যবর্তী স্থানে জমে থাকা পানিও প্রজননক্ষেত্র হয়ে উঠতে পারে। এসব স্থান অনেক সময় নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা অভিযানের আওতার বাইরে থেকে যায়। ফলে রাস্তা ও নালা পরিষ্কার করলেও ভবনের ভেতরে থাকা প্রজননস্থল থেকে নতুন করে মশার বিস্তার ঘটতে পারে।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে দায়িত্ব গ্রহণের পর ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে তিন মাসের সচেতনতামূলক কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রায় তিন হাজার চিকিৎসককে ডেঙ্গু রোগীর ব্যবস্থাপনা বিষয়ে রিফ্রেশার প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। সরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসায় শয্যা, পরীক্ষার কিট ও স্যালাইনের সরবরাহ নিশ্চিত করার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।
রাজধানীতে মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার করেছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। সংস্থাটি নিয়মিত লার্ভিসাইডিং, ফগিং, লার্ভা ধ্বংস এবং মশার প্রজননক্ষেত্র ও হটস্পট চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে। পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকায় পরিচ্ছন্নতা অভিযান, জনসচেতনতামূলক র্যালি এবং এডিস মশার লার্ভা ধ্বংসে ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
ডেঙ্গু পরিস্থিতিতে জরুরি স্বাস্থ্য পরামর্শ, মশকনিধনসংক্রান্ত তথ্য ও লার্ভা পরীক্ষার প্রয়োজনে যোগাযোগের জন্য ডিএনসিসি কয়েকটি মোবাইল নম্বর চালু করেছে। নম্বরগুলো হলো—০১৭১৬-০৬৩৪২৫, ০১৭৭৩-৩৯৩২৭৬ ও ০১৭১৫-২৩৮৭৫৪।
ডিএনসিসির প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান বলেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত লার্ভিসাইডিং ও ফগিংয়ের পাশাপাশি বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিএনসিসি ও বাংলাদেশ স্কাউটের সদস্যদের যুক্ত করে জনসচেতনতা বাড়ানোর কার্যক্রম চলছে। মসজিদ-মাদরাসার ইমাম ও খতিব এবং স্কুল-কলেজের প্রধান ও অধ্যক্ষদের সঙ্গে মতবিনিময় করা হয়েছে।
ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে জনসচেতনতা সবচেয়ে জরুরি উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাসাবাড়ির ছাদ ও বারান্দায় কোথাও পানি জমতে দেওয়া যাবে না।
অন্যদিকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) ৭৫টি ওয়ার্ডকে ১০টি অঞ্চলে ভাগ করে সমন্বিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। প্রতি শনিবার বিশেষ অভিযান চালিয়ে আগামী তিন মাস এ কার্যক্রম অব্যাহত রাখার পরিকল্পনা রয়েছে সংস্থাটির। দক্ষিণ সিটির বর্ষা-পূর্ব জরিপে ৭৫টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৬৩টিকে ডেঙ্গুর ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। এর ভিত্তিতে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে মশকনিধন কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।
ডিএসসিসির প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম বলেন, ডেঙ্গু বর্তমানে জাতীয় সংকটে রূপ নিয়েছে। ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও চিকিৎসায় প্রধানমন্ত্রী সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে নির্দেশনা দিয়েছেন। তবে শুধু সরকারি উদ্যোগে এ রোগ প্রতিরোধ সম্ভব নয়; এজন্য জনগণকেও সচেতন ও দায়িত্বশীল হতে হবে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ এবং রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মুশতাক হোসেন বলেন, শুধু ফগার মেশিন দিয়ে ধোঁয়া ছড়ানো কিংবা মৌসুমি পরিদর্শন করে জরিমানা আদায় যথেষ্ট নয়। নির্মাণাধীন ভবন, পরিত্যক্ত গাড়ি, ছাদে জমে থাকা পানি, খোলা ড্রাম, ফুলের টব ও ভাঙা পাত্রসহ বিভিন্ন স্থানে নিয়মিত লার্ভা ধ্বংসের ব্যবস্থা করতে হবে।
তিনি বলেন, উপকূলীয় অঞ্চলে অনেক মানুষ দীর্ঘদিন বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ করেন। এসব ক্ষেত্রে নিরাপদ লার্ভানাশক বা পানি বিশুদ্ধকরণ প্রযুক্তি ব্যবহারের বিষয়ে জনগণকে প্রশিক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় উপকরণ সরবরাহ করা জরুরি। বৃষ্টির পরপরই প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম জোরদার করা গেলে ডেঙ্গুর বিস্তার কমানো সম্ভব।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত বিশ্বের ৯৭টি দেশ ও অঞ্চলে ২২ লাখের বেশি মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন এবং প্রায় ১ হাজার ২০০ জনের মৃত্যু হয়েছে।
প্যান আমেরিকান হেলথ অর্গানাইজেশনের তথ্য অনুযায়ী, আমেরিকা অঞ্চলে চলতি বছরে প্রায় ১৬ লাখ সন্দেহভাজন রোগী শনাক্ত হয়েছেন এবং ৫০০-এর বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। ব্রাজিল ও কলম্বিয়াসহ কয়েকটি দেশে সংক্রমণের চাপ থাকলেও অঞ্চলটিতে গত বছরের তুলনায় আক্রান্তের সংখ্যা কিছুটা কমেছে।
অন্যদিকে, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, কম্বোডিয়া ও থাইল্যান্ডসহ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশেও ডেঙ্গুর সংক্রমণ অব্যাহত রয়েছে। ইউরোপীয় সেন্টার ফর ডিজিজ প্রিভেনশন অ্যান্ড কন্ট্রোলের উদ্ধৃত তথ্যে জুলাই পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে ৯০টির বেশি দেশে প্রায় ১৫ লাখ সংক্রমণ এবং ৫০০-এর বেশি মৃত্যুর কথা বলা হয়েছে।
ড. মুশতাক হোসেন বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন, নগরায়ণ, বৃষ্টিপাতের ধরন এবং এডিস মশার প্রজনন পরিস্থিতি ডেঙ্গুর বিস্তারে ভূমিকা রাখছে। আক্রান্তদের দ্রুত শনাক্তকরণ, গুরুতর রোগীদের সময়মতো চিকিৎসা এবং মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে সমন্বিত কার্যক্রম জোরদার করা প্রয়োজন।
ড. কবিরুল বাশার বলেন, মশকনিধন কার্যক্রমের কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে নিয়মিত জরিপের পাশাপাশি কীটনাশকের মান, প্রয়োগপদ্ধতি ও মাঠপর্যায়ের ফলাফল যাচাই করতে হবে। একই ধরনের ওষুধ বারবার প্রয়োগের আগে সেটি মশা নিধনে কার্যকর কি না, তা পরীক্ষা করা জরুরি। পাশাপাশি স্বাস্থ্য বিভাগ ও স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের মধ্যে তথ্য বিনিময় বাড়ানো গেলে সংক্রমণের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করা এবং কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ সহজ হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ডেঙ্গু প্রতিরোধে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি নাগরিকদের অংশগ্রহণ অপরিহার্য। বাসাবাড়ি ও আশপাশে পানি জমতে না দেওয়া, নিয়মিত পানির পাত্র পরিষ্কার করা এবং বৃষ্টির পর জমে থাকা পানি অপসারণের মাধ্যমে এডিস মশার বংশবিস্তার কমানো সম্ভব। পরিচ্ছন্নতা অভিযান, বিজ্ঞানভিত্তিক মশকনিধন, কার্যকর চিকিৎসাব্যবস্থা ও জনসচেতনতার সমন্বিত উদ্যোগই ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ