ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৬ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৬ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

জার্মানিতে ইরানি ব্যাংক সাদেরাতের হামবুর্গ শাখার লাইসেন্স বাতিল


জার্মানিতে ইরানি ব্যাংক সাদেরাতের হামবুর্গ শাখার লাইসেন্স বাতিল

জার্মানির আর্থিক নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাফিন ইরানের ব্যাংক সাদেরাতের হামবুর্গ শাখার লাইসেন্স বাতিল করেছে। ব্যাংকটির কার্যক্রম গুটিয়ে নেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে সংস্থাটির পক্ষ থেকে। এই পদক্ষেপটি নিষেধাজ্ঞার কারণে নেওয়া হয়েছে।

আগে সেপ্টেম্বর মাসে, বাফিন রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংক সেপাহর জার্মান শাখাকে দেউলিয়া ঘোষণা করেছিল।

বাফিন জানিয়েছে, আইনি বাধ্যবাধকতা লঙ্ঘন এবং চিহ্নিত ত্রুটিগুলো সংশোধনে ব্যর্থ হওয়ার কারণে গত বছর ব্যাংক সাদেরাতের লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছিল।

আরও পড়ুন: দাম্মামে বিমানবন্দরে হামলা, আহত দুই বাংলাদেশি প্রবাসী

সংস্থাটি আরও জানায়, গত মাসে হামবুর্গের একটি আদালত ব্যাংকটির কার্যক্রম গুটিয়ে ফেলার জন্য একজন লিকুইডেটর (তত্ত্বাবধায়ক) নিয়োগ করেছে।

বাফিনের ভাষ্য অনুযায়ী, এর ফলে প্রতিষ্ঠানটি আর ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা করতে সক্ষম হবে না।

নিয়ন্ত্রক সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ব্যাংকটিতে ১৩ জন কর্মী কর্মরত ছিলেন। ব্যাংকটির সম্পদের পরিমাণ ছিল ছয় কোটি ২৪ লাখ ইউরো, যা মার্কিন মুদ্রায় প্রায় ৭ কোটি ১৬ লাখ ১৬ হাজার ডলার।

সূত্র: আলজাজিরা

আরও পড়ুন: সৌদীর প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ে হামলা হুথিদের

আরএ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইউরোপে বিক্ষোভকারীদের ওপর বাড়ছে গোয়েন্দা নজরদারি, উদ্বেগ তুরস্কের সমালোচকদের নিয়ে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:২৭ পি.এম


ইউরোপে বিক্ষোভকারীদের ওপর বাড়ছে গোয়েন্দা নজরদারি, উদ্বেগ তুরস্কের সমালোচকদের নিয়ে

নরওয়ে, ফিনল্যান্ড ও ডেনমার্কে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোয়ানের সমালোচক এবং গুলেন আন্দোলনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে সন্দেহ করা ব্যক্তিদের ওপর নজরদারি চালানোর অভিযোগ উঠেছে তুর্কি গোয়েন্দা ও সন্ত্রাসবিরোধী কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের ছবি এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট বিশ্লেষণ করে তাদের পরিচয় শনাক্ত করা হয়। পরে সংগৃহীত তথ্য তুরস্কে চলমান ফৌজদারি তদন্ত ও বিচারিক কার্যক্রমে ব্যবহারের জন্য পাঠানো হয়।

বৃহস্পতিবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৬ সালের ১৯ আগস্ট তৈরি করা একটি গোপন নথিতে তিনটি নর্ডিক দেশে বিক্ষোভকারীদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ ও তা তুরস্কের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে পাঠানোর বিবরণ রয়েছে। নথিটি তুরস্কের আন্তালিয়া প্রাদেশিক পুলিশ বিভাগের। এতে ২৪ জুন নরওয়ে, ফিনল্যান্ড ও ডেনমার্কে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের শনাক্ত করার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

ওই বিক্ষোভগুলো ফ্রান্সের স্ট্রাসবুর্গে ইউরোপীয় কাউন্সিলের সদর দপ্তরের বাইরে অনুষ্ঠিত একটি প্রতিবাদের প্রতি সংহতি জানিয়ে আয়োজন করা হয়েছিল। বিক্ষোভকারীদের দাবি ছিল, তুরস্ক যেন ইউরোপীয় মানবাধিকার আদালতের রায়গুলো বাস্তবায়ন করে। শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে গুলেন আন্দোলনের সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে বলে সন্দেহ করা ব্যক্তিরাও ছিলেন।

নথিতে বলা হয়েছে, তুর্কি কর্তৃপক্ষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ছবি ও পোস্ট পর্যালোচনা করে বিক্ষোভকারীদের নামের তালিকা তৈরি করে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের শনাক্ত করার পাশাপাশি তাদের অংশগ্রহণের প্রমাণ হিসেবে কিছু ছবির স্ক্রিনশটও সংরক্ষণ করা হয়। পরে এসব তথ্য তুরস্কের জাতীয় পুলিশের সন্ত্রাসবিরোধী বিভাগে পাঠানো হয়।

আদালতে পাঠানো হয়েছে তদন্ত প্রতিবেদন

নথি অনুযায়ী, তুরস্কের জাতীয় পুলিশের সন্ত্রাসবিরোধী বিভাগ ১১ আগস্ট প্রাদেশিক পুলিশ ইউনিটগুলোকে নির্দেশনা দেয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে আন্তালিয়া প্রাদেশিক পুলিশের সন্ত্রাসবিরোধী শাখা ১৯ আগস্ট একটি তদন্ত প্রতিবেদন তৈরি করে। এতে বিদেশে বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের পরিচয় যাচাই, তাদের বিরুদ্ধে তুরস্কে আগে থেকে কোনো বিচারিক কার্যক্রম চলছে কি না, তা খতিয়ে দেখা এবং প্রয়োজনীয় তথ্য সংশ্লিষ্ট আদালত ও কৌঁসুলিদের কাছে পাঠানোর নির্দেশনার উল্লেখ রয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, আন্তালিয়া পুলিশের তৈরি একটি তদন্ত প্রতিবেদন সেখানকার দ্বিতীয় উচ্চ ফৌজদারি আদালতে পাঠানো হয়েছিল। ওই নথিতে অন্তত একজন ব্যক্তির পরিচয় ও বিক্ষোভে অংশগ্রহণের তথ্য যুক্ত করা হয়। তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নাম, তুরস্কের জাতীয় পরিচয় নম্বর ও অন্যান্য শনাক্তকারী তথ্য প্রকাশ করেনি নর্ডিক মনিটর। সংবাদমাধ্যমটির ভাষ্য অনুযায়ী, ওই ব্যক্তি ব্রিটিশ নাগরিক।

নজরদারির তথ্য প্রথম কোথা থেকে সংগ্রহ করা হয়েছিল, সে বিষয়ে নথিতে স্পষ্ট ব্যাখ্যা নেই। ছবি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট পর্যালোচনার কথা বলা হলেও, সংশ্লিষ্ট দেশগুলোতে সরাসরি গোয়েন্দা তৎপরতা চালানো হয়েছিল কি না, তা নিশ্চিত হওয়ার মতো তথ্যও প্রকাশিত হয়নি।

প্রকাশ্যে পাওয়া তথ্য ব্যবহারের কথা উল্লেখ করে প্রকৃত গোয়েন্দা তৎপরতার উৎস আড়াল করা হয়ে থাকতে পারে। তবে এটি সংবাদমাধ্যমটির মূল্যায়ন; নথি থেকে সরাসরি গোপন মাঠপর্যায়ের নজরদারির বিষয়টি নিশ্চিত করা যায় না।

গুলেন আন্দোলন ঘিরে বিরোধ

গুলেন আন্দোলন তুরস্কের প্রয়াত ধর্মীয় নেতা ফেতুল্লাহ গুলেনের আদর্শে অনুপ্রাণিত একটি ধর্মভিত্তিক সামাজিক আন্দোলন। শিক্ষা, সামাজিক কর্মকাণ্ড ও আন্তধর্মীয় সংলাপের সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের মাধ্যমে দেশটির বাইরে পর্যন্ত আন্দোলনটির বিস্তার ঘটেছিল।

২০১৩ সালে তুরস্কে দুর্নীতির তদন্ত ঘিরে এরদোয়ান সরকারের সঙ্গে আন্দোলনটির বিরোধ তীব্র হয়। পরে ২০১৬ সালের ১৫ জুলাই ব্যর্থ অভ্যুত্থানের জন্য তুরস্কের সরকার গুলেন আন্দোলনকে দায়ী করে। আন্দোলনটির সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে দেশটিতে ব্যাপক ধরপাকড়, তদন্ত এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। গুলেন আন্দোলন অবশ্য অভ্যুত্থানে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

এখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, গুলেন আন্দোলনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ থাকলেই কোনো ব্যক্তি অপরাধ করেছেন—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগ থাকলে তা নির্দিষ্ট প্রমাণ, ব্যক্তিগত দায় এবং ন্যায়বিচারের স্বীকৃত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।

ইউরোপের বিভিন্ন দেশে বসবাসরত গুলেন আন্দোলনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বা সংশ্লিষ্ট বলে বিবেচিত অনেক ব্যক্তি তুরস্কের ধরপাকড়ের পর দেশ ছেড়েছেন। তাঁদের কেউ কেউ রাজনৈতিক আশ্রয় বা অন্য ধরনের আইনি সুরক্ষাও পেয়েছেন। কিন্তু বিদেশে বসবাসের পরও তুরস্কের কর্তৃপক্ষ তাঁদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের তথ্য সংগ্রহ করছে বলে সাম্প্রতিক নথিতে ইঙ্গিত পাওয়া যায়।

আগেও উঠেছে নজরদারির অভিযোগ

বিদেশে বসবাসরত এরদোয়ান সরকারের সমালোচকদের বিষয়ে তুর্কি কর্তৃপক্ষের তথ্য সংগ্রহের অভিযোগ নতুন নয়। নর্ডিক মনিটর ২০২৬ সালের ১১ জুন প্রকাশিত আরেক প্রতিবেদনে ফ্রান্সের স্ট্রাসবুর্গে ২০২৫ সালের ২৫ জুন অনুষ্ঠিত বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের ওপর নজরদারির অভিযোগ তুলেছিল।

তুর্কি সরকারি নথির বরাতে বলা হয়, স্ট্রাসবুর্গের বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের বিষয়ে সংগ্রহ করা তথ্য তুরস্কের পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছিল। পরে জার্মানিতে রাজনৈতিক আশ্রয় পাওয়া এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে চলমান বিচারিক কার্যক্রমেও ওই তথ্য ব্যবহারের অভিযোগ ওঠে।

নরওয়েতে তুর্কি দূতাবাসের মাধ্যমে এরদোয়ান সরকারের সমালোচক ও গুলেন আন্দোলনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে সন্দেহ করা ব্যক্তিদের তথ্য সংগ্রহের অভিযোগও আগে প্রকাশিত হয়েছে। ২০২১ সালে নর্ডিক মনিটর জানায়, নরওয়েতে বসবাসরত তুর্কি ও নরওয়েজীয় নাগরিকদের বিষয়ে কূটনৈতিক সূত্রে সংগ্রহ করা তথ্য তুরস্কের একটি সন্ত্রাসবাদ-সংক্রান্ত তদন্তে ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে।

এ ধরনের ঘটনা নিয়ে উদ্বেগের কারণ, বিদেশে শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়া কোনো ব্যক্তির তথ্য নিজ দেশে ফৌজদারি মামলায় ব্যবহৃত হলে তার ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ও আইনি অধিকার ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। বিশেষ করে, রাজনৈতিক মতপ্রকাশ, সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থাকা কিংবা শান্তিপূর্ণ সমাবেশে অংশ নেওয়ার কারণে কেউ নজরদারি বা তদন্তের আওতায় এলে তা মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করে।

ইউরোপীয় দেশগুলোর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

নরওয়ে, ফিনল্যান্ড ও ডেনমার্কে শান্তিপূর্ণ সমাবেশ এবং রাজনৈতিক মতপ্রকাশের আইনি সুরক্ষা রয়েছে। এসব দেশে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভের অংশগ্রহণকারীদের তথ্য অন্য একটি দেশের কর্তৃপক্ষ সংগ্রহ করে নিজ দেশের তদন্ত বা বিচারিক কার্যক্রমে ব্যবহার করলে তা আন্তদেশীয় নজরদারি ও রাজনৈতিক চাপ প্রয়োগের আশঙ্কা তৈরি করতে পারে।

নতুন নথির বিষয়ে আরেকটি প্রশ্ন হলো, সংশ্লিষ্ট তিন দেশের নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ এসব বিক্ষোভের ওপর তুর্কি কর্তৃপক্ষের নজরদারি কিংবা সংগৃহীত তথ্য তুরস্কের আদালতে পাঠানোর বিষয়টি জানত কি না। নর্ডিক মনিটরের প্রতিবেদনে এ বিষয়ে কোনো নিশ্চিত তথ্য দেওয়া হয়নি।

তুর্কির নিরাপত্তা সংস্থা, প্রাদেশিক পুলিশ ও বিচার বিভাগের মধ্যে তথ্য আদান-প্রদানের যে প্রক্রিয়ার বিবরণ নথিতে রয়েছে, তা বিদেশে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের তথ্য সংগ্রহ করে নিজ দেশের তদন্তে ব্যবহারের একটি সম্ভাব্য কাঠামোর ইঙ্গিত দেয়। তবে নজরদারির সুনির্দিষ্ট পদ্ধতি, তথ্য সংগ্রহের মূল উৎস এবং সংশ্লিষ্ট তিন দেশের কর্তৃপক্ষের ভূমিকা সম্পর্কে আরো স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।

এ বিষয়ে তুর্কি সরকারের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে কি না, তা নর্ডিক মনিটরের প্রতিবেদনে স্পষ্ট নয়। নরওয়ে, ফিনল্যান্ড ও ডেনমার্কের কর্তৃপক্ষের প্রতিক্রিয়াও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।

সূত্র: নর্ডিক মনিটর, ওয়াইএলই নিউজ ও তুর্কিশ মিনিট

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

১০ বছরেও শেখ হাসিনার দেশে ফেরার সম্ভাবনা নেই : স্পিকার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:২৭ পি.এম


১০ বছরেও শেখ হাসিনার দেশে ফেরার সম্ভাবনা নেই : স্পিকার

জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম মন্তব্য করেছেন, "আমি আমার রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, আগামী ১০ বছরেও শেখ হাসিনার দেশে ফেরার কোনো সম্ভাবনা নেই।" তিনি উল্লেখ করেছেন, আওয়ামী লীগ তাদের ক্ষমতায় থাকার সময় এমন একটি পরিবেশ তৈরি করেছিল, যা সভ্য মানুষের জন্য নির্বাচনে আসার অনুকূল ছিল না। যোগ্যতা ও দক্ষতা থাকা সত্ত্বেও, তারা নির্বাচনে অংশগ্রহণের সাহস পেতেন না। অর্থ, বিত্ত-বৈভব এবং জনপ্রিয়তা থাকা সত্ত্বেও, অযোগ্য, অসৎ ও সমাজের নিকৃষ্ট মানুষের প্রভাবের কারণে ভালো মানুষেরা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারতেন না।

বৃহস্পতিবার ভোলা সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব মন্তব্য করেন।

স্পিকার আরও বলেছেন, "আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হওয়া একান্ত জরুরি।" তিনি উল্লেখ করেন, বিগত ১৭ বছর ধরে মানুষ কোনো সুষ্ঠু নির্বাচন দেখেনি। তাই, নির্বাচন সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ করার জন্য নির্বাচন কমিশনের এমন পদ্ধতি গ্রহণ করা উচিত, যাতে সুষ্ঠু নির্বাচন ছাড়া বিকল্প কোনো কিছুর চিন্তা করার সুযোগ না থাকে।

ভোলার গ্যাস প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "ভোলায় পর্যাপ্ত পরিমাণে প্রাকৃতিক গ্যাস রয়েছে।" তিনি উল্লেখ করেছেন, দেশে বর্তমানে জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে, যার কারণে মানুষ কাজ করতে পারছে না। স্পিকার বলেন, "ভোলার মানুষ ভোলার গ্যাস ভোগ করবে—এটি তাদের ন্যায্য অধিকার।" এ বিষয়ে জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে ভোলার গ্যাস ভোলার উন্নয়নে ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া উচিত।

এ সময় জেলা প্রশাসক ড. শামীম রহমান, পুলিশ সুপার শহীদুল্লাহ কাওসারসহ স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নেতানিয়াহুকে ঠেকাতে এবার ‘অবশ্যই’ ভোট দেবেন ফিলিস্তিনিরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:২৯ পি.এম


নেতানিয়াহুকে ঠেকাতে এবার ‘অবশ্যই’ ভোট দেবেন ফিলিস্তিনিরা

ইসরাইলের আসন্ন সাধারণ নির্বাচনে ভোট দেওয়ার বিষয়ে দ্বিধায় রয়েছে দেশটির ফিলিস্তিনি নাগরিকেরা। অনেকের বিশ্বাস, বর্তমান রাজনৈতিক ব্যবস্থায় তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠার সুযোগ খুবই সীমিত। আবার তারা উদ্বিগ্ন, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বে উগ্রইহুদি সরকার পুনরায় ক্ষমতায় এলে ফিলিস্তিনিদের ওপর দমন-পীড়ন আরও বৃদ্ধি পাবে। তাই রাজনৈতিক ব্যবস্থার প্রতি অনাস্থা থাকা সত্ত্বেও অনেকে ভোট দিতে আগ্রহী। তাদের আশা, ভোটের মাধ্যমে নেতানিয়াহুর সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরানো সম্ভব হবে।

আগামী ২৭ অক্টোবর ইসরাইলের সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। দেশটির জনসংখ্যার প্রায় এক-পঞ্চমাংশ ফিলিস্তিনি নাগরিক। এবারের নির্বাচনে তাদের ভোটের গুরুত্ব বাড়তে পারে। জনমত জরিপ অনুযায়ী, নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন উগ্রডানপন্থি জোট কিংবা নিজেদের জায়নবাদী বিরোধী জোট হিসেবে পরিচিত দলগুলো—কোনোটিই এককভাবে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারবে না। এই পরিস্থিতিতে আরব নেতৃত্বাধীন রা’আম ও জয়েন্ট লিস্ট পার্টির সমর্থন সরকার গঠনে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

ইসরাইলের পার্লামেন্ট নেসেটের ১২০টি আসনের মধ্যে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ৬১টি আসন। যদি কোনো পক্ষই এই সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে নতুন নির্বাচন আয়োজন করতে হবে। সেই ক্ষেত্রে নতুন সরকার গঠিত না হওয়া পর্যন্ত নেতানিয়াহুর বর্তমান সরকারই ক্ষমতায় থাকবে। এটি ইসরাইলের ইতিহাসে সবচেয়ে উগ্রডানপন্থি সরকার হিসেবে পরিচিত।

প্রথমবার ভোট দেবেন লায়লা

পূর্ব জেরুজালেমের বাইত হানিনা এলাকার ১৯ বছর বয়সী লায়লা আতামনেহ এবার প্রথমবারের মতো ভোট দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ইসরাইলের নির্বাচনের সময় তার মা-বাবার মধ্যে ভোট দেওয়ার বিষয়ে তর্ক হতো। তার বাবা আরব নেতৃত্বাধীন কোনো নির্বাচনী জোটকে ভোট দেওয়ার পক্ষে ছিলেন। কিন্তু তার মা বরাবরই ভোট দেওয়া থেকে বিরত থাকতেন।

লায়লা জানান, তার মায়ের ধারণা, ভোট দেওয়া মানে ইসরাইলকে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে তুলে ধরতে সহায়তা করা। এতে এমন ধারণা তৈরি হয় যে ফিলিস্তিনিরা ইসরাইলের ইহুদি নাগরিকদের সমান অধিকার ভোগ করেন। অথচ বাস্তবে তাদের চরম অপমানের শিকার হতে হয় এবং পরে তাদের এমন সরকারের মুখোমুখি হতে হয়, যার মধ্যে উগ্রপন্থিদের প্রভাব অত্যন্ত বেশি।

তবুও এবার ভোট দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন লায়লা। তার মতে, অধিকৃত পশ্চিম তীর ও গাজার লাখো ফিলিস্তিনির হয়ে কথা বলার দায়িত্বও তার রয়েছে। এসব অঞ্চলের ফিলিস্তিনিরা ইসরাইলের পরবর্তী সরকার নির্বাচনে কোনো ভূমিকা রাখতে পারবেন না। অথচ তার বিশ্বাস, ইসরাইলি দখলদারত্ব, জাতিগত নিধন ও গণহত্যার সবচেয়ে বড় শিকার তারাই।

লায়লা বলেন, ‘আমার মনে হয়, আমাকে এই মানুষগুলোর কণ্ঠস্বর হতে হবে। একজন মানুষ হয়তো খুব বেশি কিছু করতে পারে না। কিন্তু আমার ভোটে যদি তাদের এক শতাংশ আশাও তৈরি হয়, তাহলে আমি ভোট দেব।’

তবে আরবি ভাষাভাষী লায়লার জন্য হিব্রু ভাষায় প্রচারিত নির্বাচনী খবর অনুসরণ করা কঠিন। তার মতে, নির্বাচনী আলোচনায় ফিলিস্তিনিদের অংশগ্রহণ খুবই সীমিত। প্রথমবার ভোট দিতে যাওয়া তরুণ ফিলিস্তিনিদের উদ্বেগ ও প্রত্যাশার কথাও দলগুলো যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরছে না।

লায়লার এই দ্বিধা ইসরাইলের ফিলিস্তিনি নাগরিকদের একটি বড় অংশের মনোভাব তুলে ধরে। তারা মনে করেন, বর্তমান রাজনৈতিক ব্যবস্থা তাদের স্বার্থ রক্ষা করতে পারছে না। আবার নেতানিয়াহুর নেতৃত্বে আরেকটি সরকার গঠিত হলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা।

২০২৩ সাল থেকে গাজায় ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ইসরাইলের গণহত্যামূলক যুদ্ধের নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন নেতানিয়াহু। তার সরকারের নীতির কারণে ফিলিস্তিনিদের অধিকার, জীবিকা ও ভূমি ক্রমাগত হুমকির মুখে পড়ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

দখলদারত্বের ছায়ায় নির্বাচন

হাইফা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানী আসাদ ঘানেম বলেন, ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে দমনমূলক নীতি আরো কঠোর হওয়ার প্রেক্ষাপটেই এবারের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। গাজায় গণহত্যা, পশ্চিম তীরে জাতিগত নিধন এবং ইসরাইলের ভেতরে ফিলিস্তিনিদের প্রতি কঠোর রাষ্ট্রীয় নীতি—সব মিলিয়ে তাদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

গালিলি অঞ্চলের একটি দ্রুজ গ্রামে বসবাসকারী ৩৬ বছর বয়সি ফিলিস্তিনি খ্রিষ্টান নারী হানানের কাছে এই হুমকি এখন আরো বাস্তব মনে হচ্ছে। গত মাসে পশ্চিম তীরের অবৈধ বসতিতে বসবাসকারী ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারীরা গালিলির ফিলিস্তিনি জনপদ মাজদ আল-ক্রুমের কাছে একটি অবৈধ বসতি স্থাপনের চেষ্টা করেন।

এরপর ইসরাইলের উগ্রইহুদি অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোতরিচ এআই দিয়ে তৈরি একটি নির্বাচনী প্রচার ভিডিও প্রকাশ করেন। ভিডিওতে পশ্চিম তীরের এক ফিলিস্তিনিকে গালিলিতে বসবাসকারী তার এক আত্মীয়কে আতঙ্কিত কণ্ঠে ফোন করতে দেখা যায়। তিনি বলেন, ‘ইহুদিরা আসছে’ এবং ‘তারা আমাদের সঙ্গে যা করেছে, তোমাদের সঙ্গেও তা-ই করবে’।

হানান বলেন, এ ধরনের ঘটনা তাকে আরো আতঙ্কিত করে। তার আশঙ্কা, বসতি স্থাপনকারীরা আরো আগ্রাসী হয়ে উঠতে পারেন এবং ফিলিস্তিনিদের আরো বেশি জমি দখলের চেষ্টা করতে পারেন।

তবে ভয় তাকে ভোট দেওয়া থেকে বিরত রাখছে না। বরং অন্যদেরও ভোট দিতে উৎসাহিত করতে চান তিনি।

হানান বলেন, ‘প্রতিবার নির্বাচনের আগে নিজেকে বলি, এবার আর ভোট দেব না। কারণ, বাস্তবে মনে হয় না আরব প্রতিনিধিরা খুব বেশি কিছু করতে পারেন। নারী প্রতিনিধিত্বের অভাব এবং নতুন রাজনৈতিক কণ্ঠস্বরের অনুপস্থিতিও হতাশ করে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ভোট দিতে যাই। মনে হয়, হয়তো এবার কিছুটা পরিবর্তন আসবে।’

দল নিষিদ্ধের চেষ্টা ঘিরে ক্ষোভ

গত ২৩ সেপ্টেম্বর ইসরাইলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটি আরব নেতৃত্বাধীন রা’আম ও জয়েন্ট লিস্টকে নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা করার সিদ্ধান্ত নেয়। জয়েন্ট লিস্ট হলো হাদাশ, বালাদ ও তা’আল দলের জোট। তবে পরে সুপ্রিম কোর্ট ওই সিদ্ধান্ত বাতিল করেন।

কিন্তু বালাদ নেতা সামি আবু শাহাদেহ নিজের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নেন। কারণ, আদালত ইঙ্গিত দিয়েছিল যে অধিকাংশ বিচারপতি তার প্রার্থিতা বাতিলের পক্ষে থাকতে পারেন।

অনেক ফিলিস্তিনি এই ঘটনাকে ইসরাইলের রাজনৈতিক ব্যবস্থার বৈধতা নিয়ে তাদের সংশয়ের প্রমাণ হিসেবে দেখেছেন। আবার কেউ কেউ মনে করেন, আরব দলগুলোকে নির্বাচনের বাইরে রাখার চেষ্টা ভোটারদের আরো বেশি সংগঠিত হওয়ার কারণ হতে পারে।

আরব-ইহুদি সম্পর্ক বিশেষজ্ঞ থাবেত আবু রাস বলেন, ‘আমরা মনে করি, আমাদের ওপর আক্রমণ করা হচ্ছে। এ কারণেই আমরা আরো বেশি হারে ভোট দেব।’

গত পাঁচটি নির্বাচনে ইসরাইলের ফিলিস্তিনি নাগরিকদের ভোট দেওয়ার হার ছিল প্রায় ৪৫ থেকে ৬৫ শতাংশ। ২০২২ সালের সর্বশেষ নির্বাচনে এই হার ছিল প্রায় ৫৩ শতাংশ।

ফিলিস্তিনি নির্বাচনী প্রচারের সঙ্গে যুক্ত এক ব্যক্তি বিভিন্ন জরিপের বরাত দিয়ে জানিয়েছেন, আগামী সপ্তাহে ফিলিস্তিনি নাগরিকদের প্রায় ৬২ শতাংশ ভোট দিতে পারেন। তাদের লক্ষ্য এই হার ৭০ থেকে ৭৫ শতাংশে উন্নীত করা। ১৯৯৯ সালের নির্বাচনে সর্বশেষ প্রায় ৭৫ শতাংশ ফিলিস্তিনি ভোট দিয়েছিলেন। সেই নির্বাচনে তাদের ব্যাপক অংশগ্রহণ নেতানিয়াহুকে হারিয়ে এহুদ বারাককে প্রধানমন্ত্রী হতে সহায়তা করেছিল।

ওই নির্বাচনী প্রচারক বলেন, এবারও তারা ভোটার উপস্থিতি সেই পর্যায়ে নিতে চান। তার মতে, ফিলিস্তিনিদের বেশি ভোট ছোট উগ্রডানপন্থি দল আমচা ইসরাইল ও দ্য রিজার্ভিস্টসকে নির্বাচনী বাধা অতিক্রম করতে না-ও দিতে পারে। ইসরাইলের নির্বাচনে কোনো দলকে পার্লামেন্টে আসন পেতে মোট ভোটের অন্তত ৩ দশমিক ২৫ শতাংশ পেতে হয়। ছোট দলগুলো এই সীমা অতিক্রম করতে ব্যর্থ হলে সামগ্রিক রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে যেতে পারে।

ঘানেমের মতে, ফিলিস্তিনিদের মধ্যে ব্যাপকভাবে ভোট বর্জনের ধারণা এখন তুলনামূলকভাবে ছোট একটি মত। তিনি বলেন, ‘আমরা সত্যিকারের বিপদের মধ্যে আছি। এই সরকারের মেয়াদ শেষ করতেও আমরা ভূমিকা রাখতে পারি।’

হানানও মনে করেন, ইসরাইলের রাজনৈতিক ব্যবস্থার প্রতি আপত্তি থাকলেও বাস্তবতা মেনে নিয়ে ভোট দেওয়া প্রয়োজন। তাঁর ভাষায়, ভোট দেওয়া মানে ইসরাইল রাষ্ট্রের অস্তিত্ব স্বীকার করে নেওয়া—এমন মনে হতে পারে। কিন্তু রাষ্ট্রটি বাস্তবে বিদ্যমান। তাই শুধু স্বপ্নের মধ্যে থাকা সম্ভব নয়।

নির্বাচনী প্রচারের সঙ্গে যুক্ত ওই ব্যক্তি বলেন, ‘ইহুদিদের সঙ্গে সমান হওয়ার অধিকার আমাদের যে একমাত্র দিনটিতে থাকে, সেটি হলো নির্বাচনের দিন।’

সরকার গঠনে গুরুত্বপূর্ণ, তবু জোটে অনীহা

এবারের নির্বাচনে বড় প্রশ্ন হলো, নেতানিয়াহুবিরোধী ইহুদি দলগুলো আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলোর সঙ্গে কী ধরনের সম্পর্ক গড়ে তুলবে। জনমত জরিপে ধারাবাহিকভাবে দেখা যাচ্ছে, জায়নবাদী দুই শিবিরের কোনোটিই এককভাবে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১টি আসন পাবে না। ফলে রা’আম ও জয়েন্ট লিস্টের সমর্থন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

কাগজে-কলমে এই পরিস্থিতি আরব দলগুলোকে সরকার গঠনের ক্ষেত্রে নির্ধারক অবস্থানে নিয়ে গেছে। কিন্তু বাস্তবে তাদের সঙ্গে জোট গঠনে অনীহা রয়েছে বিরোধী শিবিরের গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের।

বিরোধী নেতা নাফতালি বেনেট বলেছেন, আরব দলগুলো জায়নবাদী নয়। তাই তাদের ওপর নির্ভর করে সরকার গঠন করা হবে না।

সাবেক সেনাপ্রধান ও বিরোধী শিবিরের সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী গাদি আইজেনকোটও আরব দলগুলোর সঙ্গে জোট গঠনে অনাগ্রহ প্রকাশ করেছেন। নেতানিয়াহু তাকে আরব দলগুলোর সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা করলে তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন। তা’আল নেতা আহমদ তিবিকে ইঙ্গিত করে ‘তিবি ছাড়া গাদি নেই’—এ ধরনের স্লোগানও নেতানিয়াহুর নির্বাচনী প্রচারে ব্যবহৃত হচ্ছে।

এ অবস্থায় ফিলিস্তিনি ভোটারদের সামনে কঠিন সিদ্ধান্ত। একদিকে নিজেদের রাজনৈতিক আদর্শ ও মূল্যবোধ ধরে রাখা, অন্যদিকে কৌশলগতভাবে এমন দলকে ভোট দেওয়া, যারা নেতানিয়াহুবিরোধী সরকার গঠনে ভূমিকা রাখতে পারে।

লায়লা আতামনেহ প্রথমে রা’আমকে ভোট দেওয়ার কথা ভেবেছিলেন। নেগেভ অঞ্চলের বেদুইন জনগোষ্ঠীর মধ্যে দলটির সমর্থন রয়েছে। ধর্মীয়ভাবে রক্ষণশীল এই দলটি নেতানিয়াহুবিরোধী জোটে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা বেশি বলে মনে করা হয়। উদারপন্থি জায়নবাদী দল ডেমোক্র্যাটসকেও বিবেচনায় নিয়েছিলেন তিনি।

কিন্তু শেষ পর্যন্ত আদর্শগত কারণে জয়েন্ট লিস্টকে ভোট দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন লায়লা।

তিনি বলেন, ‘কিছু বিষয়ে ছাড় দিতে পারি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এমন কিছু নৈতিকতা ও মূল্যবোধ আছে, যেগুলো এত সহজে ছেড়ে দিতে পারি না। ফিলিস্তিনি হিসেবে আমাদের ফিলিস্তিনিদেরই সমর্থন করতে হবে।’

২০২১ সালে রা’আম ইসরাইলের সরকারে যোগ দিয়ে ইতিহাস তৈরি করেছিল। প্রথম কোনো আরব দল হিসেবে তারা একটি বিস্তৃত জোট সরকারের অংশ হয়। ওই জোট অল্প সময়ের জন্য নেতানিয়াহুকে ক্ষমতার বাইরে রাখতে পেরেছিল।

রা’আমের যুক্তি, সরকারে অংশ নিলে ফিলিস্তিনি নাগরিকদের জন্য বাস্তব সুবিধা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব। তবে দলটির এই অবস্থান সবাইকে আশ্বস্ত করতে পারেনি।

রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ঘানেমের অভিযোগ, রা’আমের নেতা মানসুর আব্বাস সামান্য বাজেট বরাদ্দ পাওয়ার জন্যও অনেক ছাড় দেন। কিন্তু তাতে ফিলিস্তিনিদের পরিচয় ও অধিকারসংক্রান্ত মৌলিক সমস্যার সমাধান হয় না।

তবে ধারণা করা হচ্ছে, বেদুইন নাগরিকদের বড় অংশ রা’আমকে সমর্থন করবেন। তাদের প্রত্যাশা, দলটি আবারও সরকার গঠনের জোটে যোগ দিতে পারবে। ২০২১ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত সরকারে অংশ নেওয়ার সময়কার মতো এবারও তারা সুবিধা আদায় করতে পারবে।

থাবেত আবু রাস বলেন, বেদুইনদের রাজনৈতিক বক্তব্য মূলত নাগরিক অধিকারকেন্দ্রিক। তাদের প্রধান উদ্বেগ দৈনন্দিন জীবন টিকিয়ে রাখা। সরকারে অংশ নেওয়ার মাধ্যমে তারা নিজেদের স্বীকৃতিহীন গ্রামগুলোর স্বীকৃতি, শিক্ষায় বিনিয়োগ এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে চান।

দখলদারত্ব বন্ধের আগে মানুষকে বাঁচাতে চান

ঘানেমের মতে, ইসরাইলের ভেতরে ফিলিস্তিনিদের রাজনৈতিক শক্তি দুর্বল। কারণ, নিজেদের সমাজের মধ্যে তাদের সুসংহত রাজনৈতিক শক্তি গড়ে ওঠেনি।

তবে তিনি মনে করেন, জয়েন্ট লিস্ট সরকার গঠনের সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। ১৯৯৩ সালে ফিলিস্তিনি দলগুলো মন্ত্রিসভার বাইরে থেকে ইয়িৎসহাক রবিনের সরকারকে সমর্থন করেছিল। এবারও নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরাতে বিরোধী শিবিরের সঙ্গে কাজ করা সম্ভব বলে মনে করেন তিনি।

ঘানেম বলেন, নেতানিয়াহুকে সরাতে চাওয়া মানেই সরকার গঠনের জোটে যোগ দিতে হবে, এমন নয়। বরং বর্ণবাদী সরকারকে সরাতে চাওয়া বৃহত্তর রাজনৈতিক শিবিরের অংশ হওয়াই গুরুত্বপূর্ণ।

গত সপ্তাহে জয়েন্ট লিস্টের নেতা ইউসেফ জাবারিনও নির্দিষ্ট শর্তে বিরোধী শিবিরকে সমর্থন দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। এসব শর্তের মধ্যে রয়েছে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পথ তৈরি করা এবং ইসরাইলের ফিলিস্তিনি জনপদগুলোতে সংগঠিত অপরাধ ও সহিংসতা মোকাবিলা করা।

থাবেত আবু রাস আশা করছেন, নির্বাচনী প্রচারে আরব দলগুলোর সঙ্গে জোট গঠনের বিরোধিতা করা হলেও শেষ পর্যন্ত আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী শিবির তাদের সঙ্গে কোনো না কোনোভাবে সমঝোতায় আসবে।

তিনি বলেন, ‘আরবরা যদি ১৫, ১৬ বা ১৭ জন নেসেট সদস্য নির্বাচিত করতে পারে, তাহলে সবাই তাদের দরজায় কড়া নাড়বে। প্রকাশ্যে তারা হয়তো তা স্বীকার করতে চাইবে না। কিন্তু নির্বাচনের পর তাদের বক্তব্য বদলে যাবে বলে আমি নিশ্চিত।’

আবু রাস নিজেও ইসরাইলি হামলায় গাজায় তার পরিবারের ৩৮ জন সদস্যকে হারিয়েছেন। তার মতে, নেতানিয়াহুবিরোধী সরকার গঠিত হলেই শান্তি প্রতিষ্ঠিত হবে না। তবে বর্তমান সরকারের অধীনে ফিলিস্তিনিদের ওপর যে নৃশংসতা বাড়ছে, তা অন্তত কিছুটা থামানো সম্ভব হতে পারে।

আবু রাস বলেন, ‘দখলদারত্বের অবসান ঘটানোর আগে আমি আমার মানুষকে বাঁচাতে চাই।’

নেতানিয়াহুর নেতৃত্বে আরেকটি উগ্রইহুদি সরকার গঠিত হওয়ার আশঙ্কায় লায়লা মনে করছেন, তিনি শেষ পর্যন্ত তার মাকেও ভোট দিতে রাজি করাতে পেরেছেন।

লায়লা বলেন, ‘খারাপ পরিস্থিতি আছে, আর আছে অত্যন্ত খারাপ পরিস্থিতি। আমরা অত্যন্ত খারাপের চেয়ে খারাপ পরিস্থিতিকেই বেছে নেব। অন্তত একটি মৃত্যু, একটি বাড়ি ভেঙে ফেলার আদেশ কিংবা এ ধরনের কোনো ঘটনা ঠেকাতে পারলেও সেটি কিছু না করার চেয়ে ভালো।’

তবে কিছুক্ষণ থেমে তিনি আবারও সংশয়ের কথা জানান। তার আশঙ্কা, ভোট দিয়ে হয়তো ইসরাইলকে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে নিজেদের ভাবমূর্তি নতুন করে সাজানোর সুযোগ করে দিচ্ছেন তারা।

লায়লার ভাষায়, ‘তখন মনে হয়, আমরা যেন একটা বদ্ধ গলিতে এসে দাঁড়িয়েছি।’

এএম

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

অবৈধ মোবাইল ফোনের রাজস্ব ফাঁকি রোধে এনইআইআর চালু হচ্ছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:৩০ পি.এম


অবৈধ মোবাইল ফোনের রাজস্ব ফাঁকি রোধে এনইআইআর চালু হচ্ছে

ঢাকা, ২২ অক্টোবর, ২০২৬ : অবৈধ মোবাইল ফোন উৎপাদন, চোরাচালান এবং অনুমোদনহীন বিক্রির মাধ্যমে সরকারের রাজস্ব ফাঁকি রোধে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। প্রতিবছর প্রায় ২ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে সরকার।

এ লক্ষ্যে, আগামী বছরের ১ জানুয়ারি থেকে দুই ধাপে জাতীয় যন্ত্রপাতি শনাক্তকরণ নিবন্ধন ব্যবস্থা (এনইআইআর) পুনরায় চালু করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে ক্লোন হ্যান্ডসেট শনাক্ত করা এবং মোবাইল আর্থিক সেবায় (এমএফএস) জালিয়াতি বন্ধ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) মূল্যায়ন অনুযায়ী, অবৈধ মোবাইল ফোনের কারণে সরকারের প্রায় ২ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব ক্ষতি হচ্ছে। বিটিআরসির কমিশন সভায় উপস্থাপিত কার্যপত্রে এই তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

পরিকল্পনার প্রথম ধাপে এনইআইআরের মূল কার্যক্রমগুলো চালু করা হবে। তবে এই পর্যায়ে হ্যান্ডসেটের নিবন্ধন বাতিলের ব্যবস্থা কার্যকর করা হবে না। বর্তমানে মোবাইল অপারেটরদের নেটওয়ার্কে সচল থাকা হ্যান্ডসেটগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিবন্ধিত হবে। পাশাপাশি অনুমোদিত আমদানিকারক ও দেশীয় উৎপাদকদের কাছে অবিক্রিত হ্যান্ডসেটের আইএমইআই নম্বরের তথ্যও ব্যবস্থাটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। বিদেশ থেকে আনা অবৈধ, চোরাচালানের মাধ্যমে প্রবেশ করা এবং শুল্ক-কর ফাঁকি দিয়ে বাজারজাত করা হ্যান্ডসেট শনাক্ত করে বন্ধ করার ব্যবস্থা থাকবে।

দ্বিতীয় ধাপে উপযুক্ত সময়ে হ্যান্ডসেটের নিবন্ধন বাতিলের ব্যবস্থা চালু করা হবে। এর মাধ্যমে ফোনের মালিকানা যাচাই, ক্লোন হ্যান্ডসেট শনাক্ত এবং আর্থিক জালিয়াতি প্রতিরোধের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

বিটিআরসির কমিশন সভায় সংস্থাটির স্পেকট্রাম ম্যানেজমেন্ট (এসএম) বিভাগের মহাপরিচালক এনইআইআর পুনরায় চালুর বিষয়ে বিস্তারিত কার্যপত্র উপস্থাপন করেন। এতে উল্লেখ করা হয়, ২০২১ সালের ১ জুলাই পরীক্ষামূলকভাবে চালুর পর তৎকালীন সরকারের সিদ্ধান্তে অবৈধভাবে আমদানি করা ফোন স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ করা এবং ক্লোন হ্যান্ডসেট প্রতিরোধের কার্যক্রমগুলো চালু করা হয়নি। ফলে এনইআইআর প্রতিষ্ঠার মূল উদ্দেশ্য বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

পরিকল্পনাটি বাস্তবায়ন করবে বিটিআরসির এসএম বিভাগ। দুই ধাপে ব্যবস্থা চালুর বিষয়ে সরকারের পূর্বানুমোদন পেতে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠানো হবে।

রাজস্ব ফাঁকি রোধ, টেলিযোগাযোগ খাতের শৃঙ্খলা নিশ্চিত এবং নিরাপত্তাঝুঁকি মোকাবিলায় বিভিন্ন সংস্থা দীর্ঘদিন ধরে এনইআইআর পূর্ণাঙ্গভাবে চালুর তাগিদ দিয়ে আসছে। ২০২৪ সালের ২৯ অক্টোবর এনবিআর অবৈধ হ্যান্ডসেটের মাধ্যমে রাজস্ব ফাঁকি বন্ধে বিটিআরসিকে আনুষ্ঠানিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানায়। পরে ২০২৫ সালের ২৮ জুন ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ এ ব্যবস্থা পুনরায় চালুর পরিকল্পনায় প্রাথমিক অনুমোদন দেয়।

২০২৫ সালের ১ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় দেশের সব নেটওয়ার্কে এনইআইআর পূর্ণাঙ্গভাবে চালুর নির্দেশনা দেওয়া হয়। ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি ব্যবস্থা চালুর প্রস্তুতি থাকলেও জনভোগান্তি এড়ানোর কথা বিবেচনায় নিয়ে ফোন বন্ধ করার গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমগুলো কার্যকর করা হয়নি।

২০২৬ সালের ৯ জুন নিরাপত্তা সংস্থাগুলো আনুষ্ঠানিক চিঠিতে অর্থনৈতিক ও জাতীয় নিরাপত্তাঝুঁকির বিষয় তুলে ধরে এনইআইআর পূর্ণাঙ্গভাবে চালুর প্রয়োজনীয়তার কথা জানায়। একই বছরের ২ জুলাই আইএমইআই, সিম নিবন্ধন এবং মোবাইল আর্থিক সেবায় জালিয়াতির ঝুঁকি নিয়ে অনুষ্ঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায়ও ব্যবস্থাটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালুর সুপারিশ করা হয়।

সর্বশেষ গত ২২ সেপ্টেম্বর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের সভায় ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ, বাংলাদেশ ব্যাংক এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতিনিধিরা অংশ নেন। সভায় ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে দুই ধাপে এনইআইআর চালুর সুপারিশ করা হয়।

সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্তে বলা হয়েছে, অনিবন্ধিত, চোরাই ও ক্লোন হ্যান্ডসেট সংঘবদ্ধ অপরাধ, মোবাইল ফোন চুরি এবং মোবাইল আর্থিক সেবায় জালিয়াতির কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। নেটওয়ার্কে ব্যবহৃত প্রতিটি যন্ত্রের পরিচয় ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে এনইআইআর পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা প্রয়োজন বলে মনে করছে নিরাপত্তা সংস্থাগুলো।

এদিকে, ২০২৯ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে শুধুমাত্র দ্বিতীয় প্রজন্মের (২জি) নেটওয়ার্ক-সমর্থিত মোবাইল হ্যান্ডসেটের ব্যবহার বন্ধে পর্যায়ক্রমিক রূপরেখাও বিটিআরসি অনুমোদন করেছে। এ পরিকল্পনার আওতায় এ ধরনের ফোনের অনুমোদন, উৎপাদন, আমদানি ও বাজারজাতকরণে বিধিনিষেধ আরোপ করা হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫০
মাগরিব ০৫:২৭
ইশা ০৬:৩৮
সূর্যোদয় : ০৫:৫৯ সূর্যাস্ত : ০৫:২৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%