বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০২:২৩ পি.এম
জুলাই গণহত্যার বিচারসহ বিভিন্ন দাবির পক্ষে আগামী ৩১ অক্টোবর ১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে ঢাকা-খুলনা-কুষ্টিয়া লংমার্চের কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এই লংমার্চের মূল দাবি হলো ‘জুলাই গণহত্যার বিচার’ যা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
লংমার্চের সফলতা নিশ্চিত করার জন্য প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ঢাকা থেকে শুরু হতে যাওয়া এই লংমার্চের প্রথম পথসভার স্থান শরীয়তপুরের নাওডোবা এলাকা পরিদর্শন করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নেতারা। পরিদর্শনের পর তারা উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর প্রদান করেন।
পরিদর্শনের সময় জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও যশোর-কুষ্টিয়া অঞ্চল পরিচালক মো. মোবারক হোসাইন উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়া, এই প্রস্তুতিমূলক কর্মসূচিতে অন্যান্য নেতাদের মধ্যে ফরিদপুর অঞ্চল টিমের সদস্য ও ফরিদপুর জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা বদরুদ্দীন, শরীয়তপুর জেলা আমির মাওলানা আব্দুর রব হাশেমী, মাদারীপুর জেলা আমির মাওলানা মোখলেসুর রহমান, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি মোহাম্মদ কামাল হোসেন এমপি এবং ঢাকা মহানগরী উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি ডা. মো. ফখরুদ্দিন মানিকসহ আঞ্চলিক ও স্থানীয় জামায়াত নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
পরিদর্শনের পর নেতারা জানান, আগামী ৩১ অক্টোবরের লংমার্চ এবং শরীয়তপুরের নাওডোবায় অনুষ্ঠিতব্য প্রথম পথসভাকে কেন্দ্র করে সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হচ্ছে। তারা আশা প্রকাশ করেন যে, এতে সাধারণ জনগণের ব্যাপক সমাগম ঘটবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পুরানো বাণিজ্যমেলা মাঠের মালিকানা নিয়ে গণপূর্ত ও শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে পাল্টাপাল্টি অবস্থান দেখা যাচ্ছে। উভয় পক্ষই নিজেদের মালিকানা দাবি করছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন জানাচ্ছে, প্রয়োজনে তারা আইনি লড়াইয়ে যেতে প্রস্তুত। গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছেন, সরকারি মালিকানার খালি মাঠে সচিবালয় স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। এদিকে, স্থপতি ইকবাল হাবিব পরিবেশগত দিক বিবেচনা করে শহরের কেন্দ্রে প্রশাসনিক কাঠামো নির্মাণ না করে বিকল্প স্থান খোঁজার পরামর্শ দিয়েছেন।
স্বাধীন বাংলাদেশের প্রশাসনিক কার্যক্রমের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে সচিবালয়। গত পাঁচ দশকে মন্ত্রণালয়ের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং কাজের পরিধি বেড়েছে। নতুন এবং পুরাতন মিলে গাদাগাদি করে সাড়ে ১৭ একর জমিতে ১৩টি ভবনের ১৮ লাখ ৭৬ হাজার বর্গফুটের মধ্যে জায়গার সংকুলান হচ্ছে না। এর আগে সচিবালয় স্থানান্তরের উদ্যোগ নেয়া হলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি।
শেরেবাংলা নগরে পুরাতন বাণিজ্য মেলা মাঠে সাড়ে ৩১ একর জমিতে পার্কিং, লেক, সবুজায়নের নকশা অনুযায়ী ৩৩ লাখ বর্গফুটের ১২ তলা বিশিষ্ট ১৪টি ভবন নির্মাণের অনুমোদন মন্ত্রিসভা দিয়েছে।
সরকারের সিদ্ধান্তের পর মাঠটি উন্মুক্ত স্থান, খেলার মাঠ বা কৃষি গবেষণায় কাজে লাগানোর প্রস্তাব দিয়ে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিন প্রফেসর ড. এম সালাহউদ্দিন দাবি করেছেন যে, জায়গাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পত্তি।
তিনি বলেন, "আইনগতভাবে, দলিল-দস্তাবেজে এটি শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পত্তি। সরকারকে এটি নিতে হলে ক্রোক করে নিতে হবে। সরকার দাবি করছে এটি সরকারের জায়গা, আর আমি দাবি করছি এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের জায়গা। এই বিষয়টি আদালত সমাধান করবেন। সরকারের সঙ্গে আমাদের কোনো বিরোধ নেই। আমরা শুধুমাত্র সরকারকে বলতে চাই, আপনারা বিকল্প খুঁজে এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বা পরিবেশের জন্য খালি রাখেন।"
গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর জানান, জমিটি সরকারি সম্পত্তি। সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে কাজ শুরুর প্রক্রিয়া এগিয়ে চলছে। স্থানান্তরের পর বর্তমান সচিবালয়ের ব্যবহার নিয়ে আলোচনা চলছে।
তিনি বলেন, "১৬ ডিসেম্বর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হবে। এটি সরকারের জায়গা। খালি জায়গা পেয়ে শিক্ষার্থীরা খেলাধুলা করতো। এই জমি বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে বরাদ্দ দেয়া হয়নি। অবশ্যই এটি ব্যবহার করা হবে।"
তবে পরিবেশগত দিক চিন্তা করে, সরকারি সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার পরামর্শ দিয়েছেন নগর পরিকল্পনাবিদ স্থপতি ইকবাল হাবিব।
তিনি বলেন, "সকলের একটা পরামর্শভিত্তিক কাঠামোর মধ্য দিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া গণতান্ত্রিক সরকারের কাছে প্রত্যাশিত। আমরা পরিবেশবাদীরা সে কারণে আবার পুনর্বিবেচনা করার কথা বলছি। বাধা দিচ্ছি না। আমরা ভবিষ্যতের পরিকল্পনা করছি বর্তমানের না।"
লুই আই কানের মাস্টার প্ল্যান অনুযায়ী রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠে সচিবালয় স্থাপনের প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। সরকারের নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০২৯ সালে নতুন স্থানে অফিস শুরু হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ২২ অক্টোবর, ২০২৬ : বাংলাদেশ ব্যাংক মালদ্বীপে একটি বাংলাদেশি ব্যাংকের শাখা খুলতে এবং বিকল্প মুদ্রা নিষ্পত্তি ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে মালদ্বীপে কর্মরত বাংলাদেশিদের প্রবাসী আয় বৈধ চ্যানেলে দেশে পাঠানো সহজ হবে এবং ব্যাংকিং সেবার পরিধি বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বাসসকে জানিয়েছেন, "প্রবাসী আয় যাতে বৈধ পথে দেশে আসে, সে জন্য মালদ্বীপে বাংলাদেশি ব্যাংকের শাখা খোলার চেষ্টা করছি।"
তিনি আরও জানান, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. মোস্তাকুর রহমান মালদ্বীপ মনিটারি অথরিটির (এমএমএ) গভর্নর আহমেদ মুনাওয়ারকে সহযোগিতা চেয়ে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন। বর্তমানে তাদের জবাবের জন্য অপেক্ষা করছে বাংলাদেশ।
এই উদ্যোগকে এগিয়ে নিতে বাংলাদেশ ব্যাংক সম্প্রতি মালদ্বীপে বাংলাদেশ দূতাবাসের সঙ্গে একটি ভার্চুয়াল বৈঠক করেছে। বৈঠকে বাংলাদেশি ব্যাংকের শাখা স্থাপন এবং প্রবাসীদের আয় বৈধ চ্যানেলে দেশে পাঠানোর সুযোগ আরও শক্তিশালী করার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।
বাংলাদেশের ব্র্যাক ব্যাংক ও ন্যাশনাল ব্যাংকসহ কিছু বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংক মালদ্বীপে শাখা স্থাপনের সম্ভাব্যতা যাচাই করেছে বলেও ওই কর্মকর্তা জানিয়েছেন।
বর্তমানে শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান ও ভারতের কয়েকটি ব্যাংক মালদ্বীপে শাখা পরিচালনা করছে, যা বাংলাদেশের জন্য একটি কার্যকর উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মতে, মালদ্বীপে বাংলাদেশি ব্যাংকের উপস্থিতি বৃদ্ধি পেলে প্রবাসীরা সহজে ব্যাংকিং সেবা পাবেন এবং অনুমোদিত চ্যানেলে দেশে অর্থ পাঠানো আরও সুবিধাজনক হবে। তবে এ জন্য দুই দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ও পারস্পরিক সহযোগিতা প্রয়োজন হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের দেশভিত্তিক প্রবাসী আয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মালদ্বীপ থেকে বাংলাদেশে ১১ কোটি ৮০ লাখ ডলার এসেছে। আগের অর্থবছরে এ অঙ্ক ছিল ১৪ কোটি ১১ লাখ ডলার। অর্থাৎ এক বছরে প্রায় ১৬ দশমিক ৪ শতাংশ কমেছে প্রবাসী আয়।
তবে চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে মালদ্বীপ থেকে ৩ কোটি ৮০ লাখ ৫০ হাজার ডলার দেশে এসেছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, প্রবাসী আয় কমে যাওয়ার এবং অর্থ পাঠাতে বাংলাদেশি কর্মীদের নানা জটিলতার কারণে বৈধ রেমিট্যান্স সেবা আরও সহজ, সাশ্রয়ী ও কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ব্যাংক শাখা স্থাপনের পাশাপাশি মালদ্বীপ থেকে রেমিট্যান্স পাঠানো সহজ করতে বাংলাদেশ ব্যাংক তিনটি নতুন ব্যবস্থা প্রস্তাব করেছে।
গত ৮ অক্টোবর এমএমএ গভর্নরের কাছে পাঠানো চিঠিতে গভর্নর ড. মোস্তাকুর রহমান দুই দেশের মুদ্রা কর্তৃপক্ষের মধ্যে নিরাপদ, দক্ষ, স্বচ্ছ ও কম ব্যয়ের রেমিট্যান্স ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সহযোগিতা চান।
প্রথম প্রস্তাবে এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (এসিইউ) আওতায় উপযুক্ত ব্যবস্থার মাধ্যমে মালদ্বীপের স্থানীয় মুদ্রা রুফিয়া ব্যবহারের সম্ভাবনা যাচাইয়ের কথা বলা হয়েছে। এ ব্যবস্থায় বাংলাদেশে উপকারভোগীরা অনুমোদিত ডিলার ব্যাংকের মাধ্যমে টাকায় সমপরিমাণ অর্থ পাবেন।
দ্বিতীয় প্রস্তাবে মালদ্বীপের লাইসেন্সধারী ব্যাংক ও অর্থ স্থানান্তর প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাংলাদেশি নাগরিকদের ভ্রমণসংক্রান্ত যোগ্য পরিশোধ রুফিয়ায় করার সুযোগ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। বাংলাদেশে অনুমোদিত ডিলার ব্যাংকগুলো টাকাভিত্তিক কার্ড ইস্যু করবে এবং দুই দেশের সমন্বিত নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থার মাধ্যমে এর নিষ্পত্তি হবে।
তৃতীয় প্রস্তাবে বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় কারেন্সি সোয়াপ ব্যবস্থা চালুর সম্ভাবনা খতিয়ে দেখার কথা বলা হয়েছে, যাতে বাংলাদেশি কর্মীদের উপার্জন দেশে ফিরিয়ে আনা আরও সহজ হয়।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, এসব ব্যবস্থা বাস্তবায়ন দুই দেশের আইন ও নিয়ন্ত্রক অনুমোদনের ওপর নির্ভর করবে।
এ ছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তা ও মালদ্বীপে বাংলাদেশ মিশনের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি যৌথ প্রতিনিধিদল গঠনের মাধ্যমে এমএমএর সঙ্গে বৈঠক করতেও প্রস্তুতি রয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের। সম্ভাব্য ওই বৈঠকে নিয়ন্ত্রক শর্ত, পরিচালনাগত ব্যবস্থা এবং নিষ্পত্তি কাঠামো নিয়ে আলোচনা হবে।
মালদ্বীপে বর্তমানে এক লাখের বেশি বাংলাদেশি কর্মরত। ২০২৪ সালের তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে দুই লাখের বেশি বিদেশি কর্মী রয়েছেন, যার মধ্যে এক লাখের বেশি বাংলাদেশি।
এত বড় বাংলাদেশি কর্মীসমাজ থাকা সত্ত্বেও স্থানীয় মুদ্রা রুফিয়া সরাসরি গ্রহণে ব্যাংক ও মানি এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠানগুলোর অনীহার কারণে প্রবাসীরা বৈধ পথে অর্থ পাঠাতে সমস্যায় পড়ছেন।
ফলে অনেককে অনানুষ্ঠানিক বাজার থেকে আগে মার্কিন ডলার কিনে পরে ব্যাংক বা এক্সচেঞ্জ হাউসের মাধ্যমে অর্থ পাঠাতে হয়। এর সঙ্গে উচ্চ কমিশন যোগ হওয়ায় বৈধ পথে অর্থ পাঠানোর ব্যয় আরও বেড়ে যায়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মতে, এসব জটিলতা বৈধ চ্যানেলের ব্যবহার নিরুৎসাহিত করে এবং হুন্ডিসহ অনানুষ্ঠানিক ব্যবস্থার ওপর নির্ভরতা বাড়ায়, যার ফলে দেশের আনুষ্ঠানিক ব্যাংকিং ব্যবস্থায় প্রবাসী আয়ের প্রবাহ সীমিত হয়।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আশা, প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও কার্যকর ব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে মালদ্বীপে বাংলাদেশি ব্যাংকের শাখা চালু এবং প্রস্তাবিত মুদ্রা নিষ্পত্তি ব্যবস্থাগুলো একসঙ্গে বাস্তবায়নের মাধ্যমে অনানুষ্ঠানিক মুদ্রাবাজারের ওপর নির্ভরতা কমবে, লেনদেনের স্বচ্ছতা বাড়বে এবং প্রবাসীরা আরও সহজে পরিবারের কাছে অর্থ পাঠাতে পারবেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের এই উদ্যোগের লক্ষ্য প্রবাসী আয় স্থানান্তরকে আরও নিরাপদ, দ্রুত ও কম ব্যয়বহুল করা এবং বৈধ চ্যানেলে দেশে আসা প্রবাসী আয়ের পরিমাণ বাড়ানো। তবে পুরো উদ্যোগের বাস্তবায়ন মালদ্বীপ মনিটারি অথরিটির সাড়া, প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রক অনুমোদন এবং দুই দেশের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
॥ রেদ্ওয়ান আহমদ ॥
চট্টগ্রাম, ২২ অক্টোবর, ২০২৬ : আদালতের তত্ত্বাবধানে শর্তসাপেক্ষে সংশোধনের সুযোগ দিয়ে চট্টগ্রামে ১ হাজার ৫৫১ জন লঘু অপরাধীকে কারাগারে না পাঠিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার সুযোগ সৃষ্টি করেছে প্রবেশন ব্যবস্থা। এই অপরাধীদের মধ্যে অধিকাংশই কিশোর ও তরুণ। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে অপরাধীদের পরিবার ও সমাজের সঙ্গে যুক্ত রেখে তাদের সংশোধনের পাশাপাশি দেশের অতিরিক্ত জনাকীর্ণ কারাগারগুলোর ওপর চাপ কমানোর সুযোগও তৈরি হয়েছে।
২০১৬ সালে চট্টগ্রাম চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে প্রবেশন কার্যালয় প্রতিষ্ঠার পর থেকে মোট ১ হাজার ৫৫১ জন অপরাধী এই সুযোগ গ্রহণ করেছেন। প্রবেশন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ৯৯২ জন প্রবেশন কর্মকর্তার তত্ত্বাবধানে রয়েছেন, যা দেশের একক কোনো প্রবেশন কার্যালয়ের অধীনে সর্বোচ্চ সংখ্যা। এছাড়া, শর্ত পূরণ করে ৫৫৯ জন তাদের দণ্ড থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
প্রবেশন একটি আইনি ব্যবস্থা, যেখানে আদালত কোনো অপরাধীর কারাদণ্ড স্থগিত রেখে নির্দিষ্ট শর্তে তাকে পরিবারের সঙ্গে বসবাস ও সমাজে পুনর্বাসনের সুযোগ দেয়। এই সময় একজন প্রবেশন কর্মকর্তা তার আচরণ ও কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন এবং সংশোধনের প্রক্রিয়ায় সহায়তা করেন।
এ ব্যবস্থায় জীবনের মোড় ঘুরে যাওয়ার একটি উদাহরণ হলো আবদুল্লাহ (প্রকৃত নাম নয়)। ২০২৩ সালের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষায় চট্টগ্রাম সরকারি মুসলিম উচ্চবিদ্যালয় থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন তিনি। ভালো ফলাফল ও উজ্জ্বল ভবিষ্যতের সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও একপর্যায়ে কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন আবদুল্লাহ। পরে তৎকালীন র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) তাকে গ্রেপ্তার করে এবং কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানো হয়।
তবে তার জীবনের গতিপথ বদলে যায় চট্টগ্রাম নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৫-এর একটি আদেশে। আদালত তাকে আটক রাখার পরিবর্তে একজন প্রবেশন কর্মকর্তার তত্ত্বাবধানে রাখার নির্দেশ দেন।
আবদুল্লাহ ও তার পরিবারের সদস্যদের পুনর্বাসন প্রক্রিয়ায় যুক্ত করেন প্রবেশন কর্মকর্তা মনজুর মোরশেদ। নিজের ভুল উপলব্ধি করা এবং আচরণ পরিবর্তনে তাকে সহায়তা করা হয়। একপর্যায়ে আবদুল্লাহ আগের অভ্যাস ত্যাগ করে নতুনভাবে জীবন গড়ার উদ্যোগ নেন। পরে আদালত ও প্রবেশন কার্যালয় তার শর্ত পূরণের বিষয়টি যাচাই করে তাকে দণ্ড থেকে অব্যাহতির যোগ্য বলে বিবেচনা করে।
শিক্ষাজীবনে ফিরে এসে আবদুল্লাহ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগে ভর্তির সুযোগ পান। কিশোর অপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে পড়া থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হয়ে ওঠার এই যাত্রা প্রমাণ করে, যথাযথ পুনর্বাসনের সুযোগ পেলে তরুণ অপরাধীরাও নতুন জীবন শুরু করতে পারে।
চট্টগ্রাম সিএমএম আদালত ও এর অধীনস্থ আদালতগুলো সমাজসেবা অধিদপ্তরের প্রবেশন কার্যালয়ের মাধ্যমে যোগ্য আসামি ও দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের শর্তসাপেক্ষ তত্ত্বাবধানে রাখছেন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, এই ব্যবস্থা অপরাধীদের সমাজে পুনঃএকীভূত হতে সহায়তা করে। একই সঙ্গে কারাগারে অতিরিক্ত বন্দির চাপ কমায় এবং লঘু অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের কারাগারে গুরুতর অপরাধীদের সংস্পর্শে এসে আরও বড় অপরাধে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি হ্রাস করে।
প্রবেশনপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আদালতের দেওয়া শর্ত পূরণ করতে হয়। এসব শর্তের মধ্যে বই পড়া, গাছ লাগানো, প্রতিবেশীদের সঙ্গে সদাচরণ, মা-বাবার প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা, মাদকবিরোধী কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ, ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলা এবং হাসপাতালে মাদক পরীক্ষা করানোর মতো বিষয় থাকতে পারে।
১৯৬০ সালের অপরাধী প্রবেশন অধ্যাদেশের ৫ ধারা অনুযায়ী, মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় নয়-এমন অপরাধের ক্ষেত্রে যোগ্য পুরুষ অপরাধীরা প্রবেশনের সুযোগ পেতে পারেন। মৃত্যুদণ্ডযোগ্য অপরাধ ছাড়া অন্যান্য ক্ষেত্রে নারী অপরাধীরাও এ সুযোগের আওতায় আসতে পারেন। অন্যদিকে, শিশু আইন, ২০১৩-এর বিধান অনুযায়ী, আইনের শর্ত সাপেক্ষে অপরাধের ধরন নির্বিশেষে শিশু অপরাধীদের প্রবেশনে রাখার সুযোগ রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দেশের কারাগারগুলোতে বর্তমানে প্রায় ৮০ হাজার বন্দি রয়েছেন, যেখানে ধারণক্ষমতা প্রায় ৪৬ হাজার। চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারেই প্রায় ৬ হাজার বন্দি রয়েছেন, যা কারাগারটির নির্ধারিত ধারণক্ষমতার দ্বিগুণেরও বেশি।
প্রবেশন কর্মকর্তা মনজুর মোরশেদ একটি গবেষণার তথ্য উল্লেখ করে বলেন, কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়া প্রায় ৫২ শতাংশ ব্যক্তি জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর কিংবা সাজা ভোগ শেষে পুনরায় অপরাধ বা বেআইনি কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন। এই তথ্য অপরাধীদের কার্যকর পুনর্বাসনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে।
তিনি বলেন, প্রবেশনপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের প্রায় ৮০ শতাংশ শর্ত মেনে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার চেষ্টা করেন বলে তার ধারণা। তবে কেউ শর্ত ভঙ্গ করলে তাকে মূল দণ্ড ভোগের জন্য কারাগারে পাঠানো হতে পারে।
তবে জনবলের সংকট, পর্যাপ্ত লজিস্টিক সহায়তার অভাব ও সীমিত অর্থায়নের কারণে প্রবেশন ব্যবস্থার কার্যকর বাস্তবায়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সাঈদ আহসান খালিদ বাসসকে বলেন, প্রবেশনকে কেবল একটি আইনি ব্যবস্থা হিসেবে দেখলে চলবে না; বরং সমাজ ও দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণে এটি একটি পুনর্বাসন প্রক্রিয়া হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।
তিনি বলেন, লঘু অপরাধে জড়িত কিছু ব্যক্তি কারাগারে গিয়ে গুরুতর অপরাধীদের সংস্পর্শে আসেন এবং একপর্যায়ে আরও গুরুতর অপরাধে জড়িয়ে পড়তে পারেন। কারাগার থেকে মুক্তির পর পরিবার ও সমাজের সঙ্গে পুনরায় খাপ খাইয়ে নিতেও তাদের নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। অনেক ক্ষেত্রে পরিবার ও সমাজ তাদের সহজে গ্রহণ করতে চায় না।
তিনি বলেন, ‘এসব সমস্যা মোকাবিলায় প্রবেশন অত্যন্ত কার্যকর একটি ব্যবস্থা।’
আদালত সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট আদালতেই ৬৬ হাজারের বেশি মামলা বিচারাধীন রয়েছে।
সাঈদ আহসান খালিদ বলেন, প্রবেশনের ব্যবহার বাড়ানো গেলে কারাগারে বন্দির অতিরিক্ত চাপ কমানোর পাশাপাশি বিচারব্যবস্থার ওপর চাপও হ্রাস পেতে পারে।
এ ব্যবস্থা আরও কার্যকর করতে বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তা, আইনজীবী, পুলিশ, কারা কর্তৃপক্ষ ও সমাজকল্যাণ কর্মকর্তাদের সম্পৃক্ত করে সচেতনতামূলক ও উদ্বুদ্ধকরণ কর্মসূচি বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।
বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশনের মহাসচিব অ্যাডভোকেট জিয়া হাবিব আহসান বলেন, প্রবেশন ব্যবস্থার ব্যাপক প্রয়োগ সম্পর্কে অনেক বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তা ও আইনজীবীর পর্যাপ্ত ধারণা না থাকায় এটি এখনও প্রত্যাশিত মাত্রায় ব্যবহৃত হচ্ছে না। অনেক ক্ষেত্রে কারাদণ্ডকেই শাস্তির স্বাভাবিক পন্থা হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
তিনি বলেন, কারাগার পরিচালনায় বিপুল ব্যয় হয়। অন্যদিকে, উপযুক্ত ক্ষেত্রে প্রবেশন তুলনামূলক কম ব্যয়বহুল ও সমাজের জন্য অধিক কল্যাণকর বিকল্প হতে পারে।
প্রবেশন ব্যবস্থার পরিধি বাড়াতে সমাজসেবা অধিদপ্তরের অধীনে আরও প্রবেশন কর্মকর্তা নিয়োগ, তদারকি ও নিয়মিত খোঁজখবর নেওয়ার ব্যবস্থা জোরদার এবং জনসচেতনতামূলক প্রচার বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।
জিয়া হাবিব আহসান বলেন, ‘কারাগারের দেয়াল একজন মানুষকে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করে, আর প্রবেশন তাকে মানুষ হিসেবে নতুন করে বাঁচার সুযোগ দেয়।’
প্রবেশনকে কেবল আইনি প্রক্রিয়া হিসেবে নয়, বরং সামাজিক ও মানবিক সংস্কারের কার্যকর হাতিয়ার হিসেবে বিবেচনা করার জন্য সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জার্মানির আর্থিক নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাফিন ইরানের ব্যাংক সাদেরাতের হামবুর্গ শাখার লাইসেন্স বাতিল করেছে। ব্যাংকটির কার্যক্রম গুটিয়ে নেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে সংস্থাটির পক্ষ থেকে। এই পদক্ষেপটি নিষেধাজ্ঞার কারণে নেওয়া হয়েছে।
আগে সেপ্টেম্বর মাসে, বাফিন রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংক সেপাহর জার্মান শাখাকে দেউলিয়া ঘোষণা করেছিল।
বাফিন জানিয়েছে, আইনি বাধ্যবাধকতা লঙ্ঘন এবং চিহ্নিত ত্রুটিগুলো সংশোধনে ব্যর্থ হওয়ার কারণে গত বছর ব্যাংক সাদেরাতের লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছিল।
সংস্থাটি আরও জানায়, গত মাসে হামবুর্গের একটি আদালত ব্যাংকটির কার্যক্রম গুটিয়ে ফেলার জন্য একজন লিকুইডেটর (তত্ত্বাবধায়ক) নিয়োগ করেছে।
বাফিনের ভাষ্য অনুযায়ী, এর ফলে প্রতিষ্ঠানটি আর ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা করতে সক্ষম হবে না।
নিয়ন্ত্রক সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ব্যাংকটিতে ১৩ জন কর্মী কর্মরত ছিলেন। ব্যাংকটির সম্পদের পরিমাণ ছিল ছয় কোটি ২৪ লাখ ইউরো, যা মার্কিন মুদ্রায় প্রায় ৭ কোটি ১৬ লাখ ১৬ হাজার ডলার।
সূত্র: আলজাজিরা
আরএ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ