ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

গাইবান্ধায় হাতির পিঠে চড়ে কনের বাড়িতে বর


গাইবান্ধায় হাতির পিঠে চড়ে কনের বাড়িতে বর

গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরে হাতির পিঠে চড়ে বিয়ের জন্য কনের বাড়িতে যাচ্ছেন সাকিব মিয়া (২৫) নামের এক বর। মায়ের স্বপ্ন পূরণ করার উদ্দেশ্যে, তিনি অন্য কোনো যানবাহন ব্যবহার না করে হাতির পিঠে চড়ে গেছেন।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) ধাপেরহাট ইউনিয়নের তিলকপাড়া গ্রাম থেকে একই ইউনিয়নের হিংগারপাড়া গ্রামে কনের বাড়ির উদ্দেশ্যে তিনি রওনা হন। এই ব্যতিক্রমী বরযাত্রা দেখতে উৎসুক জনতা পথে পথে ভিড় জমায়।

সাকিব মিয়া ধাপেরহাট ইউনিয়নের তিলকপাড়া গ্রামের ছায়েদ আলীর পুত্র। কনের নাম সুরাইয়া আক্তার, যিনি একই ইউনিয়নের হিংগারপাড়া গ্রামের খোকন মিয়ার কন্যা।

আরও পড়ুন: কক্সবাজারে নলকূপ খননের স্থান থেকে গ্যাসের আগুন, বাপেক্সের বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থলে

স্থানীয়দের মতে, সাধারণত বিয়ের বরযাত্রায় দেখা যায় ব্যক্তিগত গাড়ি, মাইক্রোবাস, মোটরসাইকেল কিংবা ঘোড়ার গাড়ি। কিন্তু সাকিবের বরযাত্রায় ছিল একটি হাতি, যা একটি ব্যতিক্রমী আয়োজন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। হাতির পিঠে চড়ে কনের বাড়ির পথে যাত্রা করা বর স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল সৃষ্টি করেছে।

বর সাকিব মিয়া জানিয়েছেন, "বিয়ের দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখার পাশাপাশি মায়ের দীর্ঘদিনের শখ পূরণ করতে হাতির পিঠে বিয়ের আয়োজন করেছি। মায়ের ইচ্ছা পূরণ করতে পেরে আমি অনেক ভালো লাগছে।"

ধাপেরহাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম শিপন মন্তব্য করেছেন, "মায়ের শখ পূরণ করতে হাতির পিঠে চড়ে সাকিবের বিয়ে করতে যাওয়ার বিষয়টি সত্যিই ব্যতিক্রমী। এমন প্রকাশ নিঃসন্দেহে সুন্দর একটি বিষয়। নবদম্পতির সুখী ও সুন্দর দাম্পত্যজীবন কামনা করছি।"

আরও পড়ুন: সেনাপ্রধানের সঙ্গে মার্কিন প্রতিনিধি দলের সাক্ষাৎ, এলএফটি-২০২৬ সফলভাবে সম্পন্ন

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ময়মনসিংহের বাঁশবাড়ি কলোনির সবুজায়নে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি, পরিদর্শনে পরিবেশমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:৫৫ এম


ময়মনসিংহের বাঁশবাড়ি কলোনির সবুজায়নে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি, পরিদর্শনে পরিবেশমন্ত্রী

ময়মনসিংহের বাঁশবাড়ি কলোনির ছোট্ট রাস্তার দুই পাশে গড়ে তোলা সবুজায়ন এবং পরিচ্ছন্ন পরিবেশ প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। একটি ছবির মাধ্যমে কলোনিবাসীদের এমন উদ্যোগের প্রশংসা করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে বিষয়টি সরেজমিনে পরিদর্শন করতে এবং এ ধরনের উদ্যোগকে দেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে দেয়ার সম্ভাবনা যাচাই করতে শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সন্ধ্যায় বাঁশবাড়ি কলোনি পরিদর্শন করেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টু।

পরিদর্শনের পর মন্ত্রী বলেন, "মানুষের বসবাসের জায়গা পরিচ্ছন্ন রাখা, রাস্তাঘাটের পরিবেশ সুন্দর করা এবং গাছ ও ফুলের মাধ্যমে প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের মানসিক সম্পর্ক গড়ে তোলা জরুরি।" তিনি আরও বলেন, "বাঁশবাড়ি কলোনির উদ্যোগ দেখে আমি অভিভূত। এ ধরনের উদ্যোগের উদ্যোক্তাদের সঙ্গে কথা বলে কীভাবে অন্য এলাকার মানুষকে উদ্বুদ্ধ করা যায়, তা নিয়ে কাজ করতে চাই।" দেশের বিভিন্ন শহরের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের কাছে এ উদ্যোগের ছবি পৌঁছে দিয়ে নিজ নিজ এলাকার মানুষকে পরিচ্ছন্নতা ও সবুজায়নে উৎসাহিত করার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

পরিবেশমন্ত্রী দেশের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি নিয়েও আলোচনা করেন। তিনি জানান, সরকার পাঁচ কোটি গাছ লাগানোর কথা বললেও তাদের লক্ষ্য ছয় কোটি গাছ লাগানো। কিছু গাছ মারা যাওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে এ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

মন্ত্রী আরও জানান, বাংলাদেশের মাটি ও আবহাওয়ার উপযোগী করে ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের প্রজাতি নির্বাচন এবং উপযুক্ত স্থান নির্ধারণের কাজ চলছে। অর্থনৈতিক গুরুত্ব রয়েছে, এমন গাছের চারা উৎপাদন ও নার্সারির মাধ্যমে সেগুলো সংশ্লিষ্ট এলাকায় ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে।

যেভাবে হয়েছে কলোনীর সবুজায়ন:

২০২৩ সালে নগরীর ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাঁশবাড়ি কলোনির ভাঙাচোরা সড়ক ও নালা সংস্কার করে ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশন। সংস্কার করা সড়ক ও উন্নত পয়োনিষ্কাশনব্যবস্থাকে কাজে লাগিয়ে এলাকার পরিবেশ বদলে দেয়ার পরিকল্পনা করেন চার তরুণ—মুরাদ হাসান কানন, মেহেদী হাসান মুহিত, সাইফুল ইসলাম ও উত্তম সরকার। তারা এলাকার বাসিন্দাদের সঙ্গে বৈঠক করে দেয়ালে বাগান করার পরিকল্পনা তুলে ধরেন। বাসিন্দারাও তাদের উদ্যোগে সমর্থন দেন।

এরপর মাত্র তিন মাসের মধ্যে কলোনির প্রায় ৮০০ ফুট সড়কের দুই পাশের দেয়ালে গড়ে তোলা হয় বাগান। অব্যবহৃত ঝুড়ি, বালতি ও মগকে টব হিসেবে ব্যবহার করে দেয়ালে লাগানো হয় নানা প্রজাতির ফুল ও পাতাবাহার। কোথাও অর্কিড, কোথাও সুগন্ধি ফুলের গাছ। রাতে হাসনাহেনার সুবাস ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়। সবুজায়নের এ দৃশ্য সেইসময় ছড়িয়ে পড়ছে প্রশংসা করেন নেটিজেনরা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সমুদ্র ছুঁয়ে আন্তর্জাতিক আকাশে যাত্রার অপেক্ষায় কক্সবাজার বিমানবন্দর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ১০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:৫৬ এম


সমুদ্র ছুঁয়ে আন্তর্জাতিক আকাশে যাত্রার অপেক্ষায় কক্সবাজার বিমানবন্দর

সমুদ্রের বুক ছুঁয়ে বিস্তৃত রানওয়ে, যা বাংলাদেশের দীর্ঘতম রানওয়ে হিসেবে পরিচিত। কক্সবাজার বিমানবন্দরের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হিসেবে যাত্রা শুরুর প্রস্তুতি প্রায় শেষ হয়েছে, যেখানে আধুনিক যাত্রী টার্মিনাল, প্রশস্ত অ্যাপ্রন এবং বড় উড়োজাহাজ ওঠানামার সক্ষমতা রয়েছে। আগামী নভেম্বরে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হিসেবে আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হতে পারে। এ উপলক্ষে পেনাং, কাঠমান্ডু ও কুনমিংসহ কয়েকটি আন্তর্জাতিক গন্তব্যে সরাসরি ফ্লাইট চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এয়ার এশিয়া শুরুতেই মালয়েশিয়ার পেনাংয়ে সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনার পরিকল্পনা জানিয়েছে। নেপালের কাঠমান্ডু, চীনের কুনমিং এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন গন্তব্যে বিমান যোগাযোগ স্থাপনের উদ্যোগও চলছে। এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে কক্সবাজারের সঙ্গে আন্তর্জাতিক যোগাযোগ সহজ হবে এবং পর্যটন ও স্থানীয় অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত সম্প্রতি বলেন, ‘এয়ার এশিয়া কক্সবাজারে সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনা করবে বলে নিশ্চিত করেছে।’ এই ফ্লাইটের মাধ্যমে কক্সবাজারের সঙ্গে মালয়েশিয়ার পেনাংয়ের সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন হবে।

মন্ত্রী আরও জানান, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের পাশাপাশি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক এয়ারলাইনসও কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ফ্লাইট পরিচালনা করবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিমানবন্দরটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

কক্সবাজার থেকে নেপালের কাঠমান্ডু রুটেও সরাসরি ফ্লাইট চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে চীনের ইউনান প্রদেশের রাজধানী কুনমিংয়ের সঙ্গে সরাসরি বিমান যোগাযোগ স্থাপনের উদ্যোগ চলছে। এর লক্ষ্য হলো, চীনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলসহ দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলের পর্যটকদের কক্সবাজারে আকৃষ্ট করা।

ঝিনুকের আদলে আধুনিক টার্মিনাল

আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ইতিমধ্যে ঝিনুকের আদলে নির্মিত নতুন যাত্রী টার্মিনাল চালু করা হয়েছে। প্রায় ৩৬৩ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই টার্মিনালে ১৪টি চেক-ইন কাউন্টার, ১০টি ইমিগ্রেশন কাউন্টার ও দুটি লাগেজ বেল্ট রয়েছে। পুরোপুরি চালু হলে টার্মিনালটির মাধ্যমে বছরে ২০ লাখ যাত্রীকে সেবা দেওয়ার সক্ষমতা তৈরি হবে।

সমুদ্রের ঢেউ ও শামুকের খোলসের আদলে নির্মিত টার্মিনালটি যাত্রীদের নজর কেড়েছে। আধুনিক অবকাঠামো ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশে তারা সন্তুষ্ট। তবে তাদের প্রত্যাশা, কক্সবাজার থেকেই যেন সরাসরি আন্তর্জাতিক গন্তব্যে যাতায়াত করা যায়।

কানাডাপ্রবাসী মেহেদী হাসান ইমন বলেন, ‘কক্সবাজার বিমানবন্দরটি খুবই সুন্দর ও আধুনিক হয়েছে। আমার কাছে এটি ঢাকার বিমানবন্দরের তুলনায় অনেক ভালো লেগেছে। বিমানবন্দরের পরিবেশ ও সুযোগ-সুবিধা দেখে বেশ ভালো লেগেছে। এখান থেকে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালু করা গেলে সেটি খুবই ভালো হবে।’

মালয়েশিয়াপ্রবাসী রুবাইবা আহমেদের মতে, কক্সবাজার থেকে সরাসরি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালু হলে প্রবাসীদের যাতায়াত অনেক সহজ হবে। বর্তমানে আন্তর্জাতিক রুটে যাতায়াতের ক্ষেত্রে অনেক যাত্রীকে প্রথমে ঢাকায় এসে পরে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটে কক্সবাজার যেতে হয়, যা সময় ও ভোগান্তি বাড়ায়।

রুবাইবা আহমেদ বলেন, ‘এখান থেকে সরাসরি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালু করা গেলে যাত্রীদের ভোগান্তি অনেকটাই কমবে। বিশেষ করে ঢাকায় যাত্রাবিরতি ও বিমান পরিবর্তনের ঝামেলা কমে যাবে।’

যাত্রী আমান উল্লাহও মনে করেন, কক্সবাজারে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর চালু হলে যাতায়াতের ক্ষেত্রে বাড়তি সুবিধা পাওয়া যাবে। তার ভাষায়, ঢাকার তুলনায় কক্সবাজারে যানজট কম এবং বিমানবন্দরের আশপাশের পরিবেশও খোলামেলা। আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হিসেবে এসব বিষয় যাত্রীদের জন্য ইতিবাচক হতে পারে।

যাত্রী জসিম উদ্দিনের প্রত্যাশা, কক্সবাজার থেকে ভারত, নেপাল, চীনসহ বিভিন্ন দেশে সরাসরি যাতায়াতের সুযোগ তৈরি হবে। এতে ভ্রমণ আরও সহজ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় হবে বলে মনে করেন তিনি।

দেশের দীর্ঘতম ১০ হাজার ৭০০ ফুট রানওয়ে, নতুন অ্যাপ্রন

আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনার জন্য বিমানবন্দরের রানওয়ে সম্প্রসারণ করা হয়েছে। বঙ্গোপসাগর থেকে জমি পুনরুদ্ধার করে আগে ৯ হাজার ফুট দীর্ঘ রানওয়েকে বাড়িয়ে ১০ হাজার ৭০০ ফুট করা হয়েছে। এতে বড় উড়োজাহাজ ওঠানামার সক্ষমতা তৈরি হয়েছে।

পাশাপাশি নির্মাণ করা হয়েছে ৩৬ হাজার ৩০০ বর্গমিটারের নতুন অ্যাপ্রন, যেখানে একসঙ্গে ১০ থেকে ১২টি উড়োজাহাজ পার্কিংয়ের সুবিধা রয়েছে। সক্ষমতা যাচাইয়ের পর আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার সনদও পেয়েছে বিমানবন্দরটি।

কক্সবাজার বিমানবন্দরের পরিচালক মো. গোলাম মুর্তজা হোসেন জানান, আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনার জন্য বিমানবন্দরটি প্রস্তুত রয়েছে। নতুন অ্যাপ্রন ব্যবস্থাপনার ফলে একই সময়ে ১০ থেকে ১২টি উড়োজাহাজ পার্কিং করা সম্ভব হবে। এতে উড়োজাহাজ পরিচালনা আরও সুশৃঙ্খল ও কার্যকর হবে।

তিনি বলেন, বর্তমানে বিমানবন্দরে প্রতিদিন প্রায় ২৭টি আগমন ও ২৭টি বহির্গমনসহ মোট ৫৪টি ফ্লাইট মুভমেন্ট পরিচালিত হচ্ছে। পাশাপাশি দুটি বোয়িং উড়োজাহাজও একই ব্যবস্থাপনার আওতায় পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে।

নতুন টার্মিনাল ভবনটি আপাতত দেশীয় যাত্রীদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে এবং পরীক্ষামূলকভাবে পরিচালিত হচ্ছে বলে জানান বিমানবন্দরের পরিচালক।

তিনি বলেন, টার্মিনালে ১৪টি চেক-ইন কাউন্টারের পাশাপাশি রয়েছে প্রশস্ত হোল্ডিং লাউঞ্জ। সেখানে একসঙ্গে প্রায় ৪৫০ জন যাত্রী বসতে পারবেন। লাউঞ্জ থেকে রানওয়ে ও উড়োজাহাজের ওঠানামার দৃশ্যও দেখা যাবে। নতুন অবকাঠামোর ফলে যাত্রীরা আগের তুলনায় আরও স্বাচ্ছন্দ্য ও উন্নত সেবা পাবেন বলে আশা করছেন তিনি।

পর্যটন অবকাঠামো উন্নয়নের তাগিদ

আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালুর উদ্যোগকে স্বাগত জানালেও এয়ারলাইনস কর্মকর্তারা বলছেন, বিদেশি পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে শুধু বিমানবন্দর উন্নত করলেই হবে না। আবাসন, পর্যটনসেবা, যাতায়াতব্যবস্থা ও অন্যান্য অবকাঠামোতেও গুরুত্ব দিতে হবে।

বেসরকারি এয়ারলাইনস নভোএয়ারের কক্সবাজার স্টেশনের ইনচার্জ সরওয়ার কাদের বলেন, আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনার জন্য রানওয়ে ও বিমানবন্দরের অবকাঠামো প্রস্তুত রয়েছে। দ্রুত আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালু হবে বলে তারা আশাবাদী।

ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের কক্সবাজার স্টেশনের সহকারী ব্যবস্থাপক মুসা আহমদ জানান, নভেম্বরের দিকে কক্সবাজার থেকে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনার বিষয়ে তাদের ঘোষণা আসতে পারে। এ বিষয়ে সম্ভাব্য রুট নিয়ে বাজার বিশ্লেষণ চলছে।

মুসা আহমদ বলেন, ব্যবসায়িক সম্ভাবনা বিবেচনায় নিয়ে উপযুক্ত রুট নির্বাচন করা হবে। এ ক্ষেত্রে সরকারের সহযোগিতা পেলে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনার উদ্যোগ এগিয়ে নেওয়া সহজ হবে।

তবে বিমানবন্দরের পাশাপাশি কক্সবাজারের পর্যটন খাতেও উন্নয়ন প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি। বিদেশি পর্যটকদের জন্য উন্নত আবাসন, বাড়তি সুযোগ-সুবিধা ও পর্যটনবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে তাদের আগ্রহ বাড়বে।

রানওয়ে থেকে যাত্রী টার্মিনাল-আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তোলার কাজ অনেকটাই এগিয়েছে কক্সবাজারে। এখন সরাসরি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালুর অপেক্ষা। পরিকল্পিত রুটগুলো বাস্তবায়িত হলে কক্সবাজারের সঙ্গে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগ বাড়ার পাশাপাশি পর্যটনশিল্প, ব্যবসা-বাণিজ্য ও স্থানীয় অর্থনীতিতেও নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলতে পারে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

‘৭১ ও ২৪-এর পরাজিত শক্তি রাষ্ট্রকে অস্থিতিশীল করতে ঐক্যবদ্ধ’: বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:৫৬ এম


‘৭১ ও ২৪-এর পরাজিত শক্তি রাষ্ট্রকে অস্থিতিশীল করতে ঐক্যবদ্ধ’: বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত মন্তব্য করেছেন যে, ৭১ ও ২৪-এর পরাজিত রাজনৈতিক শক্তিগুলি বর্তমানে রাষ্ট্রকে অস্থিতিশীল করার উদ্দেশ্যে একত্রিত হয়েছে।

তিনি শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বিকেলে যশোর সদর উপজেলার রূপদিয়া বাজারে অনুষ্ঠিত একটি প্রতিবাদ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন।

এই সমাবেশটি সারাদেশে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের পরিকল্পিত সন্ত্রাস, ষড়যন্ত্র ও নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে আয়োজিত হয়।

প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, 'এসব পরাজিত শক্তি দেশকে অস্থিতিশীল করতেই একত্রিত হয়েছে। বাংলাদেশের মানুষ ভালো থাকবে, দেশে শিক্ষা ও চিকিৎসার উন্নয়ন হবে কিংবা অর্থনৈতিক চাকা সচল থাকবে, এগুলো কোনোভাবেই তারা মেনে নিতে পারছে না।'

তিনি ষড়যন্ত্রকারীদের অতীত ভূমিকা তুলে ধরে বলেন, 'এদের চক্রান্ত নতুন কিছু নয়। ১৯৮৬ সালে স্বৈরাচার এরশাদের পাতানো নির্বাচনে অংশ নিয়ে জনগণের পিঠে ছুরিকাঘাত করে কোন দল জাতীয় বেইমান হিসেবে চিহ্নিত হয়েছিল, তা দেশবাসী জানে। ১৯৯১ সালে বিএনপি সরকারকে অস্থিতিশীল করতে যারা টানা ১৭২ দিন হরতাল ডেকেছিল, আজকে তারাই নতুন রূপে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে।'

দলীয় নেতাকর্মীদের গণতন্ত্র রক্ষায় সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি আরও বলেন, 'বিএনপির প্রতিটি নেতাকর্মীকে সজাগ থাকতে হবে, যেন কোনো ষড়যন্ত্রকারী চক্র আমাদের রক্তে অর্জিত গণতন্ত্রকে নতুন করে বিপন্ন করতে না পারে।'

নরেন্দ্রপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুস সালাম বিশ্বাসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে যশোর জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট সাবেরুল হক সাবু, সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন খোকন, এবং জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার রবিউল ইসলামসহ স্থানীয় অঙ্গ-সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সিলেটে নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগে হাসপাতালের বিরুদ্ধে স্বজনদের ক্ষোভ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:৫৭ এম


সিলেটে নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগে হাসপাতালের বিরুদ্ধে স্বজনদের ক্ষোভ

সিলেট নগরের আখালিয়া এলাকায় অবস্থিত মাউন্ট এডোরা হাসপাতালে চিকিৎসার অবহেলার কারণে এক নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ করেছেন স্বজনরা। পরিবারের দাবি, সময়মতো সিজারিয়ান না করে স্বাভাবিক প্রসবের চেষ্টা চালানোয় শিশুটির মৃত্যু ঘটেছে। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সন্ধ্যায় মাউন্ট এডোরা হাসপাতালে এই ঘটনাটি ঘটে।

ভুক্তভোগী পরিবারের সূত্রে জানা যায়, দুই দিন আগে প্রসববেদনা শুরু হলে সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার বাসিন্দা ও সৌদিপ্রবাসী ইদ্রিস আলী সুমনের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী নাজমা বেগমকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

নবজাতকের দাদা এবং টেংরা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের অধ্যক্ষ মো. জোবায়ের হোসাইন মজুমদার অভিযোগ করেন, আল্ট্রাসনোগ্রাম রিপোর্টে শিশুর ওজন প্রায় চার কেজি থাকার কারণে তারা শুরু থেকেই সিজারিয়ান ডেলিভারির জন্য অনুরোধ করেছিলেন। কিন্তু দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসকরা নরমাল ডেলিভারির আশ্বাস দিয়ে সময়ক্ষেপণ করেন।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, প্রসবের এক পর্যায়ে শিশুটির মাথা বের হলেও কাঁধ আটকে যায়। তখন টানাটানি করার ফলে শিশুটির মাথা, গলা ও শরীরে মারাত্মক আঘাত লাগে এবং শ্বাসরুদ্ধ হয়ে শিশুটির মৃত্যু ঘটে। পরিস্থিতি জটিল হওয়ার পর বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডাকা হলেও ততক্ষণে শিশুটিকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। এছাড়া মৃত্যুর কারণ জানতে চাইলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ স্বজনদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করে নিরাপত্তার অজুহাতে তাদের বের করে দেয় বলেও তিনি দাবি করেন।

এদিকে, চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মাউন্ট এডোরা হাসপাতালের ব্যবস্থাপক শফিক আহমদ। তিনি জানান, শিশুটি ভূমিষ্ঠ হওয়ার আগেই মারা গিয়েছিল।

শফিক আহমদ আরও বলেন, এ বিষয়ে যদি পরিবারের কোনো অভিযোগ থাকে, তাহলে তারা সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক ল্যাবে পরীক্ষা করাতে পারেন অথবা আইনি ব্যবস্থা নিতে পারেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%