বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৪:৫৭ এম
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু মন্তব্য করেছেন যে, এবারের দুর্গাপূজায় বিএনপি সরকার প্রত্যাশা অনুযায়ী সনাতন ধর্মাবলম্বীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে।
তিনি বুধবার (২১ অক্টোবর) সন্ধ্যায় টাঙ্গাইল শহরের বিভিন্ন পূজামণ্ডপ ও বিসর্জনস্থলের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ শেষে ঐতিহ্যবাহী কেন্দ্রীয় কালীবাড়ী মন্দিরে পূজারিদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, এবারের দুর্গাপূজায় সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সন্তোষজনক ছিল। মানুষ আনন্দ-উচ্ছ্বাসের মধ্য দিয়ে নির্বিঘ্নে উৎসব উদযাপন করেছেন। সনাতন ধর্মাবলম্বীরা নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। এ বছর দুর্গাপূজার ছুটি বৃদ্ধি করা হয়েছে এবং পূজামণ্ডপগুলোতে সরকারি অনুদানের পরিমাণও বৃদ্ধি করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একটি কথা বলেন- ‘সবার আগে বাংলাদেশ’। প্রধানমন্ত্রী যে প্রতিশ্রুতি দেন, তা বাস্তবায়ন করেন। এবারের দুর্গাপূজায় সরকারের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মাধ্যমে তার প্রতিফলন ঘটেছে।
সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের সময়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অনেকেই নির্যাতন ও নিপীড়নের শিকার হয়েছেন। বর্তমানে জাতীয়তাবাদী দল রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রতি তাদের আস্থা ও প্রত্যাশা রয়েছে। বিগত নির্বাচনে বিএনপিকে ভোট দিয়ে তারা যে প্রত্যাশা করেছিলেন, সরকার তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মাধ্যমে তা পূরণ করতে সক্ষম হয়েছে।
টাঙ্গাইলের সার্বিক উন্নয়ন প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সবার সহযোগিতা নিয়ে টাঙ্গাইল থেকে মাদক, সন্ত্রাস, ইভটিজিং ও কিশোর গ্যাংয়ের অপতৎপরতা দূর করতে কাজ করে যাচ্ছি। ইতিমধ্যে এ বিষয়ে ভালো সাড়া পেয়েছি। সব ধর্মের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে টাঙ্গাইলের সার্বিক উন্নয়ন করতে চাই। মাদকমুক্ত, সন্ত্রাসমুক্ত ও নিরাপদ সমাজ গঠনে আমাদের কার্যক্রম আগামী দিনগুলোতে আরও জোরদার করা হবে।
মতবিনিময়কালে উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক আবু সাঈদ, পুলিশ সুপার মুহাম্মদ শামসুল আলম সরকার, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শাহীন মিয়া, কেন্দ্রীয় কালীবাড়ী মন্দিরের সভাপতি স্বপন ঘোষ, সাধারণ সম্পাদক জীবন কৃষ্ণ চৌধুরী, জেলা পূজা উদযাপন ফ্রন্টের আহ্বায়ক অমল ব্যানার্জীসহ জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা এবং বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কিং ফাহদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলার ঘটনায় একজন নিহত হয়েছেন, যা সৌদি আরবের দাম্মামে ঘটেছে। এই হামলায় আরও আটজন আহত হয়েছেন। সৌদি আরবের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ এক্সে প্রকাশিত একটি বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, হামলার ফলে বিমানবন্দর এলাকার মধ্যে উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বর্তমানে সেই ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণের কাজ চলছে।
তবে হামলার প্রকৃতি, হামলাকারীদের পরিচয় এবং হামলার পদ্ধতি সম্পর্কে বিবৃতিতে কোনো বিস্তারিত তথ্য প্রদান করা হয়নি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাজ্যে ওমানের সুলতান হাইথাম বিন তারিকের সফরের উপলক্ষে ব্রিটিশ রাজা তৃতীয় চার্লস উইন্ডসর ক্যাসেলে একটি নৈশভোজের আয়োজন করেন। অনুষ্ঠানে রানী ক্যামিলাসহ উভয় দেশের বিশিষ্ট অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন। রাজা চার্লস ওমানের সুলতানকে স্বাগত জানাতে গিয়ে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর একটি বিখ্যাত হাদিস উদ্ধৃত করেন এবং ওমানের জনগণের স্বভাব ও শান্তির প্রতি তাদের অনুরাগের প্রশংসা করেন।
রাজা চার্লস বক্তৃতায় ওমানি জনগণের চমৎকার আচরণ তুলে ধরে মহানবীর বাণী উল্লেখ করেন, "যদি তোমরা ওমানের মানুষের কাছে যেতে, তারা তোমাদের কখনোই গালি দিত না কিংবা আঘাত করত না।" তিনি এই উদাহরণ দিয়ে জানান যে, যুগ যুগ ধরে ওমানের মানুষ তাদের শান্তিকামী স্বভাব বজায় রেখেছে, যা পুরো বিশ্বের জন্য একটি দারুণ দৃষ্টান্ত।
রাজা চার্লস যুক্তরাজ্য ও ওমানের শত বছরের পুরনো বন্ধুত্বের কথা স্মরণ করে বলেন, যুদ্ধ ও সংঘাতের এই সময়ে ওমান সবসময় আলোচনার মাধ্যমে শান্তি বজায় রাখতে ভূমিকা রেখেছে। বিশেষ করে সমুদ্রপথে বিশ্ববাণিজ্য নিরাপদ রাখতে ওমানের প্রচেষ্টা সত্যিই প্রশংসনীয়। দুই দেশের এই শক্ত সম্পর্কের কারণে বিশ্ব যেমন অনেক নিরাপদ থাকে, তেমনই ভবিষ্যতেও ওমান যুক্তরাজ্যের এক বিশ্বস্ত বন্ধু হিসেবে পাশে থাকবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
সূত্র: ওমান অবজারভার
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলা কবিতার আকাশে তিনি এক নিঃসঙ্গ নক্ষত্র। বাংলার প্রকৃতি, ধূসর জীবন, হারানো সময় এবং অনন্ত বিষণ্নতা তাঁর কবিতায় অনন্য রূপে ফুটে উঠেছে। মৃত্যুর সাত দশকেরও বেশি সময় অতিক্রান্ত হলেও তাঁর কবিতার মায়াবী জগত্ আজও পাঠকদের আকর্ষণ করে। বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান আধুনিক কবি জীবনানন্দ দাশের ৭২তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ ২২ অক্টোবর।
১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন জীবনানন্দ দাশ। প্রকৃতি, প্রেম, নিঃসঙ্গতা, স্মৃতি এবং মানবজীবনের গভীর অনুভূতি তাঁর কবিতার মূল উপাদান। রবীন্দ্র প্রভাবের বাইরে তিনি নিজস্ব কাব্যভাষা, চিত্রকল্প এবং দর্শন তৈরি করে বাংলা কবিতায় আধুনিকতার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেন।
জীবনানন্দ দাশের কাব্যগ্রন্থগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ‘বনলতা সেন’, ‘রূপসী বাংলা’, ‘ধূসর পাণ্ডুলিপি’, ‘মহাপৃথিবী’ এবং ‘সাতটি তারার তিমির’। ১৯৫৪ সালের ১৪ অক্টোবর কলকাতায় ট্রাম দুর্ঘটনায় আহত হওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২২ অক্টোবর তিনি মৃত্যুবরণ করেন। জীবদ্দশায় যথাযথ স্বীকৃতি না পেলেও পরবর্তী সময়ে তাঁর কবিতা বাংলা সাহিত্যে বিশেষ মর্যাদা অর্জন করে। বাংলার নিসর্গ ও মানুষের অন্তর্গত বিষণ্নতার অনন্য রূপকার হিসেবে জীবনানন্দ দাশ আজও সমান প্রাসঙ্গিক।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের ফুলের নাওড়ী ও নাঙ্গলকোটের হুগলি এলাকায় ডাকাতিয়া নদীর ওপর সেতুর অভাবে দুই পাড়ের বাসিন্দাদের জন্য চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি হচ্ছে। প্রতিদিন বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নৌকায় নদী পার হচ্ছে। বর্ষা মৌসুমে নদীতে পানি বাড়লে এই ভোগান্তি এবং নিরাপত্তা ঝুঁকি আরও বৃদ্ধি পায়।
দীর্ঘ সময় ধরে সরকারি কোনো উদ্যোগ না পাওয়ার কারণে যাতায়াতের কষ্ট লাঘবের জন্য সম্প্রতি এলাকাবাসীরা নিজেদের অর্থায়নে এবং স্বেচ্ছাশ্রমে ২৬০ ফুট দীর্ঘ একটি বাঁশের সাঁকো নির্মাণের কাজ শুরু করেছেন। ফুলের নাওড়ী গ্রামের এয়াকুব মজুমদার, নাজমুল হোসেন এবং হুগলি এলাকার আবদুল মান্নান ও অলি আহমেদসহ স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা এই উদ্যোগের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।
স্থানীয় অভিভাবক আবুল কাশেম ও বেলাল হোসেন মন্তব্য করেছেন যে, এখানে একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণ হলে শিক্ষার্থীদের যাতায়াত সহজ হবে এবং এলাকার যোগাযোগব্যবস্থা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও সামগ্রিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন।
সাঁকো নির্মাণের উদ্যোক্তা এয়াকুব মজুমদার জানিয়েছেন, ‘সবার ছোট ছোট সহযোগিতায় আমরা এই সাঁকোটি তৈরি করছি, যেন কোমলমতি শিশু ও সাধারণ মানুষের পথচলা কিছুটা সহজ হয়।’
ফুলের নাওড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন বলেছেন, ‘নদীর ওপার থেকে অনেক শিক্ষার্থী কষ্ট করে আমাদের বিদ্যালয়ে আসে। সাময়িকভাবে বাঁশের সাঁকো দেওয়া হলেও, স্থায়ী সমাধানের জন্য সরকারি উদ্যোগে এখানে দ্রুত একটি ব্রিজ নির্মাণ করা জরুরি।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ