প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
পাকিস্তান দক্ষিণ এশিয়ায় কৌশলগত ভারসাম্য নষ্ট হলে তা পুনরুদ্ধারের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের হুঁশিয়ারি প্রদান করেছে। দেশটির জাতীয় কমান্ড কর্তৃপক্ষের (এনসিএ) উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল খালিদ কিদওয়াই মন্তব্য করেছেন, ভারতের পারমাণবিক সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি সম্ভাব্য ‘ফার্স্ট ইউজ’ নীতির দিকে ঝুঁকে পড়া আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য একটি হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মঙ্গলবার ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় নন-প্রলিফারেশন সম্মেলনে তিনি উল্লেখ করেন, দক্ষিণ এশিয়ায় কৌশলগত ভারসাম্যহীনতা পাকিস্তান কখনো মেনে নেয়নি এবং ভবিষ্যতেও তা মেনে নেবে না। পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে পাকিস্তান তার পারমাণবিক অস্ত্র মোতায়েনের বিকল্পগুলো পুনর্বিবেচনা করার কথা ভাবতে পারে।
লেফটেন্যান্ট জেনারেল খালিদ কিদওয়াই এবং পাকিস্তানের সাবেক সামরিক কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট জেনারেল সরফরাজ সাত্তার অভিযোগ করেছেন, ভারতের সাবমেরিনে পারমাণবিক অস্ত্র মোতায়েন, ক্ষেপণাস্ত্রের আধুনিকায়ন এবং সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি দেশটির ঘোষিত ‘নো ফার্স্ট ইউজ’ নীতির বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
তাদের দাবি, ভারতের সাবমেরিনে প্রায় ১২টি পারমাণবিক ওয়ারহেড মোতায়েনের খবর এবং সমুদ্রভিত্তিক পারমাণবিক টহল দক্ষিণ এশিয়ায় উত্তেজনা বৃদ্ধি করতে পারে। এই ধরনের সক্ষমতা সংকটের সময় ভুল বোঝাবুঝি এবং অনিচ্ছাকৃত পারমাণবিক সংঘাতের ঝুঁকিও বাড়িয়ে দিতে পারে।
পাকিস্তানের ‘ফুল স্পেকট্রাম ডিটারেন্স’ নীতির গুরুত্বের প্রতি ভারতের দৃষ্টি আকর্ষণ করে কিদওয়াই বলেন, জাতীয় নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক কৌশলগত ভারসাম্য রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ গ্রহণের অধিকার পাকিস্তানের রয়েছে।
অন্যদিকে, সরফরাজ সাত্তার ২০২৫ সালের মে মাসে দুই দেশের সংঘাতের উদাহরণ তুলে ধরে বলেন, প্রচলিত সামরিক সংঘর্ষ দ্রুত পারমাণবিক উত্তেজনায় রূপ নিতে পারে। ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন, হাইপারসনিক অস্ত্র এবং ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থার আধুনিকায়ন পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তুলছে।
তাদের মতে, ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে কার্যকর দ্বিপক্ষীয় অস্ত্র নিয়ন্ত্রণব্যবস্থার অভাব এবং সামরিক প্রতিযোগিতা দক্ষিণ এশিয়ার কৌশলগত স্থিতিশীলতাকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে। এতে ভুল হিসাব-নিকাশ বা দুর্ঘটনার কারণে সংঘাত পারমাণবিক পর্যায়ে পৌঁছানোর আশঙ্কা বাড়ছে।
সূত্র: ডন
আরএ
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন