শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৪:৫৬ এম
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী এবং কংগ্রেসকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেছেন। তিনি কংগ্রেসকে ‘পরজীবী’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে মন্তব্য করেছেন যে, দলটি অন্যদের এগিয়ে যেতে দিতে চায় না। একই সঙ্গে রাহুল গান্ধীকে ইঙ্গিত করে তিনি কটাক্ষ করেছেন, কংগ্রেস কতদিন ধরে তাদের ‘ব্যর্থ পণ্য’ বাজারে আনার চেষ্টা চালিয়ে যাবে।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) এনডিটিভি ওয়ার্ল্ড সামিট ২০২৬-এর উদ্বোধনী দিনে প্রধান বক্তব্য দিতে গিয়ে মোদি এসব মন্তব্য করেন।
মোদি বলেন, যখন পুরো বিশ্ব নতুন বিশ্বব্যবস্থার সন্ধান করছে, তখন ভারতের কিছু মানুষ বিশৃঙ্খলার স্বপ্ন দেখছে।
তিনি আরও বলেন, বিশ্বজুড়ে যখন অস্থিরতা চলছে, তখন ভারতের একটি শক্তিশালী ভাবমূর্তি বিশ্বের সামনে তুলে ধরা প্রয়োজন। কিন্তু কিছু মানুষ দেশের সুনাম নষ্ট করতেই ব্যস্ত। তারা বিদেশে গিয়ে ভারতকে হেয় করে এবং বিদেশিদের হস্তক্ষেপ করতে বলে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
মোদি সরাসরি রাহুল গান্ধীর নাম উল্লেখ না করলেও, তাঁর মন্তব্যের লক্ষ্য কংগ্রেসের এই শীর্ষ নেতা— এমনটাই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
মোদি প্রশ্ন করেন, দেশকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলে কংগ্রেস আর কতদিন তাদের ব্যর্থ পণ্য বাজারে আনার চেষ্টা করবে। তিনি বলেন, "আমি জানি না।"
ভারতের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরোর শ্রীহরিকোটায় অবস্থিত উৎক্ষেপণকেন্দ্রের প্রসঙ্গ টেনে মোদি বলেন, এক বছরে কংগ্রেস যতবার ব্যর্থভাবে তাদের নেতাকে সামনে আনার চেষ্টা করে, শ্রীহরিকোটায় ততবার রকেট উৎক্ষেপণও হয় না।
মোদি অভিযোগ করেন, একটি পরিবারকে ব্যর্থতার দায় থেকে রক্ষা করতে গিয়ে কংগ্রেস ভারতের অর্জন, গৌরব ও উন্নয়নকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে। আঙুর টক হয়ে যাওয়ার উপমা দিয়ে তিনি বলেন, কংগ্রেস এখন সেই আঙুরলতাই ধ্বংস করতে ব্যস্ত।
নেহরু-গান্ধী পরিবার কংগ্রেসের জন্য বোঝা হয়ে উঠেছে বলেও দাবি করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী।
তার অভিযোগ, দলের অনেক জ্যেষ্ঠ নেতা ব্যক্তিগত আলোচনায় এ বিষয়ে একমত পোষণ করেন এবং ক্ষমতাসীন ব্যক্তিদের সঙ্গে কথাবার্তায় তা প্রকাশ করেন।
মোদি আরও বলেন, গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে সরকারের বিরোধিতা করতে চান—এমন নেতাদের কণ্ঠস্বর দমিয়ে রাখা হচ্ছে। সংসদে বিরোধী দলের মেধাবী তরুণ সাংসদরা সরকারের সমালোচনা করতে চাইলেও কংগ্রেস সংসদের কার্যক্রম ব্যাহত করে তাঁদের কথা বলার সুযোগ কেড়ে নেয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
কংগ্রেসকে ‘পরজীবী’ আখ্যা দিয়ে মোদি বলেন, দলটি অন্য কাউকে সফল হতে দিতে চায় না। তিনি আরও অভিযোগ করেন, ‘দিমাগি নকশাল’ বা ‘মানসিক নকশালরা’ কংগ্রেসের চিন্তাভাবনার ওপর এমনভাবে প্রভাব বিস্তার করেছে যে দলটি এখন নিজে থেকে চিন্তা করার ক্ষমতা হারিয়েছে।
মোদি দাবি করেন, যারা একসময় গ্রামাঞ্চলে ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড চালাত, তারা এখন কংগ্রেসে প্রবেশ করেছে এবং দেশকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যেতে প্রস্তুত।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাগেরহাটে গলদা চিংড়ির রেণুর সংকটের কারণে উপকূলীয় অঞ্চলের হাজার হাজার চাষি চরম বিপদের সম্মুখীন হয়েছেন। জেলার ৫৪ হাজারেরও বেশি ঘেরে প্রতি বছর ৫৮ কোটি ৬০ লাখ রেণুর বিশাল চাহিদা থাকা সত্ত্বেও, স্থানীয় হ্যাচারিগুলোর উৎপাদন ক্ষমতা চাহিদার তুলনায় অত্যন্ত নগণ্য।
সরকারি ও বেসরকারি ৯টি হ্যাচারির মধ্যে চারটি দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকায় সংকট আরো তীব্র রূপ ধারণ করেছে। ফলে, ভরা মৌসুমেও প্রয়োজনীয় রেণু না পেয়ে চাষিরা আড়তে আড়তে ঘুরছেন। একদিকে চড়া দাম ও বাড়তি যাতায়াত খরচ, অন্যদিকে সময়মতো পোনা ছাড়তে না পারায় বড় ধরনের লোকসানের আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন তারা। ভুক্তভোগী চাষিরা অবিলম্বে বন্ধ হ্যাচারিগুলো চালুর দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয় মৎস্য অফিসের তথ্য অনুযায়ী, বাগেরহাট জেলায় বর্তমানে ৫৪ হাজার ৮৪৮টি গলদা চিংড়ির ঘের রয়েছে। এসব ঘেরে প্রতি বছর প্রায় ৫৮ কোটি ৬০ লাখ রেণুর প্রয়োজন হয়। তবে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, বর্তমানে সচল স্থানীয় হ্যাচারিগুলো থেকে উৎপাদিত রেণু দিয়ে মোট চাহিদার মাত্র ৪ শতাংশ পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে। বাকি ৯৬ শতাংশ চাহিদা অপূর্ণ থেকে যাচ্ছে অথবা ভিন্ন উপায়ে সংগ্রহ করতে হচ্ছে।
বাগেরহাট সদর উপজেলার খানপুর এলাকার চিংড়িচাষি বোরহান মল্লিক তার হতাশা প্রকাশ করে বলেন, ‘দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে আমি চিংড়ি চাষ করছি। কিন্তু এবারের মতো সংকটে কখনো পড়িনি। বছরের শুরুতে ধারদেনা করে বাগদা চিংড়ি চাষ শুরু করেছিলাম, কিন্তু ভাইরাসের মড়কে সব শেষ হয়ে যায়। ক্ষতি পুষিয়ে নিতে এবার ১০০ বিঘার ঘেরে দেড় লাখ গলদা রেণু ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেই। কিন্তু পাঁচ-সাতবার আড়তে গিয়েও একসঙ্গে পোনা পাইনি। ভেঙে ভেঙে ১০-১৫ হাজার করে বেশি দামে কিনতে হয়েছে। এতে উৎপাদন খরচ অনেক বেড়ে গেছে।’
একই পরিস্থিতিতে পাশের চাকশ্রী গ্রামের চাষি বদিউজ্জামানের অবস্থাও একই। এপ্রিল থেকে জুন মাস গলদার রেণু ছাড়ার উপযুক্ত সময় হলেও, মৌসুমের শেষ দিকে এসেও তিনি প্রয়োজনীয় পোনা সংগ্রহ করতে পারেননি।
সরেজমিনে বাগেরহাট-খুলনা মহাসড়কের ফুলবাড়ী এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ব্র্যাক হ্যাচারিটি দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। এর চারপাশ ঝোপঝাড়ে ছেয়ে গেছে, মূল্যবান অবকাঠামো ও যন্ত্রপাতি নষ্ট হচ্ছে। একই দশা বাগেরহাট প্রন হ্যাচারি এবং মোরেলগঞ্জের রূপা গলদা হ্যাচারির। লোকসানের মুখে পড়ে হ্যাচারিগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে জানান বন্ধ একটি হ্যাচারির দায়িত্বরত কর্মী রহিম গাজী।
বাগেরহাট চিংড়িচাষি সমিতির সভাপতি ফকির মহিতুল ইসলাম সুমন বলেন, ‘বাস্তবে রেণুর চাহিদা সরকারি হিসেবের চেয়েও বেশি। বন্ধ বেসরকারি হ্যাচারিগুলো জরুরি ভিত্তিতে সরকারি বা বেসরকারি উদ্যোগে সচল করা না গেলে এই শিল্প টিকিয়ে রাখা কঠিন হবে।’
বাগেরহাট জেলা মৎস্য কর্মকর্তা রাজ কুমার বিশ্বাস জানান, জেলার ৯টি হ্যাচারির মধ্যে পাঁচটি চালু এবং চারটি বন্ধ রয়েছে। বন্ধ হ্যাচারিগুলো চালু থাকলে চাহিদার অন্তত ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ পূরণ করা সম্ভব হতো। তিনি আরো বলেন, ‘আমরা বন্ধ হ্যাচারিগুলোর মালিকদের লাইসেন্স নবায়ন করে কার্যক্রম শুরু করতে বারবার চিঠি দিয়েছি। কিন্তু কোনো সাড়া না পাওয়ায় তাদের লাইসেন্স বাতিলের চূড়ান্ত প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চাঁপাইনবাবগঞ্জ, যা আমের রাজধানী হিসেবে পরিচিত, সেখানে এবার ‘ম্যাংগো পিল টি’ বা আমের খোসার চা তৈরির মাধ্যমে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে। ফেলে দেওয়া আমের খোসাকে প্রক্রিয়াজাত করে এই ব্যতিক্রমী চা তৈরি করছেন জেলার ভোলাহাট উপজেলার তিন শিক্ষিত বন্ধু—মাইনুল ইসলাম, মিঠুন ও মাসুম। উদ্যোক্তাদের দাবি, দেশে আমের খোসা দিয়ে বাণিজ্যিকভাবে চা তৈরির এই উদ্যোগ প্রথমবারের মতো শুরু হয়েছে।
এখন পর্যন্ত অল্প পরিসরে শুরু হয়েছে এই চায়ের উৎপাদন ও বাজারজাতকরণ। বর্তমানে মান ও প্যাকেজিং অনুযায়ী প্রতি কেজি ম্যাংগো পিল টি দুই হাজার থেকে চার হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এর ব্যতিক্রমী স্বাদের কারণে স্থানীয় চা-প্রেমী ও ক্রেতাদের মধ্যে পণ্যটি নিয়ে ব্যাপক কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে।
উদ্যোক্তা মাইনুল ইসলাম জানান, আমের মৌসুমে আম খাওয়ার পর খোসার একটি বড় অংশ ফেলে দেওয়া হয়। সেই বর্জ্যকে সম্পদে রূপ দেওয়ার চিন্তা থেকেই তারা এই উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। তারা রোদে শুকিয়ে ও বিশেষ প্রক্রিয়ায় এটি তৈরি করছেন। বিদেশ থেকে দামি মেশিন আমদানি না করে, স্থানীয় প্রযুক্তি ব্যবহার করে অর্ধেক খরচে একটি বিশেষ হিটার মেশিন তৈরি করেছেন। তবে প্রয়োজনীয় মূলধন ও আধুনিক প্রযুক্তির অভাবে তারা বড় পরিসরে উৎপাদনে যেতে পারছেন না। সরকারি ও বেসরকারি সহায়তা পেলে এটি দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশেও রপ্তানি সম্ভব হবে।
এদিকে, এই কৃষিভিত্তিক উদ্যোগে দারুণ সম্ভাবনা দেখছেন স্থানীয় কৃষি বিভাগ। ভোলাহাট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুলতান আলী বলেন, ‘কৃষিপণ্যের অব্যবহৃত অংশ কাজে লাগিয়ে নতুন পণ্য তৈরি করা গেলে অপচয় কমবে এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।’
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা কৃষি বিপণন কর্মকর্তা মোমিনুল হক বলেন, ‘প্রয়োজনীয় মান নিয়ন্ত্রণ, আকর্ষণীয় প্যাকেজিং ও ব্র্যান্ডিং নিশ্চিত করা গেলে দেশীয় বাজারের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারেও পণ্যটি জায়গা করে নিতে পারবে। এতে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের নতুন পথও খুলতে পারে।’
আমকে ঘিরে আচার, আমসত্ত্ব বা জুস তৈরি হলেও ফেলে দেওয়া খোসা থেকে চা তৈরির এই উদ্যোগ চাঁপাইনবাবগঞ্জের অর্থনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। তবে ম্যাংগো পিল টির বাণিজ্যিক প্রসারে এখন বড় চ্যালেঞ্জ হলো—পণ্যের পুষ্টিগুণ ও স্বাস্থ্যগত উপকারিতার বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা, প্রয়োজনীয় সরকারি অনুমোদন এবং একটি শক্তিশালী বাজারব্যবস্থা গড়ে তোলা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দীর্ঘ সময় ধরে দাঁড়িয়ে কাজ করার ফলে হাঁটু এবং কোমরে ব্যথা অনুভূত হতে পারে। তবে, দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকলে বাতের সমস্যা দেখা দেওয়ার কোনো প্রমাণ নেই।
একটানা কাজ করা, শরীর ভুল ভঙ্গিতে বাঁকানো এবং পর্যাপ্ত বিশ্রামের অভাব হাঁটু, কোমর ও গোড়ালিতে ব্যথা বাড়াতে পারে। বয়স, বংশগত প্রবণতা, শরীরের অতিরিক্ত ওজন, পেশির দুর্বলতা এবং পুরনো চোটের কারণে অস্টিওআর্থ্রাইটিসের আশঙ্কা বৃদ্ধি পেতে পারে।
ব্যথা কি শুধুই ক্লান্তি?
দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে কাজ করার ফলে কোমরে, হাঁটু এবং গোড়ালিতে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়। অস্টিওআর্থ্রাইটিসের ফলে অস্থিসন্ধির হাড়ের প্রান্তে থাকা তরুণাস্থি ধীরে ধীরে ক্ষয়ে যায়। বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে অতিরিক্ত ওজন, পুরনো আঘাত এবং পেশির দুর্বলতা এই সমস্যার সঙ্গে যুক্ত হয়ে থাকতে পারে।
কাজের পর সামান্য ক্লান্তি এবং বারবার ফিরে আসা ব্যথাকে একত্রে দেখা উচিত নয়। গাঁট ফুলে যাওয়া, শক্ত হয়ে থাকা বা ব্যথা দীর্ঘস্থায়ী হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
সিঁড়ি ভাঙতে গিয়ে হাঁটুতে ব্যথা?
সিঁড়ি দিয়ে ওঠানামার সময় হাঁটুতে ব্যথা অস্টিওআর্থ্রাইটিসের প্রাথমিক লক্ষণ হতে পারে। হাঁটু ভাঁজ করে শরীরের ভার বহন করার সময় জয়েন্টে চাপ বৃদ্ধি পায়। তবে, এই ব্যথা মানেই বাত নয়। হাঁটুর হাড়ের অবস্থান, পেশি বা টেন্ডনের সমস্যার কারণে এমন হতে পারে।
দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকলে হাঁটুর চারপাশের পেশিতে ক্লান্তি আসতে পারে। কিন্তু শুধুমাত্র দাঁড়িয়ে থাকার অভ্যাসই তরুণাস্থির ক্ষয় বাড়ায়, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর জন্য যথেষ্ট প্রমাণ নেই। তাই ব্যথার কারণ বুঝতে উপসর্গের ধরন ও অস্থিসন্ধির অবস্থা খতিয়ে দেখা জরুরি।
ঘরের কাজেও প্রয়োজন বিরতি
ঘরের কাজের শারীরিক চাপকে অনেক সময় গুরুত্ব দেওয়া হয় না। একটানা দাঁড়িয়ে থাকা, বেসিনের সামনে ঝুঁকে বাসন মাজা বা নিচু তাক থেকে ভারী জিনিস তোলার ফলে কোমর ও হাঁটুতে অস্বস্তি বাড়তে পারে। চাকরির পাশাপাশি সংসারের দায়িত্ব সামলানো মহিলাদের ক্ষেত্রে বিশ্রামের অভাব এই সমস্যা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।
বদল আনুন কাজের অভ্যাসে
রান্নার সময় একটানা দাঁড়িয়ে না থেকে কাজের ধরন পরিবর্তন করুন। সবজি কাটার সময় টুলে বসুন, প্রয়োজনীয় বাসনপত্র হাতের নাগালে রাখুন এবং প্রতি ৩০-৪০ মিনিট অন্তর অল্প সময়ের বিরতি নিন। ভারী পাত্র তোলার সময় তা শরীরের কাছাকাছি রাখুন। আরামদায়ক জুতো পরার পাশাপাশি উরু, কোমর ও পেটের পেশি শক্তিশালী রাখার ব্যায়ামও উপকারী।
ব্যথা দীর্ঘস্থায়ী হলে, গাঁট ফুলে গেলে বা হাঁটাচলায় অসুবিধা হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। সংসারের কাজ এড়ানো সব সময় সম্ভব নয়, কিন্তু কাজের মাঝে বিরতি নেওয়া এবং শরীরের ভঙ্গিতে নজর রাখা জরুরি। ক্লান্তিকে স্বাভাবিক ভেবে ব্যথা উপেক্ষা করা উচিত নয়, অস্থিসন্ধির সুস্থতার জন্য প্রয়োজন সচেতনতা ও সময়মতো চিকিৎসা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া উপজেলার বানাই গ্রামে কাঠ পুড়িয়ে কয়লা তৈরির অভিযোগ উঠেছে, যা পরিবেশের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, চেঁচরীরামপুর ইউনিয়নের ওই এলাকায় দীর্ঘকাল ধরে এ কার্যক্রম চললেও এটি বন্ধ করার জন্য কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে না। ফলে, পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি জনস্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ বৃদ্ধি পাচ্ছে।
সরেজমিনে পরিদর্শন করার সময় দেখা যায়, উপজেলার চেঁচরীরামপুর ইউনিয়নের তফসেরের খেয়াঘাটের পশ্চিম পাড় থেকে উত্তর দিকে বাকার খালের পাশে কাঠ পুড়িয়ে কয়লা তৈরির জন্য প্রায় ৫০টি চুল্লি স্থাপন করা হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এসব চুল্লিতে নিয়মিত কাঠ পোড়ানো হচ্ছে। এলাকাবাসীরা আশঙ্কা করছেন যে, এ কার্যক্রমের ফলে আশপাশের পরিবেশ এবং মানুষের স্বাস্থ্যের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে।
স্থানীয় সূত্রে অভিযোগ রয়েছে যে, রবিউল ইসলাম, রাসেল এবং সাবেক ইউপি সদস্য ফারুকের সংশ্লিষ্টতায় সেখানে কয়লা তৈরির কার্যক্রম চলছে। তবে, এই ব্যবসার প্রকৃত মালিকানা এবং এর পেছনে কারো পৃষ্ঠপোষকতা রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, শিশুদের মধ্যে অপরাধপ্রবণতা বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে, কারণ তারা বিভিন্ন বাগান থেকে কাঠ কেটে এনে এসব চুল্লির মালিকদের কাছে বিক্রি করছে। স্থানীয় সচেতন ব্যক্তিরা মনে করছেন, এভাবে চলতে থাকলে শিশুদের মধ্যে অপরাধ প্রবণতা বৃদ্ধি পাবে।
এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে এ কার্যক্রম চললেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর নজরদারি নেই। তারা পরিবেশের ক্ষতি ও সম্ভাব্য স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ