ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৬ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৬ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

দারিদ্র্য বিমোচনে বাংলাদেশ বিশ্বে মডেল হতে পারে: ড. তিতুমীর


দারিদ্র্য বিমোচনে বাংলাদেশ বিশ্বে মডেল হতে পারে: ড. তিতুমীর

বৈদেশিক কর্মসংস্থান, তৈরি পোশাকশিল্পে নারীর অংশগ্রহণ এবং সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশ বিশ্বে দারিদ্র্য বিমোচনে একটি অনুসরণযোগ্য মডেল হয়ে উঠতে পারে। প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর এ জন্য সামাজিক সুরক্ষার সঙ্গে উৎপাদনশীল বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং আয় বৃদ্ধির কার্যকর সংযোগ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন।

তিনি উল্লেখ করেন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সুফল সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে বিচ্ছিন্ন সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনী কর্মসূচির পরিবর্তে কর্মসংস্থান, উৎপাদনশীল বিনিয়োগ এবং করের আওতা সম্প্রসারণের সঙ্গে সমন্বিত সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার কার্যকর উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে চুলালংকর্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত ‘সবার জন্য এশিয়া: সরকারি সেবা, সামাজিক সুরক্ষা ও অভিন্ন সমৃদ্ধির প্রতিশ্রুতি’ শীর্ষক এক উচ্চপর্যায়ের আঞ্চলিক সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

আরও পড়ুন: দুর্গাপূজায় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে সরকার: প্রতিমন্ত্রী টুকু

বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি অনুষদ ও অক্সফাম ইন এশিয়া সম্মেলনটি যৌথভাবে আয়োজন করে। ব্যাংককে বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বার্ষিক সভার আগে অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনে বিভিন্ন দেশের নীতিনির্ধারক, অর্থনীতিবিদ, গবেষক এবং উন্নয়নকর্মীরা অংশগ্রহণ করেন।

সম্মেলনের ‘অর্থনৈতিক সমতা অর্থায়ন: সরকারি সেবায় সম্পদ আহরণ’ শীর্ষক অধিবেশনে ড. তিতুমীর বলেন, করোনা মহামারি এবং পূর্ববর্তী সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থার দুর্বলতার কারণে দেশে নতুন করে প্রায় ৭০ লাখ থেকে ১ কোটি মানুষ দারিদ্র্যের মধ্যে পড়েছিলেন। সুরক্ষা কর্মসূচিতে যোগ্য ব্যক্তির বাদ পড়া এবং অযোগ্যদের সুবিধা পাওয়ার মতো সমন্বয়হীনতার বিষয়টিও ছিল।

এই পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য তিনি জীবনচক্রভিত্তিক সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর জোর দেন। এর অংশ হিসেবে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির কথা তুলে ধরে তিনি জানান, ডিজিটাল পদ্ধতিতে ‘জিটুপি’ (সরকার থেকে সরাসরি ব্যক্তি) প্রক্রিয়ায় অর্থ পৌঁছে দেয়ার এই উদ্যোগে ২০৩০ সালের মধ্যে উপকারভোগীর সংখ্যা ১ কোটি ৬১ লাখে পৌঁছাবে। এটি বাস্তবায়িত হলে দেশের দারিদ্র্যের হার ৫ শতাংশীয় পয়েন্ট কমতে পারে।

এছাড়া ‘কৃষক কার্ড’ কর্মসূচির মাধ্যমে ২০৩০ সালের মধ্যে কৃষি উৎপাদন ও প্রকৃত মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) ০.৭ থেকে ১ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির প্রাক্কলন করা হয়েছে। একই সঙ্গে জলবায়ু ও পরিবেশ সংরক্ষণে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন এবং ৫ বছরে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর লক্ষ্যমাত্রার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।

আরও পড়ুন: থাইল্যান্ডে আশ্রয় নেওয়া তিন বাংলাদেশি আজ দেশে ফিরবেন

বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলা এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোর অগ্রগতি ধরে রাখতে তিতুমীর ছয়টি প্রস্তাব উপস্থাপন করেন। এর মধ্যে রয়েছে–জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধিতে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর জন্য বিশেষ বহুপক্ষীয় তারল্য-সহায়তা তহবিল গঠন, খাদ্য ও সারের চালানে গ্যারান্টি ব্যবস্থা, বৈশ্বিক সংকটে ঋণ পরিশোধ স্থগিতের স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা, উন্নত দেশের অব্যবহৃত এসডিআর পুনর্বণ্টন, জলবায়ু অর্থায়নে ভারসাম্য এবং বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলে (বাংলাদেশ, থাইল্যান্ড ও মিয়ানমার) অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি।

সম্মেলনে অক্সফামের নীতিপত্রের তথ্য তুলে ধরে জানানো হয়, এশিয়ার মাত্র ১০ শতাংশ ধনীর হাতে জাতীয় আয়ের ৬০ থেকে ৭৭ শতাংশ কেন্দ্রীভূত, আর দরিদ্র ৫০ শতাংশের হাতে রয়েছে মাত্র ১২ থেকে ১৫ শতাংশ।

২০২৫ সালে এশিয়ার শত কোটিপতিদের মোট সম্পদ বেড়ে ৪ লাখ কোটি ডলারে পৌঁছাবে। বৈষম্যের কারণে এ অঞ্চলের ৫০ কোটিরও বেশি মানুষ এখনও দারিদ্র্যের মধ্যে বা ঝুঁকির মুখে রয়েছেন। এছাড়া এশিয়ার আনুমানিক ৪৬.৪ শতাংশ মানুষ (প্রায় ২১০ কোটি) কোনো সামাজিক সুরক্ষা সুবিধার আওতায় নেই।

পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য অক্সফাম এশিয়ার সবচেয়ে ধনী ব্যক্তিদের সম্পদের ওপর বছরে ২ থেকে ৫ শতাংশ কর আরোপের সুপারিশ করেছে, যা থেকে বছরে ৭৯ হাজার ২০০ কোটি ডলার পর্যন্ত অতিরিক্ত রাজস্ব আয় সম্ভব।

আরও পড়ুন: ভারতের পথে যুব মহিলা লীগ নেত্রী সুলতানা বেগম আটক

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গাইবান্ধায় হাতির পিঠে চড়ে কনের বাড়িতে বর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:৫৫ এম


গাইবান্ধায় হাতির পিঠে চড়ে কনের বাড়িতে বর

গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরে হাতির পিঠে চড়ে বিয়ের জন্য কনের বাড়িতে যাচ্ছেন সাকিব মিয়া (২৫) নামের এক বর। মায়ের স্বপ্ন পূরণ করার উদ্দেশ্যে, তিনি অন্য কোনো যানবাহন ব্যবহার না করে হাতির পিঠে চড়ে গেছেন।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) ধাপেরহাট ইউনিয়নের তিলকপাড়া গ্রাম থেকে একই ইউনিয়নের হিংগারপাড়া গ্রামে কনের বাড়ির উদ্দেশ্যে তিনি রওনা হন। এই ব্যতিক্রমী বরযাত্রা দেখতে উৎসুক জনতা পথে পথে ভিড় জমায়।

সাকিব মিয়া ধাপেরহাট ইউনিয়নের তিলকপাড়া গ্রামের ছায়েদ আলীর পুত্র। কনের নাম সুরাইয়া আক্তার, যিনি একই ইউনিয়নের হিংগারপাড়া গ্রামের খোকন মিয়ার কন্যা।

স্থানীয়দের মতে, সাধারণত বিয়ের বরযাত্রায় দেখা যায় ব্যক্তিগত গাড়ি, মাইক্রোবাস, মোটরসাইকেল কিংবা ঘোড়ার গাড়ি। কিন্তু সাকিবের বরযাত্রায় ছিল একটি হাতি, যা একটি ব্যতিক্রমী আয়োজন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। হাতির পিঠে চড়ে কনের বাড়ির পথে যাত্রা করা বর স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল সৃষ্টি করেছে।

বর সাকিব মিয়া জানিয়েছেন, "বিয়ের দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখার পাশাপাশি মায়ের দীর্ঘদিনের শখ পূরণ করতে হাতির পিঠে বিয়ের আয়োজন করেছি। মায়ের ইচ্ছা পূরণ করতে পেরে আমি অনেক ভালো লাগছে।"

ধাপেরহাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম শিপন মন্তব্য করেছেন, "মায়ের শখ পূরণ করতে হাতির পিঠে চড়ে সাকিবের বিয়ে করতে যাওয়ার বিষয়টি সত্যিই ব্যতিক্রমী। এমন প্রকাশ নিঃসন্দেহে সুন্দর একটি বিষয়। নবদম্পতির সুখী ও সুন্দর দাম্পত্যজীবন কামনা করছি।"

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ময়মনসিংহের বাঁশবাড়ি কলোনির সবুজায়নে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি, পরিদর্শনে পরিবেশমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:৫৫ এম


ময়মনসিংহের বাঁশবাড়ি কলোনির সবুজায়নে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি, পরিদর্শনে পরিবেশমন্ত্রী

ময়মনসিংহের বাঁশবাড়ি কলোনির ছোট্ট রাস্তার দুই পাশে গড়ে তোলা সবুজায়ন এবং পরিচ্ছন্ন পরিবেশ প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। একটি ছবির মাধ্যমে কলোনিবাসীদের এমন উদ্যোগের প্রশংসা করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে বিষয়টি সরেজমিনে পরিদর্শন করতে এবং এ ধরনের উদ্যোগকে দেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে দেয়ার সম্ভাবনা যাচাই করতে শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সন্ধ্যায় বাঁশবাড়ি কলোনি পরিদর্শন করেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টু।

পরিদর্শনের পর মন্ত্রী বলেন, "মানুষের বসবাসের জায়গা পরিচ্ছন্ন রাখা, রাস্তাঘাটের পরিবেশ সুন্দর করা এবং গাছ ও ফুলের মাধ্যমে প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের মানসিক সম্পর্ক গড়ে তোলা জরুরি।" তিনি আরও বলেন, "বাঁশবাড়ি কলোনির উদ্যোগ দেখে আমি অভিভূত। এ ধরনের উদ্যোগের উদ্যোক্তাদের সঙ্গে কথা বলে কীভাবে অন্য এলাকার মানুষকে উদ্বুদ্ধ করা যায়, তা নিয়ে কাজ করতে চাই।" দেশের বিভিন্ন শহরের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের কাছে এ উদ্যোগের ছবি পৌঁছে দিয়ে নিজ নিজ এলাকার মানুষকে পরিচ্ছন্নতা ও সবুজায়নে উৎসাহিত করার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

পরিবেশমন্ত্রী দেশের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি নিয়েও আলোচনা করেন। তিনি জানান, সরকার পাঁচ কোটি গাছ লাগানোর কথা বললেও তাদের লক্ষ্য ছয় কোটি গাছ লাগানো। কিছু গাছ মারা যাওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে এ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

মন্ত্রী আরও জানান, বাংলাদেশের মাটি ও আবহাওয়ার উপযোগী করে ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের প্রজাতি নির্বাচন এবং উপযুক্ত স্থান নির্ধারণের কাজ চলছে। অর্থনৈতিক গুরুত্ব রয়েছে, এমন গাছের চারা উৎপাদন ও নার্সারির মাধ্যমে সেগুলো সংশ্লিষ্ট এলাকায় ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে।

যেভাবে হয়েছে কলোনীর সবুজায়ন:

২০২৩ সালে নগরীর ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাঁশবাড়ি কলোনির ভাঙাচোরা সড়ক ও নালা সংস্কার করে ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশন। সংস্কার করা সড়ক ও উন্নত পয়োনিষ্কাশনব্যবস্থাকে কাজে লাগিয়ে এলাকার পরিবেশ বদলে দেয়ার পরিকল্পনা করেন চার তরুণ—মুরাদ হাসান কানন, মেহেদী হাসান মুহিত, সাইফুল ইসলাম ও উত্তম সরকার। তারা এলাকার বাসিন্দাদের সঙ্গে বৈঠক করে দেয়ালে বাগান করার পরিকল্পনা তুলে ধরেন। বাসিন্দারাও তাদের উদ্যোগে সমর্থন দেন।

এরপর মাত্র তিন মাসের মধ্যে কলোনির প্রায় ৮০০ ফুট সড়কের দুই পাশের দেয়ালে গড়ে তোলা হয় বাগান। অব্যবহৃত ঝুড়ি, বালতি ও মগকে টব হিসেবে ব্যবহার করে দেয়ালে লাগানো হয় নানা প্রজাতির ফুল ও পাতাবাহার। কোথাও অর্কিড, কোথাও সুগন্ধি ফুলের গাছ। রাতে হাসনাহেনার সুবাস ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়। সবুজায়নের এ দৃশ্য সেইসময় ছড়িয়ে পড়ছে প্রশংসা করেন নেটিজেনরা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সমুদ্র ছুঁয়ে আন্তর্জাতিক আকাশে যাত্রার অপেক্ষায় কক্সবাজার বিমানবন্দর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ১০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:৫৬ এম


সমুদ্র ছুঁয়ে আন্তর্জাতিক আকাশে যাত্রার অপেক্ষায় কক্সবাজার বিমানবন্দর

সমুদ্রের বুক ছুঁয়ে বিস্তৃত রানওয়ে, যা বাংলাদেশের দীর্ঘতম রানওয়ে হিসেবে পরিচিত। কক্সবাজার বিমানবন্দরের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হিসেবে যাত্রা শুরুর প্রস্তুতি প্রায় শেষ হয়েছে, যেখানে আধুনিক যাত্রী টার্মিনাল, প্রশস্ত অ্যাপ্রন এবং বড় উড়োজাহাজ ওঠানামার সক্ষমতা রয়েছে। আগামী নভেম্বরে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হিসেবে আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হতে পারে। এ উপলক্ষে পেনাং, কাঠমান্ডু ও কুনমিংসহ কয়েকটি আন্তর্জাতিক গন্তব্যে সরাসরি ফ্লাইট চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এয়ার এশিয়া শুরুতেই মালয়েশিয়ার পেনাংয়ে সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনার পরিকল্পনা জানিয়েছে। নেপালের কাঠমান্ডু, চীনের কুনমিং এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন গন্তব্যে বিমান যোগাযোগ স্থাপনের উদ্যোগও চলছে। এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে কক্সবাজারের সঙ্গে আন্তর্জাতিক যোগাযোগ সহজ হবে এবং পর্যটন ও স্থানীয় অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত সম্প্রতি বলেন, ‘এয়ার এশিয়া কক্সবাজারে সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনা করবে বলে নিশ্চিত করেছে।’ এই ফ্লাইটের মাধ্যমে কক্সবাজারের সঙ্গে মালয়েশিয়ার পেনাংয়ের সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন হবে।

মন্ত্রী আরও জানান, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের পাশাপাশি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক এয়ারলাইনসও কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ফ্লাইট পরিচালনা করবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিমানবন্দরটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

কক্সবাজার থেকে নেপালের কাঠমান্ডু রুটেও সরাসরি ফ্লাইট চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে চীনের ইউনান প্রদেশের রাজধানী কুনমিংয়ের সঙ্গে সরাসরি বিমান যোগাযোগ স্থাপনের উদ্যোগ চলছে। এর লক্ষ্য হলো, চীনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলসহ দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলের পর্যটকদের কক্সবাজারে আকৃষ্ট করা।

ঝিনুকের আদলে আধুনিক টার্মিনাল

আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ইতিমধ্যে ঝিনুকের আদলে নির্মিত নতুন যাত্রী টার্মিনাল চালু করা হয়েছে। প্রায় ৩৬৩ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই টার্মিনালে ১৪টি চেক-ইন কাউন্টার, ১০টি ইমিগ্রেশন কাউন্টার ও দুটি লাগেজ বেল্ট রয়েছে। পুরোপুরি চালু হলে টার্মিনালটির মাধ্যমে বছরে ২০ লাখ যাত্রীকে সেবা দেওয়ার সক্ষমতা তৈরি হবে।

সমুদ্রের ঢেউ ও শামুকের খোলসের আদলে নির্মিত টার্মিনালটি যাত্রীদের নজর কেড়েছে। আধুনিক অবকাঠামো ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশে তারা সন্তুষ্ট। তবে তাদের প্রত্যাশা, কক্সবাজার থেকেই যেন সরাসরি আন্তর্জাতিক গন্তব্যে যাতায়াত করা যায়।

কানাডাপ্রবাসী মেহেদী হাসান ইমন বলেন, ‘কক্সবাজার বিমানবন্দরটি খুবই সুন্দর ও আধুনিক হয়েছে। আমার কাছে এটি ঢাকার বিমানবন্দরের তুলনায় অনেক ভালো লেগেছে। বিমানবন্দরের পরিবেশ ও সুযোগ-সুবিধা দেখে বেশ ভালো লেগেছে। এখান থেকে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালু করা গেলে সেটি খুবই ভালো হবে।’

মালয়েশিয়াপ্রবাসী রুবাইবা আহমেদের মতে, কক্সবাজার থেকে সরাসরি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালু হলে প্রবাসীদের যাতায়াত অনেক সহজ হবে। বর্তমানে আন্তর্জাতিক রুটে যাতায়াতের ক্ষেত্রে অনেক যাত্রীকে প্রথমে ঢাকায় এসে পরে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটে কক্সবাজার যেতে হয়, যা সময় ও ভোগান্তি বাড়ায়।

রুবাইবা আহমেদ বলেন, ‘এখান থেকে সরাসরি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালু করা গেলে যাত্রীদের ভোগান্তি অনেকটাই কমবে। বিশেষ করে ঢাকায় যাত্রাবিরতি ও বিমান পরিবর্তনের ঝামেলা কমে যাবে।’

যাত্রী আমান উল্লাহও মনে করেন, কক্সবাজারে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর চালু হলে যাতায়াতের ক্ষেত্রে বাড়তি সুবিধা পাওয়া যাবে। তার ভাষায়, ঢাকার তুলনায় কক্সবাজারে যানজট কম এবং বিমানবন্দরের আশপাশের পরিবেশও খোলামেলা। আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হিসেবে এসব বিষয় যাত্রীদের জন্য ইতিবাচক হতে পারে।

যাত্রী জসিম উদ্দিনের প্রত্যাশা, কক্সবাজার থেকে ভারত, নেপাল, চীনসহ বিভিন্ন দেশে সরাসরি যাতায়াতের সুযোগ তৈরি হবে। এতে ভ্রমণ আরও সহজ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় হবে বলে মনে করেন তিনি।

দেশের দীর্ঘতম ১০ হাজার ৭০০ ফুট রানওয়ে, নতুন অ্যাপ্রন

আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনার জন্য বিমানবন্দরের রানওয়ে সম্প্রসারণ করা হয়েছে। বঙ্গোপসাগর থেকে জমি পুনরুদ্ধার করে আগে ৯ হাজার ফুট দীর্ঘ রানওয়েকে বাড়িয়ে ১০ হাজার ৭০০ ফুট করা হয়েছে। এতে বড় উড়োজাহাজ ওঠানামার সক্ষমতা তৈরি হয়েছে।

পাশাপাশি নির্মাণ করা হয়েছে ৩৬ হাজার ৩০০ বর্গমিটারের নতুন অ্যাপ্রন, যেখানে একসঙ্গে ১০ থেকে ১২টি উড়োজাহাজ পার্কিংয়ের সুবিধা রয়েছে। সক্ষমতা যাচাইয়ের পর আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার সনদও পেয়েছে বিমানবন্দরটি।

কক্সবাজার বিমানবন্দরের পরিচালক মো. গোলাম মুর্তজা হোসেন জানান, আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনার জন্য বিমানবন্দরটি প্রস্তুত রয়েছে। নতুন অ্যাপ্রন ব্যবস্থাপনার ফলে একই সময়ে ১০ থেকে ১২টি উড়োজাহাজ পার্কিং করা সম্ভব হবে। এতে উড়োজাহাজ পরিচালনা আরও সুশৃঙ্খল ও কার্যকর হবে।

তিনি বলেন, বর্তমানে বিমানবন্দরে প্রতিদিন প্রায় ২৭টি আগমন ও ২৭টি বহির্গমনসহ মোট ৫৪টি ফ্লাইট মুভমেন্ট পরিচালিত হচ্ছে। পাশাপাশি দুটি বোয়িং উড়োজাহাজও একই ব্যবস্থাপনার আওতায় পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে।

নতুন টার্মিনাল ভবনটি আপাতত দেশীয় যাত্রীদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে এবং পরীক্ষামূলকভাবে পরিচালিত হচ্ছে বলে জানান বিমানবন্দরের পরিচালক।

তিনি বলেন, টার্মিনালে ১৪টি চেক-ইন কাউন্টারের পাশাপাশি রয়েছে প্রশস্ত হোল্ডিং লাউঞ্জ। সেখানে একসঙ্গে প্রায় ৪৫০ জন যাত্রী বসতে পারবেন। লাউঞ্জ থেকে রানওয়ে ও উড়োজাহাজের ওঠানামার দৃশ্যও দেখা যাবে। নতুন অবকাঠামোর ফলে যাত্রীরা আগের তুলনায় আরও স্বাচ্ছন্দ্য ও উন্নত সেবা পাবেন বলে আশা করছেন তিনি।

পর্যটন অবকাঠামো উন্নয়নের তাগিদ

আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালুর উদ্যোগকে স্বাগত জানালেও এয়ারলাইনস কর্মকর্তারা বলছেন, বিদেশি পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে শুধু বিমানবন্দর উন্নত করলেই হবে না। আবাসন, পর্যটনসেবা, যাতায়াতব্যবস্থা ও অন্যান্য অবকাঠামোতেও গুরুত্ব দিতে হবে।

বেসরকারি এয়ারলাইনস নভোএয়ারের কক্সবাজার স্টেশনের ইনচার্জ সরওয়ার কাদের বলেন, আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনার জন্য রানওয়ে ও বিমানবন্দরের অবকাঠামো প্রস্তুত রয়েছে। দ্রুত আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালু হবে বলে তারা আশাবাদী।

ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের কক্সবাজার স্টেশনের সহকারী ব্যবস্থাপক মুসা আহমদ জানান, নভেম্বরের দিকে কক্সবাজার থেকে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনার বিষয়ে তাদের ঘোষণা আসতে পারে। এ বিষয়ে সম্ভাব্য রুট নিয়ে বাজার বিশ্লেষণ চলছে।

মুসা আহমদ বলেন, ব্যবসায়িক সম্ভাবনা বিবেচনায় নিয়ে উপযুক্ত রুট নির্বাচন করা হবে। এ ক্ষেত্রে সরকারের সহযোগিতা পেলে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনার উদ্যোগ এগিয়ে নেওয়া সহজ হবে।

তবে বিমানবন্দরের পাশাপাশি কক্সবাজারের পর্যটন খাতেও উন্নয়ন প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি। বিদেশি পর্যটকদের জন্য উন্নত আবাসন, বাড়তি সুযোগ-সুবিধা ও পর্যটনবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে তাদের আগ্রহ বাড়বে।

রানওয়ে থেকে যাত্রী টার্মিনাল-আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তোলার কাজ অনেকটাই এগিয়েছে কক্সবাজারে। এখন সরাসরি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালুর অপেক্ষা। পরিকল্পিত রুটগুলো বাস্তবায়িত হলে কক্সবাজারের সঙ্গে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগ বাড়ার পাশাপাশি পর্যটনশিল্প, ব্যবসা-বাণিজ্য ও স্থানীয় অর্থনীতিতেও নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলতে পারে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

‘৭১ ও ২৪-এর পরাজিত শক্তি রাষ্ট্রকে অস্থিতিশীল করতে ঐক্যবদ্ধ’: বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:৫৬ এম


‘৭১ ও ২৪-এর পরাজিত শক্তি রাষ্ট্রকে অস্থিতিশীল করতে ঐক্যবদ্ধ’: বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত মন্তব্য করেছেন যে, ৭১ ও ২৪-এর পরাজিত রাজনৈতিক শক্তিগুলি বর্তমানে রাষ্ট্রকে অস্থিতিশীল করার উদ্দেশ্যে একত্রিত হয়েছে।

তিনি শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বিকেলে যশোর সদর উপজেলার রূপদিয়া বাজারে অনুষ্ঠিত একটি প্রতিবাদ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন।

এই সমাবেশটি সারাদেশে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের পরিকল্পিত সন্ত্রাস, ষড়যন্ত্র ও নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে আয়োজিত হয়।

প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, 'এসব পরাজিত শক্তি দেশকে অস্থিতিশীল করতেই একত্রিত হয়েছে। বাংলাদেশের মানুষ ভালো থাকবে, দেশে শিক্ষা ও চিকিৎসার উন্নয়ন হবে কিংবা অর্থনৈতিক চাকা সচল থাকবে, এগুলো কোনোভাবেই তারা মেনে নিতে পারছে না।'

তিনি ষড়যন্ত্রকারীদের অতীত ভূমিকা তুলে ধরে বলেন, 'এদের চক্রান্ত নতুন কিছু নয়। ১৯৮৬ সালে স্বৈরাচার এরশাদের পাতানো নির্বাচনে অংশ নিয়ে জনগণের পিঠে ছুরিকাঘাত করে কোন দল জাতীয় বেইমান হিসেবে চিহ্নিত হয়েছিল, তা দেশবাসী জানে। ১৯৯১ সালে বিএনপি সরকারকে অস্থিতিশীল করতে যারা টানা ১৭২ দিন হরতাল ডেকেছিল, আজকে তারাই নতুন রূপে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে।'

দলীয় নেতাকর্মীদের গণতন্ত্র রক্ষায় সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি আরও বলেন, 'বিএনপির প্রতিটি নেতাকর্মীকে সজাগ থাকতে হবে, যেন কোনো ষড়যন্ত্রকারী চক্র আমাদের রক্তে অর্জিত গণতন্ত্রকে নতুন করে বিপন্ন করতে না পারে।'

নরেন্দ্রপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুস সালাম বিশ্বাসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে যশোর জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট সাবেরুল হক সাবু, সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন খোকন, এবং জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার রবিউল ইসলামসহ স্থানীয় অঙ্গ-সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫০
মাগরিব ০৫:২৭
ইশা ০৬:৩৮
সূর্যোদয় : ০৫:৫৯ সূর্যাস্ত : ০৫:২৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%